আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মৌলিক আকীদাসমূহ

আমরা আল্লাহ তায়ালার তাওফীককে বিশ্বাস করে তাঁর একত্মবাদের ব্যাপারে বলি:

১.    আল্লাহ এক।

২.    তাঁর কোন শরীক (অংশিদার) নেই।

৩.    কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

৪.    তাঁকে অক্ষমকারী কোন জিনিস নেই।

৫.    তিনি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই।

৬.    তিনি আদি, যার কোন শুরু নেই।

৭.    তিনি অবিনশ্বর, যার কোন অন্ত নেই।

৮.   তাঁর কোন ধ্বংসও নেই এবং ক্ষয়ও নেই।

৯.    তিনি যা ইচ্ছা করেন-তাই হয়।

১০.মানুষের ধারণা আল্লাহ তায়ালা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।

১১.বোধশক্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না।

১২.সৃষ্টিজীব তাঁর সাদৃশ্যতা অবলম্বন করতে পারে না।

১৩.তিনি চিরস্থায়ী, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।

১৪.তিনি চিরঞ্জীব কখনো ঘুমান না।

১৫.তিনি প্রয়োজন ব্যতীত  অর্থাৎ তিনি নিজ প্রয়োজনে মাখলুক সৃষ্টি করেননি।

১৬.তিনি কষ্ট ব্যতিত রিযিকদাতা।

১৭.কোনরূপ ভয় ব্যতিত মৃত্যুদানকারী।

১৮.কোন কষ্ট ছাড়াই পুনরুত্থানকারী।

১৯.তিনি মাখলুক সৃষ্টির পূর্বে স্বীয় গুণাবলীর সাথে অনাদি।

২০.মাখলুককে সৃষ্টির দ্বারা তাঁর এমন কোন গুণ বৃদ্ধি পায়নি, যা তাদের সৃষ্টির পূর্বে ছিল না।

২১.যেমনিভাবে তিনি নিজ গুণাবলী নিয়ে অনাদি, তদ্রƒপ তিনি নিজ গুণাবলীসহ চিরন্তন ও চিরঞ্জীব।

২২.সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করার পর তিনি খালেক

২৩.প্রতিপালিতদের অবর্তমানেও তিনি প্রতিপালনের গুণে গুণান্বিত। এবং মাখলুকের অবর্তমানেও  হওয়ার  গুণে গুণান্বিত।

২৪.যেমনিভাবে তিনি মৃতদের জীবিত করার পর তাদের জীবন দানকারী, ঠিক তেমনিভাবে তিনি মৃতদের জীবিত করার পূর্বেও এ গুণবাচক নামের (তথা মৃতকে জীবন দানকরা) অধিকারী। এমনিভাবে তিনি সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করার পূর্বেও খালেক (স্রষ্টা) নামটির অধিকারী ছিলেন।

২৫.তিনি স্বীয় ইলম দ্বারা সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করেছেন।

২৬.তিনি মাখলুকের জন্য পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।

২৭.তিনি তাদের জন্য জীবন-মৃত্যুর সময় ধার্য করেছেন। এবং মাখলুককে সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই তাঁর নিকট কোন বিষয় গোপন ও অস্পষ্ট নেই।

২৮.মাখলুককে সৃষ্টি করার পূর্বেই তারা যা করবে- তা তিনি জানেন।

২৯.তিনি মাখলুককে স্বীয় আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা করতে নিষেধ করেছেন।

৩০.সবকিছু তাঁর ক্ষমতায় পরিচালিত হয়।

৩১.তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু কার্যকর হয়।

৩২.আল্লাহর চাওয়ার বাইরে বান্দার কোন চাওয়া নেই, সুতরাং তিনি তাদের জন্য যা চান, তাই হয়। আর যা চান না তা হয় না।

৩৩.তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং রক্ষা করেন ও বিপদমুক্ত করেন।

৩৪.তিনি ইনসাফ স্বরূপ যাকে ইচ্ছা তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং তার থেকে সাহায্য উঠিয়ে নেন। এবং তাকে মুসিবতে লিপ্ত করেন।

