ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

বরাবর,

মুহতারাম মুফতী সাহেব সমীপেষু

জামিয়া রাহমানিয়া ‍আরাবিয়া

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207

 

বিষয়: ইমপোর্ট প্রসঙ্গে।

জনাব,

বিনীত নিবেদন এই যে, আমরা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানী  করি। আমাদের কাছে টাকা না থাকায় বাড়ী মর্গেজ রেখে ঋণ গ্রহণ করি। এবং সুদসহ ঋণ পরিশোধ করি। আর সরকারের নিয়ম অনুযায়ী আমাদের ব্যাংকের মাধ্যমে দেলদেন করতে হয়।

এখন জানার বিষয় হলো, আমাদের এ লেনদেনগুলো বৈধ হচ্ছে কিনা ? আর পূর্বে যে লেনদেন হয়েছে এর জন্য কি নির্দেশনা ।

নিবেদক

মুহা. ওসমান গনী

মিরপুর, ঢাকা।

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

  ফাতওয়া বিভাগ                                                                           তারিখ: ০২/০২/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:

সুদ গ্রহণ করা ও সুদের টাকা থেকে যেকোনোভাবে উপকৃত হওয়া হারাম। তাই সুদী টাকায় আপনাদের ব্যবসা পরিচালনা করা বৈধ নয়। অনুরূপভাবে আপনারা বিদেশ থেকে ফেব্রিক্স আমদানি করার জন্য এল,সির দ্বারা ব্যাংকের মাধ্যমে যে লেনদেন করেন, তাতেও সুদ রয়েছে। অতএব, সে পদ্ধতিতে আমদানি করাও বৈধ হচ্ছে না। বলাবাহুল্য যে, প্রথম বিষয়টি অর্থাৎ সুদী টাকায় ব্যবসা পরিচালনা করার একমাত্র বিকল্প হল, সুদ ভিত্তিক লোন গ্রহণ করা বন্ধ করে সম্ভব হলে সুদবিহীন পুঁজি সংগ্রহ করা অন্যথায় অন্য কোনো ক্ষুদ্র ব্যবসা বেছে নেয়া। যার জন্য ঋণের প্রয়োজন হয়না।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ এল, সির সুদ থেকে বাঁচার জন্য কোনো ইসলামী ব্যাংকে এল, সি খুলতে পারেন। তবে এল,সি খোলার সময় ঐ ব্যাংকের সাথে মুযারাবা বা মুশারাকার চুক্তি করে নিবেন। যদি জিরো মার্জিনে  এল,সি খোলেন তাহলে মুযারাবার চুক্তি করবেন। অর্থাৎ ব্যাংক পুঁজিদাতা আর আপনি মুযারিব তথা ব্যবসায়ী হবেন। যা লাভ-লোকসানের ভিত্তিতে পরিচালিত হবে। আমদানিকৃত বস্তু ব্যাংকের মালিকানায় থাকবে। আর তা বিক্রি করার পর যে লাভ হবে, তা আপনাদের মাঝে পূর্বে নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর যদি এল, সি খোলার সময় নিজেরাও কিছু অর্থ দিয়ে থাকেন, তাহলে ব্যাংকের সাথে মুশারাকা চুক্তি করবেন। এভাবে যে, ব্যাংক আমদানিকারীকে বলবে, মালের অবশিষ্ট মূল্য আমরা দিচ্ছি । সুতরাং যে মাল আমদানি করা হবে তাতে আমাদের উভয়ের বিনিয়োগ অনুযায়ী আমরা অংশীদার হব। এবং সম্পদ বিক্রির পর যা লাভ হবে তা পূর্বৃ নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী শতকরা হারে বন্টন হবে।

আর ইতিপূর্বে প্রশ্নোক্ত লেনদেনের মাধ্যমে যে আয় হয়েছে তা ভোগ করার জন্য আল্লাহর নিকট খালেছ অন্তরে তাওবা করতে হবে। এবং ভবিষ্যতে এহেন কাজ থেকে বিরত থাকার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে।

 

 كما قال تعالى.

{قَالُوا إِنَّمَا الْبَيْعُ مِثْلُ الرِّبَا وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ } [البقرة: 275]

 وفى الهداية شرح البداية (3/ 202)

قال ومن شرطها أن يكون الربح بينهما مشاعا لا يستحق أحدهما دراهم مسماة من الربح لأن شرط ذلك يقطع الشركة بينهما ولا بد منها كما في عقد الشركة  قال فإن شرط زيادة عشرة فله أجر مثله لفساده فلعله لا يربح إلا هذا القدر فتنقطع الشركة في الربح

وفى الجوهرة النيرة (3/ 133)

 قَوْلُهُ : وَمِنْ شَرْطِهَا أَنْ يَكُون الرِّبْحُ بَيْنَهُمَا مُشَاعًا لَا يَسْتَحِقُّ أَحَدُهُمَا مِنْهُ دَرَاهِمَ مُسَمَّاةً ) لِأَنَّ شَرْطَ ذَلِكَ يَقْطَعُ الشَّرِكَةَ لِجَوَازِ أَنْ لَا يَحْصُلَ مِنْ الرِّبْحِ إلَّا تِلْكَ الدَّرَاهِمُ الْمُسَمَّاةُ

ويراجع أيضا:

             شركت و مضاربت عصر حاضر ميں :406.

