ভর্তিচ্ছু ছাত্রের অঙ্গীকার

আমি…. অত্র জামিয়ায় ভর্তি হইতে ইচ্ছুক। আমি মনে প্রাণে অঙ্গীকার করিতেছি যে,

১। জামিয়ার বর্তমান এবং ভবিষ্যতে গৃহীতব্য সকল আইন-কানূন অক্ষরে অক্ষরে মানিয়া চলিতে বাধ্য থাকিব।
২। দরস, মুতা’লাআ ও তাকরারের যথাযথ পাবন্দী করিব। পড়া-শুনা ছাড়া অন্য কোন শোগল রাখিব না। একান্ত
অপরাগতা ছাড়া অহেতুক ওযর বানাইয়া ছুটি নিব না এবং সবক কামাই করিব না।
৩। পত্র-পত্রিকা, ম্যাগাজিন, গল্প-উপন্যাসের বই এবং ফাসিদ আক্বীদা ও ফাসিদ চিন্তাধারার লেখকদের কোন বই পড়িব না।
৪। সর্বদা সুন্নত তরীক্বা মুতাবিক আদর্শ জীবন যাপন করিব। সুন্নতী পোশাক-পরিচ্ছদ, চাল-চলন ও আচার-
ব্যবহার ইখতিয়ার করিব। এই ব্যাপারে আমাদের আকাবির (রহ.) গণের তরয-তরিক্বাকেই নমুনা হিসাবে গ্রহণ করিব।
৫। পাঞ্জাবী হাটুর নীচ পর্যন্ত, পায়জামা ও লুঙ্গি পায়ের টাখনুর উপর পর্যন্ত পরিধান করিব এবং সর্বদা পাঁচ কল্লি টুপি
ব্যবহার করিব।
৬। সর্বদা নিজে পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকিব এবং আশ-পাশ পরিচ্ছন্ন রাখিব। মাথার চুল ও হাত পায়ের নখ ছোট
এবং মোচ খাট করিয়া রাখিব। দাড়ি কখনও কাটিব না বা উপড়াইব না এবং এক মুষ্টির ভিতরে ছাটিব না।
৭। সংশ্লিষ্ট নেগরান হুজুরের অনুমতি ব্যতীত কখনও মাদরাসার বাহিরে যাইব না। সর্বদা জামিয়ার নির্ধারিত  মসজিদে পাঁচ ওয়াক্ত নামায তাকবীরে উলার সহিত আদায় করিতে সচেষ্ট থাকিব।
৮। জামিয়ায় শিক্ষাকালে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতিরেকে কোন রাজনৈতিক দল বা ছাত্র সংগঠনের সহিত কোনভাবে
জড়িত হইব না। জামিয়ার অভ্যন্তরেও কোন দলাদলি করিব না। অন্যথায় বহিস্কারাদেশ সহ যে কোন শাস্তি
মানিয়া নিতে বাধ্য থাকিব।
৯। আমি ওয়াদা করিতেছি যে, জামিয়ায় পড়া অবস্থায় আলিয়া মাদরাসার কোন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করিব না।
যদি আমি ইহা অমান্য করি তবে বহিস্কারের উপযুক্ত সাব্যস্ত হইব।
১০। জামিয়ার উন্নতি ও সুনাম-সুখ্যাতির জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকিব। দ্বীনের প্রয়োজনে বা জামিয়ার কল্যাণে কখনো
কোন খিদমতের তাকাযা আসিলে তাহা সানন্দে আঞ্জাম দিতে প্রস্তুত থাকিব।
১১। জামিয়ার উস্তাদগণের যথাযথ ইহতিরাম ও খিদমতকে নিজের জন্য সৌভাগ্যের ওসীলা মনে করিব এবং
তাঁহাদের আদেশ-উপদেশ মান্য করাকে নিজের ফরীযা বলিয়া জানিব। মাদরাসার খাদিম ও কর্মচারীবৃন্দের
প্রতি সদ্ভাব প্রদর্শন করিব।
১২। আসাতিযায়ে কেরামের খায়েরখায়ী সুলভ যে কোন শাসন-তরবিয়ত মানিতে বাধ্য থাকিব। উহাকে নিজের
জীবনের ইসলাহ এবং ইলম ও আমলের উন্নতির সোপান বলিয়া মনে করিব।
১৩। সকল ছাত্রদের সহিত ভাই ভাই সুলভ ভদ্র আচরণ করিব। কাহারো সহিত অবাঞ্চিত বন্ধুত্বের সম্পর্কও স্থাপন
করিব না বা শত্র“তাও পোষণ করিব না। কোন অবস্থাতেই কাহারো সহিত ঝগড়া-ফাসাদ করিব না।
১৪। জামিয়ার আসবাব পত্রের যথাযথ হিফাযত করিব। জামিয়ার কোন সম্পদ নষ্ট হইতে দিব না বা নিজে কোন
জিনিসের ক্ষতিসাধন করিব না। জামিয়ার পানি, বাতি, পাখা ইত্যাদির খরচে মিতব্যয়ী হইব এবং অপচয়
সম্পর্কে সর্তক থাকিব।
১৫। জামিয়ার কোন কানূন অমান্য করিলে যথোচিত শাস্তি অথবা বহিস্কারাদেশ মানিয়া লইতে বাধ্য থাকিব। ইহাতে
আমার বা আমার অভিভাবকের কোন প্রকার আপত্তি থাকিবে না।
ছাত্রের স্বাক্ষর