৩৫.সকলকেই তাঁর ইচ্ছা, অনুগ্রহ ও ইনসাফের মাঝে আবর্তিত।

৩৬.তাঁর ফায়সালাকে প্রত্যাখান করার কেউ নেই।

৩৭.তাঁর হুকুমকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই।

৩৮.তাঁর নির্দেশের উপর প্রভাব বিস্তারকারী কেউ নেই।

৩৯.তিনি প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষ থেকে অনেক উর্ধ্বে।

৪০.নিশ্চয় মুহাম্মাদ সা. তাঁর নির্বাচিত বান্দা।

৪১.তাঁর মনোনিত নবী।

৪২.তাঁর সন্তোষভাজন নবী।

৪৩.তিনি সর্বশেষ নবী।

৪৪.তিনি (মুহাম্মাদ সা.) মুত্তাকীদের ইমাম।

৪৫.রাসূলকুল শিরোমনি।

৪৬.জগত-সমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন।

৪৭.আর মুহাম্মাদ সা. এর নবুওয়াতের পর প্রত্যেক নবুওয়াতের দাবিই ভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তি প্রসুত।

৪৮.মুহাম্মাদ সা. সত্য ও হেদায়েত নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন সকল জীন এবং সমস্ত মাখলুকের নিকট।

৪৯.কোরআন শরীফ আল্লাহ তায়ালার কালাম তথা কথা।

৫০.কোরআন আল্লাহ তায়ালার থেকে প্রকাশ পেয়েছে-বলার কোন পদ্ধতি ব্যতিরেকে।

৫১.কোরআন শরীফকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর উপর অবতীর্ণ করেছেন ওহীরূপে।

৫২.কোরআনকে সকল মুমিন সত্য বলে সত্যায়ন করে।

৫৩.সকল মুমিন বিশ্বাস করে যে, “কোরআন” বাস্তবে আল্লাহর কালাম, সৃষ্টিকুলের কথার ন্যায় তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়।

৫৪.যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ শ্রবন করে মনে করে যে, এটা মাখলুকের কথা, সে কুফুরী করল।

৫৫.কোরআন শরীফ মানুষের কথার সদৃশ নয়।

৫৬.যে ব্যক্তি মানবীয় কোন গুণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার গুণ বর্ণনা করবে সে কুফুরী করেছে বলে সাব্যস্ত হবে।

৫৭.জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ হবে-এটা সত্য। তবে সে দর্শনের কোন  كيفية(পদ্ধতি) আমাদের জানা নেই। এবং সেই দর্শন হবে পরিবেষ্টন ব্যতিরেকে।

৫৮.আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, এই  رؤية(দর্শন) এর ব্যাপারে যে সকল সহীহ হাদীস হুজুর সা. থেকে বর্ণিত আছে সেগুলো তেমনই যেমনটি রাসূল সা. বলেছেন এবং সে সকল সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যা উহাই রাসূল সা. এগুলোর দ্বারা যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

৫৯. رؤيةসম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসের মধ্যে আমরা নিজস্ব মত কিংবা ধারণাপ্রসূত কোন তাবীল বা ব্যাখ্যা করি না।

৬০.এবং এই আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে আমরা নিজেদের প্রবৃত্তি প্রসূত কোন কিছু ধারণাও করি না।

৬১.ইসলামের চরণ প্রতিষ্ঠিত থাকে কেবলমাত্র আত্মসমর্পণ ও বশ্যতা স্বীকারের পৃষ্ঠে।

৬২.যে ব্যত্তি নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে চায় এবং আত্মসমর্পণের দ্বারা তার বুঝ শক্তি পরিতৃপ্ত হয় না সে নিষ্কলুষ একত্মবাদের বিশ্বাস, নিরংকুশ মারেফাত ও বিশুদ্ধ ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়।

৬৩.আর সে কুফর ও ঈমান, তাসদীক ও তাকজীব, ইকরার ও ইনকারের মাঝে দোদুল্যমান থাকে আর সর্বদা সে সন্দেহ, অস্থিরতা, অভিযোগ ও বক্রতায় লিপ্ত থাকে। ফলে সে  مؤمن مصدق হয় না আবার  كافر جاحدও হয় না।

৬৪.জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভের উপর ঐ ব্যক্তির ঈমান আনয়ন সহীহ হবে না যে এটাকে কল্পনা দ্বারা অপব্যাখ্যা করে আমরা নিজ বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী এটার (দর্শনের) ব্যাখ্যা করে।

