সেন্ট ব্যবহারের হুকুম ও জুতা পায়ে রেখে জানাযা নামাজ পড়ার হুকুম

জিজ্ঞাসা : সেন্ট যার মধ্যে সাধারণত এলকোহল মিশ্রিত করা হয়। তা ব্যবহার করা জায়েয কি না? এবং তা ব্যবহার করে নামাজ পড়া জায়েয হবে কি না? শরিয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী?
হাফেজ মাহমুদুল হাসান
ত্রিশাল, মোমেনশাহী
জবাব : বর্তমানে বাজারে যে সেন্ট পাওয়া যায় তাতে সাধারণত আঙ্গুর বা খেজুরের রস থেকে প্রস্তুত কৃত এলকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছ-পালার খাল, পেটোল ইত্যাদি জিনিস থেকে প্রস্তুতকৃত এলকোহল মিশানো হয়, যা নাপাক নয়। সুতরাং তা ব্যবহার করা ও তা ব্যবহার করে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে।
(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম : ৩/৬০৮, বুহুস : ১/৩৪১)
জিজ্ঞাসা : আমরা সাধারণত দেখি যে, জুতা সেন্ডেল পায়ে দিয়ে নামাজ পড়া হয় না। তবে জানাজার নামাজের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে অনেকেই জুতা সেন্ডেল পায়ে দিয়ে বা খুলে এর উপর দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করে থাকে। এখন প্রশ্ন হলো এমতাবস্থায় নামাজ হবে কিনা?
মুহাম্মদ আব্দুল করীম মোহাম্মদুপুর, ঢাকা

জবাব : জুতায় কোনো নাপাকি না থাকলে তা পায়ে দিয়ে কিংবা এর উপর পা রেখে জানাজার নামাজ পড়তে কোনে অসুবিধা নেই।
(আল বাহরুর রায়েক : ২/৩১৫, এমদাদুল আহকাম : ২/৪৪৬)

Share

ফেইসবুকে নকল আইডি ব্যবহার করার হুকুম।

প্রশ্ন: আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে মেয়ের আইডি ব্যাবহার করলে মানুষ সেটা পড়ে এবং গুরুত্ব দেয়। তাই আমি ছেলে হয়ে মেয়ের নামে আইডি খুলে ব্যবহার করতে পারবো কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

                                                          

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                          মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                           www.rahmaniadhaka.com

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-  ইসলাম প্রচার প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে সাথে অনেক সওয়াবেরও কাজ, তবে তা শরিয়ত সম্মত পন্থায় হতে হবে। অবৈধ পন্থায় ইসলাম প্রচার করা যাবে না। আর মিথ্যা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই ইসলাম প্রচার করার ক্ষেত্রে কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। তাই অহেতুক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছেলে হয়ে মেয়ের আইডি ব্যবহার বৈধ হবে না।

 

كما أخرج الامام مسلم في صحيحه : (1 / 70النسخة الهنديه)

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال من حمل علينا السلاح فليس منا ومن غشنا فليس منا .

و جاء في  المبسوط للسرخسي: (11 / 486 , ادارة القران)

 قال { : ولا تغدروا } والغدر الخيانة ونقض العهد وهو حرام قال الله تعالى { : فانبذ إليهم على سواء إن الله لا يحب الخائنين } وقال صلى الله عليه وسلم { : لكل غادر لواء يركز عند باب استه يعرف به غدرته يوم القيامة } { وكان صلى الله عليه وسلم يكتب في العهود وفاء لا غدر فيه.

والله أعلم بالصواب

محمد معصوم بالله غفر له

دارالإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

Share

মহিলা মাদ্রাসায় পড়ালেখা

প্রশ্ন: প্রাপ্ত বয়স্কা অবিবাহিত নারী মাহরাম ছাড়া দূরে কোথা্ও ‍গিয়ে সেখানে অবস্থান করে পড়া
লেখা করতে পারবে কি না?

                 

بسماللهالرحمنالرحيم

 dZ&Iqv wefvM                                                                          

 Rvwgqv ivngvwbqv Avivweqv,                                                  মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

  mvZgmwR`, gynv¤§`cyi, XvKv-1207,                                www.rahmaniadhaka.com                                                                                