والله أعلم بالصواب

محمد تاج الإسلام عفي عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد، محمد بور، دكا-1207

 

 

 

 

 

 

 

 

 

Share

প্রশ্ন : dolancer.com থেকে আয় শরীয়ত সম্মত কিনা?

প্রশ্ন : dolancer.com থেকে আয় শরীয়ত সম্মত কিনা?

আজকাল সবাই ইন্টারনেটে আয় করার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে। এমনই একটি সাইট হল WWW. dolancer.com/mdex. php/about এটি বাংলাদেশে যাত্রা করেছে খুব বেশিদিন হয়নি। এরই মধ্যে ১৮০০ মেম্বার পেয়েছে এবং প্রতিদিন আরোও বাড়ছে।

ঢুকতে যা লাগবে: এটি ফ্রি কোন সাইট না তাই এতে প্রবেশ করতে পেমেন্ট করতে হয়, এর আছে তিনটি প্যাকেজ -

১. বেসিক (৭০০০ টাকা)

২. মডারেট (২১০০ টাকা)

৩. এডভান্স (৩৫০০০ টাকা)

কি কি পদ্ধতিতে আয় করা যায়

আয় করার বেশ কিছূ পদ্ধতি আছে, এখানে বেশি প্রচলিত তিনটি পদ্ধতি উল্লেখ করছি

পদ্ধতি- ১. ক্লিক টু আর্ণ/পেইড টু ক্লিক (পিটিসি)

এটা আমাদের কাছে খুবই পরিচিত। আপনাকে কিছু বিজ্ঞাপনের লিংক দেওয়া হবে তাতে ক্লিক করলেই আপনি ইন্সট্যান্ট টাকা পাবেন।

১.বেসিক. আপনারা এই প্যাকেজের সদস্য হলে প্রতিদিন ১০০টি লিংক পাবেন এবং প্রতিটি বিজ্ঞাপনের ক্লিক এর জন্য মিনিমাম .০১ সেন্ট (৭০ পয়সা)

২. মডারেট (২১০০০ টাকা) আপনারা এই প্যাকেজ এর সদস্য হলে প্রতিদিন ৩০০টি লিংক পাবেন এবং প্রতিটি বিজ্ঞাপনে  ক্লিক এর জন্য ০.১ সেন্ট

লিংকগুলো দেখতেই খুব বেশি সময় নেয় না। তার মানে এখানে কাজ করে একজন প্রতিমাসে বেসিক একাউন্ট থেকে সর্বাধিক ২১০০ টাকা আয় করতে পারবে। যদি সে ৩০দিন কাজ করে। যদি সে ১দিন কাজ না করে তবে সে ৭০ টাকা কম পাবে। এটা তার ফিক্সড ইনকাম।

পদ্ধতি- ২ .রেফারেন্স এর মাধ্যমে networking

আপনার রেফারেন্সে যদি কেউ ঢুকে তবে আপনি সাথে সাথেই পাবেন ১০% বোনাস। এটি ডিরেক্ট স্পন্সর বোনাস অর্থাৎ আপনি যদি বেসিকে ঢুকান তবে পাবেন ৭০০ টাকা। যদি মডারেট প্যাকেজে ঢুকেন তবে পাবেন ২১০০ টাকা। আর এডভান্স পাবেন ৩৫০০ টাকা। এছাড়া ম্যাচিং বোনাস ১০% এরপর আপনি যদি দুই জনকে ঢুকান তবে আপনি পাবেন  বেসিক প্যাকেজ হতেই ২১০০ টাকা। আপনি যাদেরকে ঢুকাবেন তারা যদি অন্য কাউকে ঢুকায়  তবে তারাও যেমন টাকা পাবে তেমনি আপনিও পাবেন। আপনি যাদেরকে ঢুকিয়েছেন বা আপনার রেফারেন্সে ঢুকে যারা আবার তাদের রেফারেন্সে যাদের ঢুকিয়েছেন তারা যা আয় করছে বা করেছে তা থেকে আপনিও স্পন্সার হিসেবে বোনাস টাকা পাবেন।

