শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

বিদায় মিছিলে হাফেজ ওমর আহমদ রহ. তিনি ছিলেন ছদর সাহেবের প্রতিচ্ছবি

 

অল্প কিছুদিনের ব্যবধানে বাংলাদেশের শীর্ষ দুই আলেম শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক ও মুফতি ফজলুল হক আমিনী চলে গেলেন। অভিভাবকশূন্য হয়ে গেলো পুরো ইসলামি অঙ্গন। এই দুই সিপাহসালারকে হারিয়ে এদেশের আলেম-ওলামা এবং দীনদার মুসলমানরা যখন শোকে মুহ্যমান তখনই চলে গেলেন আরেক শীর্ষ আলেম ও সিপাহসালার। তিনি হাফেজ মাওলানা ওমর আহমদ রহ.।   ‘ছদর সাহেব’ খ্যাত মুজাহিদে আযম আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর বড় ছেলে হিসেবে পরিচিতিটা ছিল আরো ব্যাপক। দক্ষিণাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী দীনি প্রতিষ্ঠান গোপালগঞ্জের গওহরডাঙ্গা মাদরাসার ভাইস প্রিন্সিপাল ছিলেন। শায়খুল হাদিস রহ. প্রতিষ্ঠিত ঢাকার জামেয়া রাহমানিয়া মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করতেন। ঢাকায় অবস্থানকালে তিনি রাহমানিয়াতেই থাকতেন। মাদরাসা কর্তৃপক্ষ তাকে মুরব্বি হিসেবে মানতেন। শায়খুল হাদিস রহ.-এর জীবনের শেষ কয়েক বছর তিনি এ প্রতিষ্ঠানের অনেকটা অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও বিভিন্ন দীনি প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন তিনি। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে তিনি ‘পীর সাহেব হুজুর’ হিসেবে সর্বমহলে পরিচিত ছিলেন। সারাদেশেই তিনি ওয়াজ নসিহত করতেন, দীনের আলো ছড়াতেন। তার আকস্মিক চলে যাওয়ায় শোকাহত হয়েছেন আলেম-ওলামা এবং এদেশের দীনদার মুসলমানেরা। শায়খুল হাদিস-আমিনীর বিদায়ের ক্ষত তিনি আরো গাঢ় করে দিয়ে গেলেন।

হযরত মাওলানা হাফেজ ওমর আহমদ রহ. শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গত ২৬ ডিসেম্বর সকাল পৌনে নয়টার দিকে। এর আগে দু’দিন তিনি রাজধানীর একটি হাসপাতালের আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। আশা-নিরাশার দোলাচলে সেখানে কেটেছে দু’দিন। গত রোববার রাতে রাজধানীর পোস্তগোলায় একটি মাহফিল শেষে তিনি ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর। তিনি স্ত্রী, দুই মেয়ে, এক ভাই, তিন বোন এবং অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। ২৭ ডিসেম্বর গওহরডাঙ্গা মাদরাসা ময়দানে নামাযে জানাজা শেষে ছদর সাহেব রহ.-এর পাশে তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। তার জানাজা ও দাফনে লাখো মানুষ অংশ নেন। তার ইন্তেকালে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ঘরে ঘরে শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর শোকে টুঙ্গিপাড়ায় অর্ধদিবস দোকান-পাট, অফিস-আদালত বন্ধ রাখা হয়। জানাজায় অংশ নেয়া মুসল্লিদের মধ্যে চাপা কান্না ও শোক লক্ষ্য করা গেছে। এর আগে ২৬ ডিসেম্বর তার ইন্তেকালের খবর শোনার পর রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মাদরাসার ছাত্র-শিক্ষক এবং দীনদার মুসলমানরা ছুটে আসেন জামিয়া রাহমানিয়া প্রাঙ্গণে। সেখানে জানাজা না হলেও শেষবারের মতো সবার দেখার ব্যবস্থা করা হয়। দেশের বিভিন্ন মাদরাসা-মসজিদে তার মাগফেরাতের জন্য বিশেষ  দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ইন্তেকালে সবাই অভিভাবকশূন্যতা অনুভব করেন। অসুস্থতার শুরু থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের সাইটগুলোতেও ব্যাপক লেখালেখি হয়েছে। সবার প্রত্যাশা ছিল তিনি ফিরে আসবেন, আমাদেরকে অভিভাবকশূন্যতা থেকে রক্ষা করবেন। কিন্তু আল্লাহর ফায়সালা ছিল ভিন্ন। তিনি আর ফিরে এলেন না, চলে গেলেন না ফেরার দেশে। আমাদের জন্য রেখে গেলেন চারদিকে শূন্যতা ও হাহাকারের বিস্তৃত প্রান্তর।