حامداومصلياومسلما

 উত্তর:-

      প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েদের জন্য শরীয়াতের বিধান হলো, একান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়া। বাড়ীতেই অবস্থান করা। কেননা নবী করীম স. ইরশাদ করেছেন: মহিলা হলো গোপনীয় বস্তু, যখন সে বাহিরে বের হয় তখন শয়তান তার দিকে দৃষ্টি দেয়; যেন তাকে এবং তার দ্বারা অন্যদেরকে বিপথগামী করা যায়।(মিরকাত 6/282) এজন্য ফুকাহায়ে কেরাম মহিলাদের ঘর হতে বের হতে নিষেধ করেছেন। তারা দ্বীনের প্রয়োজনীয় ইলম যেমন: নামায,রোজা ও অন্যান্য মাস’য়ালা মাহরামের কাছ থেকে জেনে নিবে। তবে ঘরে শিখানোর মত কোন মাহরাম না থাকলে; যেমন,আজকাল অধিকাংশ অভিভাবকেরই এ অবস্থা যে, তারা তাদের পরিবাস্থদের দ্বীন শিখাবে তো দুরের কথা তারাই দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞ। ফলে তাদের পরিবারও দ্বীন সম্পর্কে অজ্ঞই থাকে। এমতাবস্থায় জরুরী মাস’য়ালা শিখার জন্য প্রাপ্ত বয়স্কা মেয়েরা পূর্ণশরঈ পর্দা করে নিজ এলাকায়, দুরে নয় এমন কোন মাদ্রাসায় যেতে পারবে। তবে নিম্মোক্ত বিষয়গুলো লক্ষ্য রাখতে হবে। 1/নিয়ত শুদ্ব করা। 2/ যাতায়াতের সময় অভিভাবক সাথে থাকা। 3/ আসা-যাওয়ার ক্ষেত্রে সুগন্ধি যুক্ত আতর, সেন্ট বা সাজ-সজ্জা বর্জন করা। 4/ যেখানে পড়া-শুনা করবে সেখানে পরিপূর্ণ পর্দার ব্যবস্থা থাকা। 5/ বিনা প্রয়োজনে মেয়েদের আওয়াজ পুরুষরা না শুনা।

 

كما قال الله تعالى:

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ وَلَا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ الْأُولَى وَأَقِمْنَ الصَّلَاةَ وَآتِينَ الزَّكَاةَ وَأَطِعْنَ اللَّهَ وَرَسُولَهُ إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنْكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَيُطَهِّرَكُمْ تَطْهِيرًا: سورة الأحزاب: 33

وفى روح المعانى 22/248: رسورة الأحزاب

والمراد على جميع القراءات امرهن رضى الل عنهن بملازمة البيوت وهى امر مطلوب من سائر النساء اخرج الترمذى والبزار عن ابن مسعود عن النبى صلى الله عليه وسلم قال أن المرأة عورة فإذا خرجت من بيتها إستشرفها الشيطان واقرب ماتكون من رحمة ربها وهى فى قعر بيوتها .

واخرج البخارى فى صحيحه (1/147) باب فى كم يقصر الصلاة

عن أبي هريرة رضي الله عنه قال قال النبي صلى الله عليه و سلم  : لا يحل لأمرأة تؤمن بالله واليوم الآخر أن تسافر مسيرة يوم وليلة ليس معها محرمة .

وفى الدر المختار (3/324) باب النفقة، رشيدية

ويمنعها من زيارة الاجانب وعيادتهم والوليمة وإن أذنت كانا عاصيين كما مر في باب المهر. وفي البحر: له منعها من الغزل وكل عمل ولو تبرعا لاجنبي ولو قابلة أو مغسلة لتقدم حقه على فرض الكفاية، ومن مجلس العلم إلا لنازلة وامتنع زوجها من سؤالها، ومن الحمام.

 

وفى البحر الرائق (4/331) باب النفقة، زكريه

إن أرادت أن تخرج إلى مجلس العلم بغير رضا الزوج ليس لها ذلك فإن وقعت لها نازلة إن سأل الزوج من العالم أو أخبرها بذلك لا يسعها الخروج وإن امتنع من السؤال يسعها من غير رضا الزوج وإن لم تقع لها نازلة لكن أرادت أن تخرج إلى مجلس العلم لتتعلم مسألة من مسائل الوضوء والصلاة فإن كان الزوج يحفظ المسائل ويذكر عندها فله أن يمنعها وإن كان لا يحفظ فالأولى أن يأذن لها أحيانا وإن لم يأذن فلا شيء عليه ولا يسعها الخروج ما لم يقع لها نازلة.

وفى رد المحتار – (1 / 406) مطلب فى ستر العورة 

(قوله وصوتها ) معطوف على المستثنى يعني أنه ليس بعورة ح ( قوله على الراجح ) عبارة البحر عن الحلية أنه الأشبه . وفي النهر وهو الذي ينبغي اعتماده . ومقابله ما في النوازل : نغمة المرأة عورة ، وتعلمها القرآن من المرأة أحب قال عليه الصلاة والسلام ” { التسبيح للرجال ، والتصفيق للنساء } ” فلا يحسن أن يسمعها الرجل .

