আন্ত:ধর্ম বিবাহ আইন

মু. তাউহীদুল ইসলাম

বিবাহ মানবজীবনের এক অবিচ্ছেদ্য বিষয়। মুসলমানদের ধর্মীয় জীবনে এর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। কুরআন হাদীসে এর সুনির্দিষ্ট সীমা-রেখা টেনে দেয়া হয়েছে অত্যন্ত গুরুত্বও যত্নের সাথে। একে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ইতিমধ্যে আন্ত:ধর্ম বিবাহ আইন প্রণয়নের ব্যাপারে কথা উঠেছে। আমরা মর্মাহত হয়েছি। ভাবতে কষ্ট হয়, মুসলিমপ্রধান এই দেশে কী করে এমন একটি প্রস্তাব উঠতে পারে। ইসলামের আলো থেকে যারা দূরে, স্বাধীনতার নামে ফ্রি দেহচর্চায় যারা বিশ্বাসী, তাদের দেশে তাদের সমাজে এমন কল্পনা করা যেতে পারে। এদেশের শান্তিপ্রিয় মুসলমানদের সাথে উস্কানিমূলক আচরণ কাম্য নয়। কোনো মুসলমান- শাসক-শাসিত যে শ্রেণিরই হোন না কেন- এমন প্রস্তাব মেনে নিতে বা তা প্রশ্রয় দিতে পারেন না। আমরা আশা করবো, এদেশের সরকার কখনোই এমন হটকারী সিদ্ধান্তে মনোযোগী হয়ে সময় নষ্ট করবেন:না। আন্তঃধর্ম বিবাহ আইন’ ইসলামী শরীয়ত সমর্থন করে না। বিষয়টি আমরা পর্যায়ক্রমে আলোচনার প্রয়াস পাবো, ইনশাআলস্নাহ।

  1. 1.   অমুসলিম পুরুষের সাথে মুসলিম নারীর বিবাহ অবৈধ

মুসলিম নারীর বিবাহ কেবল মুসলিম পুরুষের সাথেই হতে পারে। এটা শরীয়তের স্পষ্ট নির্দেশ। তাই অমুসলিম কোনো পুরুষের কাছে কোনো মুসলিম নারীকে বিবাহ দেয়া বৈধ নয়। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তাআলা এব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ইরশাদ করছেন,

وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ أُولَئِكَ يَدْعُونَ إِلَى النَّارِ وَاللَّهُ يَدْعُو إِلَى الْجَنَّةِ وَالْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِ وَيُبَيِّنُ آيَاتِهِ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ-البقرة: ২২১

অর্থ: ‘আর (মুসলিম মহিলাদেরকে) মুশরিক পুরুষের সাথে তোমরা বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।  অবশ্যই একজন ঈমানদার ক্রীতদাস একজন মুশরিকের চাইতে উত্তম, যদিও সে তোমাদের মুগ্ধ করে।  তারা তোমাদের জাহান্নামের দিকে ডাকে। আর আল্লাহ নিজের হুকুমের মাধ্যমে জান্নাত ও মাগফেরাতের দিকে আহবান করেন। তিনি মানুষের জন্য তার বিধানাবলী সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন। যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।’ সূরা বাকারা: ২২১

আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন,

 

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ-الممتحنة: ১০

‘‘ :র্থঅহে মুমিনগণ! যখন তোমাদের নিকট মুমিন নারীগণ হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করে নাও, তাদের প্রকৃত ঈমান সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অত:পর যদি তাদেরকে মুমিন বলে জানতে পারো, তবে তাদেরকে কাফেরের নিকট ফিরিয়ে দিও না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়।’

প্রসিদ্ধ তাফসীর গ্রন্থ ইবনে কাসীরে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে,

وقوله: لا هن حل لهم ولا هم يحلون لهن هذه الآية هي التي حرمت المسلمات على المشركين،

 

অর্থ: ‘আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়।’ এই আয়াতের দ্বারা মুসলিম নারীদেরকে মুশরিকদের জন্য হারাম করা হয়েছে।’ তাফসীরে ইবনে কাছীর: ৪/৪৪৮

ইমাম বুখারী র. এর সম্মানিত উস্তাদ ইমাম আ. রাজ্জাক ছনআনী র. তার লিখিত হাদীসের অমর গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন,

عن أبي الزبير قال: سمعت جابر بن عبد الله يقول:্রنساء أهل الكتاب لنا حل، ونساؤنا عليهم حرام

অর্থ: ‘হযরত আবু যুবায়ের রা. বলেন, আমি হযরত জাবের রা.কে বলতে শুনেছি- কিতাবী নারীগণ আমাদের জন্য হালাল। (অর্থাৎ তাদেরকে বিবাহ করা যাবে) কিন্তু আমাদের নারীগণ তাদের জন্য হারাম।’ মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক: ৬/৪৩এ ছাড়াও তাফসীরে ইবনে কাছীরে রয়েছে

عن جابر بن عبد الله قال قال رسول الله صلى الله عليه و سلم نتزوج نساء أهل الكتاب ولا يتزوجون نساءنا.

