শাপলা চত্বর ট্রাজেডি : চেতনায় প্রজ্জলিত নতুন বালাকোট

মাওলানা মামুনুল হক

৫ মে বাংলাদেশের ইতিহাসে আরো একটি কালো অধ্যায় রচিত হলো। তৌহিদি জনতার স্বত:স্ফূর্ত ঈমানী জাগরণের বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারের কাপুরুষোচিত বর্বর গণহত্যা ও দমন-পীড়নের নজির হয়ে থাকবে এ দিনটি। হেফাজতে ইসলামের ডাকা এ দিনের ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচিতে রাজধানীর ছয়টি প্রবেশ পথে লক্ষ লক্ষ তৌহিদি জনতা শান্তিপূর্ণভাবে অংশগ্রহণ করে। অবরোধ শেষে ঢাকার প্রাণকেন্দ্র মতিঝিলের শাপলা চত্বরের মহাসমাবেশে যোগদানের লক্ষ্যে উল্লেখিত ছয় স্থানের সমবেত জনতা যাত্রা শুরু করে। আল্লাহর জিকির ও তাকবির ধ্বনিতে মুখরিত সাদা-শুভ্র ঈমানী কাফেলার এ যাত্রা যেন শান্ত কিন্তু অনি:শেষ জনস্রোত। ছয়দিক থেকে বহতা নদীর মতো এগিয়ে আসা পবিত্র ও শান্তিপূর্ণ এই জনস্রোত শাপলা চত্বরের মোহনায় মিলিত হওয়ার পূর্বেই এর একটি শাখা আক্রান্ত হয় দুর্বৃত্তদের আক্রমনে। আওয়ামী দুবৃত্তদের এই আক্রমনই উম্মাতাল করে তোলে শান্ত বয়ে চলা জনতার স্রোতকে। এ ভাবেই সূচনা উত্তেজনার। তার পরের ইতিহাস নারকীয় তাণ্ডবের। নজিরবিহীন বর্বতার। বুলেটের আঘাতে তৌহিদি প্রাণ কেড়ে নেয়ার আর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে রেকর্ড নারকীয় হত্যা কাণ্ডের। পেশি শক্তি, আর বুলেটের জোরে ক্ষমতাসীন দাম্ভিকের দল পৈশাচিক বিজয়োল্লাস করতে পারে। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম বাস্তবতা হলো এই দাম্ভিকতা ও পৈশাচিকতাই পতনের কফিনে শেষ পেরাক ঠুকে দেয়।