ا هـ . وفي الكافي : ولا تلبي جهرا لأن صوتها عورة.

وفى مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح – (6 / 282) كتاب النكاح

عن ابن مسعود عن النبي قال المرأة عورة فإذا أخرجت أي من خدرها استشرفها الشيطان أي زينها في نظر الرجال وقيل أي نظر إليها ليغويها ويغوي بها.

 

والله اعلم بالصواب

 محمد معصوم بالله عفى عنهعنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share

ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী প্রসঙ্গে

প্রশ্ন:ইসলামী ব্যাংক লিঃ, আল- আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, শাহজালাল ইসলমী ব্যাংকলিঃ সহ বাংলাদেশে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক সমূহে চাকুরী করা, এক্যাউন্ট খোলাজায়েজ আছে কিনা । যদি জায়েজ না থাকে তাহলে কি কারনে জায়েজ নাই তাহাবিস্তারিত জানালে উপকৃত হব । 

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             ফাতওয়া নং-3018

 

                     ফাতওয়া বিভাগ                                                  তারিখ:4/8/২০১৩ খৃষ্টাব্দ  

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                  মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫  

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207                                                       www.rahmaniadhaka.com   

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামীক নামে পরিচিত ব্যাংকগুলোর সকল কার্যক্রম আমাদের জানামতে পূর্ণ ইসলামী নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হতে পারছে না। তাই ওই সব ইসলামী ব্যাংকে যে কোন পদে চাকুরী করা  হালাল-হারামের  দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ। আর সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে কারেন্ট একাউন্ট কিংবা অন্য কোন সুদমুক্ত একাউন্টে টাকা রাখা যেতে পারে। ইসলামী ব্যাংক গুলোতে টাকা রাখলে লাভ না নেওয়া উচিত।

كما قال الله تعالى في القران المجيد:

{ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة : 275]

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ } [البقرة : 278]

وأخرج الإمام مسلم فى صحيحه (2/27)( النسخة الهندية)        

عن جابر قال لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه وقال هم سواء.

وأخرج الإمام البخاري في صحيحه : (1 / 28)

عن عامر قال سمعت النعمان بن بشير يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول ( الحلال بين والحرام بين وبينهما مشبهات لا يعلمها كثير من الناس فمن اتقى المشبها استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع في الشبهات كراع يرعى حول الحمى أوشك أن يواقعه ألا وإن لكل ملك حمى ألا وإن حمى الله في أرضه محارمه ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهي القلب ).

 وفي  رد المحتار : (7 /658زكريا) 

والحاصل أنه إن علم أرباب الأموال وجب رده عليهم ، وإلا فإن علم عين الحرام لا يحل له ويتصدق به بنية صاحبه ، وإن كان مالا مختلطا مجتمعا من الحرام ولا يعلم أربابه ولا شيئا منه بعينه حل له حكما ، والأحسن ديانة التنزه عنه.

ويراجع أيضا:

                  فتاوي عثماني 3/394و فتاوي حقانيه:6/658 و فتاوي رحيميه:9/236

 

                                                                                                واللهأعلمبالصواب     

                                                                                                            محمدمعصوم باللهعفيعنه 

                                                                                                              دارالافتاءوالارشاد

                                                                                                          الجامعةالرحمانيةالعربية 

                                                                                     ساتمسجد،محمدبور،داكا-1207                                                                                                                            

 

Share

হরতালের শরয়ী হুকুম

প্রশ্ন: বর্তমানে অনেক ইসলামী দলকেও হরতাল ডাকতে দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হলো- শরীয়তের দৃষ্টিতে হরতাল কর্মসূচী আহবান করা জায়েয আছে কি না?

                                                                            ফাতওয়া নং ২৮৩৯

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 ফাতওয়া বিভাগ                                                                 তারিখ: ০২/০৬/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                             মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                                  www.rahmaniadhaka.com        

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-   

 বর্তমান প্রচলিত হরতাল কর্মসূচীতে শরীয়ত বিরোধী বহু কারণ বিদ্যমান থাকায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। তবে  ওইসব কারণ থেকে মুক্ত থেকে কোনো দ্বীনী কিংবা ন্যায্য দাবির পক্ষে বা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত তৈরি করে হরতাল পালন করলে তা অবৈধ নয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হরতাল শরীয়ত নিষিদ্ধ কারণ থেকে মুক্ত হলে শুধু তা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হওয়ায় অবৈধ নয়। কেননা, এতে শরীয়তে কাম্য একাধিক বিষয় রয়েছে যেমন হরতাল অর্থ অসহযোগিতা, কুরআন মাজীদে গুনাহ এবং অন্যায় কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হরতাল মানে জালিমের কাছে ন্যায়ের বার্তা পৌছানো। হাদীস শরীফে যাকে উত্তম জিহাদ বলা হয়েছে। হরতাল মানে অসৎ কাজে বাধা দান, কুরআন-হাদীসে এবিষয়ে স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়েছে। হরতাল মানে জালিমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখা, এব্যাপারেও হাদীসে সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে।

