গাজী মোহাম্মাদ সানাউল্লাহ
কেমন আছেন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, লেখার শিরোনামটি অসংখ্য মানুষের আগ্রহের কাছ থেকে ধার করা। সবাই যেহেতু এ কথাটিই জানতে চান, তাই তাদের আগ্রহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটিকেই লেখার শিরানাম দিলাম।
শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক এই নব্বই-ঊর্ধ্ব বয়সে এখন কেমন আছেন, কীভাবে দিন কাটান, মাদরাসায় আসেন কিনা—এরকম আরও হাজারো প্রশ্ন মানুষের।
পারিবারিকভাবে শায়খের ৫ ছেলে ও ৯ মেয়ে। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। তবে শায়খের সর্বশেষ ছেলে মাওলানা মাসরুরুল হকের বিয়ে হলো ক’মাস আগে, ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর শায়খ তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়াতে অনেক দিন পর এলেন। সেদিন শায়খের ছেলের বিয়ে—এটা যতটা আমাদের আনন্দের, তার চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ ও উদযাপনের বিষয় ছিল হজরত শায়খের উপস্থিতি।
সকাল থেকেই বার বার খবর নিচ্ছিলাম কখন শায়খ আসবেন। প্রথম শুনলাম শায়খ বিকাল ৩টায় আসবেন, পরে আবার জানলাম আসরের নামাজ পড়বেন। যা হোক, আমরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি শায়খের জন্য। সময় যেন আর কাটতে চায় না। অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি, আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়খ, শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা. এলেন।
শায়খের চলাচল অনেক আগে থেকেই হুইল চেয়ার মাধ্যম। শারীরিক দুর্বলতার কারণে শায়খ এখন প্রায় সবরকম সফর এড়িয়ে চলেন। প্রায় পুরোটা সময় থাকেন পারিবারিক আবহে। এর ফলে বাসা বা মাদরাসা ছাড়া শায়খের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সাধারণত হয় না। মারকাজুল ইসলামীর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শায়খ এলেন, না এটা শারীরিক কোনো অসুস্থতার কারণে নয়, বরং হুইল চেয়ার সমেত আসার জন্য। বেশ কিছুদিন আগেও তিনি হুইল চেয়ার থেকে উঠে গাড়িতে উঠতে পারতেন। কিন্তু এখন শরীর এতটাই দুর্বল যে বাসা থেকে হুইল চেয়ারে উঠেন, গাড়িতেও এ অবস্থায় বসা থাকেন। ওঠা-বসা করেন না।
যতটা সময় শায়খ মাদরাসায় থাকলেন, পুরোটা সময় প্রায় নীরব। আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত, ছাত্র, ওলামা একবাক্যে সবাই চারপাশে ঘিরে থাকলেন সারাক্ষণ। কেউ কেউ সালাম দিলেন। মুসাহাফা করলেন। বার্ধক্যের কারণে হয়তো কানেও একটু কম শোনেন। উচ্চস্বরে সালাম দিলে তাকিয়ে দেখেন, ঠোঁটগুলো কিছুটা নড়ে ওঠে, হয়তোবা কিছু বলেন। কিন্তু অস্পষ্টতার কারণে তা বোঝা যায় না। তবে আশ্চর্যের কথা হলো, সবকিছুর পরও শায়খের জিকির ঠিক আছে। যতক্ষণ জাগ্রত থাকেন, তার প্রায় পুরোটা সময়ই মৃদু আওয়াজে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করেন। যে অভ্যেস ছিল তার সুস্থ সময়ে।