অর্থ: ‘হযরত জাবের রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূলুললাহ সা. ইরশাদ করেছেন, আমরা কিতাবী নারীদেরকে বিবাহ করতে পারি। কিন্তু তারা আমাদের নারীদেরকে বিবাহ করতে পারবে না।’ তাফসীরে ইবনে কাছীর: ১/৩৩৬, আউনুল মাবুদ: ৮/৯, আদ্দুর মানছূর: ৩/২৫মুসান্নাফে আব্দির রাযযাক নামক সুবিখ্যাত হাদীস-গ্রন্থে এব্যাপারে হযরত ওমর রা. এর মতামত সম্পর্কে বলা হয়েছে,

 

عن زيد بن وهب قال كتب عمر بن الخطاب أن المسلم ينكح النصرانية والنصراني لا ينكح المسلمة

অর্থ: ‘হযরত যায়েদ বিন ওয়াহাব রা. বলেন, হযরত ওমর ইবনুল খাত্তাব রা. এই মর্মে পত্র লিখে পাঠান যে, মুসলিম পুরুষ খৃস্টান নারীকে বিবাহ করতে পারবে। কিন্তু কোনো খৃস্টান পুরুষ কোনো মুসলিম নারীকে বিবাহ করতে পারবে না।’ ৯/১০৬ পৃ., কানযুলউম্মাল:১৬/৫৪৮

 

এব্যাপারে ইমামদের ইজমা রয়েছে মর্মে তাফসীরে ইবনে কাছীরে বলা হয়েছে,

فالقول به لإجماع الجميع من الأمة عليه.অর্থাৎ ‘এটা মুসলিম উম্মাহর সর্ব সম্মত অভিমত।’ ১/৩৩৬ পৃ.

ফিকহে হানাফীর সুপ্রসিদ্ধ গ্রন্থ বাদায়েউস-সানায়েতে আছে,

ومنها إسلام الرجل إذا كانت المرأة مسلمة  فلا يجوز إنكاح المؤمنة الكافر لقوله تعالى ولا تنكحوا المشركين حتى يؤمنوا ولأن في إنكاح المؤمنة الكافر خوف وقوع المؤمنة في الكفر لأن الزوج يدعوها إلى دينه والنساء في العادات يتبعن الرجال.

অর্থ: ‘বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত হলো, নারী মুসলিম হলে পুরুষকেও মুসলিম হতে হবে। সুতরাং মুমিন নারীর বিবাহ কাফেরের সাথে বৈধ নয়, আল্লাহ তাআলার এই বাণীর কারণে, ‘আর (মুসলিম মহিলাদেরকে) মুশরিক পুরুষের সাথে তোমরা বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।’ তা ছাড়া মুমিন নারীকে কাফেরের সাথে বিবাহ দিলে এই মুমিন নারীর কুফুরে লিপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কেননা, স্বামী তাকে তার ধর্মের দিকে আহবান করবে। আর নারীরা স্বভাবতই পুরুষের অনুসরণ করে থাকে।’ ২/২৭১

 

উপরোক্ত আলোচনার দ্বারা একথা স্পষ্ট হয় যে, কোনো মুসলিম নারীকে কোনো অমুসলিম পুরুষের কাছে বিবাহ দেয়া বৈধ নয়।

২.মুশরিক নারীকে বিবাহ করা অবৈধ

 যারা আল্লাহ তাআলার একত্ব স্বীকার করে না,  তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দিতে হবে, কিন্তু মুসলমান না হওয়া পর্যন্ত তাদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক বৈধ নয়। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করছেন,

 

وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ البقرة: ২২১

অর্থ: ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন ক্রীতদাসী অবশ্যই উত্তম মুশরিক নারী থেকে। যদিও মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।’ সূরা বাকারা:২২১

আল্লাহ তাআলা আরো ইরশাদ করেন

وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ-الممتحنة: ১০

অর্থ: ‘তোমরা কাফির পত্নীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রেখো না।’ সূরা মুমতাহিনা: ১০

بدائع الصنائع-২/ ৫৫২

 فصل ومنها أن لا تكون المرأة مشركة إذا كان الرجل مسلما  فلا يجوز للمسلم أن ينكح المشركة لقوله تعالى ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن

অর্থ: ‘বিবাহ শুদ্ধ হওয়ার একটি শর্ত এও যে, পুরুষ মুসলিম হলে নারী মুশরিক হতে পারবে না। সুতরাং কোনো মুসলমানের জন্য কোনো মুশরিক নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়। কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেন, ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।’ বাদায়ে: ২/৫৫২

مجمع الأنهر في شرح ملتقى الأبحر- ১/ ৪৮৭

ولا يصح تزوج مجوسية أو وثنية بالإجماع لأن من يعتقد أن النار أو الوثن إله يكون مشركا وقد قال الله تعالى ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن والنص عام يدخل تحته جميع المشركات

অর্থ: ‘কোনো অগ্নিপূজক বা পৌত্তলিক নারীকে বিবাহ করা সহীহ নয়। এটা সর্ব সম্মত সিদ্ধান্ত। কেননা, যে বিশ্বাস করে যে, অগ্নি বা মূর্তি উপাস্য, সে মুশরিক হয়ে যাবে। অথচ আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।’

আয়াতটি ব্যাপক অর্থবোধক। ফলে এতে সকল মুশরিক নারী  অন্তর্ভুক্ত হয়।

কুয়েতের ওয়াকফ মন্ত্রনালয় থেকে সংকলিত ও প্রকাশিত ফিকহি ইনসাইক্লোপেডিয়ায় উল্যেখ আছে-

. يحرم على المسلم أن يتزوج ممن لا كتاب لها من الكفار لقول الله تعالى : ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن ، وهذا باتفاق قال ابن قدامة : لا خلاف بين أهل العلم في تحريم نسائهم وذبائحهم  الموسوعة الفقهية الكويتية -৩৫/ ২৬

অর্থ: ‘মুসলমানের জন্য এমন নারীকে বিবাহ হারাম, যার কোনো কিতাব নেই। (অর্থাৎ যে কোনো আসমানী গ্রন্থে বিশ্বাসী নয়। ) কেননা, আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন,  ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।’

এটা সর্বসম্মত মত। আল্লামা ইবনে কুদামা বলেছেন, মুশরিকদের নারী বিবাহ করা এবং তাদের জবাইকৃত পশু ভক্ষণ করা হারাম হওয়ার ব্যাপারে ওলামায়ে কেরামের মাঝে কোনো মতানৈক্য নেই। ২৬/৩৫

 

৩.বর্তমান যুগের ইয়াহুদী ও খৃস্টান রমণীদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া

পবিত্র কুরআনে মুসলিম পুরুষের জন্য আহলে কিতাব তথা ইহুদী ও খৃস্টান নারীকে বিবাহ করার অনুমতি থাকলেও  এর জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে।

ক. উক্ত নারী প্রকৃত অর্থেই আহলে কিতাব হতে হবে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, পাশ্চাত্যে অনেক নারী বংশগতভাবে ইহুদী বা খৃস্টান হলেও তারা বিশ্বাসের দিক দিয়ে সম্পূর্ণ নাস্তিক। তাই এধরনের নারীদেরকে বিবাহ করার বৈধতা নেই। কেননা তারা প্রকৃত পক্ষে আহলে কিতাব নয়।

খোদ ইজরাইলে ৫২% জনগণ নাস্তিক অথচ এটা একমাত্র কট্টর ইয়াহুদী  রাষ্ট । তাহলে অন্যান্য রাষ্ট্র গুলোর অবস্থা কী হবে তা সহযেই অনুমেয়। দেখুন-

-     إن أهل الكتاب الموجودين اليوم ليسوا من سلالة بني اسرائيل وغالبهم دان بهذه الملة بعد التحريف، وإن كثيرا منهم لا يلتزم باليهودية ولا النصرانية المحرفة، ففي استطلاع للرأي نشرته صحيفة الرأي نقلا عن صحيفة يدعوت أحرونوت الصهيونية، ذكرت فيه أن معهد سميث للاستشارات والأبحاث أجرى استطلاعا للرأي العام اتضح من خلاله أن 52% من الاسرائيليين يعتبرون أنفسهم علمانيين، فإذا كان هذا الوضع مع اليهود الذين يعتبرون من أشد شعوب العالم تعصبا وتمسكا بمعتقداتهم فما بالك بالنصارى.

-             صحيفة الرأي الصادرة بتاريخ 24/9/1995م الصفحة الخامسة والثلاثون.