৬৫.যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার এবং মাখলুকের গুণের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি তার পদস্খলন ঘটেছে এবং সে আল্লাহর পবিত্রতা প্রমান করতে পারেনি। কারণ আমাদের সুউচ্চ মহান প্রভু একক গুণে গুণান্বিত, অদ্বিতীয় বিশেষণে বিশেষিত।

৬৬.ভূপৃষ্ঠে কেউ তাঁর গুণে গুণান্বিত নয়।

৬৭.আল্লাহ তায়ালা পরিধি, সীমা-পরিসীমা, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও উপাদান-উপকরণ থেকে বহু উর্ধ্বে।

৬৮.যাবতীয় উদ্ভাবিত বস্তুর ন্যায় তাকে ষষ্ঠ দিক পরিবেষ্টন করতে পারে না।

৬৯.মেরাজ সত্য। নবী কারীম সা. কে রাতের বেলায় ভ্রমন করানো হয়েছে এবং তাকে জাগ্রতবস্থায় স্বশরীরে নভোম-লে উঠানো হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তার উর্ধ্ব জগতের যেখানে চেয়েছেন সেখানেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাকে যে জিনিস দ্বারা সম্মানিত করতে চেয়েছেন তা দ্বারা তাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি যা ওহী করার ইচ্ছা করেছেন তা তার বান্দার নিকট ওহী করেছেন।

৭০. “হাউজে কাওসার” চিরসত্য। যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে উম্মতের পিপাসা নিবারণার্থে দানস্বরূপ সম্মানিত করেছেন।

৭১.নবী কারীম সা. এর সুপারিশ সত্য। যে সুপারিশ আল্লাহ তায়ালা তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছেন। যেমনটি হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে।

৭২.আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আ. ও তাঁর সন্তানদের থেকে রুহজগতে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তা চিরসত্য।

৭৩.আল্লাহ তায়ালা অনাদিকাল হতে পূর্ণরূপেই জানেন যে, কত সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে আর কত সংখ্যক লোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এসংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে না এবং হ্রাস হবে না।

৭৪.অনুরূপ আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের কর্ম সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত।

৭৫.যাকে যে কর্মের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন তা তাঁর জন্য সহজসাধ্য করা হয়েছে।

৭৬.সকল কর্মের প্রতিদান শেষ অবস্থার উপর নির্ভরশীল।

৭৭.আল্লাহর ফায়সালা দ্বারা যে সৌভাগ্যবান হয়েছে সেই প্রকৃত সৌভাগ্যবান আর যে দুর্ভাগা হয়েছে সেই মূলত হতভাগা।

৭৮.তাকদীর হল মাখলুক সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার একটি গোপন রহস্য। যা নৈকট্যশীল কোন ফেরেশতা এবং নবী-রাসূলও জানেন না।

৭৯.তাকদীর সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা ব্যর্থতা ও আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং এটা সীমালঙ্ঘনের মাধ্যম।

৮০.তাকদীরের উদ্দেশ্য তালাশ করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন সুতরাং যদি কেউ বলে তিনি এটা কেন করলেন তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।

৮১. علم وجود কে অস্বীকার করা কুফুরী এবং  علم مفقودএর দাবী করা কুফুরী। علم وجود  কে গ্রহণ করা এবং  علم مفقودএর অন্বেষণ বর্জন  করা ব্যতিত ঈমান সহীহ হবে না।

৮২.আমরা  لوح محفوظএর প্রতি বিশ্বাস রাখি।

৮৩.আমরা (قلم) কলম এবং কলম যা লিখেছে তার প্রতি বিশ্বাস রাখি।

৮৪.যদি সকল সৃষ্টি জীব সংঘবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করে ঐ সকল বিষয় না হওয়ার জন্য যা সংঘটিত হওয়ার কথা আল্লাহ তায়ালা লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন; তাহলে তারা সক্ষম হবে না। তদ্রƒপ যদি সকল মাখলুক একত্রিত হয়ে ঐ সকল বিষয় সংঘটিত হওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়, যা সংঘঠিত হওয়ার কথা আল্লাহ তায়ালা লওহে মাহফুজে লেখেননি, তাহলে এতেও তারা সক্ষম হবে না।