আজিমপুরের যে বাড়িটির সামনে নাম্বার প্লেটে লেখা—৭/২ আজিমপুর, এটি যে ঐতিহ্যবাহী একটি বাড়ি তা এর প্রাচীনত্ব ও সেকেলে আমলের স্থাপত্য স্টাইলই বলে দেয়। চার তলার বাড়িটির দোতলায় হজরত শায়খ নিজে থাকেন। অন্যগুলোতে শায়খের ছেলেরা। দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাড়ির রং ছিল হলুদ। এখন সাদা রং করা হয়েছে। নিচতলার পুরনো সেই গেটটির সামনে যখন দাঁড়ালে মনে একটা অন্য রকম অনুভূতি জেগে ওঠে। মনে জাগে ভিন্ন রকম শিহরণ। জাগতেই তো হবে, এখানে, ঠিক এ জায়গাটাতে শায়খ এসে গাড়ি থেকে নামতেন মাদরাসা বা কোনো মাহফিল থেকে। গাড়ি থেকে নেমে এ জায়গা দিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যেতেন, একটু সামনে গিয়ে উঠতেন সিঁড়িতে, শায়খের সুউচ্চ আল্লাহ আল্লাহ জিকির স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ছোট এই নিচতলার চারপাশটায় প্রতিধ্বনিত হতো। মনে হতো যেন শায়খের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের পরিবেশ ইট-বালি কণাও জিকির করছে।
এদেশে শায়খুল হাদিস শব্দটি শুনলে, বুখারি শরিফের তর্জমা পড়লে, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ লংমার্চের কথা মনে হলে আমাদের সবার মনের পর্দায় নিজের অজান্তেই যার প্রদীপ্ত সূর্যময় মুখাবয়ব ভেসে ওঠে, তিনি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। দীর্ঘ অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে অবিরাম ও ধারাবাহিকভাবে হাদিসে রাসুলের তর্জুমান হজরত শায়খের নেক ছায়া আল্লাহপাক এখনও আমাদের ওপর কায়েম রেখেছেন। এজন্য অসংখ্য শোকরিয়া সে মহান সত্তা আল্লাহর। দীর্ঘ এ সময়ে হজরত শায়খের হাদিসের ছাত্রের সংখ্যা কত? হাজার, লাখো, কোটি। গাণিতিক উপায়ে এটা নির্ধারণ করা কঠিন হবে। তবে এ ধারা প্রবহমান—এ কথা ধ্রুব সত্য।
২০০৪ সালে যখন ছাত্র জীবনের স্বপ্নময় প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করলাম, তখন থেকে হজরত শায়খকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হলো বলা যায়। জালালাইনের বছর হজরতকে দেখতাম সারা দিন নানা মাদরাসায় পড়িয়ে জোহরের আজানের সময় মাদরাসায় আসতেন। সাদা নোহা মাইক্রোতে করে সাদা রংয়ের কলারবিহিন একটি জামা গায়ে। হাতে চমত্কার ও দামি একটি লাঠি। তখনই শায়খ গাড়ি থেকে একা নামতে পারতেন না। ডান হাতে লাঠি আর বাঁ হাতে কাউকে ধরে আস্তে আস্তে নামতেন। তবে তখনও একা একা হাঁটতে পারতেন। বিকাল বেলা আসরের নামাজের পর শায়খ প্রায় নিয়মিত ২য় তলার বারান্দায় গিয়ে বসতেন। সে সময় দেখেছি, কখনও খাদেমদের কেউ কাছে না থাকলে ভবনের একপ্রান্তের নিজ রুম থেকে একা একা হেঁটে বারান্দায় গিয়ে বসতেন। শায়খের মাথায় দেয়ার একটা সুন্দর তেল ছিল। একেবারে টকটকে লাল রংয়ের গাড় তেল। এর ঘ্রাণটাও ছিল ভিন্নরকম। আমরা বিকাল বেলার সে সময়টাতে শায়খের মাথায় সেই তেল মেখে দিতাম। এই সৌভাগ্য রাহমানিয়ায় পড়া অনেক ছাত্রেরই হয়েছে। শায়খের ধবধবে সাদা চুলে কড়া লাল রংয়ের তেল আস্তে আস্তে মেখে দিচ্ছি আর শায়খ মুখে অমায়িক একটি হাসির আভা ছড়িয়ে কিছুটা উচ্চস্বরে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করছেন… এ চমত্কার দৃশ্যটি এখনও চোখে ভেসে বেড়ায়।
শায়খের সে সময়কার সারা দিনের নিয়ম ছিল অনেকটা এরকম—সকালে বাদ ফজর জামিয়া রাহমানিয়ায় বুখারির দরস, তারপর নাস্তা খেতেন নিজ রুমে বসে। সকাল ৯টার দিকে পড়াতে যেতেন লালমাটিয়া বা মিরপুর দারুস সালামে। অথবা বনানী কড়াইল। মাসে একবার করে সাভার টিএন্ডটি কলোনি মাদরাসা, মাদারীপুর জামিয়াতুস সুন্নাহ আর নরসিংদী বৌয়াকুর মাদরাসায়। সেসময় ও তার পর প্রায় একবছর এরকমই ছিল শায়খের রুটিন। তবে দেখতাম সারাদিন পড়িয়ে প্রায় প্রতিদিন বিকালে নানা জায়গার মাহফিলে যেতেন। ফিরতেন মধ্যরাতে।