হযরত মাওলানা ওমর আহমদ রহ.-এর জন্ম ১৯৫০ সালে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার গওহরডাঙ্গা গ্রামে। গওহরডাঙ্গা মাদরাসায় তিনি হিফজুল কোরআন সম্পন্ন করেন। এরপর বাবার কাছে প্রাথমিক উর্দু-আরবি কিতাবাদি পড়েন। নড়াইলের নড়াগাতীর বামুডাঙ্গা হাইস্কুল থেকে ১৯৬৯ সালে তিনি এসএসসি পাস করেন। এরপর লালবাগ মাদরাসায় ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। ১৯৭৭ সালে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে যান। সেখানে বিভিন্ন মাদরাসায় পড়াশুনার পর জামেয়া সিদ্দিকিয়া থেকে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। ১৯৮৩ সালে তিনি দেশে ফিরে এসে তার পিতার প্রতিষ্ঠিত গওহরডাঙ্গা মাদরাসা এবং খাদেমুল ইসলাম জামাতে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব হিসেবে খেদমত শুরু করেন। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি এ খেদমত আঞ্জাম দিয়ে যান। উপমহাদেশের প্রখ্যাত বুযুর্গ হযরত মাওলানা হাকিম মোহাম্মদ আখতার দা.বা-এর সঙ্গে তার আধ্যাত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং খেলাফত লাভ করেন।

দুই.

আল্লামা শামছুল হক ফরিদপুরী রহ. ছিলেন এদেশের আলেমদের শিরোমনি। তাঁর ব্যক্তিত্বের উচ্চতা অনুভব করা আমাদের পক্ষে কঠিন। তবে বই-পুস্তকে পড়ে, প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা থেকে তাঁর সম্পর্কে যেসব আলোচনা শুনি এর অনেকটা খুঁজে পেয়েছি কাছ থেকে দেখা হাফেজ ওমর আহমদ রহ.-এর মধ্যে। ছেলে হিসেবে তিনি যথার্থই ছদর সাহেব রহ.-এর উত্তরসূরি ছিলেন। বাবার একান্ত সান্নিধ্যে গড়ে ওঠার কারণে তাঁর মধ্যেও ছিল ছদর সাহেবের মতোই দূরদর্শী চিন্তা এবং দীনের বহুমুখী শাখায় কাজ করার উদ্যম। হাজার হাজার মানুষের আধ্যাত্মিক রাহবার ছিলেন তিনি। লাখো মানুষ তাঁর বয়ান ও নসিহতে আলোর দিশা পেয়েছেন। গওহরডাঙ্গার বার্ষিক মাহফিলের কথা পুরো দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক আলোচিত। ওই মাহফিলে হাফেজ ওমর সাহেব রহ. যখন বয়ান করতেন মনে হতো প্রাণ ফিরে পেয়েছে মাহফিল। পিনপতন নীরবতা দেখা দিত চারদিকে। লোকজন কেনাকাটা ফেলে মনোযোগী হতেন তাঁর হৃদয়ভেজা কথাগুলোর দিকে। দেশের যে প্রান্তেই তিনি বয়ান করতেন এভাবেই শ্রোতারা মনোযোগ দিয়ে শুনতেন। তাঁর প্রতিটি কথায় থাকতো নূরের ঝিলিক। হৃদয় থেকে আবেগ নিয়ে কথাগুলো বলতেন। এজন্য তাঁর কথা প্রভাব বিস্তার করতো প্রতিটি অন্তরে। হিদায়াতের এই আলো ছড়াতে তিনি বিরামহীনভাবে ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের আনাচে-কানাচে। বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। ইসলামি রাজনীতিতেও তিনি ছিলেন সক্রিয়। টুঙ্গীপাড়া আসন থেকে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একাধিক নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ছদর সাহেবের সন্তান হিসেবে সবাই তাঁকে অন্য রকম সমীহ করতেন। বাংলাদেশের শীর্ষ আলেমরাও তাঁর প্রতি বিশেষ সম্মান দেখাতেন, ভালোবাসতেন। এজন্য জাতীয় পর্যায়েও বিভিন্ন ইস্যুতে তাঁর উপস্থিতি লক্ষ্য করা যেতো।

শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর চিন্তাধারা বিস্তারে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। তাঁর বয়ান-বক্তৃতার উল্লেখযোগ্য অংশজুড়েই থাকত ছদর সাহেবের আলোচনা। পিতার রেখে যাওয়া বিশাল লেখনি ভান্ডার সংরক্ষণ এবং এর প্রচার-প্রসারেও ছিল তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ছদর সাহেবের প্রতিষ্ঠিত বিশ্বকল্যাণ পাবলিকেশন্স পরিচালিত হতো তাঁরই নির্দেশনায়। হীরার চেয়ে মূল্যবান ছদর সাহেবের লেখনিগুলো যখন অযতনে-অবহেলায় নিঃশেষ হতে চলেছিল তখন তিনিই এগুলোর সংরক্ষণ, প্রচার-প্রসারে মনোযোগী হন। ছদর সাহেরের লেখনি ও চিন্তাধারা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে গেছেন। পিতার মতোই তিনি ছিলেন নির্লোভ, উদার, দুনিয়াবিরাগী ও দরবেশপ্রকৃতির। ছোটখাট বিষয়েও ছদর সাহেব রহ.- কে যথার্থ অনুসরণের চেষ্টা করতেন। ‘আব্বাজি’ বলে তিনি যখন ছদর সাহেব রহ.-এর প্রসঙ্গ উল্লেখ করতেন তখন মনে হতো ছদর সাহেব নিজেই কথা বলছেন। পিতার স্বভাব-প্রকৃতির অনেক কিছু তিনি পেয়েছিলেন। তাঁর সান্নিধ্যে গেলে ছদর সাহেবের উঞ্চতা অনুভব করা যেতো। অতি সাদাসিধে, সহজ-সরল প্রকৃতির একজন অমায়িক মানুষ ছিলেন হযরত হাফেজ ওমর আহমদ রহ.।

দ্বীনের নানা শাখায় কর্মরতদের উদ্বুদ্ধ করা এবং সাহস যোগানো ছিল হাফেজ ওমর সাহেব রহ.-এর প্রধান কাজ। পিতার কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে তিনি এই গুণটি লাভ করেছিলেন। বিশেষত তরুণদের প্রতি তাঁর মনোযোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। যে কেউ তাঁর কাছে গিয়ে আশ্রয়-প্রশ্রয় পেতেন। তরুণদের সামনে তিনি শামছুল হক ফরিদপুরী রহ.-এর ব্যক্তিত্ব এবং অনুসরণযোগ্য গুণগুলো সুন্দরভাবে তুলে ধরতেন। শুধু ছদর সাহেবই নয়, আমাদের আকাবিরকে নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল তাঁর। তিনি চাইতেন ছোটখাটো বিরোধ-বিভেদ ছেড়ে ঐক্যবদ্ধ প্লাটফর্ম। এজন্য তিনি নিজের সাধ্যমতো কাজও করে গেছেন। তাঁর স্বপ্ন ছিল তরুণদের নিয়ে কিছু করার। এ লক্ষ্যে তিনি কিছু কাজ শুরুও করেছিলেন। নিজের মনের আকুলতাগুলো তিনি নানা সময় তুলে ধরেছেন ঘনিষ্ঠ লোকদের কাছে। বুক ভরা আবেগ আর অন্তরের তীব্র দহন নিয়েই তিনি পাড়ি জমিয়েছেন পরপারে। তাঁর সেই স্বপ্নগুলো একদিন বাস্তবায়ন হলেই শান্তি পাবে তাঁর আত্মা।

তিন.

