রাহমানিয়ার কৃতিছাত্র সম্মাননা
বিজয় দিবস মানে নিজস্ব সভ্যতা বা দেশজ প্রকৃতি বহনকারী একটি পতাকা নির্বিঘে আকাশে উড়া। তাই বিজয় দিবস আনন্দের। অর্জনের। সিজদায় পড়ে কৃতজ্ঞতা আদায়ের।
ঘরে ঘরে এমনই একটি আনন্দঘন মুহূর্তকে আরো আনন্দময় করে তুলেন ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার কর্তৃপক্ষ।
১৪ ডিসেম্বর বুধবার বাদ আসর রাহমানিয়া মিলনায়তনে বিজয় দিবস উপলক্ষে শুরু হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানলাভকারী জামিয়া রাহমানিয়ার কৃতি ছাত্রদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান।
রাহমানিয়া প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় এ বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ফেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জব্বার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পপুলার মেডিক্যাল কলেজের প্রিন্সিপাল অধ্যাপক ডা. টি. আই. এম এ ফারুক। বাংলাদেশ সীরাত ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুস সামাদ।
মাওলানা নাঈমুল হকের উপস্থপনায় জামিয়ার উপস্থিতগণ ছাড়াও অন্যান্য মেহমানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনÑ পপুলার গ্র“পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মুস্তাফিজুর রহমান আলহাজ্ব উবায়দুল কুদ্দুস, আলহাজ্ব বদরুল বারী চৌধুরী, আলহাজ্ব আব্দুল হাকীম, হাজী আলম হোসেন প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ১৪৩১-৩২ হিজরি শিক্ষাবর্ষের বেফাকের কেন্দ্রীয় পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থানলাভকারী জামিয়ার ৩৪ জন কৃতি ছাত্রের হাতে নগদ অর্থসহ উন্নতমানের পুরস্কার তুলে দেন বেফাকের মহাসচিব মাওলানা আব্দুল জব্বার এবং অন্যান্য অথিতিরা।
পুরস্কারের তালিকায় ছিল তাফসিরে ইবনে কাছির, অভিধান ও সাহিত্যবিষয়ক বিভিন্ন গ্রন্থ।
পুরস্কৃত কৃতিছাত্ররা হলেন তাকমিলের (এম.এ সমমান) সাইফুল ইসলাম, আব্দুল্লাহ, মুহিবুল্লাহ। ফজিলতের আদনান মাসউদ, মাসুম বিল্লাহ, সানাবিয়া উলয়ায়Ñ ছিফাতুল্লাহ, মুতাওয়াসসিতার আব্দুল খালেক, কামরুল হাসান, ইসমাঈল হুসাইন, ইব্রাহীম খলীল, তৈয়্যব হুসাইন, আব্দুল আলীম, নূরুল ইসলাম, আহমাদুর রহমান, মাহমুদুল হাসান, আল আমীন, আবু হুরায়রা, আব্দুস সামাদ, মাহফুজুর রহমান। ইবতিদায়্যিার জিসমুল হাসান, মঈনুল ইসলাম, মুজতাহীদুল ইসলাম, মাহবুবুর রহমান, সফিউল্লাহ, মুশাব্বির, ফজলুল করীম, ফয়সাল, নাসিরুদ্দীন, আবরারুল হক ও নাঈম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বেফাকের মহাসচিব আব্দুল জব্বার বলেন এক সময় উপমহাদেশের রাজত্ব মুসলমানদের হাতে ছিল। মুসলমানদের ধর্মীয় শিক্ষায় রাজ্য পরিচালিত হতো। শুধু ছেলেরা নয় মেয়েরাও শিক্ষায় অপর্যাপ্ত অবদান রেখেছে তখন। সেটা সম্ভব হয়েছিল রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে তৎকালীন মাদরাসাগুলো সহযোগিতা পাওয়ায়। এরপর ভারত বর্ষ ইংরেজদের হাতে চলে গেলে তারা আলেমদের ওপর নির্যাতন চালায়। মাদরাসায় রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে অর্থ দেওয়া বন্ধ করে দেয় এবং মসজিদ মাদরাসার ওয়াকফকৃত জমিগুলো বাজেয়াপ্ত করে। ধবংস করে দেয় অসংখ্য মাদরাসা।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে কওমী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা ও পরিচর্যার কাজ বেফাক করে আসছে। ভিবিন্ন সূত্রে সংবাদ পাচ্ছি সরকার ইসলামিক ফাউন্ডেশনকে ব্যবহার করে কওমী মাদরাসা নিধন ষড়যন্ত্র করছে। ওরা নাকি বিচ্ছিন্নবাদী কিছু আলেমদের সহযোগিতায় কওমী মাদরাসা বোর্ড করবে।
তাদের এ ষড়যন্ত্র এদেশে আলেম-ওলামা, ফুযালা, ছাত্রসমাজ কঠোরভাবে প্রতিহত করবে। ঘরে ফিরে যাওয়া সুয়োগও দিবে না এবং এটাই যেনো হয়।
বিশেষ অতিথির ভাষণে অধ্যাপদ ডা. টি.আই.এম.এ ফারুক বলেন, আলেম-ওলামাগণ হলেন জাতির অভিভাবক সুতরাং আপনাদের ওপর অনেক গুরু দায়িত্ব রয়েছে। জাতি আজ সঠিক চিন্তুা-চেতনা ও নিষ্কলুষ ধর্মীয় ধারণা থেকে অনেক দূরে। তাদের সঠিক পথ নিদর্শন করা আপনাদের অন্যতম দায়িত্ব। মনে রাখবেন আপনাদের সামান্য অসর্তকতায় জাতির ভীষণ ক্ষতি হয়ে যাবে।
শাইখুল হাদিস মাওলানা আব্দুস সামাদ বলেনÑ তোমরা যারা কুরআন-হাদিসের জ্ঞান আহরণ করছো। তোমরা ধন্য। সৌভাগ্যবান ইহকালে পরকালে। পক্ষান্তরে যারা শুধু পার্থিব জ্ঞান অর্জন করেছে এবং ধর্মীয় জ্ঞান থেকে দূরে রয়েছে, তাদের দুনিয়া ও আখেরাত উভয়টাই বরবাদ হয়েছে। মাদরাসা ছাত্রদের কর্মসংস্থানের অভাব হয় না। জেনারেল শিক্ষিতরাই চাকরির জন্য ঢাকার প্রেসক্লাব আর মুক্তাঙ্গনে অনশনের নামে চাকরি ভিক্ষা করে।
সভাপতির বক্তব্য জামিয়ার প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহফুজুল হক বলেন জামিয়া রাহমানিয়া প্রতিষ্ঠার শুরুদিন থেকেই শিক্ষার যথাযথ মান রক্ষার নিয়ামিত চেষ্টা করে আসছে। আজও শিক্ষার সেই ধারাকে বেগবান করতে এই আয়োজন।
আজকের অনুষ্ঠান আগামীর শিক্ষার্থীর জন্য অনুপ্রেরণা।