        পক্ষান্তরে হরতাল মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এবং হরতাল মানেই ফাসাদ ফিল আরয অর্থাৎ ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়। তাই মৌলিকভাবে হরতাল কর্মসূচী অবৈধ নয়। বরং উদ্দেশ্য ভাল হলে এবং শরীয়ত নিষিদ্ধ সকল বিষয় থেকে মুক্ত হলে তা কিছু শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হবে।

      . গ্রহণযোগ্য সংখ্যক দ্বীনদার, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণের মতামতের দ্বারা সিদ্ধান্ত গৃহিত হতে হবে, যে বিষয়ে হরতাল ডাকা হয়েছে তাতে জনগণের স্বার্থ নিহিত রয়েছে এবং তারা এবিষয়ে একমত হবে। আর যদি কোনো দ্বীনী বিষয় হয় তাহলে সেক্ষেত্রে গ্র্হণযোগ্য আলেমগণ একমত হতে হবে। 

     . হরতাল ডাকার পূর্বে দাবি-দাওয়া পূরণের প্রাথমিক পর্যায় ও পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। যেমন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি কিংবা প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের বুঝিয়ে দাবি মানানোর চেষ্টা করা। এবং সঠিক বিষয়টি উপস্থাপন করা।

      . হরতাল চলাকালে অন্যায়ভাবে কারো জান-মাল ক্ষতিগ্রস্থ্ না হয় এবং শরীয়ত বিরোধী কোনো কর্মকান্ড না হয় সেবিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও কর্মপন্থা গ্রহণ করা।

         হরতালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গাড়ি, দোকান পাট, কারখানা ইত্যাদি ভাংচুর করা, সরকারের সম্পদ বিনষ্ট করা, বোমাবাজী  এবং গোলাগুলি করা সম্পূর্ণ হারাম। শরীয়তে এজাতীয় কর্মকান্ডের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য উপরোক্ত শর্তসমূহ মেনে হরতাল করলে তা বৈধ। এবং তাতে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। যদি কেউ এমন হরতালের বিরোধিতা করে কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে তাকে গ্রহণযোগ্য পন্থায় বাধা দেওয়া উচিত। আমাদের জানা মতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ, দাবি আদায় কিংবা চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হরতালের বিকল্প ফলপ্রসু কোনো পদ্ধতি নেই।

كما قال الله تعالى.

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ } [المائدة : 2]

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه – (2 / 863)

حميد الطويل سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( انصر أخاك ظالما أو مظلوما )

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه – (4 / 164)

عن أبى سعيد الخدرى ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر) أو (أمير جائر)

وفي الدر المختار: (4/261) باب البغاة

البغي لغة: الطلب، ومنه * (ذلك ما كنا نبغي) * (سورة الكهف: الآية 46).وعرفا: طلب ما لا يحل من جور وظلم.فتح.وشرعا: (هم الخارجون عن الامام الحق بغير حق) فلو بحق فليسوا ببغاة، وتمامه في جامع الفصولين.

وفى رد المحتار – (4/261) باب البغاة

الفصل الأول : بيانه أن المسلمين إذا اجتمعوا على إمام وصاروا آمنين به فخرج عليه طائفة من المؤمنين ، فإن فعلوا ذلك لظلم ظلمهم به فهم ليسوا من أهل البغي ، وعليه أن يترك الظلم وينصفهم .ولا ينبغي للناس أن يعينوا الإمام عليهم ؛ لأن فيه إعانة على الظلم ، ولا أن يعينوا تلك الطائفة على الإمام أيضا ؛ لأن فيه إعانة على خروجهم على الإمام ، وإن لم يكن ذلك لظلم ظلمهم ولكن لدعوى الحق والولاية فقالوا الحق معنا فهم أهل البغي ، فعلى كل من يقوى على القتال أن ينصروا إمام المسلمين على هؤلاء الخارجين ؛ لأنهم ملعونون على لسان صاحب الشرع قال عليه الصلاة والسلام { الفتنة نائمة لعن الله من أيقظها } فإن كانوا تكلموا بالخروج لكن لم يعزموا على الخروج بعد .

 ويراجع أيضا: جواهر الفتاوى:1/605، فتاوى رحمانيه:2/265.

