আল্লাহ এক, রাসূল এক, ধর্ম এক মাযহাব এত কেন?

 
বরাবর, মুফতী সাহেব,
ছোট্ট একটি প্রশ্ন করি। এক আল্লাহ, এক রাসূল, এক কিবলা, এক ধর্ম। তবে হাদীস প্রনেতা পৃথিবীতে এত কেন? আসলে কি আল্লাহ এই সকল মানুষগুলোকে হাদীস সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলেন? হাদীস সংগ্রহের দায়িত্ব যদি আল্লাহ কাউকে দিতেন, তাহলে একজনকে দিতে পারতেন। তাহলে পৃথিবীতে এত মাযহাব হতো না। এত ফিরকাহ বা মাযহাবের জন্য কি হাদীস প্রনেতারা দায়ী, নাকি আমরা। কিংবা আল্লাহ। কোনটাকে আপনি দায়ী মনে করেন। আমরা যে সব হাদীসগুলো পড়ি এ কথাগুলো কম-বেশী প্রায় সবগুলো কোরআনে আছে। আবার দেখুন অনেক ‍কিছু হাদীসে আছে যা কোরআনে নেই। সেই কারণে কোরআনকে কি আপনি অপূর্ণাঙ্গ কিতাব বলবেন? আল্লাহ বলেছে, কোরআনে সব আছে। যদি কোরআনে সব থেকে থাকে তবে হাদীস আমাদের কি নেয়ার আছে। হাদীস ছাড়া কোরআন কি পূর্ণাঙ্গ কিতাব। যদি হাদীস নিতেই হয়, তাহলে কোরআনের পূর্ণাঙ্গতা কতটা যৌক্তিক?
নিবেদক
মন পাগলা
 
 
ফত্ওয়া নং-2353
بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم
  ফত্ওয়া বিভাগ                         তারিখ: 16/4/1434হিজরি 
 জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,

 