চলে গেলেন শায়খুল হাদিস, আমিনী, হাফেজ ওমর রহ.। বিদায়ের এই মিছিলে রয়েছেন আরো বেশ কয়েকজন শীর্ষ আলেম। জানা নেই, কে কবে পাড়ি জমান। মহীরুহতুল্য এই ব্যক্তিরা চলে যাওয়ার পরই আমরা অনুভব করছি তাঁরা আমাদের জন্য কী রতœ ছিলেন। জীবদ্দশায় অনেকেই আমাদের কাছে তেমন গুরুত্ব পাননি কিংবা আমরা তাদের প্রতি অবিচার করেছি। কিন্তু একেক জনের বিদায়ে যে শূন্যতা ও হাহাকার সৃষ্টি হচ্ছে তা বিমোচনের আপাত কোনো উপায় আমাদের সামনে নেই। যাদের পরশে যুগের দীনতা কিছুটা কম অনুভূত হতো তাদের এই অবিরাম চলে যাওয়ায় সেই দীনতা প্রকটভাবে ধরা পড়ছে। ব্যক্তিদুর্ভিক্ষের এ যুগে একজন শায়খুল হাদিস, একজন আমিনী, একজন হাফেজ ওমরের মতো ব্যক্তি কি আর কখনও আমাদের মধ্যে ফিরে আসবেন? তাঁরা যে বিশাল শূন্যতা সৃষ্টি করে গেলেন তা কি আর পূরণ হবে?

আমরা সবাই জানি, যারা চলে যান তাঁরা আর ফিরে আসেন না। তবে অভিভাবকতুল্য এই আলেমরা সচরাচর চলে যাওয়া ব্যক্তিদের মতো নন। কারণ তাঁরা শুধু একজন ব্যক্তিই ছিলেন না, প্রত্যেকেই একজন প্রতিষ্ঠান ছিলেন। প্রতিটি নামই একটি বিপ্লবের প্রতিশব্দ। তাদের ব্যক্তিত্বের প্রস্তান ঘটলেও প্রতিষ্ঠান টিকে আছে, থাকবে কেয়ামত পর্যন্ত। যে বিপ্লবের সূচনা তাঁরা করে গেছেন সেটা ছড়িয়ে পড়বে যুগ-যুগান্তরে। আমাদের সান্ত¦না হলো, তাদের ব্যক্তিত্বের উঞ্চতা থেকে আমরা বঞ্চিত হয়েছি বটে, কিন্তু আদর্শের যে বাতিঘর তাঁরা আমাদের সামনে রেখে গেছেন সেটা অনুসরণ করে চলতে পারবে প্রজন্মের পর প্রজন্ম।  দোয়া করি, বাংলার আকাশ থেকে সম্প্রতি খসে পড়া তিন নক্ষত্রকে আল্লাহ মাগফেরাত ও রহমতের ছায়ায় স্থান করে দিন। তাদের আদর্শ ও নির্ণিত পথ অনুসরণ করার তাওফিক দিন। আমিন।


we`vq wgwQ‡j nv‡dR Igi Avng` in.

Q`i mv‡n‡ei cÖwZ”Qwe

 

 

Aí wKQzw`‡bi e¨eav‡b evsjv‡`‡ki kxl© `yB Av‡jg kvqLyj nvw`m Avj­vgv AvwRRyj nK I gydwZ dRjyj nK Avwgbx P‡j †M‡jb| AwffveKk~b¨ n‡q †M‡jv cy‡iv Bmjvwg A½b| GB `yB wmcvnmvjvi‡K nvwi‡q G‡`‡ki Av‡jg-Ijvgv Ges `xb`vi gymjgvbiv hLb †kv‡K gyn¨gvb ZLbB P‡j †M‡jb Av‡iK kxl© Av‡jg I wmcvnmvjvi| wZwb nv‡dR gvIjvbv Igi Avng` in.| wb‡Ri e¨w³‡Z¡B wZwb mviv‡`‡k cwiwPZ wQ‡jb| Z‡e ÔQ`i mv‡neÕ L¨vZ gyRvwn‡` Avhg Avj­vgv kvgQyj nK dwi`cyix in.-Gi eo †Q‡j wn‡m‡e cwiwPwZUv wQj Av‡iv e¨vcK| `w¶Yv‡ji HwZn¨evnx `xwb cÖwZôvb †MvcvjM‡Äi MIniWv½v gv`ivmvi fvBm wcÖwÝcvj wQ‡jb| kvqLyj nvw`m in. cÖwZwôZ XvKvi Rv‡gqv ivngvwbqv gv`ivmvi cwiPvjbv cwil‡`i mvaviY m¤úv`‡Ki `vwqZ¡I cvjb Ki‡Zb| XvKvq Ae¯’vbKv‡j wZwb ivngvwbqv‡ZB _vK‡Zb| gv`ivmv KZ…©c¶ Zv‡K gyiweŸ wn‡m‡e gvb‡Zb| kvqLyj nvw`m in.-Gi Rxe‡bi †kl K‡qK eQi wZwb G cÖwZôv‡bi A‡bKUv Awffve‡Ki `vwqZ¡ cvjb K‡i‡Qb| GQvovI wewfbœ `xwb cÖwZôv‡bi c„ô‡cvlK wQ‡jb wZwb| `w¶Y-cwðgv‡j wZwb Ôcxi mv‡ne ûRyiÕ wn‡m‡e me©gn‡j cwiwPZ wQ‡jb| mviv‡`‡kB wZwb IqvR bwmnZ Ki‡Zb, `x‡bi Av‡jv Qov‡Zb| Zvi AvKw¯§K P‡j hvIqvq †kvKvnZ n‡q‡Qb Av‡jg-Ijvgv Ges G‡`‡ki `xb`vi gymjgv‡biv| kvqLyj nvw`m-Avwgbxi we`v‡qi ¶Z wZwb Av‡iv Mvp K‡i w`‡q †M‡jb|

