মাইকে আজান ও ইকামতের শরয়ী বিধান।

মুহতারাম মুফতি সাহেব! বর্তমান যুগে মাইকে আজান ও ইকামত দেয়ার শরয়ী বিধান কী? কোথাও মাইকের সাহায্যে আজান ও ইকামত দেয়ার পূর্ণ ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মুখে আজান ও ইকামত দেয়া কিংবা মুখে আজান আর মাইকে ইকামত দেয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে কেমন?

যে সকল বড় জামাতে ইমাম সাহেবের আওয়াজ শেষ পর্যন্ত পৌঁছে না, সে সকল জামাতে মুকাব্বির নিযুক্ত করার শরয়ী বিধান কী?

যদি মুকাব্বির ছাড়াও মাইকের সাহায্যে শেষ পর্যন্ত আওয়াজ পৌঁছানো যায়, তাহলেও মুকাব্বির নিযুক্ত করতে হবে কী?

মাইকের সুব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও ‍মুকাব্বির নিযুক্ত করার পাশাপাশি মাইকে তাকবীর বলার শরয়ী বিধান কী? দলীল প্রমাণসহ বিস্তারিত জানাবেন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

 নিবেদক

মুহা. সুলাইমান

সদর দক্ষিণ, কুমিল্লা

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم

ফত্ওয়া বিভাগ                                                                                    তারিখ: 1/4/1434 হিজরি

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 حامدا و مصليا ومسلما

উত্তরঃ-

মাইকে আজান ও ইকামত দেয়া সম্পূর্ণ বৈধ। বৈধতার বিষয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। তবে উত্তম অনুত্তম নিয়ে দৃষ্টি ভঙ্গির ভিন্নতা রয়েছে। বর্তমানেও অনেকে মাইকের ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও মুখে আজান ও ইকামত দেয়াকে উত্তম বলেন। তাদের ‍দৃষ্টিভঙ্গি হলো, ইসলামের শুরু যুগ থেকে এভাবেই আজান দেয়া হতো, তাই মুখে আজান দেয়ার মধ্যেই মূল বিষয়ের অনুসরণ রয়েছে। তাই তা উত্তম। তবে চিন্তা করলে একথা প্রতিয়মান হয় যে, ইসলামে আজান প্রবর্তন করার উদ্দেশ্য হলো, এর মাধ্যমে নামাজিদের নামাযের সময় হওয়া সম্পর্কে অবগত করা এবং নামাজের জন্য আহবান করা। বলাবাহুল্য, আজানের আওয়াজ যত উচ্চ হবে ততবেশী মানুষ নামাযের সময় সম্পর্কে অবগত হবে এবং নামাযের দাওয়াত ততবেশী মানুষের নিকট পৌঁছবে। আজান সংক্রান্ত শরিয়তের বিভিন্ন হুকুম থেকেও বিষয়টি স্পষ্ট হয়। যেমন,أذان فى الصومعة  অর্থাৎ- আজান ঘরে আজান দিলে সে ক্ষেত্রে জানালা দিয়ে মাথা বের করে আজান দেয়ার আদেশ রয়েছে। যেন আজানের আওয়াজ দূর পর্যন্ত পৌঁছে। আরো একটি বিষয় হলো যে, আজানকে দাওয়াতে তাম্মাহ তথা পরিপূর্ণ আহবান বলা হয়েছে। তাহলে আজান যেহেতু দাওয়াত, তাই যতদূর পর্যন্ত সম্ভব তার প্রচার হওয়া কাম্য। সুতরাং যেহেতু মাইকে আজান দেয়ার বৈধতা নিয়ে কোনো বিরোধ নেই, তাই মাইকে আজান দেয়া উত্তম হওয়া যুক্তিযুক্ত। কেননা, তাতে শরিয়তের উদ্দেশ্য, মুখে আজান দেয়ার চেয়ে বেশী প্রতিফলিত হয়।

কিন্তু মুখে আজান ও মাইকে ইকামত দেয়ার তেমন কোনো কারণ বুঝে আসে না। তবে হ্যাঁ, যদি তাতে এরূপ দৃষ্টিভঙ্গি থাকে যে, আজান স্বতন্ত্র একটি ইবাদত তাই তাতে আসলের অনুকরণ হোক। আর ইকামত যেহেতু আনুষঙ্গিক বিষয়। তাই তাতে আসলের অনুসরণ না হলেও ক্ষতি নেই। তা হলে ভিন্ন কথা।