৫ মে দুপুর থেকে ৬ মে ভোর পর্যন্ত চলা শাপলাচত্বর ট্রাজেডি ঈমানদার মানুষের হৃদয়ে স্মরিত হবে স্বাধীন বাংলার নতুন বালাকোট হিসেবে। প্রিয় নবীজি সা. এর অবমাননার বিরুদ্ধে ফুঁসে ওঠা ঈমানদার মানুষের শহিদী রক্তে ঢাকার রাজপথ যেভাবে রঞ্জিত হয়েছে, বালাকোট প্রাঙ্গণে সাইয়্যেদ আহমাদ শহীদ রহ. ও তার সহযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের সাথেই তার তুলনা চলে। ১৮৩১ এর ৬ মে বালাকোটের প্রান্তরে উপমহাদেশের আজাদি আন্দোলনের বীর শহীদানদের শাহাদাতে বাহ্যত মনে হয়েছিল ঈমানদারদের পরাজয় আর বৃটিশ বেনিয়াদের বিজয় হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস বলে ভিন্ন কথা। সেদিনের বীর শহীদদের আত্মদান যেমন যুগ যুগ ধরে মহান স্বাধীনতার চেতনা সম্মুন্নত রেখেছে লাখো মানুষের হৃদয়পটে আর দ্রোহের আগুন জ্বেলেছে সাম্রাজ্যবাদী বৃটিশের বিরুদ্ধে, তেমনি ২০১৩ এর ৬ মেও যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশের মানুষের মনে এক দিকে যেমন জ্বালবে ঈমানী চেতনার প্রোজ্জ্বল মশাল তেমনি ইতিহাসের ঘৃণিত খুনি হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে আজকের ক্ষমতাসীন মহল।
তবে মর্মান্তিক, লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত এই হত্যাকাণ্ডের কার্যকারণ ও দায়-দায়িত্বের প্রশ্নে কয়েকটি বিষয়ের পর্যালোচনা প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে। এই ঘটনার সাথে নানাভাবে সংশ্লিষ্ট, যারা কোনো না কোনোভাবে এর দায়ভার গ্রহণ করতে বাধ্য তারা হচ্ছে সরকার, আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী, হেফাজত নেতৃবৃন্দ ও বিরোধী দল। নিরপেক্ষ দৃষ্টিকোণ থেকে সংশ্লিষ্ট এই পক্ষগুলোর ভূমিকা ও দায়িত্ব পর্যালোচনা করলে পূর্ণ ঘটনার একটি প্রয়োজনীয় ও যৌক্তিক ব্যাখ্যা বেরিয়ে আসবে বলে আমরা মনে করি।
সরকারি দলের ভূমিকা
সরকারি দল আওয়ামী লীগের ভূমিকা পর্যালোচনায় প্রথমেই যে কথাটি বলতে হয় সেটি হলো, সরকার বিরোধী যে কোনো কর্মসূচি পালন কালে আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক সংস্কৃতি চালু করেছে আর তাহলোÑ বিরোধী পক্ষকে ঠেঙ্গানোর জন্য আইনশৃংখলা রক্ষাকারীদের সাথে রাজপথে দলীয় ক্যাডার বাহিনীর ইপস্থিতি। স্বভাবতই ময়দানে একই সময়ে পরস্পর বিরোধী দুটি পক্ষ মারমুখি অবস্থানে থাকলে উত্তেজনা ও সংঘাত অনেক বেশি হয়। মাঠ দখল ও নৈরাজ্য প্রতিরোধের নামে এমনই এক উস্কানিমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করে আওয়ামীলীগ। হেফাজতে ইসলামের অবরোধ কর্মসূচির আগের দিন আওয়ামীলীগ নেতারা তাদের ক্যাডার বাহিনীকে অবরোধকারী হেফাজত কর্মীদেরকে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানায়। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে আওয়ামীলীগের ছাত্র ও যুব ক্যাডাররা অবরোধের বিভিন্ন পয়েন্টে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে কদমতলী-বাবু বাজার পয়েন্ট থেকে অবরোধকারীরা শাপলা চত্বরের সমাবেশে আসার পথে আওয়ামীলীগের অফিসের সামনে দুপক্ষের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এই সংঘাতের জন্য পরস্পর একপক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ি করছে। যদিও মিডিয়াতে শুধু সরকার দলীয় সন্ত্রাসীদের গুলি চালানোর ও লাঠিসোটা দিয়ে হেফাজতকর্মীদের উপর চড়াও হওয়ার ছবি এসেছে। বিপরিতে আওয়ামীলীগের কার্যালয়ে কথিত হামলার কোনো ছবি সরকারপন্থী মিডিয়াতেও দেখা যায়নি। তবুও এই বিতর্কে না গিয়েই মোটা দাগের দুটি প্রশ্নের কি কোনো জবাব সরকারি দল দিতে পারবে? একটি হলোÑ যদি কোনো নিয়ন্ত্রণ বা নিরাপত্তার প্রয়োজন হয় সে জন্য কি পুলিশ-র‌্যাব, বিজিবি যথেষ্ট ছিল না? দলীয় ক্যাডার বাহিনীর কী প্রয়োজন ছিল? স্বাভাবিক কথা, এখানে লাখো জনতার ঈমানী আবেগের ব্যাপার। সেখানে খোদ সরকারই কেন উস্কানি দিয়ে সংঘাতের পথ খুলল?