والله اعلم بالصواب

محمد ولى الله عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

Share

ব্যবসা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন : আমার লক্ষ টাকা আছে। ৬ মাসের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দিতে চাই। কিভাবে টাকা দেয়া আমার জন্য বৈধ। জানিয়ে বাধিত করবেন।
                                                                                                                       নিবেদক
                                                                                                           অলি উল্লাহ নোমান, ঢাকা।

 

ফত্ওয়া নং-2860
بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم
ফত্ওয়া বিভাগ                                                                              তারিখ: 13/6/2013 খৃস্টাব্দ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,                                                              মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫
সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,                                              www.rahmaniadhaka.com
حامدا و مصليا ومسلما
উত্তরঃ-
আপনি নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে ওই ব্যবসায়ীকে টাকা দিতে পারবেন।
1. হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হবে।
2. চুক্তির সময়ই উভয়ের সম্মতিতে লাভ শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের নয়।
3. ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে পুরো মূলধনে আপনার অংশ হিসাবে ক্ষতি বহন করতে হবে। অর্থাৎ- পুরো মূলধনে আপনার টাকা 50% পার্সেন্ট হলে ক্ষতিরও 50% পার্সেন্ট বহন করতে হবে।
كما أخرج الإمام عبد الرزاق في مصنفه : (8/ 248, نفقة المضارب ووضيعته
عن علي في المضاربة الوضيعة على المال والربح على ما اصطلحوا عليه.
وفي بدائع الصنائع : (6/ 62, دار الكتاب العربي
إذا شرطا الربح على قدر المالين متساويا أو متفاضلا فلا شك أنه يجوز ويكون الربح بينهما على الشرط سواء شرطا العمل عليهما أو على أحدهما والوضيعة على قدر المالين متساويا ومتفاضلا لأن الوضيعة اسم لجزء هالك من المال فيتقدر بقدر المال.
وفي حاشية ابن عابدين : (4/ 312, سعيد
وفي النهر اعلم أنهما إذا شرطا العمل عليهما إن تساويا مالا وتفاوتا ربحا جاز عند علمائنا الثلاثة خلافا لزفر والربح بينهما على ما شرطا وإن عمل أحدهما فقط وإن شرطاه على أحدهما فإن شرطا الربح بينهما بقدر رأس مالهما جاز ويكون مال الذي لا عمل له بضاعة عند العامل له ربحه وعليه وضيعته وإن شرطا الربح للعامل أكثر من رأس ماله جاز أيضا على الشرط ويكون مال الدافع عند العامل مضاربة ولو شرطا الربح للدافع أكثر من رأس ماله لا يصح الشرط ويكون مال الدافع عند العامل بضاعة لكل واحد منهما ربح ماله والوضيعة بينهما على قدر رأس مالهما أبدا هذا حاصل ما في العناية اه.
وفي الفتاوى الهندية : (2/ 320, دار إحياء التراث العربي
فالربح على ما شرطا وإن خسرا فالخسران على قدر رأس مالهما كذا في محيط السرخسي
والله اعلم بالصواب
محمد رفيق الاسلام عفى عنه
دار الإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد محمد بور داكا- 1207
Share

কুরআনে বর্ণিত ঘটনার নাটক করার শরয়ী হুকুম

                                                          

 

                                                                                       

 

বরাবর,

 

মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু

জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

বিষয়:- কুরআনে বর্ণিত ঘটনার নাটক করার শরয়ী হুকুম।

জনাব,

       আমাদের এলাকার এক ভাইয়ের মোবাইলে বদর যুদ্ধ, ইউসুফ যুলাইখা , মক্কা বিজয়সহ ইসলামের ঐতিহাসিক ঘটনার নাটক দেখতে পাই । আমার জানার বিষয় হলো,  কুরআনে বর্ণিত ঘটনা কিংবা ইসলামের কোনো ঘটনার নাটক করা  এবং তা দেখা বা মোবাইল-কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা জায়েয হবে কিনা ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

                                                                 নিবেদক 

                                                              আব্দুল্লাহ আল মামুন   

                                                                ০১৭৬৩৯৫৪৪৬

 

 

 

 

                                                          ফাতওয়া নং ২১৯৭

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 

  ফাতওয়া বিভাগ                                                                           তারিখ: /০২/২০১৩ খৃ.

