জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ

 

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বৈধ কি না? ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে, বিস্তারিত জানাবেন।

মুহাম্মদ সাদাত আল আবরার মুহাম্মদপুর, ঢাকা

জবাব : জড় ও জীবসহ সবকিছুই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই পবিত্র কুরআনে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকল প্রাণীর রিযিক তথা জীবিকার দায়িত্বভার নিজে গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আর তার ভাণ্ডার অফুরন্ত। যা কখনো শেষ হবার নয়। একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন যে, তোমাদের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ অর্থাৎ সমস্ত জিন-ইনসান কোনোস্থানে একত্রিত হয়ে আমার নিকট প্রার্থনা করে। আর আমি তাদের সকলের প্রার্থণা মাফিক তাদেরকে দান করি, তাহলে আমার ভাণ্ডার থেকে এতোটুকুও কমবে না যতোটুকু সুঁই সাগরে ডুবিয়ে উঠালে সাগরের পানি কমে। তাই পৃথিবীতে জনসংখ্যা যতোই হোক না কেন। প্রত্যেকের রিযিকের ব্যবস্থা অবশ্যই আল্লাহ তা’য়ালা করে থাকেন ও করবেন। প্রত্যেক মুসলমানের এই বিশ্বাস রাখা চাই। এর বিপরীত আকীদা পোষণ করা কুফরী। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ করা নিষেধ। সুতরাং ওলামায়ে কেরাম যে ব্যাখ্যা করেন তা যথার্থই করেন। তবে অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কখনও এক্ষেত্রে হুকুমের মধ্যে কিছু শিথিলতা আসে। যা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। নিম্নে ব্যাখ্যাসহ এর হুকুম বর্ণনা করা হলো।  জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনিয়তা ও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। সকল ক্ষেত্র ও সকল পদ্ধতির হুকুম এক নয়।

মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।

এক. জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

দুই. অস্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না যেমন : কনডম ব্যবহার করা, পিল সেবন করা ইত্যাদি।

তিন. গর্ভধারনের পর গর্ভপাত ঘটানো।

প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ  করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এক্ষেত্রেও কখনও কোনো  কোন অভিজ্ঞ দীনদার ডাক্তারের বক্তব্যমতে গর্ভধারণের কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা হলে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা বৈধ হবে।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে।

১। দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।

২। কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে।

৩। মহিলা অসুস্থ ও দূর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হলে। তবে ভালোভাবে মনে রাখা দরকার যে, এ সকল ক্ষেত্রে বৈধতা শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিতভাবে মানুষের নিকট প্রচারণা করা ও এতে উদ্বুদ্ধ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

আর তৃতীয় পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দূর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় আর গর্ভধারনের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। আর মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে বৈধ নয়।

[মুসলিম শরিফ ২/৩১৯, জাদীদ ফিকহী মাবাহেস ১/২৮২]

 

 

 

 

মসজিদের নিচে মার্কেট করার বিধান

 

জিজ্ঞাসা :  আমরা জানি মসজিদের জায়গা তার মাটিসহ ওয়াকফ। এখন অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট তৈরি করে ২য় তলায় মসজিদ করা হচ্ছে। আর মার্কেটের দোকান বিভিন্ন বৈধ অবৈধ কাজের জন্য ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে এবং মার্কেটের ভেতর থুতু ফেলাসহ হিন্দু, মুসলমান, মহিলা, পুরুষ, পবিত্র, অপবিত্র ব্যক্তিরা গমনাগমন করছে। এতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া মসজিদের মার্কেটে গানবাদ্যসহ টিভি, ভিসিডিও চালানো হয়। এখন প্রশ্ন হলো এমনভাবে মসজিদের নিচে মার্কেট করা বৈধ আছে কি না? এবং সেই মার্কেটে অপবিত্র মহিলাগণ আসতে পারবে কি না? গান বাদ্য ও টিভি ভিসিডির দোকান মসজিদের মার্কেটের ভাড়া দেয়া যাবে কি না?

