মাজারে সিজদা করা

জিজ্ঞাসা : এক. ফেরেস্তারা হযরত আদমকে যেভাবে সম্মানপূর্বক সিজদা করেছিল সেভাবে বর্তমান যামানায় ওলী-আউলিয়াদের মাজারে সিজদা করা বা মাথা ঝুকানো জায়েজ কি না? জায়েজ না হলে প্রমাণ কী?

দুই. সুন্নত তরিকায় কবর জিয়ারতের পদ্ধতি কী? বিস্তারিত জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

মুহাম্মদ মোফাজ্জাল হুসাইন মোহাম্মদপুর ঢাকা

জবাব : এক. ইবাদতের উদ্দেশ্যে আল্লাহ ছাড়া কাউকে সেজদা করা বা মাথা নোয়ানো কোনো কালেই বৈধ ছিল না। তবে সম্মান জ্ঞাপনার্থে সেজদা করা মাথা নোয়ানো পূর্ববর্তী যুগে বৈধ ছিল।

কিন্তু ইসলাম ধর্মে শিরকের গন্ধ পর্যন্ত মিটিয়ে খালেস তাওহিদ প্রতিষ্ঠার্থে সম্মান সূচক সেজদা ও মাথা নোয়ানোও হারাম করে দেয়া হয়েছে। তাই ইসলাম ধর্মে কোনো ব্যাখাতেই ওলী-আউলিয়াগণের মাজারে-দরবারে সেজদা করা বা মাথা ঝুকানোর অবকাশ নেই।

ফেরেস্তাগণ কর্তৃক স্বয়ং আল্লাহ পাকের হুকুমে আদম আ. এর প্রতি সম্মান প্রকাশার্থে সেজদা করার বিষয়টি আসমানী জগতের সাথে সম্পৃক্ত। এটি উর্দ্ধ জগতের বৈশিষ্ট। তার সাথে দুনিয়ার জগতের বিধি বিধান তুলনীয় নয়। সুতরাং এ দ্বারাও বিভ্রান্ত হওয়া যাবে না।

দুই. কবর জিয়ারতের ইচ্ছা হলে মুস্তাহাব হলো প্রথমে দুই রাকাত নফল নামাজ আদায় করা। অতপর কবরস্থানে যাওয়ার সময় সর্বপ্রকার অনর্থক কাজ পরিহার করা। কবরস্থানে পৌঁছে সম্ভব হলে জুতা খুলে নিবে। অতঃপর মৃত ব্যক্তির পায়ের দিক দিয়ে এসে চেহারা বরাবর মৃত ব্যক্তির দিকে মুখ করে দাঁড়াবে। অতঃপর সালাম ও দুয়া পাঠ করবে। এরপর যতটুকু সম্ভব হয় সূরা ফাতিহা, সূরা বাকারার শুরু থেকে ৫ আয়াত পর্যন্ত, আয়াতুল কুরসী, সূরা ইয়াসিন, সূরা মুলক, সূরা তাকাসূর এবং সূরা ইখলাস ১২, ১১, ৭ বা ৩ বার পড়ে মৃত ব্যক্তিকে সওয়াব পৌঁছে দিবে। সর্বশেষে কেবলার দিকে মুখ করে যতক্ষণ সম্ভব হয় দীর্ঘ দুয়ার মাধ্যমে জিয়ারত শেষ করবে।

উল্লেখ্য, কবর জিয়ারত করতে গিয়ে কবর স্পর্শ করা বা চুমু খাওয়া নিষেধ। এটা বিধর্মীদের রীতি।

আল বাহরুর রায়েক ৮/২৬৪, ফাতাওয়া আলমগিরী ৫/৩৬৮

Leave a Comment