শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

ফতোয়ার বিরোদ্ধে ফতোয়াবাজী

ভারতের উত্তর প্রদেশের মুজাফফর নগর জেলা। কর্মসূত্রে আমাদের এক সহপাঠী মুজাফফর নগর থাকতো। কোনো এক ছুটিতে ভারতের দারুল উলূম দেওবন্দে আমরা দু’জন (আমি ও হাফেজ মাওলানা সাজিদুর রহামন) মুজাফফরনগর চলে গেলাম। উদ্দেশ্য মুজাফফর নগর শহরটা ঘুরে দেখা এবং বন্ধুর সাক্ষাৎ। কিন্তু ওখানে গিয়ে দেখলাম, বেলা ১২টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ‘হিন্দু বজরঙ্গী’ দল ‘বন্ধ’ (হরতাল) এর ডাক দিয়েছে। রাস্তায় অলিগলিতে খণ্ডখণ্ড মিছিল হচ্ছে। ভারতে বন্ধ বা ধর্মঘট এই প্রথম দেখলাম। দেওবন্দে যাওয়ার পর এ ধরনের আন্দোলন বা বিক্ষোভ আর দেখা হয়নি। তাই এ নিয়ে কৌতূহলও ছিলো ব্যাপক। খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম। এর ইস্যু একটু ভিন্ন রকমের।

ইস্যুটা এরকম বিলেত ফিরত এক হিন্দু শেঠের ছেলে মন্দিরে পূজা দিতে গিয়েছিলো। বেচারা ভুলক্রমে পূজার পবিত্র বেদিতে জুতা নিয়ে উঠেছিলো। তাই মন্দির অবমাননার বিচার চেয়ে এই বন্ধ। আমাদের কৌতূহল হলো, ওখানকার স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া কী? তারা এই বন্ধ বা মন্দির অবমাননার বিচার দাবীর সঙ্গে এক কি না? আমাদের সহপাঠি বন্ধু আবিদ হাসান স্থানীয় এক মসজিদের ইমাম এবং কাপড় ব্যবসায়ী। সে জানালো, এখানে মন্দির, মূর্তি, বেদ, রামায়ণ অবমানা অর্থাৎ ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে এমন তুচ্ছ ঘটনা ঘটলেও সাধারণ মানুষ বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। ধনী, গরিব, শিক্ষিত, অশিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, অবুদ্ধিজীবী সব শ্রেণীর মানুষ একতাবদ্ধ হয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত আসে এমন ঘটনা মন্তব্য ইত্যাদির বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন। ভারত হিন্দু প্রধান দেশ। তবে মুসলমানের সংখ্যাও এখানে কম নয়। হিন্দু সম্প্রদায়ের এ ধরনের কোনো কর্মসূচীতে মুসলমান কখনো হস্তক্ষেপ করে না। এমনকি অভিজাত এবং অতি আধুনিক শ্রেণীর হিন্দু বুদ্ধিজীবীরাও এর বিরুদ্ধে মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী, বলে কলাম লেখার অবতারণা করেন না।

যাহোক, আমাদের কৌতূহল মিটলো না তবুও। আমরা অপেক্ষায় রইলাম পরের দিন পত্রিকার উপ সম্পাদকীয়গুলোয় এ সম্পর্কে কোনো প্রতিবেদন ছাপা হয় কি না। পরের দিন কেন এর পরের এক সপ্তাহ পর্যন্ত আমরা বিভিন্ন পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, সাপ্তাহিক, পাক্ষিকের পাতায় খোঁজলাম মন্দির অবমাননার বিরুদ্ধে সেই বন্ধ বা আন্দোলনের বিরুদ্ধে কোনো হিন্দু প্রগতিশীল লেখক কিছু লেখেন কি না? বজরঙ্গী দলের সেই কর্মসূচীকে কেউ মৌলবাদী, জঙ্গীবাদী বা ফতোবাজী বলে কটূক্তি করে কি না? না এ ধরনণর কোনো লেখাই আমরা খুঁজে পেলাম না। বরং পত্রিকাগুলো ফাস্ট লিড বা সেকেন্ড লিড করে নিজউ করলো এবং উপসম্পাদকীয়গুলোতেও এর পক্ষে অনেক লেখালেখি হলো। অবশেষে যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং ক্ষমতাধর হওয়া সত্ত্বেও সেই হিন্দু শেঠের ছেলের জেল-জরিমানা হলো এবং তাকে হিন্দু সম্প্রদায়ের কাছে করজোড়ে ক্ষমা চাইতে হলো।