আর বড় জামাতে ইমাম সাহেবের আওয়াজ শেষ পর্যন্ত পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা আবশ্যক। অন্যথায় তারা ইমামের অনুসরণ করবে কিভাবে। তবে এ জন্য শুধু মুকাব্বিরেরও ব্যবস্থা করা যেতে পারে। মাইকের পাশাপাশি মুকাব্বিরেরও ব্যবস্থা রাখার প্রয়োজন নেই। তদুপরি সাবধানতা বশত: এমন করা যেতে পারে। কেননা, অনেক সময় বিদ্যুৎ চলে যায় কিংবা মাইক যন্ত্রে গোলযোগ দেখা দেয়।

كما أخرج ابن خزيمة فى صحيحه : (1/ 189)

 عن محمد بن عبد الله بن زيد عن أبيه قال : لما أصبحنا أتينا رسول الله صلى الله عليه و سلم فأخبرته بالرؤيا فقال : إن هذه الرؤيا حق فقم مع بلال فإنه أندى أو أمد صوتا منك.

وفى بدائع الصنائع : (1/ 149)

 أما الذي يرجع إلى نفس الأذان فأنواع منها أن يجهر بالأذان فيرفع به صوته لأن المقصود وهو الإعلام يحصل به ألا ترى أن النبي صلى الله عليه وسلم قال لعبد الله بن زيد علمه بلالا فإنه أندى وأمد صوتا منك … وكذا يجهر بالإقامة لكن دون الجهر بالأذان لأن المطلوب من الأعلام بها دون المقصود من الأذان.

 وفى تبيين الحقائق : (1/ 92)

قال رحمه الله ( ويستدير في صومعته ) هذا إذا لم يمكنه مع ثبات قدميه بأن كانت الصومعة متسعة فيستدير ويخرج رأسه منها ليحصل المقصود به.

وفى الموسوعة الفقهية الكويتية : (10/ 117)

فإن كان صوته لا يبلغ من وراءه فينبغي التبليغ عنه من أحد المأمومين ، والمراد من التكبير ما يشمل تكبيرة الإحرام وغيرها . وقال ابن قدامة : يستحب للإمام أن يجهر بالتكبير ، بحيث يسمع المأمومون ليكبروا ، فإنهم لا يجوز لهم التكبير إلا بعد تكبيره ، فإن لم يمكنه إسماعهم جهر بعض المأمومين ليسمعهم ، أو ليسمع من لا يسمع الإمام . لما روى جابر رضي الله عنه قال : صلى بنا رسول الله صلى الله عليه وسلم وأبو بكر خلفه ، فإذا كبر رسول الله صلى الله عليه وسلم كبر أبو بكر ليسمعنا.

ويراجع أيضا : آلات ِ جدیدہ کی شرعی احکام : مفتی شفیع  رحمہ اللہ

والله اعلم بالصواب

محمد رفيق الاسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

Share

ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

বরাবর,

মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু

জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

 

বিষয়: ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানী  করি। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় বাড়ী মর্গেজ রেখে ঋণ গ্রহণ করি। এবং সুদসহ ঋণ পরিশোধ করি। আর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে দেলদেন করতে হয়।

এখন জানার বিষয় হলো, আমাদের এ লেনদেনগুলো বৈধ হচ্ছে কিনা ? আর পূর্বে যে লেনদেন হয়েছে এর জন্য কি নির্দেশনা ।

নিবেদক

মুহা. ওসমান গনী

মিরপুর, ঢাকা।

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

  ফাতওয়া বিভাগ                                                                           তারিখ: ০২/০২/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:

সুদ গ্রহণ করা ও সুদের টাকা থেকে যেকোনোভাবে উপকৃত হওয়া হারাম। তাই সুদী টাকায় আপনাদের ব্যবসা পরিচালনা করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে আপনারা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানি করার জন্য এল,সির দ্বারা ব্যাংকের মাধ্যমে যে লেনদেন করেন, তাতেও সুদ রয়েছে। অতএব, সে পদ্ধতিতে আমদানি করাও বৈধ হচ্ছে না। বলাবাহুল্য যে, প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ সুদী টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করার একমাত্র বিকল্প হল, সুদ ভিত্তিক লোন গ্রহণ করা বন্ধ করে সম্ভব হলে সুদবিহীন পুঁজি সংগ্রহ করা অন্যথায় অন্য কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা বেছে নেয়া। যার জন্য ঋণের প্রয়োজন হয়না।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ এল, সির সুদ থেকে বাঁচার জন্য কোনো ইসলামী ব্যাংকে এল, সি খুলতে পারেন। তবে এল,সি খোলার সময় ঐ ব্যাংকের সাথে মুযারাবা বা মুশারাকার চুক্তি করে নিবেন। যদি জিরো মার্জিনে  এল,সি খোলেন তাহলে মুযারাবার চুক্তি করবেন। অর্থাৎ ব্যাংক পুঁজিদাতা আর আপনি মুযারিব তথা ব্যবসায়ী হবেন। যা লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আমদানিকৃত বস্তু ব্যাংকের মালিকানায় থাকবে। আর তা বিক্রি করার পর যে লাভ হবে, তা আপনাদের মাঝে পূর্বে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর যদি এল, সি খোলার সময় নিজেরাও কিছু অর্থ দিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের সাথে মুশারাকা চুক্তি করবেন। এভাবে যে, ব্যাংক আমদানিকারীকে বলবে, মালের অবশিষ্ট মূল্য আমরা দিচ্ছি । সুতরাং যে মাল আমদানি করা হবে তাতে আমাদের উভয়ের বিনিয়োগ অনুযায়ী আমরা অংশীদার হব। এবং সম্পদ বিক্রির পর যা লাভ হবে তা পূর্বৃ নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর ইতিপূর্বে প্রশ্নোক্ত লেনদেনের মাধ্যমে যে আয় হয়েছে তা ভোগ করার জন্য আল্লাহর নিকট খালেছ অন্তরে তাওবা করতে হবে। এবং ভবিষ্যতে এহেন কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

 

 كما قال تعالى.

{قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ } [البقرة: 275]

 وفى الهداية شرح البداية (3/ 202)

قال ومن شرطها أن يكون الربح بينهما مشاعا لا يستحق أحدهما دراهم مسماة من الربح لأن شرط ذلك يقطع الشركة بينهما ولا بد منها كما في عقد الشركة  قال فإن شرط زيادة عشرة فله أجر مثله لفساده فلعله لا يربح إلا هذا القدر فتنقطع الشركة في الربح

وفى الجوهرة النيرة (3/ 133)

 قَوْلُهُ : وَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُون الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدُهُمَا مِنْهُ دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً ) لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يَقْطَعُ الشَّرِكَةَ لِجَوَازِ أَنْ لَا يَحْصُلَ مِنْ الرِّبْحِ إلَّا تِلْكَ الدَّرَاهِمُ الْمُسَمَّاةُ

ويراجع أيضا:

             شركت و مضاربت عصر حاضر ميں :406.

والله أعلم بالصواب

محمد تاج الإسلام عفي عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمد بور، دكا-1207

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share

তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় নেয়া প্রসঙ্গে।

বরাবর,
মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু
জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া
সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

বিষয়: তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় নেয়া প্রসঙ্গে।

জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে,
খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় নেয়া জায়েয আছে কি ?
কিছু আলেম বলেন, খতম তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় নেয়া জায়েয নেই। তবে সূরা তারাবীহ পড়িয়ে বিনিময় নেয়া জায়েয আছে। এ কথাটি কতটুকু সহীহ।
খতম তারাবীহ এবং সূরা তারাবীতে বিনিময় গ্রহণ করা বা গ্রহণ না করার ক্ষেত্রে ইল্লত বা কারণ কি? দলিল প্রমাণসহ জানাবেন। আল্লাহ আপনাদের সহায় হোন।

নিবেদক
হাফেজ মাওলানা মুহা. শেখ শাফায়াত করিম
সোনাতলা বাজার, অভয় নগর, যশোর

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم
ফত্ওয়া বিভাগ                                                                        তারিখ16:/3/1434 হিজরি
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫

حامدا و مصليا ومسلما
উত্তরঃ-
সূরা তারাবীহ পড়িয়ে টাকা নেয়া জায়েয আছে। কেননা, সূরা তারাবীতে মূল লক্ষ্য থাকে নামায পড়ানো। আর নামাযের ইমামতি করে বিনিময় গ্রহণ করা বৈধ। তাই সূরা তারাবীহ পড়িয়ে টাকা নেয়া যাবে।
পক্ষান্তরে খতম তারাবীতে যেহেতু খতমই মূল লক্ষ্য থাকে, তাই খতম তারাবীহ পড়িয়ে টাকা নেয়া ও দেয়া জায়েয নেই। কেননা, তা খতমেরই বিনিময় বলে গণ্য হবে। বিশেষ করে বর্তমানে আমাদের সমাজে রমযানের শেষে যে পদ্ধতিতে হাফেজগণের জন্য চাঁদা উঠানো হয় এবং হাফেজ সাহেবদের তা প্রদান করা হয়, তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। কেননা, উক্ত পদ্ধতিতে শরিয়তে নিষিদ্ধ একাধিক কারণ বিদ্যমান।
উল্লেখ্য, কোরআনে কারীম হেফজ করার ‍সুযোগ পাওয়া বান্দার প্রতি আল্লাহ পাকের বিশেষ নেয়ামত সমূহের অন্যতম। কয়েকটি টাকা কখনই এর বিনিময় হতে পারে না। তাই কোরআনে কারীমের খতম উপলক্ষে কোনো টাকা প্রদান করা এবং গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য। তবে যদি কোথাও মসজিদের ইমামই তারাবীর নামায পড়ান, সেক্ষেত্রে পূর্ব চুক্তি ছাড়া ইমাম সাহেবকে অন্য মাসের তুলনায় বোনাস হিসাবে অতিরিক্ত হাদিয়া দেয়া যাবে। অথবা কোনো ক্ষেত্রে কোনো পক্ষ থেকেই টাকা-পয়সা দেয়া-নেয়ার ব্যাপারে পূর্ব চুক্তি না থাকলে এবং টাকা না দিলে কোনোরূপ অসন্তুষ্ট না হলে কোনো ব্যক্তি কাউকে কিছু না জানিয়ে একান্ত ব্যক্তিগত ভাবে বিনিময়ের নিয়্যত ছাড়া হাফেজ সাহেবকে হাদিয়া স্বরূপ ‍কিছু দেন, তাহলে তা গ্রহণ করা তার জন্য বৈধ হবে। অবশ্য সর্বাবস্থায় কোনো টাকা-পয়সা ইত্যাদি না নেয়াই উত্তম।
كما قال الله تعالى فى القرآن الكريم :
{وَلَا تَشْتَرُوا بِآيَاتِي ثَمَنًا قَلِيلًا وَإِيَّايَ فَاتَّقُونِ} [البقرة: 41]
وأخرج الإمام البيهقى فى شعب الإيمان : (4/ 196)
عن سليمان بن بريدة، عن أبيه، قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: من قرأ القرآن يتأكل به الناس جاء يوم القيامة ووجهه عظم ليس عليه لحم.
وأخرج ابن أبي شيبة فى مصنفه : (2/ 168)
عن عبد الله بن مغفل: أنه صلى بالناس في شهر رمضان، فلما كان يوم الفطر بعث إليه عبد الله بن زياد بحلة وبخمسمائة درهم فردها، وقال: إنا لا نأخذ على القرآن أجرا.
وأحرج ابن أبي شيبة فى مصنفه : (6/ 456)
أن سعد بن مالك فرض لمن قرأ القرآن في ألفين ألفين، فبلغ ذلك عمر فكتب إليه أن لا يعطي على القرآن أجرا.
وفى حلية الأولياء وطبقات الأصفياء : (7/ 142)
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: مَنْ أَخَذَ عَلَى الْقُرْآنِ أَجْرًا فَذَاكَ حَظُّهُ مِنَ الْقُرْآنِ.
وفى حاشية ابن عابدين : (6/ 56)
وقال العيني في شرح الهداية ويمنع القارىء للدنيا والآخذ والمعطي آثمان فالحاصل أن ما شاع في زماننا من قراءة الأجزاء بالأجرة لا يجوز لأن فيه الأمر بالقراءة وإعطاء الثواب للآمر والقراءة لأجل المال فإذا لم يكن للقارىء ثواب لعدم النية الصحيحة فأين يصل الثواب إلى المستأجر ولولا الأجرة ما قرأ أحد لأحد في هذا الزمان بل جعلوا القرآن العظيم مكسبا ووسيلة إلى جمع الدنيا إنا لله وإنا إليه راجعون.
وفى البحر الرائق : (8/ 23)
وفي الروضة وفي زماننا يجوز للإمام والمؤذن والمعلم أخذ الأجرة.
وفى الدر المختار: (6/ 55)
ويفتى اليوم بصحتها لتعليم القرآن والفقه والإمامة والأذان.
وفى مجمع الأنهر في شرح ملتقى الأبحر: (3/ 533)
ويفتى اليوم بالجواز أي بجواز أخذ الأجرة على الإمامة وتعليم القرآن والفقه والأذان كما في عامة المعتبرات وهذا على مذهب المتأخرين من مشايخ بلخي استحسنوا ذلك.
ويراجع أيضا :
إمداد الفتاوى : (1/484) و إمداد المفتين : (365)
والله اعلم بالصواب
محمد رفيق الاسلام عفى عنه
دار الإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
1207سات مسجد محمد بور داكا-

Share