রাসূল সা. হাজির নাজির কিনা?

প্রশ্ন: আস সালামু আলাইকুম, আশা করি ভাল আছেন, আমার প্রশ্ন, নবী করিম সা. হজির ও নাজির কি না? যারা পক্ষে বলে তাদের দলিল হলো সূরা আহযাবের একটি আয়াতের শাহদান শব্দ। এই শব্দের ব্যখ্যা কি? মেহেরবানী করে দলিল সহ উত্তর দিবেন।

কামাল
সৌদি আরব
uare_myfriend@yahoo.com
(This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website https://rahmaniadhaka.com)

উত্তর: হাজির ও নাজির শব্দদুটো আরবী। হাজির অর্থ বিদ্যমান বা উপস্থিত। আর নাজির অর্থ দ্রষ্টা। যখন এ শব্দ দুটিকে এক সাথে মিলিয়ে ব্যবহার করা হয় তখন অর্থ হয় ঐ স্বত্তা যার অস্তিত্ব এক স্থানে সীমাবদ্ধ নয়, বরং তার অস্তিত্ব একই সময়ে গোটা দুনিয়াকে বেষ্টন করে রাখে এবং দুনিয়ার প্রত্যেকটি জিনিসের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত অবস্থা তার দৃষ্টির সামনে থাকে।
পূর্বোক্ত ব্যখ্যা অনুসারে হাজির নাজির এটি একমাত্র আল্লাহ তায়ার সিফাত এবং তার জন্যই প্রযোজ্য, এমনকি নবী সা. বা কোন ওলী সব জায়গায় হাজির নাজির হতে পারে না। আল্লাহ তায়ালার সিফাতের সঙ্গে বান্দাকে মিলানো কুফর, শিরক ও চরম ভ্রষ্টতা। বিদাতীদের আক্বীদা মতে শুধু হুজুরে পাক সা. নন, বরং বুজুরগানে দ্বীনও পৃথিবীর সবকিছুকে হাতের তালুর মত দেখতে পান। তারা দূরের ও কাছের আওয়াজ শুনতে পান এবং হাজার হাজার মাইল দূরের সমস্যাগ্রস্ত ব্যক্তির সমস্যা দূর করেন। এ ধরনের বিশ্বাস করার দ্বরা ঈমান চলে যায়।
প্রশ্নে উল্লেখিত আয়তের সঠিক অর্থ হলো হে নবী, আমি আপনাকে স্বাক্ষী, সুসংবাদদাতা ও সতর্ককারী রূপে প্রেরণ করেছি। প্রষিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ তাফসীরে রূহুল মাআনীতে উক্ত আয়াতের ব্যখ্যায় বলা হয়েছে, আমি আপনাকে আপনার উম্মতের প্রতি স্বাক্ষী হিসাবে প্রেরণ করেছি। আপনি তাদের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন। তাদের আমলের স্বাক্ষী দিবেন এবং তাদের থেকে তাদের সত্য-মিথ্যার অবস্থা সকল ধরনের হেদায়াত ও পথভ্রষ্টতার সাক্ষী গ্রহণ করে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর নিকট এমনভাবে উত্থাপন করবেন, যা অবশ্যই গ্রহনযোগ্য হবে।
কোন হক্কানী মুফাসসিরই এই আয়াতের অথ্য নবী সা. হাজির নাজির বা এই আয়াতের ব্যখ্যায় নবী সা. কে হাজির নাজির বলেন নাই। সুতরাং ‘শাহিদান’ দ্বারা হুজুর সা. কে হাজির নাজির বলার অবকাশ নাই।
সে মতে নবী সা. হাজির নাজির হওয়ার পক্ষে কোরআন ও হাদীসে কোন প্রমান নেই। যারা এর বিপরীত বিশ্বাস রাখে তারা গুমরাহ ও বেদআতী এবং এ আক্বীদায় বিশ্বাসী ব্যক্তির পিছনে নামাজ পড়া মাকরূহে তাহরিমী।