খ. সতী-সাধ্বী হতে হবে। কেননা, পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে,

وَالْمُحْصَنَاتُ مِنَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتَابَ مِنْ قَبْلِكُمْ إِذَا آتَيْتُمُوهُنَّ أُجُورَهُنَّ مُحْصِنِينَ غَيْرَ مُسَافِحِينَ وَلَا مُتَّخِذِي أَخْدَانٍ -المائدة: ৫]

‘এবং তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের সতী-সাধ্বী নারীরাও, যখন তোমরা তাদেরকে তাদের বিনিময় (মোহর) দিবে তাদেরকে স্ত্রী রূপে গ্রহণ করার জন্য, কাম বাসনা চরিতার্থ করা কিংবা গোপন প্রেমে লিপ্ত হওয়ার জন্য নয়।’ সূরা মায়েদা: ৫

 

অথচ বর্তমান যুগের আহলে কিতাব নারীদের চরিত্র সর্বজন বিদিত। সুতরাং এমন আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা মাকরূহ তথা জায়েয নেই।

ভারতের বিখ্যাত আলেম আল্লামা মুফতী খালেদ সাইফুলস্নাহ রাহমানী বলেন,

 جو  لوگ نام کے عیسائ اور یہودی ہوں لیکن عقیدہ کے اعتبار سے خدا کے وجود، نبوت و وحی اور ملا‎ئکہ و غیرہ کے قائل نہ ہوں، وہ ملحد ہیں، ان کا شمار اہل کتاب میں نہیں، گو خاندانی نسبت کی بنا پر وہ یہودی یا نصرانی کہلاتے ہوں۔

جو لوگ مذہبی اعتبار سے واقعی یہودی یا عیسائ ہوں، گو حضرت عیسی  علیہ السلام کو اللہ کا بیٹا ٹھرا تے ہوں، لیکن عفت و عصمت اور پاکدامنی کا  ان کے یہاں لحاظ نہ ہوں، تو ایسی عورتوں سے کسی مسلمان مرد کا نکاح کرنا مکروہ ہے، کیونکہ قر‏آن میں پاکدامن کتابیہ سے نکاح کی اجازت دی ہے۔ (کتاب الفتاوی: ৪/৩৫৪)

       যেব্যক্তি নামে খৃস্টান বা ইহুদী কিন্তু বিশ্বাসগত দিক দিয়ে আল্লাহর অস্তিত্ব, নবুওয়াত, ওহী এবং ফেরেশতা ইত্যাদির প্রবক্তা নয়, সে নাস্তিক। সে আহলে কিতাবের অন্তর্ভুক্ত নয়। যদিও সে বংশগত দিক দিয়ে নিজকে ইহুদী বা খৃস্টান বলে দাবী করে।

কোনো নারী ধর্মের দিক থেকে সত্যিকার অর্থেই যদি ইহুদী বা খৃস্টান হয়ে থাকে, কিন্তু চারিত্রিক পবিত্রতা, নিষ্কলুসতা ও সৎচরিত্রের ব্যাপারে যদি সে ভ্রুক্ষেপ না করে, তা হলে এধরনের নারীকে বিবাহ করা মুসলিম পু্রুষের জন্য মাকরূহ। কেননা, পবিত্র কুরআনে কিতাবী নারীদের মধ্যে যারা সতী-সাধ্বী তাদেরকে বিবাহ করার অনুমতি দেয়া হয়েছে। (কিতাবুল ফাতাওয়া:৪/৩৫৪)

আল্লামা আহমদ ইবনে ইয়াহয়া বলেন-

إن هذا الزواج من الكتابيات محدد بمن كان لهم ذمة و عهد ، ومعلوم أن أهل الكتاب اليوم لا ذمة لهم ولا عهد ولا يدفعون جزية ولا  يلتزمون بشيء من الأوامر الشرعية التي يوجبها عليهم عهد الذمة، ليكون لهم ما للمسلمين وعليهم ما على المسلمين،

  الونشريسي، احمد بن يحيى، المعيار المعرب، المغرب، وزارة الأوقاف، ১৯৮১، ج২، ص(২৪৯-২৫০) بتصرف.

আহলে কিতাব নারীদের সাথে বিবাহের বিষয়টি সীমাবদ্ধ সেসব নারীর ক্ষেত্রে, যারা মুসলিম শাসকের সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়ে মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থান করে। একথা সর্বজন বিদিত যে, বর্তমান মুসলিম শাসকদের সাথে তাদের কোনো চুক্তি ও অঙ্গিকার নেই। না তারা জিযয়া প্রদান করে, আর না শরয়ী এমন কোনো বিধান নিজেদের উপর আবশ্যক করে, যা চুক্তির কারণে তাদের উপর আবশ্যক এবং তা করলে তারা মুসলিমদের ন্যায় সুযোগ-সুবিধা পেতো বা দায়-দায়িত্ব বহনে তাদের অনুগামী হতো।

গ. হাদীসের বিশাল ভাণ্ডারে গভীরভাবে দৃষ্টি দিলে আরো বুঝে আসে, আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করার জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হচ্ছে, সে মুসলিম রাষ্ট্রের অনুগত নাগরিক (ذمي) হতে হবে। তাই অমুসলিম বা সেকুলার দেশের কোনো আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমী তথা নাজায়েয। এজন্য দেখুন,