মামুনুর রশীদ ,সাভার, ঢাকা

জবাব : মসজিদ নির্মাণের সময় নিচ তলায় মার্কেট ও উপরে মসজিদ নির্মাণ করলে তা বৈধ হবে এবং সেই মার্কেটের দোকান সকল বৈধ কার্যক্রম ও ব্যবসার জন্য ভাড়ায় দেয়া এবং তাতে পবিত্র অপবিত্র, কাফের মুসলমান, সব ধরনের লোকের জন্য প্রবেশ বৈধ হবে। তবে টিভি, ভিসিডি বা অন্যকোনো হারাম পণ্যের ব্যবসা কিংবা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দোকান ভাড়া দেয়া বৈধ নয়।

বলাবাহুল্য যে, নাজায়েয কাজ করা যে কোনো স্থানেই বৈধ হবে না। আর মসজিদ মার্কেটে তা আরো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পক্ষান্তরে নিচ তলায় শুরু থেকেই মসজিদ নির্মিত হলে পুন:নির্মাণের সময় নিচে মার্কেট করা কিছুতেই বৈধ হবে না এবং কোনো কাজে তা ভাড়ায় দেয়া, অপবিত্র কোনো ব্যক্তির প্রবেশও জায়েজ হবে না।

[তাবয়ীনুল হাকায়েক ৫/১২৫, ফাতাওয়া আলমগিরী ২/৪৫৫]

জালালী খতম প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : কয়েকদিন আগে আমরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। উক্ত মসজিদের খতীব সাহেব তার বয়ানে খতমে ইউনুস, জালালী, দুরূদে নারীয়া ইত্যাদি খতমগুলোকে বেদআত বলে উল্লেখ করেন। দলীল হিসেবে কুরআন হাদিসের কোথাও নেই একথা পেশ করেন। পরে জানতে পারি অনেক উলামায়ে কেরামই এগুলোকে বেদআত হিসেবে ফতোয়া দিয়ে থাকেন।

এখন আমার জানার বিষয় হলো

১। কুরআন হাদিসের কোথাও কি এ সমস্ত খতমের কথা উল্লেখ আছে?

২। কুরআন হাদিসে না থাকলে আমল করা যাবে কি?

৩। যদি কুরআন হাদিসে থেকে থাকে তাহলে শরীয়তের কোন মূলনীতির আলোকে আমল করা হচ্ছে?

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর ঢাকা

জবাব : প্রশ্নোক্ত খতম সমূহের কথা কুরআন হাদিসে উল্লেখ নেই। তবে যেহেতু এসব খতম কুরআন শরীফের আয়াত কিংবা হাদিসের বর্ণিত দোয়া বা অর্থবোধক এমন শব্দ দ্বারা করা হয় যা বুযুর্গ ও আওলিয়াগণ থেকে বর্ণিত। সেহেতু চিকিৎসা হিসেবে এসব খতম করা বৈধ। এটা দোষের কিছু নয়। তবে এগুলোকে শুধুমাত্র উপার্জনের মাধ্যম না বানিয়ে মুসলমানদের উপকারের উদ্দেশ্যে করা উচিত।

চিকিৎসা হিসেবে যে কোনো বৈধ আমল করার অবকাশ হাদিসও ফিকাহের দ্বারা প্রমাণিত। আর এর জন্য যে কোনে বৈধ পদ্ধতি নির্ধারণ করতেও কোনো বাধা নেই। সেমতে খতমে ইউনুস, খতমে জালালী, দুরূদে নারিয়া এ জাতীয় খতম পড়া যেতে পারে। তবে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ তা’য়ালাই একমাত্র আরোগ্যদানকারী।

উল্লেখ্য, কুরআন হাদিসে নেই, এমন বিষয়কে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করাকে বিদআত বলে। বলাবাহুল্য যে উক্ত বিষয়গুলোকে তদবীর ও চিকিৎসা স্বরূপই গ্রহণ করা হয় ইবাদত হিসেবে নয়। তাই এগুলোকে বিদআত বলা অবান্তর।

[বুখারি শরিফ ২/৮৫১, আহকামূল কুরআন]

 

পিতা মাতার  সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : আমি একজন ব্যবসায়ী। সংসারের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার অন্য ভাইয়েরা ভিন্ন। আমি আমার মা-বাবা এবং স্ত্রী এক সংসারে থাকি। কিন্তু আমার মায়ের সঙ্গে আমার স্ত্রীর সব সময় মনোমালিন্য লেগে থাকে। আমি যখনই বাড়িতে যাই তখন আমার মা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ করে যে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে আমার স্ত্রী কখনো এই রকম করতে পারে না।