nhiZ gvIjvbv nv‡dR Igi Avng` in. †kl wbtk¦vm Z¨vM K‡ib MZ 26 wW‡m¤^i mKvj †cЇb bqUvi w`‡K| Gi Av‡M `yÕw`b wZwb ivRavbxi GKwU nvmcvZv‡ji AvBwmBD‡Z jvBd mv‡cv‡U© wQ‡jb| Avkv-wbivkvi †`vjvP‡j †mLv‡b †K‡U‡Q `yÕw`b| MZ †iveevi iv‡Z ivRavbxi †cv¯—‡Mvjvq GKwU gvnwdj †k‡l wZwb †eªb †÷ªv‡K Avµvš— nb| g„Zz¨Kv‡j Zvi eqm n‡qwQj 62 eQi| wZwb ¯¿x, `yB †g‡q, GK fvB, wZb †evb Ges AmsL¨ AvZ¥xq-¯^Rb I ¸YMÖvnx †i‡L †M‡Qb| 27 wW‡m¤^i MIniWv½v gv`ivmv gq`v‡b bvgv‡h RvbvRv †k‡l Q`i mv‡ne in.-Gi cv‡k Zv‡K wPiwb`ªvq kvwqZ Kiv nq| Zvi RvbvRv I `vd‡b jv‡Lv gvbyl Ask †bb| Zvi B‡š—Kv‡j `w¶Y-cwðgv‡ji N‡i N‡i †kv‡Ki Qvqv †b‡g Av‡m| Zuvi †kv‡K Uzw½cvovq Aa©w`em †`vKvb-cvU, Awdm-Av`vjZ eÜ ivLv nq| RvbvRvq Ask †bqv gymwj­‡`i g‡a¨ Pvcv Kvbœv I †kvK j¶¨ Kiv †M‡Q| Gi Av‡M 26 wW‡m¤^i Zvi B‡š—Kv‡ji Lei †kvbvi ci ivRavbxi wewfbœ cÖvš— †_‡K gv`ivmvi QvÎ-wk¶K Ges `xb`vi gymjgvbiv Qz‡U Av‡mb Rvwgqv ivngvwbqv cÖv½‡Y| †mLv‡b RvbvRv bv n‡jI †klev‡ii g‡Zv mevi †`Lvi e¨e¯’v Kiv nq| †`‡ki wewfbœ gv`ivmv-gmwR‡` Zvi gvM‡div‡Zi Rb¨ we‡kl  †`vqv I †gvbvRvZ AbywôZ n‡q‡Q| Zuvi B‡š—Kv‡j mevB AwffveKk~b¨Zv Abyfe K‡ib| Amy¯’Zvi ïi“ †_‡K B‡š—Kvj ch©š— Zuv‡K wb‡q mvgvwRK †hvMv‡hv‡Mi mvBU¸‡jv‡ZI e¨vcK †jLv‡jwL n‡q‡Q| mevi cÖZ¨vkv wQj wZwb wd‡i Avm‡eb, Avgv‡`i‡K AwffveKk~b¨Zv †_‡K i¶v Ki‡eb| wKš‘ Avj­vni dvqmvjv wQj wfbœ| wZwb Avi wd‡i G‡jb bv, P‡j †M‡jb bv †divi †`‡k| Avgv‡`i Rb¨ †i‡L †M‡jb Pviw`‡K k~b¨Zv I nvnvKv‡ii we¯—…Z cÖvš—i|