ঘটনাটি আমরা আমাদের দেশের অবস্থার সঙ্গে তুলনা করতে বাধ্য হলাম। বাংলাদেশ শুধু মুসলিম প্রধান দেশই নয়। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরা এখানে সংখ্যায় নেয়ায়তই কম। অবশ্য তাদের ধূসর চ্যালা-চামুণ্ডাদের সংখ্যা অগণিত। এখানে যখন এধরনের কোনো ঘটনা ঘটে, কুরআন নিয়ে মসজিদ নিয়ে, মুসলমানদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার মতো কেউ কিছু বলে বা করে, গণতান্ত্রিক অধিকারের ভিত্তিতেই মুসলমানরা বিক্ষুব্ধ হলে, প্রতিবাদমুখর হলে এক শ্রেণীর কলামবাজ, ফতোয়াবাজ, বকাবাজ লোকেরা কিছুদিনের জন্য মুখরোচক খোরাক পেয়ে যায়। অথচ এরাও কিন্তু নামে মুসলমান। এদের পিতৃ-মাতৃ পরিচয়ের সূত্রও যে মুসলমানিত্বের এটা তারা কখনো অস্বীকার করে না। অথচ এদেরেই ধর্ম ইসলামের বিরুদ্ধে যখন কথা বলে, কুরআনের আইনের বিরুদ্ধে আইন করে, তখন এদের কলম এবং মুখ থাকে নীরব। ঈমানী চেতনায় উদ্দীপ্ত, কুরআনিক আদলে উজ্জীবীত আপামর মুসলিম জনগণ যখন বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে এবং কোনো কর্মসূচীতে বাধ্য হয়, তখন তারা সরব হয়ে উঠেন। মৌলবাদী, জঙ্গিবাদী, ফতোয়াবাজী, এসব ভোতা এবং হালে পানি না পাওয়া নিয়ে কলাম ফেদে বসেন।

গত ৭ এপ্রিল ১১ আমার দেশ পত্রিকায় এমন একটি উদ্ভট এবং ভিত্তিহীন কলাম ফাদেন জনাব বদরুদ্দিন উমর। বদরুদ্দিন উমর আমার একজন পছন্দের কলাম লেখক। সাম্রাজ্যবাদ অপশক্তির বিরুদ্ধে বদরুদ্দিনের তীক্ষèধার ও তথ্যনিষ্ঠ লেখা পেলেই আমি মন দিয়ে পড়ি। দৃষ্টিগোচর হলে তার লেখা না পড়ে থাকতে পারিনা। এভাবে তার ব্যাপারে একটা সমীহ আমার মধ্যে গড়ে উঠেছে। অনুমান করেছিলাম তিনি একজন বিপ্লবী কমরেড হলেও ইসলাম ও আলেমদের সম্পর্কে অতোটা অজ্ঞত নন। ভেবেছিলাম তিনি অধার্মিক হলেও ইসলাম ও আলেমদের সম্পর্কে অসৎ বা ভ্রান্ত ধারণা পোষণ করেন না। কারণ, প্রকৃত মুসলমান ও আলেম সমাজও সব সময় সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী অপশক্তির বিরুদ্ধে আপোষহীন। কিন্তু আমার অনুমান বা ধারণা কোনটাই অভ্রান্ত হলো না। বদরুদ্দিন উমরের ৭ এপ্রিলের লেখা পড়ে নিশ্চিত হওয়া গেলো, তিনি ইসলামের ‘ই’-ও জানেন না এবং আলেমদের ‘আ’-ও জানেন না। সাম্রজ্যবাদী ইহুদি লতিদের প্রচার করা তথ্য-উপাত্ত এবং প্রোপাগণ্ডায় কলুষিত সে­াগানগুলোই উগড়ে দিলেন মাত্র। মৌলভী, মোল্লারা অশিক্ষিত, মুর্খ, পশ্চাদপদ, গোঁড়া, জঙ্গীপ্রিয়, এসব বস্তাপচা ভাড়া করে আনা শব্দ সেঁটে দিয়ে তিনি আলেম সমাজকে যতোটা না খাঁটো করেছেন এর চেয়ে বেশি প্রমাণ করেছেন, তলাহীন ঝুড়ি নিয়ে তিনি এতোদিন কলাম ব্যবসা করে গেছেন এবং সাম্রাজ্যবাদ বিরোধী মুখোশ পরা একজন সাম্রাজ্যবাদীদের পদলেহী কলামবাজ তিনি।

