ইসলামী ব্যাংকে চাকুরী প্রসঙ্গে

প্রশ্ন:ইসলামী ব্যাংক লিঃ, আল- আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিঃ, শাহজালাল ইসলমী ব্যাংকলিঃ সহ বাংলাদেশে পরিচালিত ইসলামী ব্যাংক সমূহে চাকুরী করা, এক্যাউন্ট খোলাজায়েজ আছে কিনা । যদি জায়েজ না থাকে তাহলে কি কারনে জায়েজ নাই তাহাবিস্তারিত জানালে উপকৃত হব । 

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             ফাতওয়া নং-3018

 

                     ফাতওয়া বিভাগ                                                  তারিখ:4/8/২০১৩ খৃষ্টাব্দ  

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                  মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫  

সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207                                                       www.rahmaniadhaka.com   

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-

         বর্তমানে বাংলাদেশে ইসলামীক নামে পরিচিত ব্যাংকগুলোর সকল কার্যক্রম আমাদের জানামতে পূর্ণ ইসলামী নীতিমালা অনুসারে পরিচালিত হতে পারছে না। তাই ওই সব ইসলামী ব্যাংকে যে কোন পদে চাকুরী করা  হালাল-হারামের  দৃষ্টিতে ঝুঁকিপূর্ণ। আর সংরক্ষনের উদ্দেশ্যে কারেন্ট একাউন্ট কিংবা অন্য কোন সুদমুক্ত একাউন্টে টাকা রাখা যেতে পারে। ইসলামী ব্যাংক গুলোতে টাকা রাখলে লাভ না নেওয়া উচিত।

كما قال الله تعالى في القران المجيد:

{ وَأَحَلَّ اللَّهُ الْبَيْعَ وَحَرَّمَ الرِّبَا فَمَنْ جَاءَهُ مَوْعِظَةٌ مِنْ رَبِّهِ فَانْتَهَى فَلَهُ مَا سَلَفَ وَأَمْرُهُ إِلَى اللَّهِ وَمَنْ عَادَ فَأُولَئِكَ أَصْحَابُ النَّارِ هُمْ فِيهَا خَالِدُونَ} [البقرة : 275]

{ يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا اللَّهَ وَذَرُوا مَا بَقِيَ مِنَ الرِّبَا إِنْ كُنْتُمْ مُؤْمِنِينَ } [البقرة : 278]

وأخرج الإمام مسلم فى صحيحه (2/27)( النسخة الهندية)        

عن جابر قال لعن رسول الله صلى الله عليه و سلم آكل الربا وموكله وكاتبه وشاهديه وقال هم سواء.

وأخرج الإمام البخاري في صحيحه : (1 / 28)

عن عامر قال سمعت النعمان بن بشير يقول : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول ( الحلال بين والحرام بين وبينهما مشبهات لا يعلمها كثير من الناس فمن اتقى المشبها استبرأ لدينه وعرضه ومن وقع في الشبهات كراع يرعى حول الحمى أوشك أن يواقعه ألا وإن لكل ملك حمى ألا وإن حمى الله في أرضه محارمه ألا وإن في الجسد مضغة إذا صلحت صلح الجسد كله وإذا فسدت فسد الجسد كله ألا وهي القلب ).

 وفي  رد المحتار : (7 /658زكريا) 

والحاصل أنه إن علم أرباب الأموال وجب رده عليهم ، وإلا فإن علم عين الحرام لا يحل له ويتصدق به بنية صاحبه ، وإن كان مالا مختلطا مجتمعا من الحرام ولا يعلم أربابه ولا شيئا منه بعينه حل له حكما ، والأحسن ديانة التنزه عنه.

ويراجع أيضا:

                  فتاوي عثماني 3/394و فتاوي حقانيه:6/658 و فتاوي رحيميه:9/236

 

                                                                                                واللهأعلمبالصواب     

                                                                                                            محمدمعصوم باللهعفيعنه 

                                                                                                              دارالافتاءوالارشاد

                                                                                                          الجامعةالرحمانيةالعربية 

                                                                                     ساتمسجد،محمدبور،داكا-1207                                                                                                                            

 

Share

আল্লাহ এক, রাসূল এক, ধর্ম এক মাযহাব এত কেন?