বোনাসের হার

প্রথম ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ৫% দুই পাশেই

দ্বিতীয় ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ৩%

তৃতীয় ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ২%

চতুর্থ ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ১%

পঞ্চম ডিরেক্ট স্পন্সর এর আয়ের ০.০৫%

পদ্ধতি ৩-ওয়েব সাইট লিজিং পদ্ধতি 

এ পদ্ধতিতে আপনি Company  থেকে সাইট লিজ নিয়ে আবার Company কেই লিজ দিতে পারবেন। তাহলে Company আপনাকে daily যতদিয়ে লিজ নিবেন,তার০.৫০% Pay করবে ২৪ মাস। যেমন ৫০০ ডলার দিয়ে নিলে per day আপনাকে ২.৫০ ডলার দিবে। এতে যোগ দিলে আপনি আরো কিছু সুবিধা পাবেন। যেমন: dolancer logo সহ ভিসা কার্ড পাবেন মাত্র ১০০০ টাকায়। আরো অনেক ফিচার এতে আছে।

 

 

بسم الله الرحمن الرحيم

ফাত্ওয়া বিভাগ                                                                                 ০২/০৫/২০১২ঈসাব্দ                                                                            জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া, সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-১২০৭। মোবাইল:০১৮১৬৩৬৭৯৭৫

 

حامدًا ومصليا و مسلما

উত্তর:-

ডোলান্সার ডট. কম বা নিউ শেয়ারিং মার্কেটিং লিমিটেড ইত্যাদি কোম্পানীগুলো আউট সোর্সিং সাইট হিসাবে পরিচিত হলেও মূলত এগুলো অনলাইন ক্লিক এমএলএম কোম্পানি। (কেননা, এগুলোতে কারো রেফারেন্স ছাড়া সদস্য হওয়া যায় না। যা এমএলএম পদ্ধতির একটি অন্যতম দিক।) এপদ্ধতিতে পরিচালিত সকল আউট সোর্সিং সাইট থেকে আয় করা সম্পূর্ণ না জায়েয। কেননা, উক্ত পদ্ধতিতে আয় অবৈধ হওয়ার একাধিক কারণ বিদ্যমান। অথচ না জায়েয হওয়ার জন্য একটি  কারণই যথেষ্ঠ। এতে বিদ্যমান বিষয়গুলোর ভিন্ন ভিন্ন বিধান উল্লেখের জন্য প্রথমে এর শরয়ী  রূপায়ণ আবশ্যক। নিম্নে তা উল্লেখ করা হল

 

১. প্রথম পদ্ধতি: ক্লিক টু আর্ন/পেইড টু ক্লিকঃ-

 

এ পদ্ধতিতে যেসব লিংকে ক্লিক করতে হয় সেগুলোতে কোনো বিজ্ঞাপন বা আর্টিক্যাল থাকে। তাতে ক্লিক করার উদ্দেশ্য থাকে ঐসব  প্রচার ও প্রসার।

এ উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে যে লিংকগুলো দেয়া হয়, তাতে ক্লিক করা ও ভিজিট করা শরিয়তের দৃষ্টিতে বিনিময়যোগ্য কোনো শ্রম নয়। কেননা, এখানে ক্লিককারীর কাজটি অন্যের জন্য নয়; বরং নিজের স্বার্থে। কারণ, বিজ্ঞাপন দেখা বা আর্টিক্যাল পাঠ করা হয় নিজেরই ক্রয়ের স্বার্থে কিংবা কোনো পণ্যের তথ্য সংগ্রহের স্বার্থে।

 

كما جاء فى المبسوط للسرخسي – 16 /67

والأجير من يكون عاملا لغيره وفيما يكون عاملا لنفسه لا يصلح أن يكون أجيرا.

উদারহরণ স্বরূপ বলা যায়, রেডিও ও টিভিতে যে সকল বিজ্ঞাপন দেয়া হয়, তা  দেখলে বা শুনলে কি শ্রোতা কোনো বিনিময়ের আশাবাদী হতে পারে? কিংবা কেউ একটি বই বা আর্টিক্যাল লিখে ছাপিয়ে দিল। এখন যে ব্যক্তি এই বই বা আর্টিক্যাল পাঠ করবে, সে কি লেখকের কাছ থেকে কোনো বিনিময়ের দাবী করতে পারে?