একই দিন কালের কণ্ঠে আরেক বামরাজনীতিক ও কলাম লেখক হায়দার আকবর খান রনো(নামে তিনিও মুসলমান) আলেম উলামাদের গালিগালাজ করে বিশাল এক লেখার অবতারণা করেছেন। যার মোদ্দাকথা হলো, ফাতোয়া নিয়ে যতোই ধর্মহীন লোকেরা ফাতওয়াবাজী করুক, নারীনীতি নিয়ে নারীদেরকে নিয়ে যতোই টানা হেচড়া করুক এবং শিক্ষানীতি নিয়ে যতোই কুশিক্ষার প্রসার ঘটাক এনিয়ে আলেম উলামাদের কোনো কিছু বালার অধিকার নেই। আলেম উলামারা অযথাই লম্ফঝম্ফ করেন। আলেম উলামারা কুরআন হাদিস বুঝেন না, না বুঝেই কথা বলেন, আর তারা কুরআন পড়তে না পারলেও কুরআন হাদিস বুঝেন এবং সঠিক ‘ব্যাখ্যা’ দেন।

বদরুদ্দিন উমর, হায়দার আকবর খান রনো ও সমমনাদের জন্য বয়ষ্ক পাঠশালা

ঢাকা শহরের অসংখ্য স্থানে বয়ষ্ক মক্তব বা পাঠশালার ব্যবস্থা রয়েছে। বিনা বেতনে এবং যতেœর সঙ্গে সেসব অস্থায়ী পাঠশালায় বয়ষ্ক লোকদের কুরআন ও ইসলামের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়া হয়। উমর, রনো ও সমমনা পণ্ডিত কলাম লেখক, যারা নিজেদেরকে সবজান্তা বলে জাহির করেন, তাদেরকে বিনা পয়সায় বয়ষ্ক পাঠশালায় ভর্তি হতে একজন মুসলমান হিসেবে অনুরোধ করছি। আল্লাহর তাওফিকে সেখানে ভর্তি হলে দেখবেন আপনাদের সবজান্তা ধরনের প্রদর্শিত পণ্ডিতি কতোটা দণ্ডিত। আপনারা দেখবেন, মাদরাসার মক্তবের ৬ বছরের শিশুটা যে চোখবন্ধ করে ৪০টি হাদিস অর্থসহ প্রত্যয়দীপ্ত কণ্ঠে বলে যাচ্ছে তার সামনে আপনাদের মতো শিক্ষিত কলাম লেখক ও বুদ্ধিজীবীরা কতোটা দীন-হীন এবং প্রকৃত শিক্ষার আলো বঞ্চিত-বিস্তৃত অন্ধকারে নিমজ্জিত।

উমর ও রনো সাহেবরা জেনে রাখুন, আপনারা যেমন এদেশের নাগরিক, আলেম উলামারাও এদেশের নাগরিক। পার্থক্য কেবল এতটুকু যে, আপনারা ক্যাম্পাসের, অস্ত্রবাজী, সন্ত্রসী, দখলদারিত্ব, ছিনতাই রাহাজানির অসুস্থ পরিবেশে থেকে শিক্ষার সনদ নিয়ে বেরিয়েছেন। আর মাদরাসার ছেলেরা সন্ত্রাসমুক্ত, অস্ত্রহীন, পেশীশক্তিহীন সুন্দর-সচ্ছ সুস্থ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে, ঈমান ও কুরআনের জ্যোর্তিময় আভায় উদ্ভাসিত হয়ে ওয়ারিসে নবী তথা নবীর উত্তরাধিকারের আল-াহ প্রদত্ত সনদ নিয়ে বের হন। এই পার্থক্যের কারণে তারা তো দেশের নাগরিকত্ব হারায় না। আপনাদের পাশ্চত্য শিক্ষা ও ধর্মহীনতা আপনাদেরকে যতোই তাদের প্রতি সহিংস করে তুলুক এজন্য তো তারা দায়ি নয়। দাড়িওয়ালা টুপি ওয়ালাদের দেখলে আপনাদের গা জ্বালা করলে সেটা আপনাদেরই সমস্যা। আপনাদের সেটা হীনমন্নতা ও শ্রেণী চরিত্রের পরিচয়। এটা দাড়ি টুপিওয়ালাদের সমস্যা নয়। তাদেরকে আপনারা যতোই গালিগালাজ করুন না কেন এতে তাদের কোনো ক্ষতিবৃদ্ধি হয় না। বরং এভাবে গালগাল করতে করতেই একদিন কবরে চলে যাবেন; তখন মুখে কালেমায়ে তায়্যিবা উচ্চারিত হবে না। আযরাঈল আ. কে দেখলে তাকেও মৌলবাদী ও রূহকবজকারী বলে প্রলাপ বকতে বকতে নরকের পথে রওয়ানা হয়ে যাবেন ।

আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মুফতী না মুফাসসির ?