আমি জানি যে মায়ের মনে কষ্ট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আমি সকলকে নিয়ে এক সাথে থাকতে চাই।  আমার প্রশ্ন এই যে এখন আমি কী করতে পারি? তা আমাকে জানাবেন।

আসলাম হুসাইন, নড়াইল।

জবাব : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সম্ভব হলে স্ত্রীকে আপনার পিতা-মাতা থেকে পৃথক করে রাখা উচিত। তবে আপনার কর্তব্য হচ্ছে, পিতা-মাতার যথাযথ সেবা শুশ্রƒষা করা এবং তাদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা এবং কখনোই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার না করা। এরপরও যদি তারা শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীকে দূরে রাখার কারণে মন খারাপ করে থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য ক্ষতিকর নয়।

[মুসলিম শরীফ ১/৩৯৭]

 

আপন ভাইকে যাকাত দেয়ার হুকুম

জিজ্ঞাসা : আমি প্রতি বৎসর যাকাত আদায় করি। তবে আমার ভাই কিছু আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। তাই এবারের যাকাত আমার ভাইকে দিতে চাচ্ছি। যাতে তার উপকার হয়। জানার বিষয় হলো যাকাতের মাল আপন ভাইকে দেয়া জায়েয হবে কি না?

আছমা আক্তার, মোমেনশাহী

জবাব:  আপনার ভাই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে। বরং উত্তম। কেননা, তাকে দিলে দুটি সওয়াবের অধিকারী হবেন। সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।

[বুখারি শরিফ ১/১৯৮]

Share

প্রচলিত মিলাদ, কিয়ামের পদ্ধতি জায়েয কি না?

এনামুল হাসান, ঢাকা

জবাব : আখেরি নবী ও শ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালবাসা ও গভীর মহব্বত রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় নবীজী সা. এর জন্মলগ্ন থেকে তিরোধানের পূর্ব পর্যন্ত তার পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্ম-কাণ্ডের আলোচনা এবং পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির বড় মাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে উক্ত ইবাদত অবশ্যই সে পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবীজী সা., সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর সাহাবায়ে কেরাম রা. তাবেঈনদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাবেঈনগণ পরবর্তীদের শিখিয়ে গেছেন। সে পদ্ধতি হচ্ছে, দিন-ক্ষণ ও সময় নির্ধারণ এবং আনুষ্ঠানিকতা ব্যতিরেকে রাসূল সা.-এর জীবনী আলোচনা এবং দুরূদ শরীফ পাঠ করা। মনগড়া বা ভিত্তিহীন কোনো তরীকায় করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে না। এ জন্যই রাসূল সা. এর জীবনাদর্শ আহকামে দীন ও শরীয়ী বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।
সুতরাং রাসূল সা.-এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সওয়াব ও বরকতের বিষয় এবং মহান দীনী কাজ হলেও দেশের শরীয়তের নিয়ম-নীতি সম্পর্কে কোনো কোনো শ্রেণীর লোকেরা ‘মীলাদ শরিফ’ নামে সম্মিলিত সুরে গদভাধা কিছু পাঠের অনুষ্ঠান এবং কিয়ামের যে রীতি চালু করেছে, তার কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদীসে, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের সোনালী যুগে পাওয়া যায় না। অথচ সর্বস্বীকৃত সত্য হলো, তারাই ছিলেন প্রকৃত নবীপ্রেমী খাঁটি আশেকে রাসূল এবং নবীজী সা. এর আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসারি ও বাস্তব নমুনা।
প্রচলিত এই মিলাদ ও কিয়ামের উদ্ভব ঘটে ৬০৪ হিজরি সনে। ইরাকের মাসূল শহরের বাদশা আবু সাঈদ মুজাফ্ফর কাকরী এবং তার দরবারি আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এদু’জন মিলে এর প্রচলন ঘটায়। এরা উভয়ে দীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক প্রকৃতির লোক ছিল। পরবর্তীতে অজ্ঞতা, মূর্খতা ও জাহালতের অন্ধকারে নিমজ্জিত শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে আরো অনেক কুসংস্কার, শরীয়ত বিরোধী বিশ্বাস ও কার্যাবলী এতে সংযোজিত হতে থাকে। যার সবকিছুই কুরআন-হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরীয়তের মূল প্রমাণ পরিপন্থী। তা ছাড়া মিলাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সা.কে হাজির-নাজির মনে করে কিয়াম করা তো রীতিমতো শিরক। হাজির-নাজির মনে না করলেও শরীয়তে এর ভিত্তি নেই।
এ সকল কারণে প্রচলিত মিলাদ, কিয়াম না জায়েজ ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরাম একবাক্যে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। এজন্য প্রচলিত মীলাদের আয়োজন না করে ‘বিশেষ দোয়া’ করা যেতে পারে। এতে দোয়া কবুললের উদ্দেশ্য নিয়মানুযায়ী কিছুক্ষণ দরূদ শরিফ, তাসবীহ-তাহলীল, ওজীফা, সূরা ফাতেহা, সূরা ইখলাস ইত্যাদি যার যা জানা আছে প্রত্যেকে নিজস্বভাবে পড়বে। সম্মিলিত সুরে নয়। এরপর মুনাজাত করবে। এ পদ্ধতিতে আমল করার অবকাশ রয়েছে। এটি সর্বোতভাবে শরীয়তসম্মত। এ সম্পর্কে কোনো বিতর্ক বা কারো দ্বিমত নেই। আর ইয়া নাবী সালাম আলাইকা বলে দরূদ শরীফ রাসূলে পাক সা. কে হাজির-নাজির মানে করে পাঠ করলে তো শিরক হবে। তবে যদি এই বিশ্বাস নিয়ে পা ঠ করে যে, এটি নবী করীম সা. এর কাছে পৌঁছানো হয়-তাহলে শিরক হবে না।
[ফাতাওয়া শামী ১/৫২৪,এমদাদুল ফাতাওয়া ৬/৩২৭ আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৪৭]