৮৫.কিয়ামত অবধি যা কিছু হবে কলম তা লিখে শুকিয়ে গেছে।

৮৬.বান্দার কাছে যা পৌঁছেনি তা পৌঁছার ছিলো না। আর যা পৌঁছেছে তা পৌঁছারই ছিল।

৮৭.বান্দার উপর এই কথা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, মাখলুক থেকে যা হবে আল্লাহ তায়ালা তা পূর্ব হতেই জানেন।

৮৮.আল্লাহ যা কিছু নির্ধারণ করেছেন তা নিজ ইচ্ছা থেকে নির্ধারণ করেছেন।

৮৯.আসমান যমিনের কেউ তাঁর ইচ্ছার খ-নকারী নেই।

৯০.এবং তা পশ্চাতে নিক্ষেপকারী ও দূরিভূতকারী কেউ নেই।

৯১.তাঁর পরিবর্তন ও পরিবর্ধনকারী কেউ নেই।

৯২.তাতে কেউ কিছু বৃদ্ধি করতে পারে না এবং কেউ কিছু কমাতেও পারে না।

৯৩.আল্লাহর সৃষ্টি ব্যতিত কোন কিছু সৃষ্ট হয় না।

৯৪.আল্লাহর সকল সৃষ্টি সুন্দর হয়।

৯৫.আরশ,কুরসী সত্য।

৯৬.তিনি আরশ ও অন্যান্য সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী।

৯৭.তিনি সকল বিষয়কে পরিবেষ্টনকারী।

৯৮.তিনি সব কিছুর উর্ধ্বে।

৯৯.সৃষ্টিকুল তাঁকে পরিবেষ্টন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

১০০.আমরা দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যায়ন পূর্বক এবং আনুগত্য করত: এ কথা বলি যে, আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম আ. কে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন আর তিনি মুসা আ. এর সঙ্গে কথা বলেছেন।

১০১.আমরা সকল ফেরেশতা ও নবী-রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ সকল ঐশী কিতাবের প্রতি ঈমান রাখি।

১০২.আমরা সাক্ষ্য দেই যে, সকল নবী সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

১০৩.আমরা কিবলার অনুসারীদের মুমিন, মুসলমান নামে ভূষিত করি, যতক্ষণ তাঁরা নবী কারীম সা. এর আনীত বিষয়ের উপর বিশ্বাসী থাকবে এবং যা কিছু বলেছেন তা সত্যায়ন করবে।

১০৪.আমরা আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বা নিয়ে অহেতুক গবেষণা করি না।

১০৫.আমরা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করি না।

১০৬.আমরা কোরআনের ব্যাপারে কোন বিবাদে লিপ্ত হই না।

১০৭.আমরা সাক্ষ্য দেই যে, কোরআন বিশ্ব জাহানের পালনকর্তার কালাম যা নিয়ে জিবরাঈল আ. অবতরণ করেছেন এবং তিনি নবীকুলের সর্দার মুহাম্মাদ সা. কে শিক্ষা দিয়েছেন।

১০৮.মাখলুকের কোন কথা আল্লাহ তায়ালার কালামের সমকক্ষ হতে পারে না।

১০৯.আমরা কোরআনকে মাখলুক (সৃষ্ট) বলি না।

১১০.আমরা কখনো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিরোধিতা করি না।

১১১.আমরা আহলে কিবলাদের (মুসলমানদের) কাউকে কোন গুনাহের কারণে কাফের বলি না।

১১২.আমরা একথা বলি না যে, ঈমান থাকা অবস্থায় কোন পাপীর পাপ ক্ষতি সাধন করে না।

১১৩.সৎকর্মশীলদের ব্যাপারে আমরা আশা করি যে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন তবে আমরা তাদের ক্ষমার ব্যাপারে নিশ্চিত নই।

১১৪.আমরা তাদের পাপের ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করি।

১১৫.আমরা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেই না।

১১৬.আমরা তাদের ব্যাপারে আশংকা বোধ করি তবে নিরাশ হই না।

১১৭.আল্লাহর শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া এবং তাঁর রহমত হতে নিরাশ হয়ে যাওয়া-এ দুটি ইসলাম বহির্ভূত কাজ ও কুফরী, আর কিবলাপন্থি তথা মুসলমানদের জন্য এ দুয়ের মাঝে হচ্ছে হকের পথ।