জামিয়া রাহমানিয়ায় ভেতরে প্রবেশ করার ২টি গেট। একটি ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে। আরেকটি আরেকটু সামনে গিয়ে ভবনের মাঝামাঝি। এখন মাদরাসার সামনের অংশে যে বিশাল সুরম্য তোরণ হয়েছে, এটা সে সময় ছিল না। শায়খকে দেখেছি প্রায় সবসময় প্রথম গেট দিয়ে ঢুকতেন। এ গেটে ঢুকতে মাথার ওপর গাঢ় সবুজ জমিনে সাদা কালিতে চার লাইনে একটি তারানার অংশ লেখা রয়েছে। এটি জামিয়া রাহমানিয়ার শান রচিত তারান। যেটাকে আমরা তারানায়ে জামিয়া বলি। এটার রচনাও করেছেন শায়খ নিজে। শায়খের গাড়ি মাদরাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ছাত্রদের জটলা লেগে যেত। কার আগে কে এগিয়ে আসবে। শায়খ আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নামতেন। পরের বছর থেকে যেটা হয়েছে, গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসতেন আর আমরা চার-পাঁচজনে কখনও চালিয়ে, কখনও হুইল চেয়ার সমেত উঁচু করে শায়খকে ২য় তলায় নিয়ে যেতাম।
এরই মাঝে হয়তো গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে শায়খের চোখ পড়েছে গেটের উপরের অংশে, যেখানে তারানায়ে জামিয়ার কয়েকটি লাইন লেখা রয়েছে, নিচ তলা থেকে ২য় তলার একেবারে শেষ প্রান্তে হজরতের রুম পর্যন্ত যেতে যেতে শায়খ তারানার সে অংশটুকু সুর করে পড়তেন। শায়খের চমত্কার উচ্চারণ, গুরুগম্ভীর কণ্ঠ আর দরদমাখা সুর—সব মিলিয়ে আমাদের সে সময়ের যে অনুভূতি হতো তা এখানে প্রকাশ করে অন্তরের অম্লান সে স্বাদ কমাতে চাই না। পাঠক এর জন্য আমাকে ক্ষমা করতে পারেন।
ক’দিন আগে শায়খের বাসায় গেলাম। দেখলাম মেহমানদের বসার রুমটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের পুরুনো সে রুমটাতে নয়, বসতে দেয়া হলো অন্য একটা রুমে। রুমের নানা জায়গায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠান থেকে শায়খকে দেয়া সম্মাননা ক্রেস্ট। মানপত্রও রয়েছে বেশক’টি।
বাসার ভেতরের দিকের মাঝারি ধরনের একটি রুমে শায়খ থাকেন। একপাশে কমড বাথরুম, অন্যপাশে খাট পাতা। খাটের পাশে জানালা। থাই গ্লাস সিস্টেম হওয়ায় অর্ধেকটা খোলা। আলো কম হওয়ায় ঘরটাতে আলো-আঁধারের এক ভিন্নরকম খেলা, কিছুটা আঁধার আর অনেকটা আলো। খাটের কাছাকাছি গেলে সে আলো প্রকট হয়ে উঠল, সেটা কি খোলা জানালার কারণে, নাকি খোলা মনের আলোকিত এ মানুষটির কারণে। জানালার পাশে পাতা ছোট্ট খাটে শুয়ে আছেন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা। আমি সালাম দিয়ে মুসাহাফার জন্য এগিয়ে গেলাম। ভক্তিভরে শায়খের হাত দুটোতে চুমো খেলাম, পরম শ্রদ্ধায় হাত দুটো বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাখলাম।
শায়খ জীবনের নানা বর্ণাঢ্য প্রান্ত অত্যন্ত সফলভাবে পেরিয়ে এসেছেন। শিক্ষকতা, রাজনীতি, মাদরাসা পরিচালনা, জাতীয় নেতৃত্বসহ জীবনের সব প্রাঙ্গণে হজরতের যে পরিচয়টি বারবার ফুটে উঠেছে তা হলো অমায়িকত্য ও নির্বিবাদিতা। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নয়। হিংসা নয়। এত বড় মাপের এ লোকটি যে ছোট্ট এ খাটটিতে শুয়ে আছেন তা ভাবতে অবাক লাগে। দেখে মনে হলো এখানে আরও কয়েকজন আল্লামা আজিজুল হক নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন, কোনো বিবাদ বাধবে না।