 
حامداومصلياومسلما
উত্তরঃ-
       আপনি ছোট বলে অনেক বড় প্রশ্নই করে ফেলেছেন। কেননা, এ প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘ হবে। নিম্নে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি মনযোগ সহকারে উত্তরটি পড়বেন এবং অনুধাবন করবেন। তবে উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করা প্রয়োজনআর তা হলো যে, আপনি প্রশ্নটি করার ক্ষেত্রে নিজের কাছে কোনো উত্তর খুঁজেননি। আমাদের বিশ্বাস আপনি নিজের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতেন। যেমন দেখুন! আপনার প্রশ্ন হলো, ধর্ম এক, আল্লাহ এক, রাসূল এক, তাহলে হাদিস প্রণেতা এত কেন? আপনি বলুন তো! ক্লাস এক, শিক্ষক এক, ছাত্র এত কেন?
     আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তা‘আলা কি এ সব মানুষকে হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন? তার উত্তর হলো, হ্যাঁ, কেননা কোরআন হাদিসের অসংখ্য স্থানে অন্যের নিকট দ্বীন পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, يحملهذاالعلممنكلخلفعدوله ‘দ্বীনের এই ইলম প্রত্যেক পরবর্তীদের নিষ্ঠাবানরা বহন করবে।’ (মেশকাতুল আসার:8/373)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, عن عبد الله بن عمرو، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: بلغوا عني ولو آية‘আমার পক্ষ থেকে একটি বিষয় হলেও তোমরা অন্যের কাছে পৌঁছিয়ে দাও।’ (বুখারী শরিফ: 1/491)
       মনে রাখতে হবে, এই আদেশের আওতায় হাদিস প্রণেতা, ফিকাহবিদসহ সকল স্তরের মুসলমান এমনকি আপনি, আমিও অন্তর্ভূক্ত। হাদিস সংকলনকারী মুহাদ্দিসগণ অনেক ত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করেছেন। যা তাদের সমগ্র মুসলিম জাতির ওপর এক অসাধারণ কৃপা ও অনুগ্রহমুসলমানগণ কোনো দিন তাদের এ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। একাধিক মাযহাব ও ফিরকার জন্য তাঁরা কোনোভাবেই দায়ী নন। কারণ তাদের দায়ী করতে হলে আগে যিনি হাদিসগুলো বলেছেন, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ স. نعوذباللهতাঁকেই দায়ী করতে হবেআর শেষ পর্যন্ত نعوذبالله আল্লাহ তা‘আলাকে দায়ী করতে হবে। যা হবে চরম জ্ঞান পাপ ও ধৃষ্টতা। কেননা, এসব কিছুর পেছনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাই মূল নিয়ামক। আর তাঁর কোনো কাজই অহেতুক ও রহস্য মুক্ত নয়। মানুষ চিন্তা করলে অনেক সময় সে রহস্য বুঝতে সক্ষম হয়। আবার অনেক সময় সক্ষমহয় না। হাদিস সংগ্রহ যদি একজনই করতো, তারপরও মাযহাব এক না হয়ে একাধিক হতো এতে কোনো সন্দেহ নেই। মানুষের বুঝের ভিন্নতা এর বড় কারণ। একই বিষয় একজন এক রকম বুঝলেও অন্যজন অন্য রকম বুঝেন। একই রুগী দুই ডাক্তারের কাছে গেলে দুইজন দুই ধরণের চিকিৎসা করে থাকেন। বুখারী শরিফের একটি হাদিসে এসেছে,
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم يوم الأحزاب ( لا يصلين أحد العصرإلا في بني قريظة) فأدرك بعضهم العصر في الطريق فقال بعضهم لا نصلي حتى نأتيها وقال بعضهم بل نصلي لم يرد منا ذلك . فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه و سلم فلم يعنف واحدا منهم.
অর্থাৎ- নবী করীম স. আহযাবের দিন সাহাবায়ে কেরামের একটি জামাতকে ‘বনী কুরাইজা’ নামক স্থানে এবলে পাঠালেন যে, তোমাদের কেউ যেন বনী কুরাইজায় না পৌঁছা পর্যন্ত আছরের নামায না পড়েকিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে পৌঁছতে দেরী হওয়ায় পথিমধ্যে আছরের নামাযের সময় ঘনিয়ে আসে। তখন একদল সাহাবী (রাসূল স. এর আদেশের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, আমরা বনী কুরাইজাতে পৌঁছার আগে আছরের নামায আদায় করবো না। কিন্তু আরেক দল সাহাবী  (রাসূল স. এর আদেশের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, আমরা আছরের নামায রাস্তায় পড়ে নিব। কেননা, রাসূল স. আমাদের থেকে এই বাহ্যত অর্থ উদ্দেশ্য নেননি। (বরং রাসূলের উদ্দেশ্য হলো, আমরা যেন অতিদ্রুত বনী কুরাইজায় যাই এবং আছরের নামায সেখানে গিয়ে পড়ি। কিন্তু আমাদের দূর্বলতা ও অলসতার কারণে পৌঁছতে দেরী হয়ে যায়। তাই আছরের নামায কাযা করবো না) এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ স. কে জানানো হলে তিনি কোনো দলকেই ভর্ৎসনা করেননি। (বুখারী শরিফ : 2/591) এখানে আদেশ ও আদেশদাতা একই হওয়া সত্বেও বুঝ ভিন্ন হওয়ায় আদেশ পালনে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
       এত মাযহাবের জন্য আমরা কাউকে দায়ী মনে করি না। আমরা বিশ্বাস করি যে, এমনটি আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছিলো, তাই তা হয়েছে। বলাবাহুল্য যে, এ ভিন্নতার প্রয়োজন ছিলো। কেননা, মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিগতভাবে সব ক্ষেত্রে ভিন্নতা দিয়ে সৃষ্টি করে অভিন্ন কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়া যৌক্তিকতার পরিপন্থী। আর আল্লাহ পাক অন্যায় অযৌক্তিক সব বিষয় থেকে মুক্ত।
       আপনার আর একটি প্রশ্ন হলো, হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা একজনকে দিতে পারতেন। এ প্রশ্নের উত্তর অনেকখানি পূর্বের বর্ণনায় এসে গেছে। তারপরও আপনি নিজেও একজন মানুষ। আপনি নিজে অন্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত না হলেও নিজের ব্যাপারে অবশ্যই অবগত রয়েছেন যে, একজন মানুষের মেধা, জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে তার কি পরিমাণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমাবদ্ধতা দিয়েই আল্লাহ মানুষকে তৈরী করেছেন। তাহলে একজনকে হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব প্রদান করার প্রস্তাব নিতান্তই হাস্যকর। কেননা, তা সম্ভবই নয়।
       আপনার সর্বশেষ প্রশ্ন হলো, হাদিস ছাড়া কোরআন পূর্ণাঙ্গ কি না? উত্তর হলো, কোরআন পূর্ণাঙ্গি একটি কিতাব। হাদিস ছাড়াও কোরআন পূর্ণাঙ্গ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, হাদিসের কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা, কোরআন হলো মূল আর হাদিস হলো তার ব্যাখ্যা। সুতরাং কোনোটিই অপরটির অপূর্ণতার দলিল বহন করে না। কোরআন অপূর্ণ নয়। তবে কোরআনের সকল বিষয় সকলের বোধগম্য নয়। তাই সম্ভবত এই কোরআনকেألم দ্বারা শুরু করে প্রথমেই এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, এই কোরআনে পরিবেশিত সকল বিষয় সকলের বোধগম্য নয়। এটি কোরআনের অপূর্ণতা নয়; বরং মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। আর হাদিসের অনুসরণ মূলত কোরআনেরই অনুসরণ। কেননা, কোরআন শরিফের বিভিন্ন জায়গায় ইরশাদ হয়েছে,
{يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُواأَطِيعُوااللَّهَوَأَطِيعُواالرَّسُولَ} ‘তোমরা আল্লাহর অনুসরণ করো এবং রাসূলের অনুসরণ করো।’ (সূরা সূরা নিসা- 59)
আর রাসূলের অনুসরণ তাঁর কথা ও কাজের অনুসরণ ব্যতীত সম্ভব নয়। তাঁর কথা ও কাজকেই তো হাদিস বলা হয়। তাই হাদিসের অনুসরণ মানে কোরআনেরই অনুসরণ করা।
 