nhiZ gvIjvbv Igi Avng` in.-Gi Rb¥ 1950 mv‡j †MvcvjM‡Äi Uzw½cvovi MIniWv½v MÖv‡g| MIniWv½v gv`ivmvq wZwb wndRyj †KviAvb m¤úbœ K‡ib| Gici evevi Kv‡Q cÖv_wgK D`y©-Aviwe wKZvevw` c‡ob| bovB‡ji bovMvZxi evgyWv½v nvB¯‹yj †_‡K 1969 mv‡j wZwb GmGmwm cvm K‡ib| Gici jvjevM gv`ivmvq 1976 mvj ch©š— †jLvcov K‡ib| 1977 mv‡j wZwb cvwK¯—v‡bi KivwP‡Z hvb| †mLv‡b wewfbœ gv`ivmvq covïbvi ci Rv‡gqv wmwÏwKqv †_‡K `vIiv‡q nvw`m m¤úbœ K‡ib| 1983 mv‡j wZwb †`‡k wd‡i G‡m Zvi wcZvi cÖwZwôZ MIniWv½v gv`ivmv Ges Lv‡`gyj Bmjvg Rvgv‡Z ¸i“Z¡c~Y© e¨w³Z¡ wn‡m‡e †L`gZ ïi“ K‡ib| Rxe‡bi †kl mgq ch©š— wZwb G †L`gZ AvÄvg w`‡q hvb| Dcgnv‡`‡ki cÖL¨vZ eyhyM© nhiZ gvIjvbv nvwKg †gvnv¤§` AvLZvi `v.ev-Gi m‡½ Zvi Ava¨vwZ¥K m¤úK© ¯’vwcZ nq Ges †LjvdZ jvf K‡ib|

`yB.

Avj­vgv kvgQzj nK dwi`cyix in. wQ‡jb G‡`‡ki Av‡jg‡`i wk‡ivgwb| Zuvi e¨w³‡Z¡i D”PZv Abyfe Kiv Avgv‡`i c‡¶ KwVb| Z‡e eB-cy¯—‡K c‡o, cÖZ¨¶`kx©‡`i eY©bv †_‡K Zvui m¤ú‡K© †hme Av‡jvPbv ïwb Gi A‡bKUv Lyu‡R †c‡qwQ KvQ †_‡K †`Lv nv‡dR Igi Avng` in.-Gi g‡a¨| †Q‡j wn‡m‡e wZwb h_v_©B Q`i mv‡ne in.-Gi DËim~wi wQ‡jb| evevi GKvš— mvwbœ‡a¨ M‡o IVvi Kvi‡Y Zvui g‡a¨I wQj Q`i mv‡n‡ei g‡ZvB `~i`kx© wPš—v Ges `x‡bi eûgyLx kvLvq KvR Kivi D`¨g| nvRvi nvRvi gvby‡li Ava¨vwZ¥K ivnevi wQ‡jb wZwb| jv‡Lv gvbyl Zuvi eqvb I bwmn‡Z Av‡jvi w`kv †c‡q‡Qb| MIniWv½vi evwl©K gvnwd‡ji K_v cy‡iv `w¶Ye‡½ e¨vcK Av‡jvwPZ| IB gvnwd‡j nv‡dR Igi mv‡ne in. hLb eqvb Ki‡Zb g‡b n‡Zv cÖvY wd‡i †c‡q‡Q gvnwdj| wcbcZb bxieZv †`Lv w`Z Pviw`‡K| †jvKRb †KbvKvUv †d‡j g‡bv‡hvMx n‡Zb Zuvi ü`q‡fRv K_v¸‡jvi w`‡K| †`‡ki †h cÖv‡š—B wZwb eqvb Ki‡Zb Gfv‡eB †kÖvZviv g‡bv‡hvM w`‡q ïb‡Zb| Zuvi cÖwZwU K_vq _vK‡Zv b~‡ii wSwjK| ü`q †_‡K Av‡eM wb‡q K_v¸‡jv ej‡Zb| GRb¨ Zuvi K_v cÖfve we¯—vi Ki‡Zv cÖwZwU Aš—‡i| wn`vqv‡Zi GB Av‡jv Qov‡Z wZwb weivgnxbfv‡e Qz‡U †ewo‡q‡Qb †`‡ki Avbv‡P-Kvbv‡P| wewfbœ Av‡›`vjb-msMÖv‡gI Zvi D‡j­L‡hvM¨ f~wgKv wQj| Bmjvwg ivRbxwZ‡ZI wZwb wQ‡jb mwµq| Uz½xcvov Avmb †_‡K eZ©gvb cÖavbgš¿x †kL nvwmbvi m‡½ GKvwaK wbe©vP‡b cÖwZØw›ØZv K‡i‡Qb| Q`i mv‡n‡ei mš—vb wn‡m‡e mevB Zuv‡K Ab¨ iKg mgxn Ki‡Zb| evsjv‡`‡ki kxl© Av‡jgivI Zvui cÖwZ we‡kl m¤§vb †`Lv‡Zb, fv‡jvevm‡Zb| GRb¨ RvZxq ch©v‡qI wewfbœ Bmy¨‡Z Zuvi Dcw¯’wZ j¶¨ Kiv †h‡Zv|