Share

নিমদাড়ি কাটা, ছাটা বা রাখার কী হুকুম?

প্রশ্ন:
From: Shibbir
Subject: দাড়ি
Country : Bangladesh
Mobile : 01672955080
Message Body:
নীচের ঠোটের নীচে যে দাড়ি, আমরা যাকে নিমদাড়ি বলি তা কাটা ছাটা বা রাখার কী হুকুম?

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
থুতনির উপর এবং ঠোটের নিচের চুল যাকে আমরা নিম দাড়ি বা বাচ্চা দাড়ি বলি তা বেশী বড় হলে পানি পান করতে বা খাবার খাওয়ায় সমস্যাককর হলে কিংবা অন্য কোন অসুবিধা হলে তা কাটার অবকাশ আছে। তবে একেবারে কামানো ও উপড়ানো বেদআত ও নিষিদ্ধ।

Share

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গ

মুহাম্মদ জুবায়ের,শরীয়তপুর
জবাব : প্রশ্নে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রথমটির সমাধান হলো, কেউ যদি রুকু কিংবা সিজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে উত্তম হলো সে ব্যক্তি চেয়ারে কিংবা নিচে বসে নামাজ আদায় করবে। আর সেক্ষেত্রে রুকু সিজদা ইশারায় আদায় করবে। তবে এমন ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে এবং বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টির জবাব হলো, চেয়ারের পিছনের পায়া দু’টি কাতারের দাগের ওপর রাখবে, সামনে বা পিছনে নয়।
তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর হলো, চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা অবস্থায় কেউ যদি টেবিলের ওপর সিজদা করে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে সামনে টেবিল না রেখে ইশারায় সিজদা করাই উত্তম।
[ফাতহুল বারী ১/১, আদ দুররুল মুখতার ২/৫৬]

প্রশ্ন:
From: Shibbir
Subject: Quran telawat
Country : Bangladesh
Mobile : 01672955080
Message Body:
কুরআন তেলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আযীম বলা যাবে কিনা? একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, এটা বলা যাবে না। কথাটি কতটুকু সঠিক?


This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
আল্লাহ পাকের কালাম তথা কোরআন তেলাওয়াত শেষে ‘সাদাকাল্লাহুল আযীম’ বলতে কোন সমস্যা নেই। এর অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। কুরআন পাকের মধ্যেই স্বয়ং আল্লাহ পাক নবী কারীম সা. কে বলেন যে, আপনি বলুন, ‘সাদাকাল্লাহ’ । সূরা আল ইমরান (আয়াত : ৯৫)

Share

ভূয়া সাক্ষী রেখে বিবাহ করলে বিবাহ শুদ্ধ হবে কি?

