শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শায়খুল হাদিস আল্লামা সিদ্দিকুর রহমান রহ. এর শেষ বিদায়

পৃথিবীর এই সবুজ উদ্যানে যুগ যুগে আগমন ঘটে কিছু মহামনীষীর। যারা নিভৃতে-নীরবে দীন ও ইসলামের খিদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখেন। যাদের পদচারণা দেশের সীমানা পেরিয়ে বহির্বিশ্বকে করে রাখে মুখরিত। যাদের শ্রম ও মেহনত মানুষকে করে অনুপ্রাণিত। আন্দোলিত। পচারপটুতার মহা উৎসবে যারা থাকেন প্রচারবিমুখ। সেই পথের এক নিভৃতচারী ছদর সাহেব রহ. ও শায়খুল হাদিস-এর øেহধন্য আল্লামা সিদ্দীকুর রহমান রহ.। বহুগুণের আধার সাদামাটা জীবনযাপনে অভ্যস্থ আল্লামা সিদ্দীকুর রহমান রহ. গত ২২ জানুয়ারি শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে বারোটায় মহাখালীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন। ইন্না লিল্লহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিয়ুন। এর কিছুদিন আগে ৮ ডিসেম্বর ২০১০ ইং বেলা এগারটায় ইন্তেকাল করেন দারুল উলুম দেওবন্দের মুহতামিম আল্লামা মারগুবুর রহমান রহ.। তার ইন্তেকালের ৪০ দিনের মাথায় ইন্তেকাল করলেন দারুল উলুম দেওবন্দের এই রুহানী সন্তান। ঘন ঘন হক্কানী আলেমের বিদায়ে মুসলমান হয়ে পড়ছে নেতৃত্বশূন্য।

মাওলানা সিদ্দীকুর রহমান রহ. ১৯৪৬ সালের ৫ মার্চ বাগের হাট জেলার মোল্লারহাট থানার কোদায়িলা গ্রামের স্বনামধন্য ব্যক্তি জনাব মাকসুদুল হকের ঔরসে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশবে তিনি ভর্তি হন নিজ গ্রামের মক্তবে। অতঃপর ইলমী নববী অর্জনের মানসে চলে যান গওহর ডাঙ্গা মাদরাসায়। সেখানে মেশকাত পর্যন্ত পড়ালেখা করেন এরপর চলে আসেন লালবাগ মাদরাসায়। সেখানে তিনি বুখারী শরীফের ১ম খণ্ড পড়েন মাওলান, হেদায়েতুল্লাহ রহ. ও শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা. বা. এর কাছে। দ্বিতীয় খণ্ড পড়েন মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ রহ. আর শেষ করেন আল্লামা জাফর আহমাদ উসমানী রহ. এর কাছে। পড়ালেখা শেষে তিনি লালবাগ মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পান। কিন্তু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে কর্মস্থেেল যোগদান থেকে বিরত থাকেন। এরপর ১৯৬৪ সালে পাকিস্থানের লাহোর জামিয়া আশরাফিয়ায় জগদ্বিখ্যাত আলেম মাওলানা ইদ্রীস কান্দলভী রহ. এর কাছে দ্বিতীয়বার বুখারী শরিফ পড়েন। দেশে ফিরে তিনি গওহর ডাঙ্গা মাদরাসায় নাজেমে তালিমাত হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে আবার পাকিস্তানের করাচি চলে যান এবং ইউসুফ বিন নুরী রহ. এর দরসে শরিক হন। সেখানে থাকাকালীন করাচি ইউনিভার্সিটি থেকে অর্থনীতির ওপর এম এ অনার্স করেন।

দেশে ফিরে গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন। ১৯৮১ সালে চলে আসেন শামসুল হক ফরীদপুরী রহ. এর প্রতিষ্ঠিত ফরিদাবাদ মাদরাসায়। সেখানে তিন বছর অতিবাহিত করেন। ১৯৮৪ সালে চলে আসেন কামরাঙ্গীর চর নূরীয়া মাদরাসা। সেখানে দীর্ঘদিন সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি ইসলামী আন্দোলনেও নিজেকে জড়িয়ে রাখেন। প্রথমে সর্বোচ্চ উলামা পরিষদ-এর সাংগঠনিক সেক্রেটারি নিযুক্ত হন। এবং বেফাকের নায়েবে নাজেম হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেখান থেকে চলে আসেন দারুর রাশাদ মিরপুরে। এরপর ১৯৯৬ সাল থেকে দারুস সালাম মিরপুর জামিয়া রাহমানিয়া মুহাম্মদপুর ও মুসলিম বাজার মাদরাসায় মৃত্যু অবধি বুখারী শরিফের দরস দেন। পাশাপাশি আল আরাফাহ ইসলমী ব্যাংকের শরীয়া কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

এছাড়া তিনি জীবনের একটি বড় সময় ব্যয় করেন ইসলামী আন্দোলনে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি একজন একনিষ্ঠ কর্মী হিসেবে কাজ করতে থাকেন। মৃত্যু অবধি এ সংগঠনের কেন্দ্রীয় বায়তুল মাল সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী মাওলানা সিদ্দীকুর রহমান রহ., লেখালেখির অঙ্গনেও সরব ছিলেন। তিনি ‘কাশফুল বারী ফি সাহিহীল বুখারী এর বাংলা সম্পদনাও করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি একেবারে স্বাভাবিক ছিলেন। সবসময় নিজের বাজার নিজেই করতেন। এমন একজম মানুষের বিদায় সত্যিই বেদনার। প্রভুর কাছে প্রার্থনা তিনি যেন তাকে জান্নাতবাসী করেন।