   والله اعلم بالصواب
محمد رفيق الاسلام عفى عنه
دار الإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد محمد بور داكا- 1207
 
Share

সিগারেট বা এ জাতীয় তামাক দ্রব্য বিক্রি ও সেবনের শরয়ী হুকুম

বরাবর, মুফতী সাহেব

বিনীত নিবেদন এই যে, সিগারেট বা এ জাতীয় তামাক দ্রব্য বিক্রি এবং সেবন করা শরীয়া মতে কি ধরণের অপরাধ। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

নিবেদক
আব্দুল্লাহ মারুফ
কিশোরগঞ্জ

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             
                        ফাতওয়া বিভাগ                                                       তারিখ:30/6/২০১৩ খৃষ্টাব্দ  
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫           
সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207                                www.rahmaniadhaka.com
حامدا و مصليا ومسلما
উত্তর:-
         সিগারেট ও তামাক জাতীয় দ্রব্য পান করা এবং তা বিক্রয় করা মাকরূহ।   
كما أخرج الامام البخاري في صحيحه: (2/837, النسخة  الهندية)
عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن عائشة، قالت: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البتع، فقال: «كل شراب أسكر فهو حرام»
وفي حاشية ابن عابدين : (6 / 461, سعيد)
قال أبو السعود: فتكون الكراهة تنزيهية، والمكروه تنزيها يجامع الإباحة اهـ. وقال ط: ويؤخذ منه كراهة التحريم في المسجد للنهي الوارد في الثوم والبصل وهو ملحق بهما، والظاهر كراهة تعاطيه حال القراءة لما فيه من الإخلال بتعظيم كتاب الله تعالى اهـ
وفي حاشية ابن عابدين : (6 / 459, سعيد)
وفي شرح الوهبانية للشرنبلالي: ويمنع من بيع الدخان وشربه وشاربه في الصوم لا شك يفطر      
ويراجع أيضا:
                 امداد الفتاوى : (4/98) وكتاب الفتاوى : (6/188)
والله أعلم بالصواب
محمد معصوم بالله غفر له
دارالإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

 

Share

হরতালের শরয়ী হুকুম

প্রশ্ন: বর্তমানে অনেক ইসলামী দলকেও হরতাল ডাকতে দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হলো- শরীয়তের দৃষ্টিতে হরতাল কর্মসূচী আহবান করা জায়েয আছে কি না?

                                                                            ফাতওয়া নং ২৮৩৯

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 ফাতওয়া বিভাগ                                                                 তারিখ: ০২/০৬/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                             মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                                  www.rahmaniadhaka.com        

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-   

 বর্তমান প্রচলিত হরতাল কর্মসূচীতে শরীয়ত বিরোধী বহু কারণ বিদ্যমান থাকায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। তবে  ওইসব কারণ থেকে মুক্ত থেকে কোনো দ্বীনী কিংবা ন্যায্য দাবির পক্ষে বা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত তৈরি করে হরতাল পালন করলে তা অবৈধ নয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হরতাল শরীয়ত নিষিদ্ধ কারণ থেকে মুক্ত হলে শুধু তা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হওয়ায় অবৈধ নয়। কেননা, এতে শরীয়তে কাম্য একাধিক বিষয় রয়েছে যেমন হরতাল অর্থ অসহযোগিতা, কুরআন মাজীদে গুনাহ এবং অন্যায় কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হরতাল মানে জালিমের কাছে ন্যায়ের বার্তা পৌছানো। হাদীস শরীফে যাকে উত্তম জিহাদ বলা হয়েছে। হরতাল মানে অসৎ কাজে বাধা দান, কুরআন-হাদীসে এবিষয়ে স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়েছে। হরতাল মানে জালিমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখা, এব্যাপারেও হাদীসে সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে।

