শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

রাহমানিয়ায় আত্মশুদ্ধির এক আলোকময় প্রহর

তারিখ: ১২ মে, ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক:

জ্ঞানের সুনির্মল আলো যেমন মনকে আলোকিত করে, তেমনি আত্মশুদ্ধি ও উন্নত আখলাক মানুষের জীবনকে করে তোলে সুন্দর ও সার্থক। ইলমের সাথে আমল ও তারবিয়াতের (নিষ্ঠাপূর্ণ রূপান্তর) এই মেলবন্ধনই কওমি মাদরাসার মূল চালিকাশক্তি। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১২ মে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো শিক্ষার্থীদের আত্মিক ও নৈতিক মানোন্নয়নের লক্ষে এক অনন্য ‘তারবিয়তি মজলিস’।

ছাত্রদের আমল-আখলাকের গুণগত পরিবর্তন, পড়াশোনায় একাগ্রতা এবং মহান আল্লাহর সাথে গভীর সম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যেই মূলত জামিয়া কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এই ধরণের আধ্যাত্মিক ও দিকনির্দেশনামূলক মজলিসের আয়োজন করে থাকে।

এবারের মজলিসের মূল আকর্ষণ ছিলেন বর্তমান দেশের ইলমি অঙ্গনের অন্যতম ব্যক্তিত্ব, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম এবং জামিয়াতুল উলুমিল ইসলামিয়ার সম্মানিত মুহতামিম মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব (দা.বা.)

জামিয়া রাহমানিয়ার মূল মিলনায়তনে আয়োজিত এই মাহফিলে তিনি যখন আলোচনা শুরু করেন, তখন পুরো হলজুড়ে নেমে আসে এক পিনপতন নীরবতা। মাওলানা মাহমুদুল হাসান সাহেব তাঁর স্বভাবসুলভ প্রাজ্ঞ ও প্রাঞ্জল ভাষায় শিক্ষার্থীদের সামনে একজন আদর্শ ইলমে দ্বীনের পথিকের গুণাবলী তুলে ধরেন।

তিনি বর্তমান যুগের নানামুখী ফিতনা ও উদাসীনতা থেকে বেঁচে থেকে কীভাবে ছাত্রজীবনকে ইবাদত ও অধ্যয়নের মাধ্যমে নূরানী করা যায়, তার চমৎকার বাস্তবসম্মত কিছু গাইডলাইন প্রদান করেন।

পাশাপাশি আকাবিরের ছাত্র জীবনের নানা ঘটনা দিয়ে ছাত্রদের মধ্যে অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেন।

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি

উক্ত তারবিয়তি মজলিসে জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ার সম্মানিত প্রিন্সিপাল মহোদয়সহ জামিয়ার আসাতেজায়ে কেরাম (শিক্ষকবৃন্দ) উপস্থিত ছিলেন।

আখেরী মোনাজাতের মাধ্যমে এই বরকতময় তারবিয়তি মজলিসের সমাপ্তি ঘটে। দোয়ায় দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ ও হেদায়েতের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষভাবে প্রার্থনা করা হয়।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া বিশ্বাস করে, এই ধরণের তারবিয়তি মজলিসের মাধ্যমে এখান থেকে একেকজন শিক্ষার্থী ইলম অর্জনের পাশাপাশি কিভাবে তায়াল্লুক মাআল্লাহ অর্জন করা যায় এবং নিজের চারিত্রিক পরিশুদ্ধি অর্জন করা যায় তার দিক নির্দেশনা পাবে। এবং ইলমি ময়দানের মতো আমলি ময়দানেও তারা অগ্রসর হতে পারবে। আগামী দিনে উম্মাহর নেতৃত্ব দানের জন্য নিজেকে গড়ে তোলতে পারবে।