প্রশ্ন : dolancer.com থেকে আয় শরীয়ত সম্মত কিনা?

প্রশ্ন : dolancer.com থেকে আয় শরীয়ত সম্মত কিনা?

আজকাল সবাই ইন্টারনেটে আয় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এমনই একটি সাইট হল WWW. dolancer.com/mdex. php/about এটি বাংলাদেশে যাত্রা করেছে খুব বেশিদিন হয়নি। এরই মধ্যে ১৮০০ মেম্বার পেয়েছে এবং প্রতিদিন আরোও বাড়ছে।

ঢুকতে যা লাগবে: এটি ফ্রি কোন সাইট না তাই এতে প্রবেশ করতে পেমেন্ট করতে হয়, এর আছে তিনটি প্যাকেজ -

১. বেসিক (৭০০০ টাকা)

২. মডারেট (২১০০ টাকা)

৩. এডভান্স (৩৫০০০ টাকা)

কি কি পদ্ধতিতে আয় করা যায়

আয় করার বেশ কিছূ পদ্ধতি আছে, এখানে বেশি প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করছি

পদ্ধতি- ১. ক্লিক টু আর্ণ/পেইড টু ক্লিক (পিটিসি)

এটা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। আপনাকে কিছু বিজ্ঞাপনের লিংক দেওয়া হবে তাতে ক্লিক করলেই আপনি ইন্সট্যান্ট টাকা পাবেন।

১.বেসিক. আপনারা এই প্যাকেজের সদস্য হলে প্রতিদিন ১০০টি লিংক পাবেন এবং প্রতিটি বিজ্ঞাপনের ক্লিক এর জন্য মিনিমাম .০১ সেন্ট (৭০ পয়সা)

২. মডারেট (২১০০০ টাকা) আপনারা এই প্যাকেজ এর সদস্য হলে প্রতিদিন ৩০০টি লিংক পাবেন এবং প্রতিটি বিজ্ঞাপনে  ক্লিক এর জন্য ০.১ সেন্ট

লিংকগুলো দেখতেই খুব বেশি সময় নেয় না। তার মানে এখানে কাজ করে একজন প্রতিমাসে বেসিক একাউন্ট থেকে সর্বাধিক ২১০০ টাকা আয় করতে পারবে। যদি সে ৩০দিন কাজ করে। যদি সে ১দিন কাজ না করে তবে সে ৭০ টাকা কম পাবে। এটা তার ফিক্সড ইনকাম।

পদ্ধতি- ২ .রেফারেন্স এর মাধ্যমে networking

আপনার রেফারেন্সে যদি কেউ ঢুকে তবে আপনি সাথে সাথেই পাবেন ১০% বোনাস। এটি ডিরেক্ট স্পন্সর বোনাস অর্থাৎ আপনি যদি বেসিকে ঢুকান তবে পাবেন ৭০০ টাকা। যদি মডারেট প্যাকেজে ঢুকেন তবে পাবেন ২১০০ টাকা। আর এডভান্স পাবেন ৩৫০০ টাকা। এছাড়া ম্যাচিং বোনাস ১০% এরপর আপনি যদি দুই জনকে ঢুকান তবে আপনি পাবেন  বেসিক প্যাকেজ হতেই ২১০০ টাকা। আপনি যাদেরকে ঢুকাবেন তারা যদি অন্য কাউকে ঢুকায়  তবে তারাও যেমন টাকা পাবে তেমনি আপনিও পাবেন। আপনি যাদেরকে ঢুকিয়েছেন বা আপনার রেফারেন্সে ঢুকে যারা আবার তাদের রেফারেন্সে যাদের ঢুকিয়েছেন তারা যা আয় করছে বা করেছে তা থেকে আপনিও স্পন্সার হিসেবে বোনাস টাকা পাবেন।