এ থেকে বুঝে আসে যে, শুধুমাত্র লিংকগুলোতে ক্লিক করা কিংবা ভিজিট করার কোনো বিনিময় হতে পারে না। পক্ষামত্মরে ডোলান্সার বা এজাতীয় সাইটগুলো তাদের সদস্যদের কোনো বিনিময়যোগ্য পণ্য বা সেবাও দিচ্ছে না, তাই রেজিষ্ট্রেশনের নামে যে অর্থ নিচ্ছে, তা বিনিময়হীন অর্থ। সুতরাং স্পষ্ট যে, প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিতে বিনিময়যোগ্য পণ্য বা সেবা ছাড়াই উভয় পক্ষে অর্থ লেনদেন হচ্ছে যা শরীয়ত কর্তৃক নিষিদ্ধ

أكل أموال الناس بالباطل

‘বাতিল পন্থায় মানুষের সম্পদ ভক্ষণ‘ এর আওতায় পড়ে। কারণ, এটা এক ধরনের সূদ।

كما قال تعالى:

 يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَأْكُلُوا أَمْوَالَكُمْ بَيْنَكُمْ بِالْبَاطِلِ إِلَّا أَنْ تَكُونَ تِجَارَةً عَنْ تَرَاضٍ مِنْكُمْ وَلَا تَقْتُلُوا أَنْفُسَكُمْ إِنَّ اللَّهَ كَانَ بِكُمْ رَحِيمًا- النساء: 29

وفي المدخل الفقهي العام ــ2/980

والهبة اذا اشترط فيها دفع عوض كمن قال لاخر وهبتك هذا الشئ بكذا او بشرط ان تعطيني كذا اخذ العقد احكام البيع لانه اصبح في معناه رغم استعمال العاقد لفظ الهبة فيرد الموهوب بالبيع.

 

 

 

وفى الهداية شرح البداية – (3 / 81)

قال الصرف هو البيع إذا كان كل واحد من عوضيه من جنس الأثمان سمي به للحاجة إلى النقل في بدليه من يد إلى يد والصرف هو النقل والرد لغة أو لأنه لا يطلب منه إلا الزيادة إذ لا ينتفع بعينه والصرف هو الزيادة لغة كذا قاله الخليل ومنه سميت العبادة النافلة صرفا قال فإن باع فضة بفضة أو ذهبا بذهب لا يجوز إلا مثلا بمثل وإن اختلفا في الجودة والصياغة لقوله عليه الصلاة والسلام الذهب بالذهب مثلا بمثل وزنا بوزن يدا بيد والفضل ربا الحديث وقال عليه الصلاة والسلام جيدها ورديئها سواء وقد ذكرناه في البيوع.

وفى الهداية شرح البداية – (3 / 61)

 قال الربا محرم في كل مكيل أو موزون إذا بيع بجنسه متفاضلا فالعلة عندنا الكيل مع الجنس أو الوزن مع الجنس قال رضي الله عنه ويقال القدر مع الجنس وهو أشمل والأصل فيه الحديث المشهور وهو قوله عليه الصلاة والسلام الحنطة بالحنطة مثلا بمثل يدا بيد والفضل ربا وعد الأشياء الستة الحنطة والشعير والتمر والملح والذهب والفضة على هذا المثال ويروى بروايتين بالرفع مثل وبالنصب مثلا ومعنى الأول بيع التمر ومعنى الثاني بيعوا التمر والحكم معلول بإجماع القائسين لكن العلة عندنا ما ذكرناه

 

তাছাড়া যে বিজ্ঞাপনগুলোতে ক্লিক করে  আয় করা হবে তা যদি কোনো নাজায়েয পণ্য বা অবৈধ সেবার বিজ্ঞাপন হয়, তা হলেও তা নাজায়েয হবে। এতে কোনো সন্দেহ নেই।

يراجع:

 المفصل في أحكام الهجرة – (3 / 66(

القاعدة الفقهية (ما حرم أخذه حرم إعطاؤه(

وفى الأشباه والنظائر لابن نجيم – (1 / 158)

 مَا حَرُمَ فِعْلُهُ حَرُمَ طَلَبُهُ

وفى فتاوى الشبكة الإسلامية – (2 / 2786)

وما حصل عليه الإنسان من الأجرة مقابل هذا العمل المحرم لا يجوز تملكه، لأن أجرة الحرام حرام.

 

২. দ্বিতীয় পদ্ধতি: মূলত এটি mlm পদ্ধতি,

 

এমএলএম নাজায়েয হওয়া সম্পর্কে বিশেবর প্রায় সকল গ্রহণযোগ্য ফুকাহায়ে কেরামই একমত। তাই সংগত কারণেই  বলা যায়, mlm পদ্ধতিটি না জায়েয হওয়ার উপর উম্মতের ইজমা তথা ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর অবৈধতার প্রধান কারণসমুহ হচ্ছে, এতে কিমার/মাইসির তথা জুয়া ধোঁকা, সূদসহ শরীয়তে অকাট্যভাবে নিষিদ্ধ- এমন আরো অনেক কারণ রয়েছে। যার মধ্য থেকে যেকোনো একটির উপস্থিতি  যেকোনো লেন-দেন হারাম হওয়ার জন্য যথেষ্ট ।