দ্বিতীয়টি হলো, সরকারের ঘোর সমর্থক মিডিয়াগুলোতেও ছাত্র ও যুবলীগের ক্যাডারদের ফ্রী স্টাইলে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে অ্যাকশনের বহু সচিত্র সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। বিপরিতে হেফাজতের নিজস্ব কর্মী তো দূরের কথা হেফাজতের নামে যারা ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় অংশ নিয়েছে তাদের ব্যাপারেও এই ধরণের কোনো সংবাদ তারা প্রকাশ করতে পারেনি। এ থেকে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয় যে, সরকারদলীয় ক্যাডার বাহিনীর এই সন্ত্রাসী এ্যাকশন ও হেফাজতের নিরীহ কর্মীদেরকে বিচ্ছিন্ন পেয়ে তাদের উপর বর্বরোচিত হামলার পরিপ্রেক্ষিতেই সংঘাতের সূচনা। সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিক্ষিপ্ত লোকজন সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে। হেফাজতে ইসলামের শান্তিপূর্ণ অরাজনৈতিক ঈমানী এই আন্দোলনকে বাধা দিয়ে সরকার কী পেল? লাখো জনতার এই জাতীয় আবেগপ্রবণ কর্মসূচিতে যেখানে ধৈর্য ও সহনশীলতাই প্রধান কাম্য সেখানে দায়িত্বশীল সরকারই ঘটালো সবচেয়ে বড় ব্যাঘাত।আরো একটি সংশয় হলো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের দোকান-পাটসহ ভবন ও গাড়িতে অগ্নি সংযোগের ঘটনা আসলে কারা ঘটিয়েছে? হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা না আসলে এটা সরকার দলীয় স্যাবোটাজ? আওয়ামী মিডিয়াগুলো ফলাও করে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসস্তুপের ছবি ছাপিয়েছে, কিন্তু হেফাজতের কর্মীরা অগ্নিসংযোগ করছে বা ধ্বংসযজ্ঞ চালাচ্ছে এমন কোনো সচিত্র সংবাদ নেই। এতেও কি এই সন্দেহ ঘনিভূত হয় না যে, এটা সরকারের পরিকল্পিত স্যাবোটাজ? হ্যা আমাদের দৃষ্টিতে যেটা এসেছে যে কাঁদানে গ্যাস থেকে আত্মরক্ষার জন্য হেফাজতের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী বিক্ষিপ্ত কিছু মানুষ রাস্তার পাশ থেকে কাঠের চৌকি, বাঁশ ইত্যাদি সংগ্রহ করে রাস্তার মধ্যখানে এনে আগুন ধরিয়ে দেয়। ধ্বংসযজ্ঞ ও অগ্নি সংযোগ যদি হেফাজত কর্মীরাই করবে তবে তো তাদের এক চেটিয়া দখলে থাকা ইত্তেফাকের মোড় থেকে ফকিরাপুল পর্যন্ত এই এলাকাতেই করতো?এর পরের কথা হলো, সংঘাত-সহিংসতা হয়েছে হেফাজতে ইসলামের মূল কর্মসূচিস্থলের বেশ দূরে। এবং সেটাও চলেছে সন্ধ্যা নাগাদ। সন্ধার পর সব দিকের সংঘাত বন্ধ হয়ে যায়। গোটা এলাকা আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। হেফাজতে ইসলামের শান্তিপ্রিয় সুশৃংখল কর্মসূচি চলতে থাকে দৈনিক বাংলা-নটরডেম-ইত্তেফাক এই এলাকায়। হেফাজত নিয়ন্ত্রিত এই এলাকায় লক্ষ লক্ষ শান্তি প্রিয় ঈমানদার মানুষের জিকিরের কাফেলায় সন্ধা রাতে একবার অভিযান চালানো হয়। তখন দৈনিক বাংলা সড়ক থেকেও হেফাজতের কর্মীরা অনেক পিছু হটে দুই পাশের নটরডেম ও ইত্তেফাকের দিকের সড়কে শুয়ে-বসে সময় কাটাতে থাকে। এই অবস্থায়ই রাস্তার সকল আলো নিভিয়ে দিয়ে ভূতুরে এক পরিবেশ সৃষ্টি করে রাত পৌনে তিনটায় তিন দিক থেকে সাড়াষি অভিযানে জঘন্যতম নরকীয় হত্যাযজ্ঞ চালানো হয়।