গত ৩ এপ্রিল ১১ কক্সবাজার শহরের পুরনো সি-বিচ রেস্ট হাউজ মাঠে আওয়ামীলীগের একটি জনসভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ফজলুল হক আমিনী পবিত্র কুরআন শরীফের অপব্যাখ্যা দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। আওয়ামীলীগের বিভিন্ন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরাও একই ধরনের কথা বলেছেন। এ প্রতিমন্ত্রী তো আমিনী সাহেবকে ইবলিশ বলেছেন। নয়া দিগন্ত ২৫.৪.১১

মুফতি আমিনীর ইসলামী আইন বাস্তবায়ন কমিটির সমর্থক আমি নই। তিনি যে ধারার রাজনীতি করেন তারও সমর্থক নই আমি। বহু উলামা মাশায়েখ আছেন যারা আমীনীর দলভুক্ত নন। কিন্তু নারীনীতি যে ইসলাম বিরোধী এ বিষয়ে মুফতী আমিনীর সাথে উলামা-মাশায়েখের কোন দ্বিমত নেই। অবশ্য এর মধ্যে আওয়ামী উলামালীগ সাভাবিক নিয়মেই ব্যতিক্রম। তো আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের অর্থ হলো, সমস্ত উলামা মাশায়েখ কুরানের অপব্যাখ্যার পক্ষে। (নাউযুবিল্লাহ)

তারা কুরআন বুঝেন না। শেখ হাসিনাই একমাত্র কুরআনের সঠিক ব্যাখ্যাদাতা। তিনিই কুরআন বুঝেন। আলেমরা বুঝেন না। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, শেখ হাসিনা কি তার হাসিল করা এ্যান্ডার ডিগ্রির সঙ্গে ‘মুফাসসির’ ডিগ্রিও অর্জন করেছেন? তিনি কোন মাদরাসা থেকে এই মুফাসসির ডিগ্রি হাসিল করেছেন? কোন স্কুল, কলেজ, ভার্সিটি থেকে নিশ্চয় মুফাসসির ডিগ্রি হাসিল করা যায় না এবং আওয়ামী উলামালীগের লোকেরাও নিশ্চয় কোন ‘আওয়ামী মাদরাসা’ প্রতিষ্ঠা করেনি; যেখান থেকে রাতারাতি এধরনের ডিগ্রি হাসিল করা যায়। আমাদের নীতিগত প্রস্তাব হলো, শেখ হাসিনা পবিত্র কুরআনের ব্যাপারে পাণ্ডিত্য অর্জন করে থাকলে তিনি কোথাও তাফসীর মাহফিল করুন। দেশের কোটি কোটি মানুষ তার তাফসীর শুনে মুগ্ধ হয়ে ঈমান আমল ও আখলাক পরিশুদ্ধ করার প্রয়াস পাবে। মুফতি আমিনী ও উলামা মাশায়েখরাও পরিশুদ্ধ আলেম হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও প্রশ্ন থাকে যে, ত্রিশ/চল্লিশ বছর কুরআন ও হাদিসের নিবিড় চর্চার পরও উলামা মাশায়েখরা যদি কুরআন হাদিস না বুঝেন তাহলে যারা সব সময় কুরআন হাদিসের বিরুদ্ধে কথা বলে গেলেন তারা কোন ভুতের ঘাড়ে সওয়ার হয়ে কুরআন বুঝে ফেললেন? এমন চলতে থাকলে একদিন দেখা যাবে, দেশের প্রধানমন্ত্রী ‘মুফতি’ ‘মুফাসসির’ হওয়ার সুবাদে বাংলার ঘরে ঘরে সবাই মুফতি মুফাসসির বনে গেছেন। হে খোদা রক্ষা করো!