        পক্ষান্তরে হরতাল মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এবং হরতাল মানেই ফাসাদ ফিল আরয অর্থাৎ ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়। তাই মৌলিকভাবে হরতাল কর্মসূচী অবৈধ নয়। বরং উদ্দেশ্য ভাল হলে এবং শরীয়ত নিষিদ্ধ সকল বিষয় থেকে মুক্ত হলে তা কিছু শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হবে।

      . গ্রহণযোগ্য সংখ্যক দ্বীনদার, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণের মতামতের দ্বারা সিদ্ধান্ত গৃহিত হতে হবে, যে বিষয়ে হরতাল ডাকা হয়েছে তাতে জনগণের স্বার্থ নিহিত রয়েছে এবং তারা এবিষয়ে একমত হবে। আর যদি কোনো দ্বীনী বিষয় হয় তাহলে সেক্ষেত্রে গ্র্হণযোগ্য আলেমগণ একমত হতে হবে। 

     . হরতাল ডাকার পূর্বে দাবি-দাওয়া পূরণের প্রাথমিক পর্যায় ও পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। যেমন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি কিংবা প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের বুঝিয়ে দাবি মানানোর চেষ্টা করা। এবং সঠিক বিষয়টি উপস্থাপন করা।

      . হরতাল চলাকালে অন্যায়ভাবে কারো জান-মাল ক্ষতিগ্রস্থ্ না হয় এবং শরীয়ত বিরোধী কোনো কর্মকান্ড না হয় সেবিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও কর্মপন্থা গ্রহণ করা।

         হরতালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গাড়ি, দোকান পাট, কারখানা ইত্যাদি ভাংচুর করা, সরকারের সম্পদ বিনষ্ট করা, বোমাবাজী  এবং গোলাগুলি করা সম্পূর্ণ হারাম। শরীয়তে এজাতীয় কর্মকান্ডের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য উপরোক্ত শর্তসমূহ মেনে হরতাল করলে তা বৈধ। এবং তাতে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। যদি কেউ এমন হরতালের বিরোধিতা করে কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে তাকে গ্রহণযোগ্য পন্থায় বাধা দেওয়া উচিত। আমাদের জানা মতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ, দাবি আদায় কিংবা চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হরতালের বিকল্প ফলপ্রসু কোনো পদ্ধতি নেই।

كما قال الله تعالى.

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ } [المائدة : 2]

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه – (2 / 863)

حميد الطويل سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( انصر أخاك ظالما أو مظلوما )

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه – (4 / 164)

عن أبى سعيد الخدرى ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر) أو (أمير جائر)

وفي الدر المختار: (4/261) باب البغاة

البغي لغة: الطلب، ومنه * (ذلك ما كنا نبغي) * (سورة الكهف: الآية 46).وعرفا: طلب ما لا يحل من جور وظلم.فتح.وشرعا: (هم الخارجون عن الامام الحق بغير حق) فلو بحق فليسوا ببغاة، وتمامه في جامع الفصولين.

وفى رد المحتار – (4/261) باب البغاة

الفصل الأول : بيانه أن المسلمين إذا اجتمعوا على إمام وصاروا آمنين به فخرج عليه طائفة من المؤمنين ، فإن فعلوا ذلك لظلم ظلمهم به فهم ليسوا من أهل البغي ، وعليه أن يترك الظلم وينصفهم .ولا ينبغي للناس أن يعينوا الإمام عليهم ؛ لأن فيه إعانة على الظلم ، ولا أن يعينوا تلك الطائفة على الإمام أيضا ؛ لأن فيه إعانة على خروجهم على الإمام ، وإن لم يكن ذلك لظلم ظلمهم ولكن لدعوى الحق والولاية فقالوا الحق معنا فهم أهل البغي ، فعلى كل من يقوى على القتال أن ينصروا إمام المسلمين على هؤلاء الخارجين ؛ لأنهم ملعونون على لسان صاحب الشرع قال عليه الصلاة والسلام { الفتنة نائمة لعن الله من أيقظها } فإن كانوا تكلموا بالخروج لكن لم يعزموا على الخروج بعد .

 ويراجع أيضا: جواهر الفتاوى:1/605، فتاوى رحمانيه:2/265.