১১৮.যে সকল বিষয় বিশ্বাস করার দ্বারা বান্দা ঈমানদার বলে সাব্যস্ত হয় তার কোন একটি অস্বীকার করলে সে ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে এবং কাফের হয়ে যাবে।

১১৯.আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কোরআন এবং রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীসসমূহ সত্য।

১২০.মৌলিক ঈমান এটা এক। আর ঈমানের মৌলিক বিষয়ে মুমিনগণ সবাই সমান। তবে তাদের মাঝে মর্যাদাগত প্রকৃত পার্থক্য হয় তাকওয়া, কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা ও উত্তম বিষয় আকড়ে ধরার কারণে।

১২১.সকল মুমিন আল্লাহর বন্ধু। তবে তাদের মধ্য হতে যে,  تقوى- معرفتএবং  قرانএর সর্বাধিক অনুগত সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি।

১২২.ঈমান হচ্ছে-আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমুহ, তাঁর নবী রাসূলগণের প্রতি, পরকাল দিবস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং এর ভালো-মন্দ ও তিক্ত-মিষ্টতার প্রতি বিশ্বাস রাখা।

১২৩.আমরা নবী-রাসূলদের ব্যাপারে ঈমান আনার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করি না।

১২৪.মুহাম্মাদ সা. এর উম্মতের মধ্যে যারা ঈমান অবস্থায় কবীরা গুনাহ করবে তাঁরা জাহান্নামে যাবে, তবে চিরকাল থাকবে না। যদিও তাওবা না করে মারা যায়। হ্যাঁ আল্লাহ চাইলে তাদেরকে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। আর যদি এদের শাস্তি দেন তাহলে প্রত্যেকের অপরাধ অনুযায়ী দিবেন। অতঃপর তাঁর অনুগ্রহে এদেরকে জান্নাত দান করবেন। কারণ আল্লাহ তায়ালা সকল মুমিন বান্দাদের অভিভাবক তিনি কাফেরদের মত মুমিনদের সাথে আচরণ করবেন না।

১২৫.আমরা কিবলাপন্থি প্রত্যেক সৎ ও অসৎ ব্যক্তির পেছনে নামায আদায় করাকে বৈধ মনে করি। তাদের জানাজা পড়াকেও বৈধ মনে করি।

১২৬.আমরা কাউকে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলি না।

১২৭.আমরা তাদের কারো প্রতি কুফর, শিরক কিংবা নিফাকের সাক্ষ্য দেই না। যাবৎ না তাদের থেকে তা প্রকাশ পায়।

১২৮.আমরা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়াদী আল্লাহর নিকট ন্যস্ত করি।

১২৯.আমরা উম্মতে মুহাম্মাদী সা. এর কারো প্রতি তরবারী চালানো বৈধ মনে করি না। তবে যার উপর চালানো ওয়াজিব হয়েছে সে ব্যতিত।

১৩০.আমরা আমাদের ইমাম ও শাসকবর্গের আনুগত্য থেকে বের হওয়াকে বৈধ মনে করি না যদিও তারা জালেম হয়ে থাকে।

১৩১.আমরা তাদের জন্য বদ-দোয়া করি না এবং তাদের আনুগত্য পরিত্যাগ করি না।

১৩২.আমরা তাদের আনুগত্যকে আল্লাহর আনুগত্যের ন্যায় ফরজ মনে করি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর সাথে অবাধ্যতার নির্দেশ না দেন।

১৩৩.আমরা শাসকদের কল্যান ও সুস্থতার দোয়া করি।

১৩৪.আমরা সুন্নাত ও জামাতের অনুসরণ করি। (জামাত হলো রাসূল সা.) এর আনুগত্য ও স্বীয় ধর্মের বিষয়ে সুবোধের অধিকারী সাহাবায়ে কেরাম এবং ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ যারা তাঁদের যথাযথ অনুসরণ করবে।

১৩৫.আমরা বিচ্ছিন্নতা, বিরোধিতা ও বিভেদকে পরিত্যাগ করি।

১৩৬.আমরা ন্যায়পরায়ন ও বিশ্বস্ত লোকদেরকে ভালবাসি।

১৩৭.আমরা জালেম ও খেয়ানতকারীদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৩৮.যেসব বিষয়ের জ্ঞান আমাদের নিকট অস্পষ্ট সে ক্ষেত্রে আমরা বলি-আল্লাহই ভাল জানেন।