প্রশ্ন:
From: অনিক খান
Subject: বিয়ে সম্পর্কে
Country : বাংলাদেশ
Mobile :
Message Body:
আসসালামুয়ালাইকুম,
আমার প্রশ্ন হলো – কেউ যদি বিয়ের সময় নিজের আত্মীয় – স্বজন কে সাক্ষী না বানিয়ে অন্য কাউকে নিজের আত্মীয় – স্বজন এর নাম পরিচয় লাগিয়ে সাক্ষী করে অর্থাৎ ভুয়া পরিচয় দিয়ে সাক্ষী বানিয়ে বিয়ে করে সেই বিয়ে শুদ্ধ হবে কিনা ??

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে দুইজন মুসলমানকে সাক্ষী রাখা। তারা আত্মিয় হোক বা না হোক- তাতে কোন সমস্যা নেই। সে মতে অনাত্মিয় ব্যক্তিদেরকে সাক্ষী করে বিবাহ করলেও সে বিবাহ শুদ্ধ হয়ে যাবে। তাবে একজন অনাত্মিয়কে ভূয়া আত্মিয় পরিচয় দেয়া মিথ্যার অর্ন্তগত, যা গুনাহ। তাই এমন গুনাহ থেকে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য।

Share

মসজিদের উপরের তলাগুলোতে মিম্বর বরাবর স্থানে একটু জায়গা ফাঁকা রাখা কি?

প্রশ্ন:
From: মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম
Subject: বিবিধ
Country : বাংলাদেশ
Mobile : 01712792193
Message Body:
প্রশ্ন (ক) মসজিদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় তলায় মিম্বর বরাবর স্থানে একটু জায়গা ফাঁকা রাখা কি? কেন-ই বা এই ফাঁকা রাখা হয়? যদি কোনো মসজিদে ফাঁকা জায়গা না রেখে মসজিদ নির্মাণ করা হয় এবং ইমাম সাহেবের আওয়াজ উপরে পৌঁছার জন্য কোনো প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয় তাতে কোনো অসুবিধা আছে কি?
প্রশ্ন (খ) ব্যাংকে সঞ্চয়ী হিসাব খোলা কি না জায়েয?
প্রশ্ন (গ) ইসলাম ব্যাংক থেকে প্রদত্ত মুনাফা গ্রহণ করা এবং তা ভোগ করা কি জায়েয?
সম্মানিত মুফতী সাহেব, আশা করি, আমার এ প্রশ্নগুলোর উত্তর যত দ্রুত সম্ভব হাওয়ালাসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
মুহাম্মদ মুফীজুল ইসলাম, নরসিংদী।

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
(ক) মসজিদের উপর তলাগুলোতে নীচ তলার দন্ডয়মান ইমামের তাকবীর শুনা যাওয়ার উদ্দেশ্যে ফাকা রাখা হয়। এহেন উদ্দেশ্যে ফাকা রাখা জায়েয এবং উপকারী। অবশ্য ইমামের আওয়াজ পৌঁছানোর জন্য ফাকা না রেখে মাইক ব্যবহার করাও বৈধ।
(খ) হ্যাঁ, ব্যংকে সঞ্চয় হিসাব খোলা নাজায়েয। কেননা এতে সুদ প্রদান করা হয়।
(গ) ইসলামী ব্যংক তাদের কার্যক্রম পূর্ণ শরীয়া মোতাবেক করতে পারছে কি না- তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহের অবকাশ আছে, তাই এর লাভ সন্দেহযুক্ত বিধায়, তা নিজে ভোগ না করাই ভাল।

Share

পিতা-মাতা দাড়ী রাখতে বাঁধা দিলে দাড়ী রাখতে হবে কিনা?

প্রশ্ন:
From: Md. Nazmul Hasan
Subject: beard(dari)
Country : Bangladesh
Mobile :
Message Body:
আস সালামু আলাইকুম, আমার বয়স ২২ বৎসর। আমার মুখে দড়ী কম। আমি নিয়ত করেছি দাড়ী রাখবো। কিন্তু আমার পিতা-মাতা বলছেন আরো ২/৩ বছর পর রাখতে। এক্ষেত্রে ইসলাম কি বলে?