 

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         কুরআনুল কারীমে বর্ণিত ‍বিভিন্ন ঘটনা যেমন- ইউসুফ-যুলাইখা, বদর যুদ্ধ, মক্কাবিজয়, ফেরাউনের পানিতে ডুবে মরাসহ ইসলামের   অন্যন্যা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ সাথে সাথে মর্যদাপূর্ণও বটেও। বিশেষত: কুরআনে বর্ণিত ঘটনাগুলো আরোও বেশি গুরুত্ব রাখে।

          এসব ঘটনার নাটক করা , দেখা , দেখানো কোনভাবেই জায়েয হবেনা। কেননা, তা কুরআন অবমাননার শামিল। যার কিছু দিক নিম্নে বর্ণনা করা হলো। যেমন-

         ১. কুরআনে কারীম যে আযমত ও সম্মানের বাহক তার দাবি তো হলো তাতে বর্ণিত সকল বিষয়বস্তুকে পূর্ণ আদব ও সম্মানের সাথে তার ভাষায় পড়া, শুনা ও শুনানো। এর ‍বিপরিতে নাটকনির্মাতাদের জন্য পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কোনো ঘটনাকে নাটকে রূপ দিয়ে তার ভাবার্থ বুঝানোর চেষ্টা করা কুরআনে নিষিদ্ধ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরতকারী “ লাহউ ওয়া লাইব” এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরূপ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

           ২.  কোনো নাটকই ছবি মুক্ত হয়না। আর কোনো প্রাণীর ছবি বানানো, দেখা, দেখানো সবই হারাম। আর কুরআনের বিষয়বস্তুকে ছবির মাধ্যমে পেশ করা কুরআন অবমাননা ও বটে

           ৩. এসব নাটকের পূর্ণতা নারীদের ছাড়া হয়না। নারী ‍দিয়ে নাটকগুলো সাজানো হয়। আর নারীদের ছবি দেখা স্পষ্ট হারাম। বলাবাহুল্য, এমন একটি নাজায়েয বিষয়কে কুরআনের বিষয়বস্তু উপস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা নিতান্তই কুরআনের তাচ্ছিল্যের শামিল।

           ৪. যেকোনো সত্য ঘটনার নাটকই তাতে কিছু কিছু কাল্পনিক বিষয় প্রবেশ করানো ছাড়া সম্ভব হয়না। সুতরাং কাল্পনিক কিছু বিষয়কে সংযোজন করে পুরো নাটকটাই কুরআনে বর্ণিত বলে প্রচারণা চালানো যার ফলে কুরআন ও কুরআন নয় এমন বিষয় এক হয়ে যায়। উপরন্তু এটি কুরাআনের অর্থগত বিকৃতিরও শামিলতাই তা হারাম

            ৫. কুরআনের উল্লিখিত ঘটনার অনেক ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার একাধিক অর্থ ও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। অকাট্যাভাবে এর কোনো একটি অর্থকে কুরআনের আসল অর্থ বলে মত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই। অথচ নাটকের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিতভাবে একটি ব্যাখ্যা ও অর্থকেই নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়যার দ্বারা বুঝা যায়, এই আয়াতের একটিমাত্রই অর্থ । এটি একটি নাজায়েয হওয়ার কারণ।

           ৬. এসব নাটকের উদ্দেশ্য তা’লীম, তাবলীগ কিংবা উপদেশ গ্রহণ নয়; বরং খেল-তামাশা ও আনন্দ উপভোগ করা।  যার স্পষ্ট প্রমাণ হলো এসব ঘটনা ওয়াজ-নসিহতে শুনানো হলে, তেমন কউ শুনেনা। তবে নাটকের মাধ্যমে দেখালে আগ্রহভরে দেখে ও শুনে। সুতরাং কুরআনকে খেল-তামাশা বানানোর মত বিষয় কিভাবে জায়েয হতে পারে।

            অতএব, প্রশ্নোক্ত বিষয়গুলোর নাটক করা, দেখা বা কম্পিউটার/মোবাইলে সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ অবৈধতাই তা থেকে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য।

كما قال تعالى.

{ ذَلِكُمْ بِأَنَّكُمُ اتَّخَذْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَغَرَّتْكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ لَا يُخْرَجُونَ مِنْهَا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ (} [الجاثية: 35]

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ (6} [لقمان: 6]

وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه  (5/ 2220)

قال سمعت عبد الله قال  : سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول ( إن أشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة المصورون )

وفى الفتاوى الهندية (2/ 270)

رجل يجلس على مكان مرتفع ويسألون منه مسائل بطريق الاستهزاء ثم يضربونه بالوسائد وهم يضحكون يكفرون جميعا وكذا لو لم يجلس على المكان المرتفع رجل رجع عن مجلس العلم فقال له رجل آخر ازكنشت آمدى يكفر وكذا لو قال مرابا مجلس علم جكار أو قال من يقدر على أداء ما يقولون يكفر

ويراجع أيضا: فتاوى محموديه:29/326، أشرف الفتاوى:3/476، جواهر الفقه.