বোনাসের হার

প্রথম ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ৫% দুই পাশেই

দ্বিতীয় ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ৩%

তৃতীয় ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ২%

চতুর্থ ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ১%

পঞ্চম ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ০.০৫%

পদ্ধতি ৩-ওয়েব সাইট লিজিং পদ্ধতি 

এ পদ্ধতিতে আপনি Company  থেকে সাইট লিজ নিয়ে আবার Company কেই লিজ দিতে পারবেন। তাহলে Company আপনাকে daily যতদিয়ে লিজ নিবেন,তার০.৫০% Pay করবে ২৪ মাস। যেমন ৫০০ ডলার দিয়ে নিলে per day আপনাকে ২.৫০ ডলার দিবে। এতে যোগ দিলে আপনি আরো কিছু সুবিধা পাবেন। যেমন: dolancer logo সহ ভিসা কার্ড পাবেন মাত্র ১০০০ টাকায়। আরো অনেক ফিচার এতে আছে।

 

 

بسم الله الرحمن الرحيم

ফাত্ওয়া বিভাগ                                                                                 ০২/০৫/২০১২ঈসাব্দ                                                                            জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। মোবাইল:০১৮১৬৩৬৭৯৭৫

 

حامدًا ومصليا و مسلما

উত্তর:-

ডোলান্সার ডট. কম বা নিউ শেয়ারিং মার্কেটিং লিমিটেড ইত্যাদি কোম্পানীগুলো আউট সোর্সিং সাইট হিসাবে পরিচিত হলেও মূলত এগুলো অনলাইন ক্লিক এমএলএম কোম্পানি। (কেননা, এগুলোতে কারো রেফারেন্স ছাড়া সদস্য হওয়া যায় না। যা এমএলএম পদ্ধতির একটি অন্যতম দিক।) এপদ্ধতিতে পরিচালিত সকল আউট সোর্সিং সাইট থেকে আয় করা সম্পূর্ণ না জায়েয। কেননা, উক্ত পদ্ধতিতে আয় অবৈধ হওয়ার একাধিক কারণ বিদ্যমান। অথচ না জায়েয হওয়ার জন্য একটি  কারণই যথেষ্ঠ। এতে বিদ্যমান বিষয়গুলোর ভিন্ন ভিন্ন বিধান উল্লেখের জন্য প্রথমে এর শরয়ী  রূপায়ণ আবশ্যক। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল

 

১. প্রথম পদ্ধতি: ক্লিক টু আর্ন/পেইড টু ক্লিকঃ-

 

এ পদ্ধতিতে যেসব লিংকে ক্লিক করতে হয় সেগুলোতে কোনো বিজ্ঞাপন বা আর্টিক্যাল থাকে। তাতে ক্লিক করার উদ্দেশ্য থাকে ঐসব  প্রচার ও প্রসার।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যে লিংকগুলো দেয়া হয়, তাতে ক্লিক করা ও ভিজিট করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়যোগ্য কোনো শ্রম নয়। কেননা, এখানে ক্লিককারীর কাজটি অন্যের জন্য নয়; বরং নিজের স্বার্থে। কারণ, বিজ্ঞাপন দেখা বা আর্টিক্যাল পাঠ করা হয় নিজেরই ক্রয়ের স্বার্থে কিংবা কোনো পণ্যের তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে।

 

كما جاء فى المبسوط للسرخسي – 16 /67

والأجير من يكون عاملا لغيره وفيما يكون عاملا لنفسه لا يصلح أن يكون أجيرا.

উদারহরণ স্বরূপ বলা যায়, রেডিও ও টিভিতে যে সকল বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, তা  দেখলে বা শুনলে কি শ্রোতা কোনো বিনিময়ের আশাবাদী হতে পারে? কিংবা কেউ একটি বই বা আর্টিক্যাল লিখে ছাপিয়ে দিল। এখন যে ব্যক্তি এই বই বা আর্টিক্যাল পাঠ করবে, সে কি লেখকের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের দাবী করতে পারে?