প্রধানমন্ত্রী ও তার দলীয় কিছু লোক বলেছেন- আলেমরা নারী নীতি পড়েননি। নারীনীতি নিয়ে অযথাই বিশৃংখলা সৃষ্টি করেছেন। নারীনীতিতে কুরআন বিরোধী কোনো কথা নেই। নারীনীতি বাংলা ভাষায় প্রণীত। আলেমরা কি বাংলাও পড়তে পারেন না? নারী নীতির ১৬.৮, ১৬.১১, ১৬.১২, ১৭.১, ১৭.৩, ১৭.৪, ১৭.৫, ২৩.৫,২৫.২ ইত্যাদি ধারাগুলো যে, আলেমরা চিহিত করেছেন এবং এগুলো যে পবিত্র কুরআনের আইনের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়, তা কি জিবরাঈল আ. এসে বলে গেছেন? আরে সাধারণ মুসল্লীরাও এসব ধারার গোলমেলে অর্থগুলো ধরতে পারছেন। প্রধানমন্ত্রী ও উনার লোকদের কথা শুনলে মনে হয়, উলামায়ে কেরামের মা-বোন, স্ত্রী কন্যা নেই। তারা ফেরেশতাদের মতো আকাশ থেকে নেমে এসেছেন।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, কোন বেকুব এবং পাড়মাতাল কলামিস্ট লিখেছেন, নারীনীতি বাস্তবায়নে আলেম সমাজ বাধা দিচ্ছে বলে দেশের সর্বত্র নারী নির্যাতন বেড়ে গেছে। (নয়া দিগন্ত ২৫/৪/১১) প্রকৃত জরিপে দেখা যাবে, দেশে প্রতিদিন অসংখ্য ধর্ষণ, অপহরণ, ইভটিজিং ইত্যাদির খবর পত্রিকায় বেরুচ্ছে, এগুলো যারা ঘটাচ্ছে এতো আপনাদের ছেলারাই ঘটাচ্ছে। লক্ষ লক্ষ নারী অপহরণকারী, ধর্ষণকারী ও ইভটিজিং এর মধ্য থেকে কি দু’চারজন আলেম উলামা কেউ সনাক্ত করতে পারছে? অবশ্য ষড়যন্ত্র বা চক্রান্ত করে কাউকে ফাঁসাতে পারবে কিন্তু বাস্তবে ইনশাআল্লাহ তা কখনো ঘটবে না।

বরং প্রত্যেক জুমায় লক্ষ লক্ষ আলেম ও খতীব ইভটিজিং, নারী নির্যাতন ইত্যাদির বিরুদ্ধে বয়ান করে মানুষকে সচেতন করে দিচ্ছেন। কিন্তু আপনাদের মতো নামধারী মুসলমানরা কি কখনো সেসব ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছেন? আলেম ও টুপি দাড়িওয়ালা দেখলেই আপনারা রাম নাম জপ করতে থাকেন। আপনারা কি কখনো উলামায়ে কেরামের সংস্পর্শে যাওয়ার সৎসাহস দেখাতে পারবেন? সেই তাওফিক হবে কি না আল্লাহই ভালো জানেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকার ফতোয়ার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করেছেন। সরকারে কিংবা বিচার বিভাগের কোন মুফতি সাহেবরা আছেন যারা মুফতি সাহেবদের ফাতোয়ার বিরুদ্ধে ফাতোয়া দিতে পারেন? বিচারক গোলাম রব্বানী ও নাজমুন্নাহারের বেঞ্চেও কোনো মুফতি তো দূরের কথা কম শিক্ষিত আলেমও ছিলেন না। আর এখন সরকারের কথায় মনে হয়, শেখ হাসিনা এবং তার দলের সবাই মুফতি এমনকি ঘরে ঘরে মুফতি বনে গেছেন।

আদালতে যেহেতু কোনো বিচারপতি আলেম, মুফতি বা শরীয়াহ বিশেজ্ঞ নেই। তাই আদালত পরামর্শক বা কনস্যাল্ট্যানট হিসেবে এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করতে পারতো। জটিল রায়ের ক্ষেত্রে আদালত এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ দিয়ে থাকে। যদি বিশেষজ্ঞ কোনো আলেমদীন ফকীহকে এ্যামিকাস কিউরি নিয়োগ করতো আদালত তাহলে আজকের এই গোলযোগ অবস্থার সৃষ্টি হতো না। দায়িত্বশীলদের শুভ বুদ্ধির উদয় কখনও ঘটবে কিনা আল্লাহই ভালো জানেন।