 

وفى بدائع الصنائع – (6 / 117(

وَالتَّمْلِيكَاتُ مِمَّا لَا تَحْتَمِلُ التَّعْلِيقَ بِالْخَطَرِ فلم تَصِحَّ هِبَةً

وفى رد المحتار – (19 / 267)

وَمَعْنَى النَّهْيِ مَا فِي كُلٍّ مِنْ الْجَهَالَةِ وَتَعْلِيقِ التَّمْلِيكِ بِالْخَطَرِ فَإِنَّهُ فِي مَعْنَى إذَا وَقَعَ حَجَرِي عَلَى ثَوْبٍ فَقَدْ بِعْتُهُ مِنْكَ أَوْ بِعْتنِيهِ بِكَذَا أَوْ إذَا نَبَذْته أَوْ لَمَسْته كَذَا فِي الْفَتْحِ . وَذَكَرَ فِي الدُّرَرِ أَنَّ النَّهْيَ عَنْ إلْقَاءِ الْحَجَرِ أُلْحِقَ بِالْأَوَّلَيْنِ دَلَالَةً ( قَوْلُهُ لِوُجُودِ الْقِمَارِ ) أَيْ بِسَبَبِ تَعْلِيقِ التَّمْلِيكِ بِأَحَدِ هَذِهِ الْأَفْعَالِ

 

 

 

 

৩. লিজিং পদ্ধতি

 

এপদ্ধতিটির মূল কথা হল, সাইটটি আগা-গোড়া কোম্পানিরই থাকবে। মাঝে শুধু কোম্পানি ও সদস্যদের মধ্যে বাহ্যিকভাবে একটি ইজারা চুক্তি সম্পাদিত হবে। তদুপরি যদি একে বাসত্মবেও লিজ বলে গণ্য করা হয়, তবুও তা নাজায়েয। কেননা, কোনো বস্ত্ত লিজ নিয়ে লিজ দাতার কাছেই আবার  লিজ দেয়া বৈধ নয়।

وفى الدر المختار – (6 / 91(

 ) وللمستأجر أن يؤجر المؤجر ) بعد قبضه قيل وقبله ( من غير مؤجره وأما من مؤجره فلا ) يجوز وإن تخلل ثالث به يفتى للزوم تمليك المالك وهل تبطل الأولى بالإجارة للمالك الصحيح؟ لا.

( درر الحكام شرح مجلة الأحكام (1/ 572)وفى

وقوله من آخر – لأن المستأجر إذا آجر الشيء المأجور من مؤجره لا يكون صحيحا , سواء أكانذلك قبل القبض أو بعد القبض وسواء أكان المؤجر صاحب المال أو مستأجرا . وسواء أكان في المسألة شخص ثالث أو لا ; لأن المستأجر يقوم في المنفعة مقام المؤجر وإيجار المأجور من الآجر تمليكه منافع ملكه , وهذا لا يجوز شرعا.

 

অতএব, এধরনের কোনো কোম্পানির সদস্য হওয়া কিংবা এ থেকে অর্থ উপার্জন করা বৈধ নয়।

 

والله أعلم بالصواب

                                                                                              محمد توحيد الإسلام عفي عنه

                                                                                           أستاذ دارالإفتاء والإرشاد

                                                                                              بالجامعة الرحمانية العربية،

                                                                                              سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

 

Share

জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ

 

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বৈধ কি না? ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে, বিস্তারিত জানাবেন।

মুহাম্মদ সাদাত আল আবরার মুহাম্মদপুর, ঢাকা

জবাব : জড় ও জীবসহ সবকিছুই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই পবিত্র কুরআনে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকল প্রাণীর রিযিক তথা জীবিকার দায়িত্বভার নিজে গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আর তার ভাণ্ডার অফুরন্ত। যা কখনো শেষ হবার নয়। একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন যে, তোমাদের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ অর্থাৎ সমস্ত জিন-ইনসান কোনোস্থানে একত্রিত হয়ে আমার নিকট প্রার্থনা করে। আর আমি তাদের সকলের প্রার্থণা মাফিক তাদেরকে দান করি, তাহলে আমার ভাণ্ডার থেকে এতোটুকুও কমবে না যতোটুকু সুঁই সাগরে ডুবিয়ে উঠালে সাগরের পানি কমে। তাই পৃথিবীতে জনসংখ্যা যতোই হোক না কেন। প্রত্যেকের রিযিকের ব্যবস্থা অবশ্যই আল্লাহ তা’য়ালা করে থাকেন ও করবেন। প্রত্যেক মুসলমানের এই বিশ্বাস রাখা চাই। এর বিপরীত আকীদা পোষণ করা কুফরী। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ করা নিষেধ। সুতরাং ওলামায়ে কেরাম যে ব্যাখ্যা করেন তা যথার্থই করেন। তবে অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কখনও এক্ষেত্রে হুকুমের মধ্যে কিছু শিথিলতা আসে। যা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। নিম্নে ব্যাখ্যাসহ এর হুকুম বর্ণনা করা হলো।  জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনিয়তা ও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। সকল ক্ষেত্র ও সকল পদ্ধতির হুকুম এক নয়।

মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।

এক. জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

দুই. অস্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না যেমন : কনডম ব্যবহার করা, পিল সেবন করা ইত্যাদি।

তিন. গর্ভধারনের পর গর্ভপাত ঘটানো।

প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ  করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এক্ষেত্রেও কখনও কোনো  কোন অভিজ্ঞ দীনদার ডাক্তারের বক্তব্যমতে গর্ভধারণের কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা হলে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা বৈধ হবে।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে।

১। দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।

২। কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে।

৩। মহিলা অসুস্থ ও দূর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হলে। তবে ভালোভাবে মনে রাখা দরকার যে, এ সকল ক্ষেত্রে বৈধতা শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিতভাবে মানুষের নিকট প্রচারণা করা ও এতে উদ্বুদ্ধ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

আর তৃতীয় পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দূর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় আর গর্ভধারনের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। আর মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে বৈধ নয়।

[মুসলিম শরিফ ২/৩১৯, জাদীদ ফিকহী মাবাহেস ১/২৮২]

 

 

 

 

মসজিদের নিচে মার্কেট করার বিধান

 

জিজ্ঞাসা :  আমরা জানি মসজিদের জায়গা তার মাটিসহ ওয়াকফ। এখন অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট তৈরি করে ২য় তলায় মসজিদ করা হচ্ছে। আর মার্কেটের দোকান বিভিন্ন বৈধ অবৈধ কাজের জন্য ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে এবং মার্কেটের ভেতর থুতু ফেলাসহ হিন্দু, মুসলমান, মহিলা, পুরুষ, পবিত্র, অপবিত্র ব্যক্তিরা গমনাগমন করছে। এতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া মসজিদের মার্কেটে গানবাদ্যসহ টিভি, ভিসিডিও চালানো হয়। এখন প্রশ্ন হলো এমনভাবে মসজিদের নিচে মার্কেট করা বৈধ আছে কি না? এবং সেই মার্কেটে অপবিত্র মহিলাগণ আসতে পারবে কি না? গান বাদ্য ও টিভি ভিসিডির দোকান মসজিদের মার্কেটের ভাড়া দেয়া যাবে কি না?

মামুনুর রশীদ ,সাভার, ঢাকা

জবাব : মসজিদ নির্মাণের সময় নিচ তলায় মার্কেট ও উপরে মসজিদ নির্মাণ করলে তা বৈধ হবে এবং সেই মার্কেটের দোকান সকল বৈধ কার্যক্রম ও ব্যবসার জন্য ভাড়ায় দেয়া এবং তাতে পবিত্র অপবিত্র, কাফের মুসলমান, সব ধরনের লোকের জন্য প্রবেশ বৈধ হবে। তবে টিভি, ভিসিডি বা অন্যকোনো হারাম পণ্যের ব্যবসা কিংবা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দোকান ভাড়া দেয়া বৈধ নয়।

বলাবাহুল্য যে, নাজায়েয কাজ করা যে কোনো স্থানেই বৈধ হবে না। আর মসজিদ মার্কেটে তা আরো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পক্ষান্তরে নিচ তলায় শুরু থেকেই মসজিদ নির্মিত হলে পুন:নির্মাণের সময় নিচে মার্কেট করা কিছুতেই বৈধ হবে না এবং কোনো কাজে তা ভাড়ায় দেয়া, অপবিত্র কোনো ব্যক্তির প্রবেশও জায়েজ হবে না।

[তাবয়ীনুল হাকায়েক ৫/১২৫, ফাতাওয়া আলমগিরী ২/৪৫৫]

জালালী খতম প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : কয়েকদিন আগে আমরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। উক্ত মসজিদের খতীব সাহেব তার বয়ানে খতমে ইউনুস, জালালী, দুরূদে নারীয়া ইত্যাদি খতমগুলোকে বেদআত বলে উল্লেখ করেন। দলীল হিসেবে কুরআন হাদিসের কোথাও নেই একথা পেশ করেন। পরে জানতে পারি অনেক উলামায়ে কেরামই এগুলোকে বেদআত হিসেবে ফতোয়া দিয়ে থাকেন।

এখন আমার জানার বিষয় হলো

১। কুরআন হাদিসের কোথাও কি এ সমস্ত খতমের কথা উল্লেখ আছে?