والله أعلم بالصواب

 محمد تاج الإسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمد بور، دكا- 1207

 

 

Share

ইসলামে দাস প্রথা

                                                             

প্রশ্ন : পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামে দাস প্রথা অনুমদিত। ইসলাম কেন এ প্রথা রহিত করেনি? এর একটি সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দিবেন। আরো জানতে চাই যে, বর্তমানে আগের মতো দাস-দাসী  রাখা যাবে কিনা?

নিবেদক

আব্দুল্লাহ হিমেল

চট্টগ্রাম

                   

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

                       ফাতওয়া বিভাগ                                             তারিখ:6/৩/২০১৩ খৃ  

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                     মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                         www.rahmaniadhaka.com       

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         ইসলাম পূর্ব  যুগ থেকেই দুনিয়ার সর্বত্র এবং প্রায় সকল জাতীর মধ্যেই দাস-দাসীর প্রথা চালু ছিল। মূলত: যখন থেকে দুনিয়ায়যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হয়, তখন থেকেই প্রথাটির আবির্ভাব হয়। প্রথমে তো যুদ্ধবন্দীদের নির্দয়ভাবে হত্যা করে দেওয়া হতো। এরপর কিছুটাশিথিল হয়ে শুধু যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যাদেরকে হুমকি ভাবা হতো, তাদেরকে হত্যা করে দেওয়া হতো। আর দূর্বল, মহিলা ও শিশুদের দাস-দাসী বানিয়ে রাখা হতো সারকথা দাস-দাসীর প্রথা হলো বিজিতদের ওপর বিজয় বা কর্তৃত্ব লাভের একটি রূপ।ইসলাম বহু যুগ আগ থেকে চলে আসা প্রথাটিকে একেবারে নিষিদ্ধ করে দেয়নি। কেননা,প্রথাটি সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী নয়। যার ব্যাখ্যা হলো যে, মানুষ বিভিন্নভাবে মানুষের পরাধীনতা শিকার করে থাকে। মানুষের মধ্যে দেখা যায় কেউ মালিক কেউ চাকর, কেউ পরিচালক কেউ পরিচালিত, কেউ সেবক কেউ সেবিত। আল্লাহ তা‘আলাই পার্থক্য দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করেছেনএটা তাঁর সৃষ্টির রহস্য সে জন্য ইসলাম এসে এই প্রথাকে রহিত করেনি। কেননা, এটি একটি পরাধীনতার রূপ। তবে এব্যবস্থার মধ্যে যে সকল দিক মানবতা বিরোধী ছিল তা নিষেধ করেছে। বিভিন্ন হাদীস এর প্রমাণ বহন করে।  যেমন- হাদীসে দাস-দাসীকে অন্যায়ভাবে প্রহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছেতাদের খাওয়া-দাওয়াসহ সকল মানবীয় প্রয়োজন যথাযথ পন্থায় পূরণের আদেশ দিয়েছে। আর দাসীকে স্ত্রী (উম্মে ওয়ালাদ) হিসেবে ব্যবহার করা তো হলো অনেকাংশে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া এটি নি:সন্দেহে দোষণীয় নয়।

        বর্তমানে মানবতা রক্ষার তথাকথিত দাবীদার  যারা ইসলাম স্বীকৃত গোলামী প্রথা নিয়ে সমালোচনা করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা প্রয়োজন যে, ইসলামের গোলামী প্রথা পাশ্চাত্যের মহাজনী প্রথার চেয়ে অনেক ভাল। কেননা, পূর্বে বর্ণনা করে আসা হয়েছে যে, ইসলাম অনেক যৌক্তিক কারণে তা নিষিদ্ধ না করলেও মানুষের অধিকারকে সংরক্ষণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে। যারা এই বলে গর্ব করে আমরা গোলামী প্রথাকে দূর করেছি। নি:সন্দেহে তারা শুধুগোলামীর শব্দটা দূর করেছে। মানুষের অধিকার সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করেনি।

         উল্লেখ্য, ইসলাম প্রথাটি শিথিল করার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে ধীরেধীরে   এটি বন্ধ হয়ে যায়। যেমন হাদীসে গোলাম আযাদের অনেক ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান গোলাম আযাদ করবে, আল্লাহ তাআলা সেই গোলামের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আযাদকারীর একেক অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মু্ক্তি দান করবেন। বুখারী:১/৩৪৪ এমনিভাবে অমুসলিম গোলাম আযাদের অনেক ফযিলত এসেছে।

