খাদ্যে তেলাপোকা পড়ে মারা গেলে

জিজ্ঞাসা : আমার ভায়ের ম্যাংগো জুস তৈরির কারখানা আছে। একদিন সকালে ম্যাংগো পাল্পের ড্রামে দেখলাম একটি ব্যাঙ পড়ে আছে। অন্যটাতে দেখলাম বেশ কিছু  তেলাপোকা পড়ে আছে। জানার বিষয় হলো- এ পাল্প দিয়ে জুস বানিয়ে খাওয়া কি জায়েয হবে? না জায়েজ হলে তা পাক করার কোনো উপায় থাকলে বলবেন।

জবাব : যে ড্্রামে তেলাপোকা পড়ে ছিল তার পাল্প নাপাক হয়নি। বিধায় তা দিয়ে জুস তৈরি করে পান করা বৈধ। আর অপর যে ড্্রামটিতে ব্যাঙ মরেছিল যদি ব্যাঙটি স্থলের হয় জলের না হয় (আর এমনটাই স্বাভাবিক) তাহলে ঐ ড্্রামের পাল্প নাপাক হয়ে গেছে। তাই তা পবিত্র করা ছাড়া তার দ্বারা জুস বানানো এবং তা খাওয়া বৈধ হবে না।
আর তা পবিত্র করার পদ্ধতি হলো, মৃত ব্যাঙটি ড্রাম থেকে ফেলে দেয়ার পর উক্ত ড্রামের পাল্পে পাল্প সমপরিমাণ পানি ঢেলে এমনভাবে জ্বাল দিতে হবে যেন পানিগুলো নিঃশেষ হয়ে যায়। এভাবে তিনবার পানি ঢেলে জ্বাল দেয়ার দ্বারা আপনার পাল্প পাক হয়ে যাবে।
(হেদায়া : ১/২০, ফাতহুল কাদির :১/৮৪)

Share

ফেইসবুকে নকল আইডি ব্যবহার করার হুকুম।

প্রশ্ন: আমি ফেইস বুকের মাধ্যমে ইসলাম প্রচার করতে চাই, কিন্তু ফেইসবুকে মেয়ের আইডি ব্যাবহার করলে মানুষ সেটা পড়ে এবং গুরুত্ব দেয়। তাই আমি ছেলে হয়ে মেয়ের নামে আইডি খুলে ব্যবহার করতে পারবো কিনা? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

                                                          

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                          মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                           www.rahmaniadhaka.com

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-  ইসলাম প্রচার প্রত্যেক মুসলমানের অন্যতম দায়িত্ব ও কর্তব্য। সে সাথে অনেক সওয়াবেরও কাজ, তবে তা শরিয়ত সম্মত পন্থায় হতে হবে। অবৈধ পন্থায় ইসলাম প্রচার করা যাবে না। আর মিথ্যা শরিয়তে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তাই ইসলাম প্রচার করার ক্ষেত্রে কোন মিথ্যার আশ্রয় নেয়ার সুযোগ নেই। তাই অহেতুক মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে ছেলে হয়ে মেয়ের আইডি ব্যবহার বৈধ হবে না।

 

كما أخرج الامام مسلم في صحيحه : (1 / 70النسخة الهنديه)

عن أبي هريرة أن رسول الله صلى الله عليه و سلم قال من حمل علينا السلاح فليس منا ومن غشنا فليس منا .

و جاء في  المبسوط للسرخسي: (11 / 486 , ادارة القران)

 قال { : ولا تغدروا } والغدر الخيانة ونقض العهد وهو حرام قال الله تعالى { : فانبذ إليهم على سواء إن الله لا يحب الخائنين } وقال صلى الله عليه وسلم { : لكل غادر لواء يركز عند باب استه يعرف به غدرته يوم القيامة } { وكان صلى الله عليه وسلم يكتب في العهود وفاء لا غدر فيه.

والله أعلم بالصواب

محمد معصوم بالله غفر له

دارالإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

Share

হরতালের শরয়ী হুকুম

প্রশ্ন: বর্তমানে অনেক ইসলামী দলকেও হরতাল ডাকতে দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হলো- শরীয়তের দৃষ্টিতে হরতাল কর্মসূচী আহবান করা জায়েয আছে কি না?