২। কুরআন হাদিসে না থাকলে আমল করা যাবে কি?

৩। যদি কুরআন হাদিসে থেকে থাকে তাহলে শরীয়তের কোন মূলনীতির আলোকে আমল করা হচ্ছে?

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর ঢাকা

জবাব : প্রশ্নোক্ত খতম সমূহের কথা কুরআন হাদিসে উল্লেখ নেই। তবে যেহেতু এসব খতম কুরআন শরীফের আয়াত কিংবা হাদিসের বর্ণিত দোয়া বা অর্থবোধক এমন শব্দ দ্বারা করা হয় যা বুযুর্গ ও আওলিয়াগণ থেকে বর্ণিত। সেহেতু চিকিৎসা হিসেবে এসব খতম করা বৈধ। এটা দোষের কিছু নয়। তবে এগুলোকে শুধুমাত্র উপার্জনের মাধ্যম না বানিয়ে মুসলমানদের উপকারের উদ্দেশ্যে করা উচিত।

চিকিৎসা হিসেবে যে কোনো বৈধ আমল করার অবকাশ হাদিসও ফিকাহের দ্বারা প্রমাণিত। আর এর জন্য যে কোনে বৈধ পদ্ধতি নির্ধারণ করতেও কোনো বাধা নেই। সেমতে খতমে ইউনুস, খতমে জালালী, দুরূদে নারিয়া এ জাতীয় খতম পড়া যেতে পারে। তবে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ তা’য়ালাই একমাত্র আরোগ্যদানকারী।

উল্লেখ্য, কুরআন হাদিসে নেই, এমন বিষয়কে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করাকে বিদআত বলে। বলাবাহুল্য যে উক্ত বিষয়গুলোকে তদবীর ও চিকিৎসা স্বরূপই গ্রহণ করা হয় ইবাদত হিসেবে নয়। তাই এগুলোকে বিদআত বলা অবান্তর।

[বুখারি শরিফ ২/৮৫১, আহকামূল কুরআন]

 

পিতা মাতার  সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : আমি একজন ব্যবসায়ী। সংসারের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার অন্য ভাইয়েরা ভিন্ন। আমি আমার মা-বাবা এবং স্ত্রী এক সংসারে থাকি। কিন্তু আমার মায়ের সঙ্গে আমার স্ত্রীর সব সময় মনোমালিন্য লেগে থাকে। আমি যখনই বাড়িতে যাই তখন আমার মা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ করে যে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে আমার স্ত্রী কখনো এই রকম করতে পারে না।

আমি জানি যে মায়ের মনে কষ্ট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আমি সকলকে নিয়ে এক সাথে থাকতে চাই।  আমার প্রশ্ন এই যে এখন আমি কী করতে পারি? তা আমাকে জানাবেন।

আসলাম হুসাইন, নড়াইল।

জবাব : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সম্ভব হলে স্ত্রীকে আপনার পিতা-মাতা থেকে পৃথক করে রাখা উচিত। তবে আপনার কর্তব্য হচ্ছে, পিতা-মাতার যথাযথ সেবা শুশ্রƒষা করা এবং তাদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা এবং কখনোই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার না করা। এরপরও যদি তারা শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীকে দূরে রাখার কারণে মন খারাপ করে থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য ক্ষতিকর নয়।

[মুসলিম শরীফ ১/৩৯৭]

 

আপন ভাইকে যাকাত দেয়ার হুকুম

জিজ্ঞাসা : আমি প্রতি বৎসর যাকাত আদায় করি। তবে আমার ভাই কিছু আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। তাই এবারের যাকাত আমার ভাইকে দিতে চাচ্ছি। যাতে তার উপকার হয়। জানার বিষয় হলো যাকাতের মাল আপন ভাইকে দেয়া জায়েয হবে কি না?

আছমা আক্তার, মোমেনশাহী

জবাব:  আপনার ভাই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে। বরং উত্তম। কেননা, তাকে দিলে দুটি সওয়াবের অধিকারী হবেন। সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।

[বুখারি শরিফ ১/১৯৮]

Share

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গ

মুহাম্মদ জুবায়ের,শরীয়তপুর
জবাব : প্রশ্নে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রথমটির সমাধান হলো, কেউ যদি রুকু কিংবা সিজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে উত্তম হলো সে ব্যক্তি চেয়ারে কিংবা নিচে বসে নামাজ আদায় করবে। আর সেক্ষেত্রে রুকু সিজদা ইশারায় আদায় করবে। তবে এমন ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে এবং বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টির জবাব হলো, চেয়ারের পিছনের পায়া দু’টি কাতারের দাগের ওপর রাখবে, সামনে বা পিছনে নয়।
তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর হলো, চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা অবস্থায় কেউ যদি টেবিলের ওপর সিজদা করে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে সামনে টেবিল না রেখে ইশারায় সিজদা করাই উত্তম।
[ফাতহুল বারী ১/১, আদ দুররুল মুখতার ২/৫৬]

প্রশ্ন:
From: Shibbir
Subject: Quran telawat
Country : Bangladesh
Mobile : 01672955080
Message Body:
কুরআন তেলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আযীম বলা যাবে কিনা? একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, এটা বলা যাবে না। কথাটি কতটুকু সঠিক?