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী

আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকাও ছিল বেশ প্রশ্নবিদ্ধ। কেন তাদের আশ্রয়ে থেকে সরকারি দলের ক্যাডাররা প্রতিপক্ষের উপর গুলি বর্ষণ করবে? আর সব চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তারা এমন একটা সময় ঘুমন্ত, বিশ্রামরত ও তাহাজ্জুদের নামাজরত ঈমানদার মানুষের ওপর ক্র্যাকডাউন চালালো যখন সমাবেশস্থল ছাড়া বাকি সব তাদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে। শান্তিপূর্ণ অবস্থান-কর্মসূচি পালনরত হেফাজতে ইসলাম এমন কী অপরাধ করল যার কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলা করতে হবে?

হেফাজত নেতৃবৃন্দের ভূমিকা

হেফাজতে ইসলাম কেন এমন ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে গেলন? কী উদ্দেশ্য ছিল এর পিছনে? কোনো কোনো মহল এমন প্রশ্নও উত্থাপন করছে। এই প্রসঙ্গে আমাদের কাছে যা তথ্য-উপাত্ত আছে এবং সামগ্রিক অবস্থার পর্যবেক্ষণে যা বেরিয়ে আসে তাহলো, প্রথমত: ইসলামের পক্ষে বড় কিছু অর্জনের সম্ভাবনা। বাংলাদেশের ইতিহাসে ইসলামের পক্ষে হেফাজতে ইসলামের ব্যানারে যে গণজাগরণ সৃষ্টি হয়েছে নিকট অতীতে এর নজির নেই। তাই ধারণা ছিল প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করতে পারলে ইসলাম ও মহানবী সা. এর বিরুদ্ধে কটুক্তিকরার বিরুদ্ধে কঠোর আইন পাশের দাবিটি অন্তত: আদায় করা সম্ভব হবে। শাহাবাগীদের অবস্থানে বসিয়ে সরকার যেমন নিজেদের এজেণ্ডায় আইন সংশোধন করেছে। তেমনি অবস্থানের মাধ্যমে সরকারকে রাজনৈতিকভাবে চাপে ফেলা যাবে। কারণ সরকারি প্রশ্রয়ে শাহবাগে টানা অবস্থান এবং শোডাউন হয়েছে। সরকার অবস্থান কর্মসূচিকে সমীহ করেছে শাহাবাগের ক্ষেত্রে। কাজেই অবস্থানের ব্যাপারে সরকারের নৈতিকভাবে দুর্বল থাকার কথা। সেই সাথে মাঠ পর্যায়ের জনশক্তির পক্ষ থেকে এমন কর্মসূচির চাপ ছিল। সব সময় ইসলামপন্থীরা আন্দোলন করে কিন্তু কোনো দাবি দাওয়া আদায় হয় না। এবারের জাগরণ নজিরবিহীন হওয়ায় মানুষের প্রত্যাশাটাও ছিল বেশি। তাছাড়া লক্ষ লক্ষ মানুষের শান্তিপূর্ণ অবস্থানের উপর সরকার নরকীয় হত্যাযজ্ঞ চালাবে এমন কল্পনাও ছিলনা। এতো বিশাল জনসভার শান্তিপূর্ণ অবস্থানের ওপর এহেন ঘৃণ্য হামলার ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে দ্বিতীয়টি নেই।
হেফাজতের নেতৃবৃন্দের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ ছিল ও আছে মর্মে যে প্রচারণা কোনো কোনো মহল চালায় সে ব্যাপারে আমাদের পর্যবেক্ষণ হলো, হেফাজতের বয়োজেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও সামগ্রিক নেতৃত্ব রাজনৈতিক চিন্তার উর্দ্ধেই ছিল।
অবশ্য হেফাজত নেতৃবৃন্দের আশংকা ছিল, কোনো কোনো মহল হেফাজতের কর্মসূচিতে অনুপ্রবেশ করে বিশৃংখলা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু সরকার দলীয় ক্যাডাররা মাঠে নেমে পরিস্থিতি আরো বেশি ঘোলাটে করেছে।

