শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

চুরিকৃত সম্পদ মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া জরুরি

জিজ্ঞাসা : আমাদের গ্রামে একজন লোক রয়েছেন। তিনি একবার এক ওয়াজ মাহফিলে শুনতে পেলেন যে, হুকুকুল ইবাদ বা বান্দার হক্ব মাফ হয় না। যতক্ষণ পর্যন্ত সে তার হক আদায় না করে বা সে বান্দা তাকে ক্ষমা না করে। একথা শুনে তার ছাত্র জীবনের কথা মনে পড়ে যায় যে, সে এক ছাত্রের কাছ থেকে ১০০ টাকা চুরি করেছিল। অতঃপর সে তার সেই ছাত্র ভাইকে অনেক তালাশ করতে থাকে। কিন্তু অবশেষে সে ঐ টাকা একজন গরিব-মিসকিনকে দান করে দেয়। এখন কি সে সেই চুরির গুনাহ হতে মুক্তি পাবে? কুরআন হাদিসের আলোকে জানতে আগ্রহী।

মুহাম্মদ কামরুদ্দীন বিন রঈসুদ্দিন

তাহফীজুল কুরআন মাদ্রাসা ধানমন্ডি, ঢাকা

জবাব : চুরি করা মারাত্মক কবিরা গুনাহ। এতে বান্দার হকও নষ্ট করা হয়। প্রশ্নে বর্ণিত অবস্থায় করণীয় হল সম্ভাব্য ঠিকানায় ব্যাপকভাবে অনুসন্ধান করে টাকার মালিককে খুঁজে বের করে তার হাতে টাকা পৌঁছে দেয়া। সে মৃত্যুবরণ করে থাকলে তার ওয়ারিশগণের কাছে পৌঁছে দেয়া। এক্ষেত্রে মালিক বা তার ওয়ারিশদের নিকট চুরির ঘটনা খুলে বলার দরকার নেই। বরং যে কোনোভাবে পাওনা বুঝিয়ে দিলেই চলবে।

পক্ষান্তরে যদি কোনোভাবেই মালিক বা তার ওয়ারিশদের সন্ধান পাওয়া না যায় তাহলে নিজে সওয়াব লাভের নিয়ত না করে মালিককে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে গরিব-মিসকিনকে সদকা করে দিতে হবে।

অতএব বর্ণিত অবস্থায় যদি মালিক বা তার ওয়ারিশ গণের সন্ধান পাওয়া কোনোভাবেই সম্ভবপর না হওয়ায় মালিককে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে সদকা করে থাকে তাহলে সেই লোক দায়মুক্ত হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ। তবে এরপরও কখনো মালিককে পাওয়া গেলে যদি মালিক দাবি না ছাড়ে তাহলে তার প্রাপ্য তাকে বুঝিয়ে দিতে হবে। আর কৃত এই অপরাধের জন্য অবশ্যই আল্লাহর দরবারে খাঁটি অন্তরে তাওবা ইস্তেগফার করতে হবে।

ফাতাওয়া শামী ৫/৯৯, ফাতাওয়া আলমগীরী ৫/৩৪৯, আল বাহরুর রায়েক ৫/৫৪