This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
আল্লাহ পাকের কালাম তথা কোরআন তেলাওয়াত শেষে ‘সাদাকাল্লাহুল আযীম’ বলতে কোন সমস্যা নেই। এর অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। কুরআন পাকের মধ্যেই স্বয়ং আল্লাহ পাক নবী কারীম সা. কে বলেন যে, আপনি বলুন, ‘সাদাকাল্লাহ’ । সূরা আল ইমরান (আয়াত : ৯৫)

Share

শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরি পাক এলকোহল পান করা জায়েয কিনা?

প্রশ্ন
From: আব্দুর রহমান তরফদার
Subject: এলকোহলযুক্ত সেন্ট ব্যবহারের ফতোয়া প্রসঙ্গে
Country : বাংলাদেশ
Mobile : ০১৭১৫০৪০৫৪৬
Message Body:
নিচের ফতোয়া থেকে একটা ব্যাপার বোঝা গেল, আঙ্গুর ও খেজুর খেকে তৈরি এলকোহল নাপাক, অন্য এলকোহল পাক. আমার জ্ঞাতব্য, শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরি এলকোহল পান করা জায়েজ কিনা?

সেন্ট ব্যবহারের হুকুম
Mar 8, 2011 by
জিজ্ঞাসা : সেন্ট যার মধ্যে সাধারণত এলকোহল মিশ্রিত করা হয়। তা ব্যবহার করা জায়েয কি না? এবং তা ব্যবহার করে নামাজ পড়া জায়েয হবে কি না? শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কি তা জানতে চাই।
হাফেজ মাহমুদুল হাসান, ত্রিশাল, মোমেনশাহী
জবাব : বর্তমানে বাজারে যে সেন্ট পাওয়া যায় তাতে সাধারণত আঙ্গুর বা খেজুরের রস থেকে প্রস্তুত কৃত এলকোহল থাকে না; বরং বিভিন্ন শস্যদানা, গাছগাছালীর খাল ইত্যাদি জিনিস থেকে প্রস্তুতকৃত এলকোহল মিশানো হয়, যা নাপাক নয়। সুতরাং তা ব্যবহার করা ও তা ব্যবহার করে নামাজ আদায় করা জায়েজ হবে।
(তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ৩/৬০৮, বুহুস ১/৩৪১)

This mail is sent via Authority Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
শস্যদানা ও গাছগাছালী থেকে তৈরী এলকোহল পান করলে যদি নেশার উদ্রেক হয় তাহলে তাও পান করা না জায়েয ও হারাম। কেননা হাদীসে পাকে যে কোন নেশাজাত দ্রব্য পান করা হারাম সাব্যস্ত করা হয়েছে।

Share

কোম্পানির কোন মাল ক্রয় করার সময় বিল বাড়িয়ে করা বৈধ কিনা?

প্রশ্ন:
From: অনিক খান
Subject: হালাল – হারাম
Country : Bangladesh
Mobile :
Message Body:
আসসালামুয়ালাইকুম!
আমি যে প্রশ্নটি করতে চাই তা হলো -
আমি একটি কোম্পানিতে চাকরি করি। কোম্পানির কিছু কিছু জিনিস আমার কিনতে হয় তো কেনার সময় দোকানদার নিজে থেকে ওই জিনিস এর দাম কিছু বাড়িয়ে বিল করে বাড়তি টাকাটা কি আমার জন্য হালাল হবে?
আর যদি আমি নিজে থেকে দোকান্দারকে বলি বাড়িয়ে লিখার জন্য তখন কি হুকুম ?
আর যদি আমি ওই টাকাটা শুধু মাত্র অফিস এ যাওয়া – আসার জন্য বা অফিসের জিনিস কিনতে গাড়ি ভাড়া হিসেবে ব্যাবহার করি তখন কি হুকুম ?
বিস্তারিত জানালে খুবই উপকৃত হবো।

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
কোন জিনিসের দাম বাড়িয়ে বিল করা ধোকা ও মিথ্যার অন্তর্গত, তাই কোন উদ্দেশ্যেই এভাবে বিল করা বৈধ নয় এবং বাড়তি টাকাও আপনার জন্য হালাল নয়।

Share