والله اعلم بالصواب

محمد ولى الله عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

Share

কুরআনে বর্ণিত ঘটনার নাটক করার শরয়ী হুকুম

                                                          

 

                                                                                       

 

বরাবর,

 

মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু

জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

বিষয়:- কুরআনে বর্ণিত ঘটনার নাটক করার শরয়ী হুকুম।

জনাব,

       আমাদের এলাকার এক ভাইয়ের মোবাইলে বদর যুদ্ধ, ইউসুফ যুলাইখা , মক্কা বিজয়সহ ইসলামের ঐতিহাসিক ঘটনার নাটক দেখতে পাই । আমার জানার বিষয় হলো,  কুরআনে বর্ণিত ঘটনা কিংবা ইসলামের কোনো ঘটনার নাটক করা  এবং তা দেখা বা মোবাইল-কম্পিউটারে সংরক্ষণ করা জায়েয হবে কিনা ? জানিয়ে বাধিত করবেন।

                                                                 নিবেদক 

                                                              আব্দুল্লাহ আল মামুন   

                                                                ০১৭৬৩৯৫৪৪৬

 

 

 

 

                                                          ফাতওয়া নং ২১৯৭

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 

  ফাতওয়া বিভাগ                                                                           তারিখ: /০২/২০১৩ খৃ.

 

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         কুরআনুল কারীমে বর্ণিত ‍বিভিন্ন ঘটনা যেমন- ইউসুফ-যুলাইখা, বদর যুদ্ধ, মক্কাবিজয়, ফেরাউনের পানিতে ডুবে মরাসহ ইসলামের   অন্যন্যা ঐতিহাসিক ঘটনাগুলো অত্যন্ত গুরুত্ব ও তাৎপর্যপূর্ণ সাথে সাথে মর্যদাপূর্ণও বটেও। বিশেষত: কুরআনে বর্ণিত ঘটনাগুলো আরোও বেশি গুরুত্ব রাখে।

          এসব ঘটনার নাটক করা , দেখা , দেখানো কোনভাবেই জায়েয হবেনা। কেননা, তা কুরআন অবমাননার শামিল। যার কিছু দিক নিম্নে বর্ণনা করা হলো। যেমন-

         ১. কুরআনে কারীম যে আযমত ও সম্মানের বাহক তার দাবি তো হলো তাতে বর্ণিত সকল বিষয়বস্তুকে পূর্ণ আদব ও সম্মানের সাথে তার ভাষায় পড়া, শুনা ও শুনানো। এর ‍বিপরিতে নাটকনির্মাতাদের জন্য পবিত্র কুরআনে বর্ণিত কোনো ঘটনাকে নাটকে রূপ দিয়ে তার ভাবার্থ বুঝানোর চেষ্টা করা কুরআনে নিষিদ্ধ আল্লাহর স্মরণ থেকে বিরতকারী “ লাহউ ওয়া লাইব” এর অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় এরূপ করা থেকে অবশ্যই বিরত থাকতে হবে।

           ২.  কোনো নাটকই ছবি মুক্ত হয়না। আর কোনো প্রাণীর ছবি বানানো, দেখা, দেখানো সবই হারাম। আর কুরআনের বিষয়বস্তুকে ছবির মাধ্যমে পেশ করা কুরআন অবমাননা ও বটে

           ৩. এসব নাটকের পূর্ণতা নারীদের ছাড়া হয়না। নারী ‍দিয়ে নাটকগুলো সাজানো হয়। আর নারীদের ছবি দেখা স্পষ্ট হারাম। বলাবাহুল্য, এমন একটি নাজায়েয বিষয়কে কুরআনের বিষয়বস্তু উপস্থাপনার মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা নিতান্তই কুরআনের তাচ্ছিল্যের শামিল।

           ৪. যেকোনো সত্য ঘটনার নাটকই তাতে কিছু কিছু কাল্পনিক বিষয় প্রবেশ করানো ছাড়া সম্ভব হয়না। সুতরাং কাল্পনিক কিছু বিষয়কে সংযোজন করে পুরো নাটকটাই কুরআনে বর্ণিত বলে প্রচারণা চালানো যার ফলে কুরআন ও কুরআন নয় এমন বিষয় এক হয়ে যায়। উপরন্তু এটি কুরাআনের অর্থগত বিকৃতিরও শামিলতাই তা হারাম

            ৫. কুরআনের উল্লিখিত ঘটনার অনেক ক্ষেত্রে এমন শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে, যার একাধিক অর্থ ও ব্যাখ্যার সুযোগ রয়েছে। অকাট্যাভাবে এর কোনো একটি অর্থকে কুরআনের আসল অর্থ বলে মত ব্যক্ত করার সুযোগ নেই। অথচ নাটকের ক্ষেত্রে সুনিশ্চিতভাবে একটি ব্যাখ্যা ও অর্থকেই নির্দিষ্ট করে নেয়া হয়যার দ্বারা বুঝা যায়, এই আয়াতের একটিমাত্রই অর্থ । এটি একটি নাজায়েয হওয়ার কারণ।