১৩৯.আমরা মুসাফির ও মুক্বিম অবস্থায় মোজার উপর মাসাহ করাকে বৈধ মনে করি।

১৪০.হজ্জ ও জিহাদ উভয়টি পৃথক পৃথক ফরজ। এ দু‘টি কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম শাসকগণের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে, চাই তারা সৎ হোক কিংবা অসৎ।

১৪১.কোন কিছুই এ দুটিকে বাতিল বা রহিত করতে পারবে না।

১৪২.আমরা কিরামান কাতেবীন ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করি যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আমাদের উপর পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োজিত রেখেছেন।

১৪৩.আমরা বিশ্ববাসীর রূহ কবজের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি।

১৪৪.আমরা কবরের শাস্তি ও নেয়ামতসমুহ সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং তার উপযুক্ত ব্যক্তি তা ভোগ করবে-তাও বিশ্বাস করি।

১৪৫.আমরা বিশ্বাস করি যে, কবরে মুনকার-নাকীর ফেরেশতা মৃত ব্যক্তিকে তার রব (প্রতিপালক) রাসূল ও ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। যেমনটি হুজুর সা. ও সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে বর্ণিত আছে।

১৪৬.কবর হয়ত জান্নাতের বাগিচাসমূহের মধ্য হতে একটি বাগিচা। অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য হতে একটি গর্ত হবে।

১৪৭.আমরা বিশ্বাস করি পুনরুত্থানকে।

১৪৮.কিয়ামত দিবসে আমলসমূহের প্রতিদানকে।

১৪৯.আমলনামা পেশ করাকে।

১৫০.আমলসমূহের হিসাব-নিকাশকে।

১৫১.আমলনামা পাঠ করাকে।

১৫২.উত্তম প্রতিদানকে।

১৫৩.শাস্তিকে।

১৫৪.পুলসিরাতকে।

১৫৫.মিযানকে।

১৫৬.পুনরুত্থান হলো কিয়ামত দিবসে দেহসমূহ একত্রিত করে তা জীবিত করা।

১৫৭.জান্নাত এবং জাহান্নাম এমন দু‘টি সৃষ্টি, যা কখনো ধ্বংস হবে না।

১৫৮.আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই জান্নাত জাহান্নাম সৃজন করেছেন। এবং জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসিদেরকেও সৃষ্টি করেছেন।

১৫৯.মানুষের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি নিজ অনুগ্রহে জান্নাতি বানিয়েছেন।

১৬০.প্রত্যেকেই সেই কাজই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রত্যেকে সেদিকেরই অনুগামী হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৬১.কল্যান ও অকল্যান উভয়টি বান্দার উপর নির্ধারিত।

১৬২.সক্ষমতা দ্ইু প্রকার। যথা:- ১. এমন সক্ষমতা যার সাথে  فعل(ক্রিয়া) পাওয়া যায়। যেমন তাওফিক, যে গুণের অধিকারি কোন মাখলুককে মনে করা জায়েয নেই। আর তা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। ২. এ প্রকার সক্ষমতা হলো যেমন সুস্থ থাকা। সাধ্যানুযায়ী হওয়া। সম্ভব হওয়া ও আসবাবপত্র ঠিক থাকা ইত্যাদি যা কর্মের পূর্বে হয়ে থাকে।

১৬৩.বান্দার সকল কাজের ¯্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। আর বান্দা কাসেব অর্থাৎ উপার্জনকারি।

১৬৪.আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের উপর তাদের সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেননি আর বান্দা শুধু ততটুকই করতে পারে যার সক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই হলো

لا حول ولا قوة إلا بالله এর তাফসির। অতএব আমরা বলি আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোন সাধ্য নেই এবং আল্লাহ তায়ালার তাওফিক ছাড়া তার আনুগত্য করা ও আনুগত্যের উপর অটল থাকা সম্ভব নয়।

১৬৫.প্রত্যেক বস্তু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা, ইলম ও ফয়সালা অনুযায়ী সংগঠিত হয়। অতএব আল্লাহর ইচ্ছা মাখলুকের সকল ইচ্ছার উপর গালেব (বিজয়ী) থাকবে এবং তার ফয়সালা সমস্ত কৌশলের উপর প্রাধান্য থাকবে।