 مصنف ابن أبي شيبة (/ ১৫৯)

عن ابن عباس ، قال : لا يحل نكاح نساء أهل الكتاب إذا كانوا حربا،

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, যদি আহলে কিতাব নারীগণ অমুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থান করে তবে তাদের বিবাহ করা হালাল নয়।

 

مصنف عبد الرزاق (/ ২৯৪)

عن قتادة كره أن يتزوج نساء أهل الكتاب إلا في عهد

হযরত কাতাদা র. থেকে বর্ণিত যে, তিনি আহলে কিতাব নারীদের বিবাহ করাকে অপছন্দ করতেন। তবে (যদি মুসলিম শাসকের সাথে) চুক্তিবদ্ধ হয়ে (মুসলিম রাষ্ট্রে অবস্থান করে।) তা হলে ভিন্ন কথা।

 

أحكام القرآن للجصاص (/ ১৫)

يكره تزوج نساء أهل الحرب من الكتابيات۔

 

অমুসলিম দেশে অবস্থান রত আহলে কিতাব নারীদের বিবাহ করা জায়েয নেই।

 

আহলে কিতাবকে বিয়ে করার ব্যপারে সাহাবায়ে কেরামের ব্যাখ্যা

উপরোক্ত সকল শর্ত বিদ্যমান থাকা অবস্থায়ও ইহুদী ও খৃস্টান নারীদের বিবাহ করলে যেহেতু মুসলিম পুরুষের অনেক ক্ষেত্রে নিজের ধর্মীয় স্বকীয়তা বজায় রাখা সম্ভব হয় না। তাই মৌলিকভাবে বৈধ হলেও এ সমস্যার কারণে নাজায়েয হবে।

مصنف ابن أبي شيبة (/ ১৫৮)

        من كان يكره النكاح في أهل الكتاب         . 

১৬৪১৭- حدثنا عبد الله بن إدريس , عن الصلت بن بهرام , عن شقيق قال : تزوج حذيفة يهودية فكتب إليه عمر أن خل سبيلها ، فكتب إليه : إن كانت حراما خليت سبيلها ، فكتب إليه : إني لا أزعم أنها حرام ولكني أخاف أن تعاطوا المومسات منهن.

হযরত শাকীক রা. বলেন, হুযায়ফা রা. এক ইহুদী নারীকে বিবাহ করলে হযরত উমর রা. তাকে লিখে পাঠালেন যে, ঐ নারীকে ছেড়ে দাও। হুযায়ফা রা. জবাবে লিখলেন, যদি সে আমার জন্য হারাম হতো, তা হলে আমি তাকে পরিত্যাগ করতাম। ওমর রা. প্রতি উত্তরে লিখলেন, আমি তাকে হারাম মনে করি না। কিন্তু আমি আশঙ্কা করছি যে, তোমরা তাদের মধ্যে বারবণিতাদের গ্রহন করবে।

১৬৪১৮حدثنا أبو خالد الأحمر , عن عبد الملك قال : سألت عطاء , عن نكاح اليهوديات والنصرانيات فكرهه وقال : كان ذلك والمسلمات قليل.

 

হযরত আ. মালেক বলেন, আমি আতা র.কে জিজ্ঞেস করলাম ইহুদী ও খৃস্টান রমণীদের বিবাহ সম্পর্কে। তিনি বিষয়টি মাকরূহ মনে করে বললেন, এ সুযোগ গ্রহণের অবকাশ ছিলো তখন, যখন মুসলিমগণ সংখ্যায় কম ছিলেন।

১৬৪১৯حدثنا يحيى بن سعيد , عن عبيد الله بن عمر , عن نافع , عن ابن عمر أنه كان يكره نكاح نساء أهل الكتاب , ولا يرى بطعامهن بأسا.

 

হযরত নাফে র. থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে ওমর রা. আহলে কিতাব নারীদের বিবাহ করা মাকরূহ মনে করতেন। তবে তাদের খাদ্য গ্রহণে কোনো অসুবিধা মনে করতেন না।

১৬৪২০حدثنا وكيع بن الجراح , عن جعفر بن برقان , عن ميمون بن مهران , عن ابن عمر أنه كره نكاح نساء أهل الكتاب وقرأ : {ولا تنكحوا المشركات حتى يؤمن}.

