শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক রহ. প্রতিষ্ঠিত

এক মসজিদের ওয়াকফকৃত জমি অন্য মসজিদে ব্যবহার করা বৈধ কিনা?

জিজ্ঞাসা : আমার পিতা জীবিত থাকাকালীন মালদিয়া-কাশালিয়া সম্মিলিত জামে মসজিদে দশ কাঠা জমি মৌখিকভাবে দান করে যান। তার মৃত্যুর দশ থেকে বার বছর পরে মালদিয়া-কাশালিয়া ধর্মীয় সভার স্থান নিয়ে মতের অমিল ঘটে। তারপর কাশালিয়াবাসী নতুন আর একটা মসজিদ নির্মাণ করে এবং ঐ দানকৃত জমি এই মসজিদে নিয়ে আসে। এখন আমাদের মহল্লায় তৃতীয় আর একটা মসজিদ নির্মাণ করা হয়। আমরা এ মসজিদেই নামায পড়ি। এখন আমরা ঐ জমি আমাদের এই মসজিদে আনতে পারব কিনা তা কুরআন ও হাদিসের আলোকে জানতে চাই।

সাইফুল ইসলাম

কাশালিয়া গোপালগঞ্জ

জবাব : প্রশ্নে উল্লেখিত জমিটুকু যেহেতু আপনার পিতা প্রথম মসজিদে তথা ‘মালদিয়া-কাশালিয়া সম্মিলিত জামে মসজিদ’ এর নামে ওয়াকফ করে ছিলেন, তাই উক্ত দশ কাঠা জমি চিরকালের জন্য প্রথম মসজিদের মালিকানা হয়ে গেছে। ইসলামী শরিয়তের সুস্পষ্ট বিধান অনুযায়ী এতে কোনো ভাবেই কোনোরূপ পরিবর্তন সাধনের অবকাশ নেই। এমন কি ওয়াকফকারীর ওয়ারিশ তথা মুতাওয়াল্লিদেরকেও শরিয়ত এ অধিকার দেয়নি।

সেমতে দ্বিতীয় (নতুন) মসজিদ নির্মাণকারীদের জন্য উক্ত দশ কাঠা জমি নতুন মসজিদের নামে নিয়ে আসা এবং জমির আয় এ মসজিদের কাজে ব্যয় করা সম্পূর্ণই নাজায়িজ ও অবৈধ হয়েছে। এখন তাদের অবশ্য কর্তব্য হল কালবিলম্ব না করে উক্ত জমির দখলস্বত্ত প্রথম মসজিদের অনুকূলে হস্তান্তর করা এবং এ যাবত উক্ত জমি থেকে লাভকৃত আয়ের টাকা পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে হিসাব করে প্রথম মসজিদ কর্তৃপক্ষের হাতে বুঝিয়ে দেয়া। সাথে সাথে শরিয়তের সঠিক বিধান না জেনে যারা এ অন্যায় কাজে জড়িত হয়েছিল তাদের সকলকে ব্যক্তিগতভাবে আল্লাহর দরবারে তওবা ও ইস্তেগফার করতে হবে।

উল্লেখিত বিধান মতে সর্বশেষ নির্মিত তৃতীয় মসজিদ অথবা অন্য কোনো মসজিদের জন্যও এ জমি ব্যবহার করার কোন সুযোগ নেই। বরং ওয়াকফ হিসেবে এ জমি চিরকালের জন্য ‘মালদিয়া-কাশালিয়া সম্মিলিত জামে মসজিদ’ এর নামেই বরাদ্দ থাকবে এবং এর যাবতীয় আয় এ মসজিদের পেছনেই ব্যয় করতে হবে।

উল্লেখ্য, মসজিদের নামে বা মসজিদের জন্য মৌখিকভাবে কোনো কিছু দান করলেও তা চিরকালের জন্য ওয়াকফ হয়ে যায়। এক্ষেত্রে ওয়াকফ কার্যকর হওয়ার জন্য লিখিতভাবে দান করা, দলীল রেজিস্ট্রি করে দেয়া, ওয়াকফ শব্দ উল্লেখ করা এসবের কোনো কিছুই আবশ্যকীয় নয়। অবশ্য ওয়াকফ সম্পত্তির ভবিষ্যত নিরাপত্তার জন্য রেজিস্ট্রি করে নেয়া আবশ্যক। যাতে ভবিষ্যতে এ নিয়ে কেউ বিতর্ক বা গণ্ডগোল সৃষ্টির প্রয়াস না পায়। সে মতে অতিসত্বর আলোচ্য দশ কাঠা জমি ‘মালদিয়া-কাশালিয়া সম্মিলিত জামে মসজিদ’ এর নামে ওয়াকফকারীর ওয়ারিশানদের কাছ থেকে দলিল রেজিস্ট্রি করে নেয়া জরুরি।

ফাতাওয়া আলমগিরী ২/৪৬২, আহসানুল ফাতাওয়া ৬/৪২৪, এমদাদুল ফাতাওয়া ২/৫৮৫