 

kvgQzj nK dwi`cyix in.-Gi wPš—vaviv we¯—v‡i wZwb wbijmfv‡e KvR K‡i †M‡Qb| Zvui eqvb-e³…Zvi D‡j­L‡hvM¨ AskRy‡oB _vKZ Q`i mv‡n‡ei Av‡jvPbv| wcZvi †i‡L hvIqv wekvj †jLwb fvÛvi msi¶Y Ges Gi cÖPvi-cÖmv‡iI wQj Zuvi ¸i“Z¡c~Y© f~wgKv| Q`i mv‡n‡ei cÖwZwôZ wek¦Kj¨vY cvewj‡KkÝ cwiPvwjZ n‡Zv ZuviB wb‡`©kbvq| nxivi †P‡q g~j¨evb Q`i mv‡n‡ei †jLwb¸‡jv hLb AhZ‡b-Ae‡njvq wbt‡kl n‡Z P‡jwQj ZLb wZwbB G¸‡jvi msi¶Y, cÖPvi-cÖmv‡i g‡bv‡hvMx nb| Q`i mv‡n‡ii †jLwb I wPš—vaviv bZzb cÖR‡b¥i Kv‡Q Zz‡j ai‡Z wZwb wbijmfv‡e KvR K‡i †M‡Qb| wcZvi g‡ZvB wZwb wQ‡jb wb‡j©vf, D`vi, `ywbqvweivMx I `i‡ekcÖK…wZi| †QvULvU wel‡qI Q`i mv‡ne in.- †K h_v_© Abymi‡Yi †Póv Ki‡Zb| ÔAveŸvwRÕ e‡j wZwb hLb Q`i mv‡ne in.-Gi cÖm½ D‡j­L Ki‡Zb ZLb g‡b n‡Zv Q`i mv‡ne wb‡RB K_v ej‡Qb| wcZvi ¯^fve-cÖK…wZi A‡bK wKQz wZwb †c‡qwQ‡jb| Zuvi mvwbœ‡a¨ †M‡j Q`i mv‡n‡ei DÂZv Abyfe Kiv †h‡Zv| AwZ mv`vwm‡a, mnR-mij cÖK…wZi GKRb AgvwqK gvbyl wQ‡jb nhiZ nv‡dR Igi Avng` in.|


 