অন্য সবকিছুর মতো শায়খের শোয়ার ধরনও খুব সুন্দর। ডান দিকে ফিরে মাথার নিচে একটি হাত দিয়ে, হাঁটু দুটি ভাঁজ করে খানিকটা বুকের কাছে এনে শুয়ে আছেন, আরেকটি হাত গায়ের ওপর। কেমন যেন নিজেই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। পোশাকও খুব স্বাভাবিক। পরনে লুঙ্গি, গায়ে সাদা রংয়ের একটি ফতোয়া। বেশ আগে থেকেই শায়খ লাগানো দাঁত ব্যবহার করেন। মাদরাসায় দেখতাম মাঝে মাঝে পরিষ্কার করার জন্য দাতগুলো খুলে রাখতেন, তবে এখন আর দাঁত ব্যবহার করেন না, যার কারণে চেহারায় ভরাট সে ভাবটা আর নেই। শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে, এটা প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়।
শায়খের ঘরটা খুব নির্জন, সড়কের একেবারে উল্টো পাশে হওয়ায় এখানে নিস্তব্ধতা অনেক বেশি। আমার কাছে সারাটা ঘরময় কেমন যেন খুব গভীর একটা নির্জনতা মনে হলো। কিতাবে পড়া আগের দিনের বুজুর্গ ও সাধকদের গুহা অভ্যন্তরের হুজরায় যেমন নীরবতা বিরাজ করত, অনেকটা সে রকম।
খাবার-দাবারের খবর নিলাম। নাইম ভাই জানালেন, শায়খের খাওয়া-দাওয়ার ধরন পাল্টে গেছে। খাবারের পরিমাণও কম। বাসা থেকে খুব একটা বের হন না। মাঝে মাঝে ডাক্তারের কাছে যান, বারডেম হাসপাতালে। আর বাসায় সারাক্ষণ থাকেন পারিবারিক আবহে। আর থাকবেনই বা না কেন? এ পরিবারে ছেলেমেয়ে মিলিয়ে হাফেজে কোরআনের সংখ্যা একশ’রও বেশি। পরিবারের আলেম সদস্যের সংখ্যাও প্রায় অর্ধশত। এরকম পরিবারের মাঝে থাকলে এমনিতেই মনে হবে কোন স্বর্গীয় পরিবেশে অবস্থান করছি।
যদি প্রশ্ন করা হয় হজরত শাইখুল হাদিসের কোন পরিচয়টি বড়? বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা, প্রখ্যাত বক্তা, বাবরি মসজিদ লংমার্চের আপসহীন নেতা, হাদিসে রাসুলের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ বুখারি শরীফের প্রথম বাংলা ভাষ্যকার, সফল সংগঠক, নির্লোভ রাজনীতিবিদ, আরও কত কী! এসব অসংখ্য পরিচয়ের মাঝে কোন পরিচয়ে তিনি পরিচিত হবেন আগামী দিনে? আগামী প্রজন্মের সন্তানরা মনের ক্যানভাসে কল্পনার তুলিতে শাইখুল হাদিসের যে প্রতিচ্ছবি আঁকবে, তা এ সবের কোন এঙ্গেল থেকে। এ বিষয়ে তর্ক চলতে পারে। নানা মত-অভিমত থাকতে পারে। প্রতিটি মতের পেছনে শক্তিশালী যুক্তিও থাকবে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে খুব ছোট করে আমি নিজের কথাটা বলতে চাই। আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা’র বাকি সব পরিচয় ছাপিয়ে যে পরিচয়টি জেগে ওঠে, তা হলো তার সুমহান শিক্ষক সত্তা। তিনি যেমনিভাবে এদেশের অসংখ্য-অগণিত আলেম-ওলামার শিক্ষক, তেমনি লাখ-কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষেরও শিক্ষক, যারা ইসলামের আলোকিত পথের শিক্ষা নিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে, তার ওয়াজ মাহফিলে। একইভাবে তাদেরও তিনি শিক্ষক, যারা হেরা গুহা থেকে উত্সারিত আলোক শিখার সন্ধান পেয়েছেন তার লিখিত হাদিসে রাসুলের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি শরীফের তর্জমা ও সরল অনুবাদসহ নানা কিতাব পড়ে।
এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো হজরত শাইখুল হাদিসকে সমকালের শিক্ষক বলা যাবে না। কোনো কাল বা যুগ দিয়ে তার মহান শিক্ষকতার প্রজ্বল রুশনিকে আটকানো যাবে না। কাল থেকে কালান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে বয়ে যাবে তার শিক্ষার সুমহান ধারা। আর এভাবেই শাইখুল হাদিসের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাবে শতাব্দীপরম্পরায়। কেয়ামত পর্যন্ত। ইনশাআল্লাহ।
gazisanaullah@gmail.com