ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

বরাবর,

মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু

জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

 

বিষয়: ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানী  করি। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় বাড়ী মর্গেজ রেখে ঋণ গ্রহণ করি। এবং সুদসহ ঋণ পরিশোধ করি। আর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে দেলদেন করতে হয়।

এখন জানার বিষয় হলো, আমাদের এ লেনদেনগুলো বৈধ হচ্ছে কিনা ? আর পূর্বে যে লেনদেন হয়েছে এর জন্য কি নির্দেশনা ।

নিবেদক

মুহা. ওসমান গনী

মিরপুর, ঢাকা।

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

  ফাতওয়া বিভাগ                                                                           তারিখ: ০২/০২/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:

সুদ গ্রহণ করা ও সুদের টাকা থেকে যেকোনোভাবে উপকৃত হওয়া হারাম। তাই সুদী টাকায় আপনাদের ব্যবসা পরিচালনা করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে আপনারা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানি করার জন্য এল,সির দ্বারা ব্যাংকের মাধ্যমে যে লেনদেন করেন, তাতেও সুদ রয়েছে। অতএব, সে পদ্ধতিতে আমদানি করাও বৈধ হচ্ছে না। বলাবাহুল্য যে, প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ সুদী টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করার একমাত্র বিকল্প হল, সুদ ভিত্তিক লোন গ্রহণ করা বন্ধ করে সম্ভব হলে সুদবিহীন পুঁজি সংগ্রহ করা অন্যথায় অন্য কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা বেছে নেয়া। যার জন্য ঋণের প্রয়োজন হয়না।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ এল, সির সুদ থেকে বাঁচার জন্য কোনো ইসলামী ব্যাংকে এল, সি খুলতে পারেন। তবে এল,সি খোলার সময় ঐ ব্যাংকের সাথে মুযারাবা বা মুশারাকার চুক্তি করে নিবেন। যদি জিরো মার্জিনে  এল,সি খোলেন তাহলে মুযারাবার চুক্তি করবেন। অর্থাৎ ব্যাংক পুঁজিদাতা আর আপনি মুযারিব তথা ব্যবসায়ী হবেন। যা লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আমদানিকৃত বস্তু ব্যাংকের মালিকানায় থাকবে। আর তা বিক্রি করার পর যে লাভ হবে, তা আপনাদের মাঝে পূর্বে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর যদি এল, সি খোলার সময় নিজেরাও কিছু অর্থ দিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের সাথে মুশারাকা চুক্তি করবেন। এভাবে যে, ব্যাংক আমদানিকারীকে বলবে, মালের অবশিষ্ট মূল্য আমরা দিচ্ছি । সুতরাং যে মাল আমদানি করা হবে তাতে আমাদের উভয়ের বিনিয়োগ অনুযায়ী আমরা অংশীদার হব। এবং সম্পদ বিক্রির পর যা লাভ হবে তা পূর্বৃ নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর ইতিপূর্বে প্রশ্নোক্ত লেনদেনের মাধ্যমে যে আয় হয়েছে তা ভোগ করার জন্য আল্লাহর নিকট খালেছ অন্তরে তাওবা করতে হবে। এবং ভবিষ্যতে এহেন কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

 

 كما قال تعالى.

{قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ } [البقرة: 275]

 وفى الهداية شرح البداية (3/ 202)

قال ومن شرطها أن يكون الربح بينهما مشاعا لا يستحق أحدهما دراهم مسماة من الربح لأن شرط ذلك يقطع الشركة بينهما ولا بد منها كما في عقد الشركة  قال فإن شرط زيادة عشرة فله أجر مثله لفساده فلعله لا يربح إلا هذا القدر فتنقطع الشركة في الربح

وفى الجوهرة النيرة (3/ 133)

 قَوْلُهُ : وَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُون الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدُهُمَا مِنْهُ دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً ) لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يَقْطَعُ الشَّرِكَةَ لِجَوَازِ أَنْ لَا يَحْصُلَ مِنْ الرِّبْحِ إلَّا تِلْكَ الدَّرَاهِمُ الْمُسَمَّاةُ

ويراجع أيضا:

             شركت و مضاربت عصر حاضر ميں :406.

والله أعلم بالصواب

محمد تاج الإسلام عفي عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمد بور، دكا-1207