 

হিফজ ও মক্তব বিভাগ এবং কিতাব বিভাগের প্রাথমিক শ্রেণীতে ভর্তির জন্য অভিভাবক ফরম
আমি আমার ………………………………… কে ভর্তি ফরম নং …………….. জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায়  ভর্তি করার একান্ত ইচ্ছাপোষণ করে মাদরাসার কানূন হিসাবে এ কথার অঙ্গীকার করছি যে, আমার …………জামিয়ার সকল কানূন মান্য করা সহ উস্তাদদের সকল আদেশ মানতে বাধ্য থাকবে এবং আমি  নিজেও নিম্নবর্ণিত বিসয়সমূহ মানতে বাধ্য থাকব।
১। প্রতি তিন মাসের মধ্যে আমি নিজে অথবা আমার লোক দ্বারা আমার ……………….. শিক্ষা-দীক্ষাসহ সার্বিক অবস্থার
খোঁজ খবর নিব।
২। আমি তার হাতে কোন প্রকার টাকা-পয়সা দিব না। তার প্রয়োজনে প্রদেয় টাকা-পয়সা সংশ্লিষ্ট উস্তাদের নিকট অর্পন করব।
অতএব, তার কাছে উস্তাদের অবগতি ব্যতীত কোন টাকা-পয়সা পাওয়া গেলে, তাকে বহিষ্কার করা হতে পারে, তাতে
আমার কোন আপত্তি থাকবে না।
৩। জামিয়া ছুটি হলে বা অন্যান্য সময় সে একা একা যাতায়াত করবে না। আমি বা আমার পাঠানো লোক তাকে আনা-নেয়া করবে।
৪। জামিয়া ছুটি হলে বা সে ছুটি নিয়ে বাড়িতে গেলে, আমি তাকে যথাসময়ে জামিয়ায় উপস্থিত করার ব্যবস্থা করব।
তবে বিশেষ কোন উজর থাকলে, তৎক্ষণাৎ কর্তৃপক্ষকে জানাব। অন্যথায়, তার ক্লাসে বসার অধিকার রহিতকরণ মানতে বাধ্য থাকব।
৫। তার সাথে সাক্ষাৎ করতে হলে, ছাত্রদের সঙ্গে সাক্ষাতের নির্ধারিত সময় প্রতিদিন সকালে নাস্তার সময় এবং আসর
থেকে মাগরিব পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সাক্ষাত করব। তবে শুক্রবারে যে কোন সময় সাক্ষাত করতে পারব।
৬। প্রতি আরবী (চন্দ্র) মাসের শেষ সপ্তাহে পরবর্তী মাসের বোর্ডিং-এর খানা-নাস্তার চার্জ জমা দিব। অন্যথায় পরবর্তী  মাসের ১ম তারিখ থেকে বোর্ডিং কর্তৃপক্ষ তার খানা ও নাস্তা বন্ধ করে দিলে, আমার কোন প্রকার আপত্তি থাকবে না।
৭। জামিয়ার সকল ইন্তেজাম ফাঁকি দিয়ে যদি সে জামিয়া থেকে পালিয়ে যায়, তাহলে জামিয়া কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না  এবং তার সকল দায়-দায়িত্ব আমার উপর বর্তাবে।
৮। সে যদি কোন সময় উস্তাদের অনুমতি ব্যতীত জামিয়ার এন্তেজাম ফাঁকি দিয়ে জামিয়ার বাইরে গিয়ে দুর্ঘটনায় পতিত  হয়, কিংবা অভ্যন্তরে থেকেই নিজ কর্মের দ্বারা কোন অঘটনের সম্মুখীন হয়, তাহলে জামিয়া কর্তৃপক্ষ তার জন্য দায়ী  থাকবে না।
৯। চারিত্রিক কোন ত্র“টি পাওয়া গেলে, তার জন্য কর্তৃপক্ষের যে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা আমি মেনে নিব। এক্ষেত্রে
প্রয়োজনে তাকে বহিষ্কার করা হলে, আমার কোন আপত্তি থাকবে না।
১০। আমার কোন অভিযোগ থাকলে, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট উস্তাদের নিকট কৈফিয়ত চাইব না, বরং জামিয়া কর্তৃপক্ষের
নিকট জানাব। তারা যে সিদ্ধান্ত দেন- তা মানতে বাধ্য থাকব। বিভিন্ন অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে জামিয়ায় আরো যে
সকল কানূন জারি করা হবে, সে সব কানূন আমরা মেনে চলব।

 

Share