           ৬. এসব নাটকের উদ্দেশ্য তা’লীম, তাবলীগ কিংবা উপদেশ গ্রহণ নয়; বরং খেল-তামাশা ও আনন্দ উপভোগ করা।  যার স্পষ্ট প্রমাণ হলো এসব ঘটনা ওয়াজ-নসিহতে শুনানো হলে, তেমন কউ শুনেনা। তবে নাটকের মাধ্যমে দেখালে আগ্রহভরে দেখে ও শুনে। সুতরাং কুরআনকে খেল-তামাশা বানানোর মত বিষয় কিভাবে জায়েয হতে পারে।

            অতএব, প্রশ্নোক্ত বিষয়গুলোর নাটক করা, দেখা বা কম্পিউটার/মোবাইলে সংরক্ষণ করা সম্পূর্ণ অবৈধতাই তা থেকে বিরত থাকা অবশ্য কর্তব্য।

كما قال تعالى.

{ ذَلِكُمْ بِأَنَّكُمُ اتَّخَذْتُمْ آيَاتِ اللَّهِ هُزُوًا وَغَرَّتْكُمُ الْحَيَاةُ الدُّنْيَا فَالْيَوْمَ لَا يُخْرَجُونَ مِنْهَا وَلَا هُمْ يُسْتَعْتَبُونَ (} [الجاثية: 35]

{وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَشْتَرِي لَهْوَ الْحَدِيثِ لِيُضِلَّ عَنْ سَبِيلِ اللَّهِ بِغَيْرِ عِلْمٍ وَيَتَّخِذَهَا هُزُوًا أُولَئِكَ لَهُمْ عَذَابٌ مُهِينٌ (6} [لقمان: 6]

وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه  (5/ 2220)

قال سمعت عبد الله قال  : سمعت النبي صلى الله عليه و سلم يقول ( إن أشد الناس عذابا عند الله يوم القيامة المصورون )

وفى الفتاوى الهندية (2/ 270)

رجل يجلس على مكان مرتفع ويسألون منه مسائل بطريق الاستهزاء ثم يضربونه بالوسائد وهم يضحكون يكفرون جميعا وكذا لو لم يجلس على المكان المرتفع رجل رجع عن مجلس العلم فقال له رجل آخر ازكنشت آمدى يكفر وكذا لو قال مرابا مجلس علم جكار أو قال من يقدر على أداء ما يقولون يكفر

ويراجع أيضا: فتاوى محموديه:29/326، أشرف الفتاوى:3/476، جواهر الفقه.

والله أعلم بالصواب

 محمد تاج الإسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمد بور، دكا- 1207

 

 

Share

ইসলামে দাস প্রথা

                                                             

প্রশ্ন : পবিত্র কোরআন ও হাদিসের আলোকে ইসলামে দাস প্রথা অনুমদিত। ইসলাম কেন এ প্রথা রহিত করেনি? এর একটি সুষ্ঠু ব্যাখ্যা দিবেন। আরো জানতে চাই যে, বর্তমানে আগের মতো দাস-দাসী  রাখা যাবে কিনা?

নিবেদক

আব্দুল্লাহ হিমেল

চট্টগ্রাম

                   

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

                       ফাতওয়া বিভাগ                                             তারিখ:6/৩/২০১৩ খৃ  

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                     মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                         www.rahmaniadhaka.com       