বিরোধী দলের ভূমিকা

হেফাজতে ইসলাম বিষয়ে প্রধান বিরোধীদল বিএনপির ভূমিকা হেফাজতের জন্য বড়ই বিব্রতকর। একদিকে তারা হেফাজতের কোনো একটি দাবির ব্যাপারেও ইতিবাচক দৃষ্টি দেখায় না কিন্তু গায়ে মেখে আবার হেফাজতের আন্দোলনের ফসল নিজেদের ঘরে তুলতে চায়। হেফাজতের আন্দোলনে গড়ে ওঠা সেন্টিমেন্টকে এমনি এমনিই নিজেদের পকেটে ভরতে শস্তা ঘোষণাও দেয়। হেফাজতের পক্ষে মাঠে নামার বিরোধী দলীয় ঘোষণায় বিএনপির কোনো জনশক্তি তো নামেইনি, উপরন্তু হেফাজত সরকারের আরো বেশি টার্গেটে পরিণত হয়েছে। হেফাজতে ইসলামের সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক ও ঈমানী ইমেজ নষ্ট করতেই বরং বেশি ভূমিকা রেখেছে বিএনপির এই সকল কার্যক্রম।

সম্ভাব্য ফলাফল

হেফাজত নেতৃবৃন্দের কিছু অসচেতনতা, বিরোধী দলের সুবিধাবাদী ভূমিকা প্রতীয়মান হলেও ঐতিহাসিকভাবে ৫-৬ মের নতুন বালাকোটের রক্তাক্ত প্রান্তরের মূল খলনায়কের কালিমা আওয়ামীলীগের কপালেই লেপ্টে থাকবে। বিরোধী প্রচার মাধ্যমগুলোকে বন্ধ করে হত্যাযজ্ঞের প্রকৃত চিত্র তারা আড়াল করতে পেরেছে মনে করে তৃপ্তির ঢেকুর তুললেও ঘটনা এখানেই থেমে থাকবে বলে মনে হয় না। নিজেদের পোষা মিডিয়ার মাধ্যমে পবিত্র কুরআন শরিফ আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনাকে তারা গোয়েবলসিয় প্রচারণা চালিয়ে মনে করছে দেশের সকল ধর্মপ্রাণ মানুষ এখন থেকে হেফাজতে ইসলাম এবং আলেম সমাজকে কুরআনের শত্র“ মনে করবে আর রাশেদ খান মেনন ও হাসানুল হক ইনুর মতো কমুনিস্টদেরকে কুরআনের পক্ষের শক্তি বলে বিশ্বাস করতে থাকবে। ইতিপূর্বেও ২০০১ সালে তারা শাইখুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক রহ. কে পুলিশের হত্যাকারী হিসেবে মিডিয়াতে অনেক প্রচার করে মনে করেছিল মানুষ বুঝি সত্যিই শাইখুল হাদীস রহ. ও আলেম সমাজকে হত্যাকারী আর আওয়ামীলীগকে শান্তিকামী বিশ্বাস করেছে।
সে বার যেমন পরিণাম আওয়ামীলীগের জন্য শুভ হয়নি। এখনও হেফাজতে ইসলাম ও আলেম সমাজের বিরুদ্ধে এ সকল অপপ্রচার চালিয়ে ধর্মপ্রাণ মানুষের ক্ষোভ প্রশমন করতে পারবে মনে করলে মস্ত বড় ভুল করবে। বরং সরকারের পোষা মিডিয়ার অতিরঞ্জিত প্রচারণাকে ধর্মপ্রাণ মানুষ সরকারের অপকর্ম বলেই ধরে নিচ্ছে। মানুষের মনের আস্থা ও ভালোবাসা শুধু প্রচারণা দিয়েই হয় না। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন তার দীন ইসলামের সত্যিকার ধারকদের ভাব-মর্যাদা মানুষের হৃদয়ে এই পরিমাণ দান করেন যে, তার মোকাবিলা কোনো প্রচারণা দিয়েই সম্ভব নয়। আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী সত্তুরোর্ধ একজন বৃদ্ধ হাদিসের শিক্ষক। হাজার হাজার আলেমের সম্মানিত এই উস্তাদের প্রতি সরকারের অসম্মানজনক আচরণ কোনোভাবেই ভালো পরিণাম বয়ে আনতে পারে না। আমাদের বিশ্বাস দিন যতো গড়াবে আঁধার কেটে ততো আলো ফুটতে থাকবে। আর সেই সাথে ক্রমান্বয়ে ৬ মের গভীর রাতের ভুতুরে অন্ধকারে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের কপালে লেপ্টে যাওয়া তৌহিদি জনতাকে গণহত্যার তিলক চিহ্নিও স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হতে থাকবে…।

Share

Comments are closed.