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
দাড়ী রাখা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল, যা হাদীসে দ্বীন ইসলামের চিহ্ন বলে বিবেচিত। নবী কারীম সা. অসংখ্য হাদীসে দাড়ী রাখার উপর গুরুত্বারোপ করেছেন, এবং জোড়ালোভাবে দাড়ী লম্বা রাখতে নির্দেশ প্রদান করেছেন। তাই দাড়ী রাখা নবী সা. এর নির্দেশ ও ওয়াজিব। যা পালন করা প্রত্যেক মুসলমান পুরুষের কর্তব্য। এমন ‍গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশের ব্যপারে মা-বাবা বাধ সাধলে এ ক্ষেত্রে তাদের কথা মান্য করা যাবে না। কেননা মহান রাব্বুল আলামীন ও তাঁর রাসূলের নির্দেশের মুকাবেলায় দুনিয়ার কারো নির্দেশই পালনযোগ্য নয়। সেমতে আপনি দাড়ী রাখুন এবং মা-বাবাকে হিকমত ও আদরের সাথে বুঝাতে থাকুন ও তাদের হেদায়াতের জন্য দোয়া করুন।

Share

শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরি পাক এলকোহল পান করা জায়েয কিনা?

প্রশ্ন
From: আব্দুর রহমান তরফদার
Subject: এলকোহলযুক্ত সেন্ট ব্যবহারের ফতোয়া প্রসঙ্গে
Country : বাংলাদেশ
Mobile : ০১৭১৫০৪০৫৪৬
Message Body:
নিচের ফতোয়া থেকে একটা ব্যাপার বোঝা গেল, আঙ্গুর ও খেজুর খেকে তৈরি এলকোহল নাপাক, অন্য এলকোহল পাক. আমার জ্ঞাতব্য, শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরি এলকোহল পান করা জায়েজ কিনা?

সেন্ট ব্যবহারের হুকুম
Mar 8, 2011 by
জিজ্ঞাসা : সেন্ট যার মধ্যে সাধারণত এলকোহল মিশ্রিত করা হয়। তা ব্যবহার করা জায়েয কি না? এবং তা ব্যবহার করে নামাজ পড়া জায়েয হবে কি না? শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কি তা জানতে চাই।
হাফেজ মাহমুদুল হাসান, ত্রিশাল, মোমেনশাহী
জবাব : বর্তমানে বাজারে যে সেন্ট পাওয়া যায় তাতে সাধারণত আঙ্গুর বা খেজুরের রস থেকে প্রস্তুত কৃত এলকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছগাছালীর খাল ইত্যাদি জিনিস থেকে প্রস্তুতকৃত এলকোহল মিশানো হয়, যা নাপাক নয়। সুতরাং তা ব্যবহার করা ও তা ব্যবহার করে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে।
(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৩/৬০৮, বুহুস ১/৩৪১)

This mail is sent via Authority Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরী এলকোহল পান করলে যদি নেশার উদ্রেক হয় তাহলে তাও পান করা না জায়েয ও হারাম। কেননা হাদীসে পাকে যে কোন নেশাজাত দ্রব্য পান করা হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

Share

কোম্পানির কোন মাল ক্রয় করার সময় বিল বাড়িয়ে করা বৈধ কিনা?

প্রশ্ন:
From: অনিক খান
Subject: হালাল – হারাম
Country : Bangladesh
Mobile :
Message Body:
আসসালামুয়ালাইকুম!
আমি যে প্রশ্নটি করতে চাই তা হলো -
আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। কোম্পানির কিছু কিছু জিনিস আমার কিনতে হয় তো কেনার সময় দোকানদার নিজে থেকে ওই জিনিস এর দাম কিছু বাড়িয়ে বিল করে বাড়তি টাকাটা কি আমার জন্য হালাল হবে?
আর যদি আমি নিজে থেকে দোকান্দারকে বলি বাড়িয়ে লিখার জন্য তখন কি হুকুম ?
আর যদি আমি ওই টাকাটা শুধু মাত্র অফিস এ যাওয়া – আসার জন্য বা অফিসের জিনিস কিনতে গাড়ি ভাড়া হিসেবে ব্যাবহার করি তখন কি হুকুম ?
বিস্তারিত জানালে খুবই উপকৃত হবো।

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
কোন জিনিসের দাম বাড়িয়ে বিল করা ধোকা ও মিথ্যার অন্তর্গত, তাই কোন উদ্দেশ্যেই এভাবে বিল করা বৈধ নয় এবং বাড়তি টাকাও আপনার জন্য হালাল নয়।

Share