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         ইসলাম পূর্ব  যুগ থেকেই দুনিয়ার সর্বত্র এবং প্রায় সকল জাতীর মধ্যেই দাস-দাসীর প্রথা চালু ছিল। মূলত: যখন থেকে দুনিয়ায়যুদ্ধ-বিগ্রহ শুরু হয়, তখন থেকেই প্রথাটির আবির্ভাব হয়। প্রথমে তো যুদ্ধবন্দীদের নির্দয়ভাবে হত্যা করে দেওয়া হতো। এরপর কিছুটাশিথিল হয়ে শুধু যুদ্ধবন্দীদের মধ্যে যাদেরকে হুমকি ভাবা হতো, তাদেরকে হত্যা করে দেওয়া হতো। আর দূর্বল, মহিলা ও শিশুদের দাস-দাসী বানিয়ে রাখা হতো সারকথা দাস-দাসীর প্রথা হলো বিজিতদের ওপর বিজয় বা কর্তৃত্ব লাভের একটি রূপ।ইসলাম বহু যুগ আগ থেকে চলে আসা প্রথাটিকে একেবারে নিষিদ্ধ করে দেয়নি। কেননা,প্রথাটি সম্পূর্ণ মানবতা বিরোধী নয়। যার ব্যাখ্যা হলো যে, মানুষ বিভিন্নভাবে মানুষের পরাধীনতা শিকার করে থাকে। মানুষের মধ্যে দেখা যায় কেউ মালিক কেউ চাকর, কেউ পরিচালক কেউ পরিচালিত, কেউ সেবক কেউ সেবিত। আল্লাহ তা‘আলাই পার্থক্য দ্বারা মানুষকে সৃষ্টি করেছেনএটা তাঁর সৃষ্টির রহস্য সে জন্য ইসলাম এসে এই প্রথাকে রহিত করেনি। কেননা, এটি একটি পরাধীনতার রূপ। তবে এব্যবস্থার মধ্যে যে সকল দিক মানবতা বিরোধী ছিল তা নিষেধ করেছে। বিভিন্ন হাদীস এর প্রমাণ বহন করে।  যেমন- হাদীসে দাস-দাসীকে অন্যায়ভাবে প্রহার করা নিষিদ্ধ করা হয়েছেতাদের খাওয়া-দাওয়াসহ সকল মানবীয় প্রয়োজন যথাযথ পন্থায় পূরণের আদেশ দিয়েছে। আর দাসীকে স্ত্রী (উম্মে ওয়ালাদ) হিসেবে ব্যবহার করা তো হলো অনেকাংশে তাকে স্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া এটি নি:সন্দেহে দোষণীয় নয়।

        বর্তমানে মানবতা রক্ষার তথাকথিত দাবীদার  যারা ইসলাম স্বীকৃত গোলামী প্রথা নিয়ে সমালোচনা করে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলা প্রয়োজন যে, ইসলামের গোলামী প্রথা পাশ্চাত্যের মহাজনী প্রথার চেয়ে অনেক ভাল। কেননা, পূর্বে বর্ণনা করে আসা হয়েছে যে, ইসলাম অনেক যৌক্তিক কারণে তা নিষিদ্ধ না করলেও মানুষের অধিকারকে সংরক্ষণ করার ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছে। যারা এই বলে গর্ব করে আমরা গোলামী প্রথাকে দূর করেছি। নি:সন্দেহে তারা শুধুগোলামীর শব্দটা দূর করেছে। মানুষের অধিকার সংরক্ষণের কোনো ব্যবস্থা করেনি।

         উল্লেখ্য, ইসলাম প্রথাটি শিথিল করার জন্য অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। যাতে ধীরেধীরে   এটি বন্ধ হয়ে যায়। যেমন হাদীসে গোলাম আযাদের অনেক ফযিলত বর্ণনা করা হয়েছে। একটি হাদীসে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি কোনো মুসলমান গোলাম আযাদ করবে, আল্লাহ তাআলা সেই গোলামের প্রতিটি অঙ্গের বিনিময়ে আযাদকারীর একেক অঙ্গকে জাহান্নাম থেকে মু্ক্তি দান করবেন। বুখারী:১/৩৪৪ এমনিভাবে অমুসলিম গোলাম আযাদের অনেক ফযিলত এসেছে।

      এসব ফযিলত লাভের আশায় অনেক ছাহাবীই গোলাম আযাদ করেছেন যেমন- হযরত আবু বকর রা. এর আযাদকৃত গোলামের সংখ্যা ৬৩, হযরত আব্দুর রহমান ইবনে আউফ রা. এর ৩০, হযরত হাকীম ইবনে হিযাম রা. এর ২০০, হযরত আব্বাস রা. এর ৭০, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. এর ১০০০, হযরত আয়েশা রা. এর ৬৯, হযরত উসমান রা. প্রতি জুমাআয় একজনকে আযাদ করতেন

        ১. দাসীদের দ্বারা ব্যভিচার করিয়ে অর্থ উপার্জনকে নিষিদ্ধ করে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হচ্ছে, তোমরা তোমাদের দাসীদেরকে অপকর্ম করতে বাধ্য করো না (তাদেরকে কোনো ধরনের অপকর্ম করতে দিয়োনা) সুরা নুর:33