১৬৬.আল্লাহ তায়ালা যা চান তাই করেন।

১৬৭.তিনি যা করেন তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।

১৬৮.সকল সৃষ্টিজীবকে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

১৬৯.জীবিতদের দু‘আ এবং তাদের দানের মাঝে মৃত ব্যক্তিদের জন্য উপকার রয়েছে।

১৭০.আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের দোয়াসমূহ কবুল করেন।

১৭১.তিনি প্রয়োজনসমূহ পূর্ণ করেন।

১৭২.তিনি সব কিছুর অধিপতি।

১৭৩.তার উপর কারো আধিপত্য নেই।

১৭৪.তিনি কারো উপর জুলুম করেন না।

১৭৫.কেউ এক পলক পরিমাণ সময়ও আল্লাহ তায়ালা থেকে অমুখাপেক্ষী নয়।

১৭৬.যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা থেকে এক মুহূর্ত অমুখাপেক্ষী হবে সে কুফুরী করেছে বলে সাব্যস্ত হবে। এবং ধ্বংসশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৭৭.আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন। তবে সৃষ্টিজীবের কারো মত নয়।

১৭৮.আমরা রাসূল সা. এর সাহাবাদেরকে ভালবাসি।

১৭৯.আমরা তাদের কাউকে ভালবাসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করি না।

১৮০.আমরা তাদের কারো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি না।

১৮১.তাদের সাথে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে আমরাও তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৮২.যারা অন্যায়ভাবে তাদের সমালোচনা করে তাদের সাথেও আমরা বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৮৩.আমরা কেবলমাত্র তাদের সুআলোচনাই করবো।

১৮৪.তাদেরকে ভালবাসা দ্বীন, ঈমান ও ইহসানের বহিঃপ্রকাশ।

১৮৫.তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করা কুফুরী নিফাক এবং নাফারমানী এর নামান্তর।

১৮৬.আমরা রাসূল সা. এর পরে সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর রা. এর খেলাফতকে স্বীকার করি। তারপর হযরত উমর রা. এর ফেলাফতকে, তারপর হযরত উসমান রা. এর খেলাফতকে, তারপর হযরত আলী রা. এর খেলাফতকে।

১৮৭.রাসূল সা. যে দশজন সাহাবীর নাম উল্লেখ করে তাদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন আমরা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য প্রদান করি।

১৮৮.যারা রাসূল সা. এর সাহাবী, পুত-পবিত্রা স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে সুআলোচনা করবে তারা নিফাক থেকে মুক্ত থাকবে।

১৮৯.পূর্ববর্তী সালফে সালেহীন উলামাগণ (তথা সাহাবায়ে কেরাম) তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীদের মধ্য হতে যারা কোরআন, হাদীস ও ফিকহে পারদর্শী এবং গবেষক তাদেরকে সম্মানের সাথে স্মরণ করতে হবে। আর যারা অসম্মানের সাথে তাদেরকে স্মরণ করবে তারা পথভ্রষ্ট।

১৯০.আমরা কোন ওলীকে নবীগণের উপর প্রাধান্য দেই না। বরং আমরা বলি একজন নবী সকল ওলী থেকে শেষ্ঠ।

১৯১.আমরা ঐ সব কারামাত (অলৌকিক ঘটনাকে) বিশ্বস করি যা ওলীদের থেকে প্রকাশ পায় এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত।

১৯২.আমরা কিয়ামতের আলামতসমূহের উপর বিশ্বাস রাখি।

১৯৩.কোন জ্যোতিষী, কোন গণক ও এমন কোন ব্যক্তি যে কুরআন, হাদীস ও ইজমায়ে উম্মতের রিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে আমরা বিশ্বাস করি না।

১৯৪.আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে সত্য ও সঠিক মনে করি।

১৯৫.আমরা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারীকে পথভ্রষ্ট ও শাস্তিযোগ্য মনে করি।

১৯৬.আসমান ও যমীনে আল্লাহর ধর্ম একটাই। আর তা হলো ইসলাম ধর্ম।

১৯৭.ইসলাম ধর্ম বাড়া-বাড়ি, ছাড়া-ছাড়ি, তাশবীহ-তা’লীল, জবর-ক্বদর, আশা-নিরাশা এগুলোর মাঝামাঝি একটি ধর্ম।

Share

Comments are closed.