এ থেকে বুঝে আসে যে, শুধুমাত্র লিংকগুলোতে ক্লিক করা কিংবা ভিজিট করার কোনো বিনিময় হতে পারে না। পক্ষামত্মরে ডোলান্সার বা এজাতীয় সাইটগুলো তাদের সদস্যদের কোনো বিনিময়যোগ্য পণ্য বা সেবাও দিচ্ছে না, তাই রেজিষ্ট্রেশনের নামে যে অর্থ নিচ্ছে, তা বিনিময়হীন অর্থ। সুতরাং স্পষ্ট যে, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে বিনিময়যোগ্য পণ্য বা সেবা ছাড়াই উভয় পক্ষে অর্থ লেনদেন হচ্ছে যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ

أكل أموال الناس بالباطل

‘বাতিল পন্থায় মানুষের সম্পদ ভক্ষণ‘ এর আওতায় পড়ে। কারণ, এটা এক ধরনের সূদ।

كما قال تعالى:

 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا- النساء: 29

وفي المدخل الفقهي العام ــ2/980

والهبة اذا اشترط فيها دفع عوض كمن قال لاخر وهبتك هذا الشئ بكذا او بشرط ان تعطيني كذا اخذ العقد احكام البيع لانه اصبح في معناه رغم استعمال العاقد لفظ الهبة فيرد الموهوب بالبيع.

 

 

 

وفى الهداية شرح البداية – (3 / 81)

قال الصرف هو البيع إذا كان كل واحد من عوضيه من جنس الأثمان سمي به للحاجة إلى النقل في بدليه من يد إلى يد والصرف هو النقل والرد لغة أو لأنه لا يطلب منه إلا الزيادة إذ لا ينتفع بعينه والصرف هو الزيادة لغة كذا قاله الخليل ومنه سميت العبادة النافلة صرفا قال فإن باع فضة بفضة أو ذهبا بذهب لا يجوز إلا مثلا بمثل وإن اختلفا في الجودة والصياغة لقوله عليه الصلاة والسلام الذهب بالذهب مثلا بمثل وزنا بوزن يدا بيد والفضل ربا الحديث وقال عليه الصلاة والسلام جيدها ورديئها سواء وقد ذكرناه في البيوع.

وفى الهداية شرح البداية – (3 / 61)

 قال الربا محرم في كل مكيل أو موزون إذا بيع بجنسه متفاضلا فالعلة عندنا الكيل مع الجنس أو الوزن مع الجنس قال رضي الله عنه ويقال القدر مع الجنس وهو أشمل والأصل فيه الحديث المشهور وهو قوله عليه الصلاة والسلام الحنطة بالحنطة مثلا بمثل يدا بيد والفضل ربا وعد الأشياء الستة الحنطة والشعير والتمر والملح والذهب والفضة على هذا المثال ويروى بروايتين بالرفع مثل وبالنصب مثلا ومعنى الأول بيع التمر ومعنى الثاني بيعوا التمر والحكم معلول بإجماع القائسين لكن العلة عندنا ما ذكرناه

 

তাছাড়া যে বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করে  আয় করা হবে তা যদি কোনো নাজায়েয পণ্য বা অবৈধ সেবার বিজ্ঞাপন হয়, তা হলেও তা নাজায়েয হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

يراجع:

 المفصل في أحكام الهجرة – (3 / 66(

القاعدة الفقهية (ما حرم أخذه حرم إعطاؤه(

وفى الأشباه والنظائر لابن نجيم – (1 / 158)

 مَا حَرُمَ فِعْلُهُ حَرُمَ طَلَبُهُ

وفى فتاوى الشبكة الإسلامية – (2 / 2786)

وما حصل عليه الإنسان من الأجرة مقابل هذا العمل المحرم لا يجوز تملكه، لأن أجرة الحرام حرام.