Øx‡bi bvbv kvLvq Kg©iZ‡`i DØy× Kiv Ges mvnm †hvMv‡bv wQj nv‡dR Igi mv‡ne in.-Gi cÖavb KvR| wcZvi KvQ †_‡K DËivwaKvi m~‡Î wZwb GB ¸YwU jvf K‡iwQ‡jb| we‡klZ Zi“Y‡`i cÖwZ Zuvi g‡bv‡hvM wQj me‡P‡q †ewk| †h †KD Zuvi Kv‡Q wM‡q AvkÖq-cÖkÖq †c‡Zb| Zi“Y‡`i mvg‡b wZwb kvgQzj nK dwi`cyix in.-Gi e¨w³Z¡ Ges AbymiY‡hvM¨ ¸Y¸‡jv my›`ifv‡e Zz‡j ai‡Zb| ïay Q`i mv‡neB bq, Avgv‡`i AvKvwei‡K bZzb cÖR‡b¥i mvg‡b Zz‡j aivi †Póv wQj Zuvi| wZwb PvB‡Zb †QvULv‡Uv we‡iva-we‡f` †Q‡o HK¨e× cøvUdg©| GRb¨ wZwb wb‡Ri mva¨g‡Zv KvRI K‡i †M‡Qb| Zuvi ¯^cœ wQj Zi“Y‡`i wb‡q wKQz Kivi| G j‡¶¨ wZwb wKQz KvR ïi“I K‡iwQ‡jb| wb‡Ri g‡bi AvKzjZv¸‡jv wZwb bvbv mgq Zz‡j a‡i‡Qb Nwbô †jvK‡`i Kv‡Q| eyK fiv Av‡eM Avi Aš—‡ii Zxeª `nb wb‡qB wZwb cvwo Rwg‡q‡Qb cicv‡i| Zuvi †mB ¯^cœ¸‡jv GKw`b ev¯—evqb n‡jB kvwš— cv‡e Zuvi AvZ¥v|

wZb.

P‡j †M‡jb kvqLyj nvw`m, Avwgbx, nv‡dR Igi in.| we`v‡qi GB wgwQ‡j i‡q‡Qb Av‡iv †ek K‡qKRb kxl© Av‡jg| Rvbv †bB, †K K‡e cvwo Rgvb| gnxi“nZzj¨ GB e¨w³iv P‡j hvIqvi ciB Avgiv Abyfe KiwQ Zuviv Avgv‡`i Rb¨ Kx iZœ wQ‡jb| RxeÏkvq A‡b‡KB Avgv‡`i Kv‡Q †Zgb ¸i“Z¡ cvbwb wKsev Avgiv Zv‡`i cÖwZ AwePvi K‡iwQ| wKš‘ G‡KK R‡bi we`v‡q †h k~b¨Zv I nvnvKvi m„wó n‡”Q Zv we‡gvP‡bi AvcvZ †Kv‡bv Dcvq Avgv‡`i mvg‡b †bB| hv‡`i ci‡k hy‡Mi `xbZv wKQyUv Kg Abyf~Z n‡Zv Zv‡`i GB Aweivg P‡j hvIqvq †mB `xbZv cÖKUfv‡e aiv co‡Q| e¨w³`ywf©‡¶i G hy‡M GKRb kvqLyj nvw`m, GKRb Avwgbx, GKRb nv‡dR Ig‡ii g‡Zv e¨w³ wK Avi KLbI Avgv‡`i g‡a¨ wd‡i Avm‡eb? Zuviv †h wekvj k~b¨Zv m„wó K‡i †M‡jb Zv wK Avi c~iY n‡e?


 

Avgiv mevB Rvwb, hviv P‡j hvb Zuviv Avi wd‡i Av‡mb bv| Z‡e AwffveKZzj¨ GB Av‡jgiv mPivPi P‡j hvIqv e¨w³‡`i g‡Zv bb| KviY Zuviv ïay GKRb e¨w³B wQ‡jb bv, cÖ‡Z¨‡KB GKRb cÖwZôvb wQ‡jb| cÖwZwU bvgB GKwU wecø‡ei cÖwZkã| Zv‡`i e¨w³‡Z¡i cÖ¯—vb NU‡jI cÖwZôvb wU‡K Av‡Q, _vK‡e †KqvgZ ch©š—| †h wecø‡ei m~Pbv Zuviv K‡i †M‡Qb †mUv Qwo‡q co‡e hyM-hyMvš—‡i| Avgv‡`i mvš—¦bv n‡jv, Zv‡`i e¨w³‡Z¡i DÂZv †_‡K Avgiv ewÂZ n‡qwQ e‡U, wKš‘ Av`‡k©i †h evwZNi Zuviv Avgv‡`i mvg‡b †i‡L †M‡Qb †mUv AbymiY K‡i Pj‡Z cvi‡e cÖR‡b¥i ci cÖRb¥|  †`vqv Kwi, evsjvi AvKvk †_‡K m¤úªwZ L‡m cov wZb b¶Î‡K Avj­vn gvM‡divZ I ing‡Zi Qvqvq ¯’vb K‡i w`b| Zv‡`i Av`k© I wbwY©Z c_ AbymiY Kivi ZvIwdK w`b| Avwgb|

zahirbabor@yahoo.com