       ২. গোলামদের সাথে ইসলাম পূর্ব যুগে চতুষ্পদ জন্তুর মত আচরণ করা হতো, সেটা নিষিদ্ধ করে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, এসব গোলাম-বাদীরা তোমাদের ভাই-বোন আল্লাহ তাআলাই তাদেরকে তোমাদের অধিনস্ত করেছেন। তাই তোমাদের জন্য আবশ্যক তাদের সাথে সমতা রক্ষা করা। তোমরা যা খাও তাদেরকে  তাই খাওয়াও। তাদের সাধ্যের বাইরে তাদের থেকে কোনো খেদমত নিওনা। এবং কঠিন কাজ দিলে নিজেরাও তাদের সহযোগিতা কর। বুখারী:1/346, আবু দাউদ:702, আরো ইরশাদ হচ্ছে, অন্যায়ভাবে যে ব্যক্তি গোলামকে মারপিট করবে বা থাপ্পড় দিবে, এর কাফ্ফারা হলো সেই গোলামকে আযাদ করে দেওয়াআবু দাউদ:702, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, গোলামের অপরাধ কতবার ক্ষমা করব। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করলেন, দৈনিক সত্তর বার ক্ষমা করবে। আবু দাউদ:702

       সর্বোপরি মৃত্যুর সময় হুজুর সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মতকে যে দুটি বিষয়ে  সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তা হচ্ছে, নামাজ এবং গোলামের হক্ব। আবু দাউদ:701, এগুলো তো হচ্ছে মৌলিক বিধান। এছাড়াও এমন অনেক ক্ষেত্র রয়েছে, যেখানে গোলাম আযাদ বাধ্য করে দেওয়া হয়েছে যেমন-

    ১. গোলাম যদি এমন কারো মালিকানায় আসে যিনি তার কোনো আপন আত্মীয়, তাহলেএমনিতেই আযাদ হয়ে যায়। মনিব থেকে যে দাসি বাচ্চাজন্ম দিবে, সে দাসী মনিবের মৃত্যুর পর আযাদ হয়ে যাবে।

          আর দাস-দাসীর বিধান এখনো  রহিত হয়নি বহাল রয়েছে।। যদি দুনিয়ার কোথাও আবারও সেই সব কারণ পাওয়া যায় সেখানে পুনরায় দাস-দাসীর বিধান প্রযোজ্য হবে।

كما قال الله تعالى فى القران الكريم. [النور: 33]

{وَلَا تُكْرِهُوا فَتَيَاتِكُمْ عَلَى الْبِغَاءِ إِنْ أَرَدْنَ تَحَصُّنًا لِتَبْتَغُوا عَرَضَ الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَمَنْ يُكْرِهْهُنَّ }

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه :1/344

عن أبي هريرة  : عن النبي صلى الله عليه و سلم قال ( من أعتق رقبة مسلمة أعتق الله بكل عضو منه عضوا من النار حتى فرجه بفرجه )

 

وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه :1/346

  قال: رأيت أبا ذر الغفاري رضي الله عنه وعليه حلة، وعلى غلامه حلة، فسألناه عن ذلك، فقال:     إني ساببت رجلا، فشكاني إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال لي النبي صلى الله عليه وسلم:    «أعيرته بأمه»، ثم قال: «إن إخوانكم خولكم جعلهم الله تحت أيديكم، فمن كان أخوه تحت يدهفليطعمه مما يأكل، وليلبسه مما يلبس، ولا تكلفوهم ما يغلبهم، فإن كلفتموهم ما يغلبهم  أعينوهم»

وأخرج الإمام مسلم فى صحيحه (5/ 90)

 قال أتيت ابن عمر وقد أعتق مملوكا – قال – فأخذ من الأرض عودا أو شيئا فقال ما فيه من الأجر ما يسوى هذا إلا أنى سمعت رسول الله -صلى الله عليه وسلم- يقول « من لطم مملوكه أو ضربه فكفارته أن يعتقه ».

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه :702

قال: سمعت عبد الله بن عمر يقول: جاء رجل إلى النبي صلى الله عليه وسلم، فقال: يا رسول الله، كم نعفو عن الخادم؟ فصمت، ثم أعاد عليه الكلام، فصمت، فلما كان في الثالثة، قال: «اعفوا عنه في كل يوم سبعين مرة»

وأخرج الإمام أحمد فى مسنده (44/ 261)

عَنْ أُمِّ سَلَمَةَ أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ حِينَ حُضِرَ جَعَلَ يَقُولُ الصَّلَاةَ الصَّلَاةَ وَمَا مَلَكَتْ أَيْمَانُكُمْ فَجَعَلَ يَتَكَلَّمُ بِهَا وَمَا يَكَادُ يَفِيضُ بِهَا لِسَانُهُ

ويراجع أيضا: فتاوى رحيميه:1/217

 

والله أعلم بالصواب

 محمد تاج الإسلام عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

                                                                                        سات مسجد، محمد بور، دكا- 1207

Share