তিন তালাক

বরাবর,

মুফতি সাহেব ।

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,

সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭

প্রশ্ন ঃ  আমি কয়েক বছর আগে বিয়ে করেছি , আমার সন্তান আছে। আমি আমার স্ত্রীকে রাগের মাথায়  এক তালাক, দুইতালাক, তিন তালাক বলি। আমার স্ত্রী কি তালাক হয়েগেছে ?

আমাদের করনীয় কি ?

 

 

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم

ফত্ওয়া বিভাগ                                                     তারিখ-3/3/1434হিজরি

 জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭মোবাইলঃ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তরঃ-

বিবাহ-তালাক ও এসংক্রান্ত শরীয়তের অন্যান্য মৌলিক বিধান জেনে নেয়া প্রত্যেক বিবাহেচ্ছুক ব্যক্তির জন্য আবশ্যক। অন্যথায় গুনাহগার হওয়া কিংবা বিপদের সম্মুখীন হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

উল্লেখ্য, ইসলামী শরীয়তে তালাক অত্যন্ত অপছন্দনীয় একটি বিষয়। তা ছাড়া ইসলামে স্ত্রীকে সর্তক ও সংশোধন করার বিভিন্ন পদ্ধতি রয়েছে। পর্যায়ক্রমে সেসব প্রয়োগ না করে প্রথমেই তালাক দেয়া উচিত নয়। উপরন্তু বিবাহ বিচ্ছেদের জন্য এক তালাকই যথেষ্ট। তাই শরীয়ত কোনো ক্ষেত্রেই তিন তালাক দেয়া জরুরী সাব্যস্ত করেনি। বলাবাহুল্য,এর কারণে সামাজিক ও পারিবারিক অনেক জটিলতার সৃষ্টি হয়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা থেকে উত্তরণের কোনো পথ থাকে না। তথাপি এক সাথে কিংবা পৃথক পৃথক যে কোনো ভাবেই তিন তালাক দিলে তা পতিত হয়ে যায়। এমনকি তা রাগের মাথায় হলেও কার্যকর হয়।

অতএব, প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনি আপনার স্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে ‘এক তালাক, দুই তালাক, তিন তালাক’ বলায় আপনার স্ত্রীর ওপর তিন তালাক পতিত হয়ে আপনারা একে অপরের জন্য হারাম হয়ে গেছেন। তালাকের পর থেকে আপনাদের পরস্পরের জন্য দেখা-সাক্ষাৎ, মেলা-মেশা তথা স্বামী-স্ত্রী সুলভ সকল আচরণ নাজায়েয ও হারাম। এখন আপনার স্ত্রীর ইদ্দত তথা তালাক পরবর্তী তিন মাসিক শেষ হওয়া পর্যন্ত, আর গর্ভবতী হলে সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া পর্যন্ত তাকে খোর-পোষ দেয়া এবং মোহর আদায় না করে থাকলে মোহর আদায় করা আপনার ওপর ওয়াজিব।

কোরআন-হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী উক্ত মহিলার সাথে আপনার ঘর-সংসার করা সম্পূর্ণ নাজায়েয। তবে যদি উক্ত মহিলার অন্য পুরুষের সাথে বিবাহ হয় এবং তার সাথে সহবাসও হয়। তারপর ঐ (দ্বিতীয়) স্বামী মারা যায় বা কোনো কারণে তাকে তালাক দেয়, তাহলে দ্বিতীয় স্বামীর তালাক বা মৃত্যুজনিত ইদ্দত পালনের পর নতুনভাবে মোহর নির্ধারণ করে শরীয়ত সম্মত পন্থায় আপনি উক্ত মহিলার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে নতুন করে ঘর-সংসার করতে পারবেন।

كما قال الله تعالى فى القرآن الكريم :

فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ . (البقرة : 230)

و في الجامع لأحكام القران للإمام القرطبي: )3/147(

الثانية: المراد بقوله: فإن طلقها الطلقة الثالثة، فلا تحل له من بعد حتي تنكح زوجا غيره، و هذا مجمع عليه، لا خلاف فيه.

وأخرج الإمام البخاري في صحيحه :) 5/ 2014(

 عن عائشة  : أن رجلا طلق امرأته ثلاثا فتزوجت فطلق فسئل النبي صلى الله عليه و سلم أتحل للأول ؟ قال: لا حتى يذوق عسيلتها كما ذاق الأول.

وأخرج الإمام الدارقطني فى سننه : (5/ 52)

عَنِ ابْنِ عُمَرَ , أَنَّهُ طَلَّقَ امْرَأَتَهُ وَهِيَ حَائِضٌ عَلَى عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ تَطْلِيقَةً , فَاسْتَفْتَى عُمَرُ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ , فَقَالَ: «مُرْهُ فَلْيُرَاجِعْهَا» فَذَكَرَ نَحْوَهُ. وَفِيهِ: وَكَانَ عَبْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ يَقُولُ لِلرَّجُلِ: أَمَّا أَنْتَ طَلَّقْتَ امْرَأَتَكَ تَطْلِيقَةً أَوْ تَطْلِيقَتَيْنِ فَإِنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَدْ أَمَرَنِي بِهَذَا , فَإِنْ طَلَّقْتَ ثَلَاثًا فَلَا تَحِلُّ لَكَ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَكَ وَقَدْ عَصَيْتَ رَبَّكَ.

و في عمدة القاري شرح صحيح البخاري : (20/ 232)

ومما يستفاد منه أن الرجل إذا أراد أن يعيد مطلقته بالثلاث فلا بد من زوج آخر يتزوج بها ويدخل عليها وأجمعت الأمة على أن الدخول شرط الحل للأول ولم يخالف في ذلك إلا سعيد بن المسيب والخوارج والشيعة وداود الظاهري وبشر المريسي.

و في الهداية شرح البداية : (2/399)

و إن كان الطلاق ثلاثا في الحرة و اثنين في الأمة لم تحل حتي تنكح زوجا غيره نكاحا صحيحا، و يدخل بها ثم يطلقها أو يموت عنها.

وفى حاشية ابن عابدين : (3/ 244)

ويقع طلاق من غضب خلافا لابن القيم، وهذا الموافق عندنا.

و يراجع أيضا:

              بدائع الصنائع:3/295، فتح القدير:4/31، المبسوط للإمام السرخسي: 6/8، العناية: 4/31 ، الموسوعة الفقهية الكويتية:28/18

 والله اعلم بالصواب

محمد رفيق الاسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

 

Share

Comments are closed.