বিদ্যুতের যে লাইনটির সংযোগ মিটারের সাথে নেই তা ব্যবহার করা জায়েয আছে কি?

প্রশ্ন:
জনাব মুফতী সাহেব, আসসালাম্ ুআলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। পর কথা হলো, আজ দীর্ঘদিন যাবত আমাদের মাদরাসায় বিদ্যুতের দুটি লাইন ব্যবহার করা হচ্ছে। তন্মধ্যে একটি লাইনের বিল মিটারে ওঠে। অন্যটির ওঠে না। অর্থাৎ মিটারের সাথে এর সংযোগ নেই। এখন আমার জানার বিষয় হলো–
ক. যে লাইনটির সংযোগ মিটারের সাথে নেই তা ব্যবহার করা জায়েয হচ্ছে কি?
খ. আমরা সহকারী শিক্ষকগণ এ বিষয়টি নিয়ে বারবার হযরত মুহতামিম সাহেবের সাথে আলোচনা করেও কোনো ফল পাইনি। ফলে বাধ্য হয়ে অধিকাংশ সময় এই অবৈধ লাইনের বিদ্যুতই আমাদেরকে ব্যবহার করতে হয়। এতে আমাদের কোনো গোনাহ হচ্ছে কি? যদি গোনাহ হয়ে থাকে তাহলে এখন আমাদের করণীয় কি?
গ. আমাদের মাদরাসা কমিটি শাসিত। তারা এ বিষয়টি জানে কি-না তা-ও আমার জানা নেই। তাদেরকে জানালেও মুহতামিম সাহেবের সাথে মনোমালিন্য হওয়ার আশঙ্কা আছে। এমতাবস্থায় কমিটির মিটিং-এ বিষয়টি উপস্থাপন করা আমার জন্য সমীচিন হবে কি?
আশা করি অতি দ্রুত প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন।
নিবেদক
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম
শিক্ষা সচিব, নূরিয়া ইসলামিয়া মাদরাসা
সাটির পাড়া, বকুলতলা, নরসিংদী।

উত্তর:
(ক) প্রশ্নোক্ত বর্ণনা অনুযায়ী আপনাদের মাদরাসার যেই লাইনটির সংযোগ
মিটারের সাথে নেই, যার দরূন ঐ লাইনটির বিল মিটারে আসে না, তা ব্যবহার করা
আপনাদের জন্য হারাম হচ্ছে। তাই, মিটারের সাথে তার সংযোগ দেওয়ার পূর্ব
পর্যন্ত তার ব্যবহার থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

(খ) আপনারা এই অবৈধ সংযোগের বিষয়টি বন্ধ করার সর্বাত্বক প্রচেষ্টা ব্যায়
করেও যদি তাতে কোন উপায় না করতে পারেন, তা হলে আপনাদের গোনাহ হবে না।
তদুপরি উক্ত অবৈধ লাইন ব্যবহার থেকে বিরত থাকার কৌশল বের করার চেষ্টা
করতে থাকা আপনাদের জন্য আবশ্যক।

(গ) হারাম ও অন্যায় কাজে একমাত্র আল্লাহকেই ভয় করা চাই। তাই উক্ত অবৈধ
লাইন বন্ধ করার ক্ষেত্রে আপনাদের জন্য করণীয় হলো, হেকমত ও কৌশলের সাথে
কাজ করা। যাতে যথা সম্ভব মনোমালিন্য ও বিশৃংখলা থেকে মুক্ত থাকা যায় এবং
অবৈধ কাজ থেকে ফিরে আসা সম্ভব হয়। সর্বোপরি কোন নাজায়েয কাজ থেকে বাঁচতে
কারো মানোমালিন্যতাকে পরওয়া করা বাঞ্চনিয় নয়।