      এসব ফযিলত লাভের আশায় অনেক ছাহাবীই গোলাম আযাদ করেছেন যেমন- হযরত আবু বকর রা. এর আযাদকৃত গোলামের সংখ্যা ৬৩, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. এর ৩০, হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রা. এর ২০০, হযরত আব্বাস রা. এর ৭০, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর ১০০০, হযরত আয়েশা রা. এর ৬৯, হযরত উসমান রা. প্রতি জুমাআয় একজনকে আযাদ করতেন

        ১. দাসীদের দ্বারা ব্যভিচার করিয়ে অর্থ উপার্জনকে নিষিদ্ধ করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে অপকর্ম করতে বাধ্য করো না (তাদেরকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দিয়োনা) সুরা নুর:33

       ২. গোলামদের সাথে ইসলাম পূর্ব যুগে চতুষ্পদ জন্তুর মত আচরণ করা হতো, সেটা নিষিদ্ধ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এসব গোলাম-বাদীরা তোমাদের ভাই-বোন আল্লাহ তাআলাই তাদেরকে তোমাদের অধিনস্ত করেছেন। তাই তোমাদের জন্য আবশ্যক তাদের সাথে সমতা রক্ষা করা। তোমরা যা খাও তাদেরকে  তাই খাওয়াও। তাদের সাধ্যের বাইরে তাদের থেকে কোনো খেদমত নিওনা। এবং কঠিন কাজ দিলে নিজেরাও তাদের সহযোগিতা কর। বুখারী:1/346, আবু দাউদ:702, আরো ইরশাদ হচ্ছে, অন্যায়ভাবে যে ব্যক্তি গোলামকে মারপিট করবে বা থাপ্পড় দিবে, এর কাফ্ফারা হলো সেই গোলামকে আযাদ করে দেওয়াআবু দাউদ:702, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, গোলামের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, দৈনিক সত্তর বার ক্ষমা করবে। আবু দাউদ:702

       সর্বোপরি মৃত্যুর সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে যে দুটি বিষয়ে  সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তা হচ্ছে, নামাজ এবং গোলামের হক্ব। আবু দাউদ:701, এগুলো তো হচ্ছে মৌলিক বিধান। এছাড়াও এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে গোলাম আযাদ বাধ্য করে দেওয়া হয়েছে যেমন-

    ১. গোলাম যদি এমন কারো মালিকানায় আসে যিনি তার কোনো আপন আত্মীয়, তাহলেএমনিতেই আযাদ হয়ে যায়। মনিব থেকে যে দাসি বাচ্চাজন্ম দিবে, সে দাসী মনিবের মৃত্যুর পর আযাদ হয়ে যাবে।

          আর দাস-দাসীর বিধান এখনো  রহিত হয়নি বহাল রয়েছে।। যদি দুনিয়ার কোথাও আবারও সেই সব কারণ পাওয়া যায় সেখানে পুনরায় দাস-দাসীর বিধান প্রযোজ্য হবে।

كما قال الله تعالى فى القران الكريم. [النور: 33]

{وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ }

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه :1/344

عن أبي هريرة  : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( من أعتق رقبة مسلمة أعتق الله بكل عضو منه عضوا من النار حتى فرجه بفرجه )

 

وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه :1/346

  قال: رأيت أبا ذر الغفاري رضي الله عنه وعليه حلة، وعلى غلامه حلة، فسألناه عن ذلك، فقال:     إني ساببت رجلا، فشكاني إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم:    «أعيرته بأمه»، ثم قال: «إن إخوانكم خولكم جعلهم الله تحت أيديكم، فمن كان أخوه تحت يدهفليطعمه مما يأكل، وليلبسه مما يلبس، ولا تكلفوهم ما يغلبهم، فإن كلفتموهم ما يغلبهم  أعينوهم»

وأخرج الإمام مسلم فى صحيحه (5/ 90)

 قال أتيت ابن عمر وقد أعتق مملوكا – قال – فأخذ من الأرض عودا أو شيئا فقال ما فيه من الأجر ما يسوى هذا إلا أنى سمعت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يقول « من لطم مملوكه أو ضربه فكفارته أن يعتقه ».

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه :702

قال: سمعت عبد الله بن عمر يقول: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله، كم نعفو عن الخادم؟ فصمت، ثم أعاد عليه الكلام، فصمت، فلما كان في الثالثة، قال: «اعفوا عنه في كل يوم سبعين مرة»

وأخرج الإمام أحمد فى مسنده (44/ 261)

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ حُضِرَ جَعَلَ يَقُولُ الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِهَا وَمَا يَكَادُ يَفِيضُ بِهَا لِسَانُهُ

ويراجع أيضا: فتاوى رحيميه:1/217

 

والله أعلم بالصواب

 محمد تاج الإسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

                                                                                        سات مسجد، محمد بور، دكا- 1207

Share