হযরত মাইমূন বিন মিহরান থেকে বর্ণিত আছে যে, হযরত ইবনে ওমর রা. আহলে কিতাব রমণীদের বিবাহ করাকে মাকরূহ মনে করতেন এবং এ আয়াত তেলাওয়াত করতেন, ‘মুশরিক নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তাদের বিবাহ করো না।

এপ্রসঙ্গে ওলামায়ে কেরামের ফতওয়া লক্ষ করুন

১. Encyclopedia of jurisprudence and the judiciary in the Personal Status এর প্রণেতা গণ বলেন-

 

أن الزواج بنساء أهل الكتاب في وقتنا الحاضر إنما هو مكروه كراهة تحريمية. موسوعة الفقه و القضاء فى الأحوال الشخصية : ২৩৮

বর্তমান যুগে আহলে কিতাব নারীদের সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক করা মাকরূহে তাহরীমী বৈ কিছু নয়। (মাউসূআতুল ফিকহি ওয়াল কাজা:২৩৮)

 

২. চিফ জাষ্টিস (শরীয়াবেঞ্চ,পাকিস্তান) আল্লামা তাকি উছমানী বলেন-

শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে খৃষ্টধর্মাবলম্বী নারীর সাথে মূসলিম পুরম্নষের বিবাহ সংঘটিত হয়। তবে শর্ত হলো, নারী বাস্তবেই খৃষ্টধর্মাবলম্বী হতে হবে। বর্তমান যুগের খৃষ্টানদের মতো হলে চলবে না। যারা নামে তো খৃস্টান। কিন্তু আকীদা-বিশ্বাসের দিক থেকে নাস্তিকতায় বিশ্বাসী। …দ্বিতীয় শর্ত হলো, বিবাহ শরয়ীত সম্মত পন্থায় দুজন স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে হতে হবে। ফাতাওয়া উসমানী: ২/২৫৭

৩. অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ’ল বোর্ডের ফাউন্ডার মেম্বার মুফতি খালেদ সাইফুল্লাহ রাহমানী বলেন-

এটা বলা ভুল হবে না যে, পাশ্চাত্য সভ্যতার এই যুগে মুসলিমবিশ্বে আহলে কিতাব নারীকে বিবাহ করা মাকরূহে তাহরীমী । কিতাবুল ফাতাওয়া: ৪/৩৫৫

৪. মুফতি আহমাদুর রহমান সাহেব-

যদি অমুসলিম নারী কোনো আসমানী ধর্মে বিশ্বাসী হয়, তা হলে তাকে বিবাহ করা যদিও হারাম নয়। কিন্তু তথাপি তাকে বিবাহ করা অবশ্যই মাকরূহ। কেননা, কোনো জিনিস হালাল হওয়ার অর্থ এই যে, মৌলিকভাবে তাতে হারাম হওয়ার কারণ বিদ্যমান নেই। কিন্তু যদি প্রাসঙ্গিক কোনো অবস্থা বা পরিস্থিতি এমন হয় যে, সেই হালাল থেকে উপকৃত হওয়ার জন্য বহু হারাম কর্মে লিপ্ত হতে হয়, এমন কি কুফুরের আশঙ্কা থাকে, তা হলে এধরনের হালাল দ্বারা উপকৃত হওয়া বৈধ  হবে না। ফাতাওয়া বাইয়েনাত:৩/১৭৩

 

৪.নাস্তিক ও ধর্মীয় পরিচয় বর্জনকারীর সাথে বিবাহ

 যেব্যক্তি পূর্বে ইসলাম ধর্মের অনুসারী ছিলো পরবর্তীতে ইসলাম ধর্মের বিশ্বাস হারিয়ে ফেলেছে, তার সাথে কারো বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া বৈধ নয়, এব্যপারে সমগ্র মুসলিমজাতি একমত। দেখুন-  হানাফী মাযহাবের ‘বাদাইউসসানায়ে’ গ্রন্থে আছে-

 

بدائع الصنائع (/ ২৭০(

فصل ومنها أن يكون للزوجين ملة يقران عليها  فإن لم يكن بأن كان أحدهما مرتدا لا يجوز نكاحه أصلا لا بمسلم ولا بكافر غير مرتد والمرتد مثله

একটি হল: স্বামীর কোন ধর্ম থাকতে হবে যা তারা বিশ্বাস করে। যদি তা না হয় যেমন, একজন মুরতাদ হল। তাহলে তার বিবাহ মৌলিকভাবেই বৈধ নয়। কোন মুসলিম বা মুরতাদ নয় এমন কাফের এবং তার মতই মুরতাদ কারো সাথেই বৈধ নয়।

ইমাম শাফিঈ র. এর কিতাবুল উম্ম-এ উল্লেখ হয়েছে-

الأم (/ ৫৭

نكاح المرتد  * + ( قال الشافعي ) رحمه الله تعالى وإذا ارتد المسلم فنكح مسلمة أو مرتدة أو مشركة أو وثنية فالنكاح باطل