 

২. দ্বিতীয় পদ্ধতি: মূলত এটি mlm পদ্ধতি,

 

এমএলএম নাজায়েয হওয়া সম্পর্কে বিশেবর প্রায় সকল গ্রহণযোগ্য ফুকাহায়ে কেরামই একমত। তাই সংগত কারণেই  বলা যায়, mlm পদ্ধতিটি না জায়েয হওয়ার উপর উম্মতের ইজমা তথা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অবৈধতার প্রধান কারণসমুহ হচ্ছে, এতে কিমার/মাইসির তথা জুয়া ধোঁকা, সূদসহ শরীয়তে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ- এমন আরো অনেক কারণ রয়েছে। যার মধ্য থেকে যেকোনো একটির উপস্থিতি  যেকোনো লেন-দেন হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট ।

 

وفى بدائع الصنائع – (6 / 117(

وَالتَّمْلِيكَاتُ مِمَّا لَا تَحْتَمِلُ التَّعْلِيقَ بِالْخَطَرِ فلم تَصِحَّ هِبَةً

وفى رد المحتار – (19 / 267)

وَمَعْنَى النَّهْيِ مَا فِي كُلٍّ مِنْ الْجَهَالَةِ وَتَعْلِيقِ التَّمْلِيكِ بِالْخَطَرِ فَإِنَّهُ فِي مَعْنَى إذَا وَقَعَ حَجَرِي عَلَى ثَوْبٍ فَقَدْ بِعْتُهُ مِنْكَ أَوْ بِعْتنِيهِ بِكَذَا أَوْ إذَا نَبَذْته أَوْ لَمَسْته كَذَا فِي الْفَتْحِ . وَذَكَرَ فِي الدُّرَرِ أَنَّ النَّهْيَ عَنْ إلْقَاءِ الْحَجَرِ أُلْحِقَ بِالْأَوَّلَيْنِ دَلَالَةً ( قَوْلُهُ لِوُجُودِ الْقِمَارِ ) أَيْ بِسَبَبِ تَعْلِيقِ التَّمْلِيكِ بِأَحَدِ هَذِهِ الْأَفْعَالِ

 

 

 

 

৩. লিজিং পদ্ধতি

 

এপদ্ধতিটির মূল কথা হল, সাইটটি আগা-গোড়া কোম্পানিরই থাকবে। মাঝে শুধু কোম্পানি ও সদস্যদের মধ্যে বাহ্যিকভাবে একটি ইজারা চুক্তি সম্পাদিত হবে। তদুপরি যদি একে বাসত্মবেও লিজ বলে গণ্য করা হয়, তবুও তা নাজায়েয। কেননা, কোনো বস্ত্ত লিজ নিয়ে লিজ দাতার কাছেই আবার  লিজ দেয়া বৈধ নয়।

وفى الدر المختار – (6 / 91(

 ) وللمستأجر أن يؤجر المؤجر ) بعد قبضه قيل وقبله ( من غير مؤجره وأما من مؤجره فلا ) يجوز وإن تخلل ثالث به يفتى للزوم تمليك المالك وهل تبطل الأولى بالإجارة للمالك الصحيح؟ لا.

( درر الحكام شرح مجلة الأحكام (1/ 572)وفى

وقوله من آخر – لأن المستأجر إذا آجر الشيء المأجور من مؤجره لا يكون صحيحا , سواء أكانذلك قبل القبض أو بعد القبض وسواء أكان المؤجر صاحب المال أو مستأجرا . وسواء أكان في المسألة شخص ثالث أو لا ; لأن المستأجر يقوم في المنفعة مقام المؤجر وإيجار المأجور من الآجر تمليكه منافع ملكه , وهذا لا يجوز شرعا.

 

অতএব, এধরনের কোনো কোম্পানির সদস্য হওয়া কিংবা এ থেকে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়।

 

والله أعلم بالصواب

                                                                                              محمد توحيد الإسلام عفي عنه

                                                                                           أستاذ دارالإفتاء والإرشاد

                                                                                              بالجامعة الرحمانية العربية،

                                                                                              سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

 

Share

Comments are closed.