                                                                            ফাতওয়া নং ২৮৩৯

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 ফাতওয়া বিভাগ                                                                 তারিখ: ০২/০৬/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                             মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                                  www.rahmaniadhaka.com        

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-   

 বর্তমান প্রচলিত হরতাল কর্মসূচীতে শরীয়ত বিরোধী বহু কারণ বিদ্যমান থাকায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। তবে  ওইসব কারণ থেকে মুক্ত থেকে কোনো দ্বীনী কিংবা ন্যায্য দাবির পক্ষে বা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত তৈরি করে হরতাল পালন করলে তা অবৈধ নয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হরতাল শরীয়ত নিষিদ্ধ কারণ থেকে মুক্ত হলে শুধু তা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হওয়ায় অবৈধ নয়। কেননা, এতে শরীয়তে কাম্য একাধিক বিষয় রয়েছে যেমন হরতাল অর্থ অসহযোগিতা, কুরআন মাজীদে গুনাহ এবং অন্যায় কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হরতাল মানে জালিমের কাছে ন্যায়ের বার্তা পৌছানো। হাদীস শরীফে যাকে উত্তম জিহাদ বলা হয়েছে। হরতাল মানে অসৎ কাজে বাধা দান, কুরআন-হাদীসে এবিষয়ে স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়েছে। হরতাল মানে জালিমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখা, এব্যাপারেও হাদীসে সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে।

        পক্ষান্তরে হরতাল মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এবং হরতাল মানেই ফাসাদ ফিল আরয অর্থাৎ ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়। তাই মৌলিকভাবে হরতাল কর্মসূচী অবৈধ নয়। বরং উদ্দেশ্য ভাল হলে এবং শরীয়ত নিষিদ্ধ সকল বিষয় থেকে মুক্ত হলে তা কিছু শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হবে।

      . গ্রহণযোগ্য সংখ্যক দ্বীনদার, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণের মতামতের দ্বারা সিদ্ধান্ত গৃহিত হতে হবে, যে বিষয়ে হরতাল ডাকা হয়েছে তাতে জনগণের স্বার্থ নিহিত রয়েছে এবং তারা এবিষয়ে একমত হবে। আর যদি কোনো দ্বীনী বিষয় হয় তাহলে সেক্ষেত্রে গ্র্হণযোগ্য আলেমগণ একমত হতে হবে। 

     . হরতাল ডাকার পূর্বে দাবি-দাওয়া পূরণের প্রাথমিক পর্যায় ও পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। যেমন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি কিংবা প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের বুঝিয়ে দাবি মানানোর চেষ্টা করা। এবং সঠিক বিষয়টি উপস্থাপন করা।

      . হরতাল চলাকালে অন্যায়ভাবে কারো জান-মাল ক্ষতিগ্রস্থ্ না হয় এবং শরীয়ত বিরোধী কোনো কর্মকান্ড না হয় সেবিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও কর্মপন্থা গ্রহণ করা।

         হরতালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গাড়ি, দোকান পাট, কারখানা ইত্যাদি ভাংচুর করা, সরকারের সম্পদ বিনষ্ট করা, বোমাবাজী  এবং গোলাগুলি করা সম্পূর্ণ হারাম। শরীয়তে এজাতীয় কর্মকান্ডের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য উপরোক্ত শর্তসমূহ মেনে হরতাল করলে তা বৈধ। এবং তাতে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। যদি কেউ এমন হরতালের বিরোধিতা করে কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে তাকে গ্রহণযোগ্য পন্থায় বাধা দেওয়া উচিত। আমাদের জানা মতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ, দাবি আদায় কিংবা চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হরতালের বিকল্প ফলপ্রসু কোনো পদ্ধতি নেই।

كما قال الله تعالى.

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ } [المائدة : 2]

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه – (2 / 863)

حميد الطويل سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( انصر أخاك ظالما أو مظلوما )

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه – (4 / 164)

عن أبى سعيد الخدرى ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر) أو (أمير جائر)

وفي الدر المختار: (4/261) باب البغاة

البغي لغة: الطلب، ومنه * (ذلك ما كنا نبغي) * (سورة الكهف: الآية 46).وعرفا: طلب ما لا يحل من جور وظلم.فتح.وشرعا: (هم الخارجون عن الامام الحق بغير حق) فلو بحق فليسوا ببغاة، وتمامه في جامع الفصولين.

وفى رد المحتار – (4/261) باب البغاة

الفصل الأول : بيانه أن المسلمين إذا اجتمعوا على إمام وصاروا آمنين به فخرج عليه طائفة من المؤمنين ، فإن فعلوا ذلك لظلم ظلمهم به فهم ليسوا من أهل البغي ، وعليه أن يترك الظلم وينصفهم .ولا ينبغي للناس أن يعينوا الإمام عليهم ؛ لأن فيه إعانة على الظلم ، ولا أن يعينوا تلك الطائفة على الإمام أيضا ؛ لأن فيه إعانة على خروجهم على الإمام ، وإن لم يكن ذلك لظلم ظلمهم ولكن لدعوى الحق والولاية فقالوا الحق معنا فهم أهل البغي ، فعلى كل من يقوى على القتال أن ينصروا إمام المسلمين على هؤلاء الخارجين ؛ لأنهم ملعونون على لسان صاحب الشرع قال عليه الصلاة والسلام { الفتنة نائمة لعن الله من أيقظها } فإن كانوا تكلموا بالخروج لكن لم يعزموا على الخروج بعد .

 ويراجع أيضا: جواهر الفتاوى:1/605، فتاوى رحمانيه:2/265.

والله اعلم بالصواب

محمد ولى الله عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

Share