ইমাম শাফিঈ র. বলেন, যখন মুসলিম মুরতাদ হয়ে যাবে, তখন কোন মুসলিম মুরতাদ বা মুশরিক কিংবা  কোন মূর্তিপূজককে বিবাহ করলে সে বিবাহ বাতিল হবে।

মাযহাব চতুষ্টয়ের উপর লিখিত গ্রন্থ আল ফিকহ আলাল মাযাহিবিল আরবাআ’ গ্রন্থে উল্লেখ হয়েছে-

الفقهعلىالمذاهبالأربعة (৪/ ১০৬

وأما الذي يبطل باتفاق فهو خمسة أشياء أيضا – وهي الأمور التي تتوقف على التدين بدين ولو لم يكن سماويا كالمجوسية وغيرها

  الأمر الأول : النكاح فيبطل نكاح المرتد مطلقا

মুরতাদের পাঁচটি বিষয় সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল- আর তা হল এসকল বিষয়  যা ধর্মের উপর নির্ভর করে। যদিও তা আসমানী ধর্ম না হয়। যেমন- অগ্নিপূজকের ধর্ম ইত্যাদি।

প্রথম বিষয়:

বিবাহ: মুরতাদের বিবাহ নিঃশর্তভাবে বাতিল।

আরব বিশ্বের প্রসিদ্ধ আলিম শায়খ উসাইমীন লিখেন-

حكم تارك الصلاة – للعثيمين (ص: ১৫

تبين أن نكاح المرتد لا يصح من مسلم سواء كان أنثى أم رجلاً ، وأن هذا مقتضى دلالة الكتاب والسنة ،

মুরতাদের বিবাহ মুসলিমের সাথে বৈধ নয়। সে পু্রুষ হোক বা নারী। এটাই কিতাবুল্লাহ ও সুন্নাহের প্রামাণিকতার দাবী।

এ ব্যপারে মিশরের জামেয়া আযহারের ফতওয়া দেখুন-

 

فتاوى الأزهر (/ ৩২৪)

-         اتفق أهل العلم كذلك على أن عقد زواج المرتد يقع باطلا سواء عقد على مسلمة أو غير مسلمة .

অর্থঃউলামায়ে কেরাম একমত হয়েছেন যে মুরতাদের বিবাহ বাতিল হয় মুসলিম নারীর সাথে আকদ হোক বা অমুসলিম নারীর সাথে ।

فتاوى دار الإفتاء المصرية (/ ৫৩)

- زواج المرتد باطل فى الشريعة الإسلامية أيا كانت ديانة الزوجة التى تزوجها

অর্থঃ মুরতাদের বিবাহ বাতিল বলে গণ্য বিবাহিত স্ত্রী যে কোন ধর্মেরই হোকনা কেন।

 

৫.আন্ত:ধর্মীয় বিবাহকে বৈধতা দানকারীর বিধান

 

মুসলিম নর-নারীর জন্য কাফের-মুশরিকদের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া শরীয়তের অকাট্য পমাণাদির ভিত্তিতে নাজায়েয হারাম। পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,

وَلَا تَنْكِحُوا الْمُشْرِكَاتِ حَتَّى يُؤْمِنَّ وَلَأَمَةٌ مُؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ وَلَا تُنْكِحُوا الْمُشْرِكِينَ حَتَّى يُؤْمِنُوا وَلَعَبْدٌ مُؤْمِنٌ خَيْرٌ مِنْ مُشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ -[البقرة: ২২১

অর্থ: ‘আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিবাহ কর না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। একজন মুমিন ক্রীতদাসী অবশ্যই উত্তম মুশরিক নারী থেকে। যদিও মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।’ আর (মুসলিম মহিলাদেরকে) মুশরিক পুরুষের সাথে তোমরা বিয়ে দিও না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে।  অবশ্যই একজন ঈমানদার ক্রীতদাস একজন মুশরিকের চাইতে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।’ সূরা বাকারা: ২২১

অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِذَا جَاءَكُمُ الْمُؤْمِنَاتُ مُهَاجِرَاتٍ فَامْتَحِنُوهُنَّ اللَّهُ أَعْلَمُ بِإِيمَانِهِنَّ فَإِنْ عَلِمْتُمُوهُنَّ مُؤْمِنَاتٍ فَلَا تَرْجِعُوهُنَّ إِلَى الْكُفَّارِ لَا هُنَّ حِلٌّ لَهُمْ وَلَا هُمْ يَحِلُّونَ لَهُنَّ-الممتحنة: ১০

অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমাদের নিকট মুমিন নারীগণ হিজরত করে আসে, তখন তোমরা তাদেরকে পরীক্ষা করে নাও, তাদের প্রকৃত ঈমান সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। অতপর যদি তাদেরকে মুমিন বলে জানতে পারো, তবে তাদেরকে কাফেরের নিকট ফিরিয়ে দিও না। মুমিন নারীরা কাফিরদের জন্য হালাল নয়। আর কাফিররাও তাদের জন্য হালাল নয়’। সূরা মুমতাহিনা:১০

وَلَا تُمْسِكُوا بِعِصَمِ الْكَوَافِرِ-الممتحنة: ১০

অর্থ: ‘তোমরা কাফির পত্নীদের সাথে দাম্পত্য সম্পর্ক বহাল রেখো না।’ সূরা মুমতাহিনা: ১০

من استحل حراما و قد علم فى دين النبي صلى الله عليه وسلم تحريمه كنكاح ذوى المحارم أو شرب الخمر أكل ميتة أو دم أو لحم خنزير من غير ضرورة فكافر.

 

অর্থ: ‘যেব্যক্তি নবী করীম সা. এর ধর্মের কোনো হারাম বিধানকে হালাল মনে করবে, যেমন- মাহরাম নারীদের বিবাহ করা, মদ পান করা কিংবা মৃত প্রাণী, রক্ত ও শুকরের গোশত ভক্ষণ করা- সে কাফের হয়ে যাবে।’

فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا- النساء: ৬৫

অর্থ: ‘অতএব আপনার রবের কসম! তারা মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ পর্যমত্ম তারা তাদের সৃষ্ট বিবাদের বিচারভার আপনার উপর অর্পণ না করে। অতপর আপনার সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের মনে কোনো দ্বিধা-সংশয় না থাকে এবং একাগ্রচিত্তে তা মেনে নেয়।’ সূরা নিসা: ৬৫

{وَمَنْ يُشَاقِقِ الرَّسُولَ مِنْ بَعْدِ مَا تَبَيَّنَ لَهُ الْهُدَى وَيَتَّبِعْ غَيْرَ سَبِيلِ الْمُؤْمِنِينَ نُوَلِّهِ مَا تَوَلَّى وَنُصْلِهِ جَهَنَّمَ وَسَاءَتْ مَصِيرًا-النساء: ১১৫

অর্থাৎ যেব্যক্তি রাসূলের বিরোধিতা করে তার কাছে সত্য বিষয় প্রকাশিত হওয়ার পর এবং মুসলমানদের পথ পরিত্যাগ করে অন্য পথ অবলম্বন করে, আমি তাকে তা করতে দেবো, যা কিছু সে করতে চায়। অতপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবো। আর তা হচ্ছে নিকৃষ্ট গন্তব্যস্থল।

 

সুতরাং কুরআন-হাদীসের এই অকাট্য বিধানকে অস্বীকার কিংবা বৈধ মনে করে যারা আইন প্রণয়ন করবে তারা শরীয়তের বিধান মতে কাফের বলে গণ্য হবে।

 

৬. আন্ত:ধর্মীয় বিবাহের রেজিস্ট্রারকারীর বিধান

 

ইসলাম ধর্ম স্বভাবতই মানুষের কল্যাণ চায় এবং মানুষ কল্যাণকর কাজে আত্মনিয়োগ করুক, একে অপরকে সহযোগিতা করুক- এটা চায়। সেই সাথে চায় যাবতীয় অন্যায় অপকর্ম থেকে নিজে বেঁচে থাকুক এবং অন্যকে বাঁচতে সহযোগিত করম্নক। ইসলামের এই মেজাজের কথা পবিত্র কুরআনে বিধৃত হয়েছে,

وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ المائدة: ২

অর্থাৎ কল্যাণ ও তাকওয়ার ব্যাপারে তোমরা একে অপরের সহযোগিতা করো। আর গুনাহ ও শত্রম্নতার উপর কাউকে সহযোগিতা করো না। আল্লাহকে ভয় করো। নিশ্চয় আল্লাহ শাস্তি দানে কঠোর। সূরা মায়েদা:২

 

সুতরাং যেকোনো গুনাহের কাজে কাউকে সহযোগিতা করা গুনাহের কাজ। সেমতে আমত্ম:ধর্ম বিবাহ রেজিস্ট্রারকারী গুনাহগার ও ফাসেক বলে বিবেচিত হবে।

পরিশেষে দেশের সর্বস্তরের মুসলিম ভাই-বোনদের নিকট অনুরোধ, বিশ্বায়নের নামে এসব নোংরা সংস্কৃতির চর্চাকে ‘না’ বলুন। আর সমাজপতিদের প্রতি বিনীত নিবেদন, দেশের মুসলমানদেরকে শান্তিপূর্ণভাবে ধর্মকর্ম পালনের পরিবেশ তৈরিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করম্নন।

Share

Comments are closed.