 
বরাবর, মুফতী সাহেব,
ছোট্ট একটি প্রশ্ন করি। এক আল্লাহ, এক রাসূল, এক কিবলা, এক ধর্ম। তবে হাদীস প্রনেতা পৃথিবীতে এত কেন? আসলে কি আল্লাহ এই সকল মানুষগুলোকে হাদীস সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছিলেন? হাদীস সংগ্রহের দায়িত্ব যদি আল্লাহ কাউকে দিতেন, তাহলে একজনকে দিতে পারতেন। তাহলে পৃথিবীতে এত মাযহাব হতো না। এত ফিরকাহ বা মাযহাবের জন্য কি হাদীস প্রনেতারা দায়ী, নাকি আমরা। কিংবা আল্লাহ। কোনটাকে আপনি দায়ী মনে করেন। আমরা যে সব হাদীসগুলো পড়ি এ কথাগুলো কম-বেশী প্রায় সবগুলো কোরআনে আছে। আবার দেখুন অনেক ‍কিছু হাদীসে আছে যা কোরআনে নেই। সেই কারণে কোরআনকে কি আপনি অপূর্ণাঙ্গ কিতাব বলবেন? আল্লাহ বলেছে, কোরআনে সব আছে। যদি কোরআনে সব থেকে থাকে তবে হাদীস আমাদের কি নেয়ার আছে। হাদীস ছাড়া কোরআন কি পূর্ণাঙ্গ কিতাব। যদি হাদীস নিতেই হয়, তাহলে কোরআনের পূর্ণাঙ্গতা কতটা যৌক্তিক?
নিবেদক
মন পাগলা
 
 
ফত্ওয়া নং-2353
بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم
  ফত্ওয়া বিভাগ                         তারিখ: 16/4/1434হিজরি 
 জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,

 

 
حامداومصلياومسلما
উত্তরঃ-
       আপনি ছোট বলে অনেক বড় প্রশ্নই করে ফেলেছেন। কেননা, এ প্রশ্নের উত্তর দীর্ঘ হবে। নিম্নে উত্তর প্রদান করা হলো। আশা করি মনযোগ সহকারে উত্তরটি পড়বেন এবং অনুধাবন করবেন। তবে উত্তর প্রদানের পূর্বে একটি বিষয়ে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করা প্রয়োজনআর তা হলো যে, আপনি প্রশ্নটি করার ক্ষেত্রে নিজের কাছে কোনো উত্তর খুঁজেননি। আমাদের বিশ্বাস আপনি নিজের কাছে জিজ্ঞাসা করলেও এসব প্রশ্নের উত্তর পেয়ে যেতেন। যেমন দেখুন! আপনার প্রশ্ন হলো, ধর্ম এক, আল্লাহ এক, রাসূল এক, তাহলে হাদিস প্রণেতা এত কেন? আপনি বলুন তো! ক্লাস এক, শিক্ষক এক, ছাত্র এত কেন?
     আপনার দ্বিতীয় প্রশ্ন হলো, আল্লাহ তা‘আলা কি এ সব মানুষকে হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়ে ছিলেন? তার উত্তর হলো, হ্যাঁ, কেননা কোরআন হাদিসের অসংখ্য স্থানে অন্যের নিকট দ্বীন পৌঁছানোর নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যেমন, রাসূল স. ইরশাদ করেছেন, يحملهذاالعلممنكلخلفعدوله ‘দ্বীনের এই ইলম প্রত্যেক পরবর্তীদের নিষ্ঠাবানরা বহন করবে।’ (মেশকাতুল আসার:8/373)
অন্য হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, عن عبد الله بن عمرو، أن النبي صلى الله عليه وسلم، قال: بلغوا عني ولو آية‘আমার পক্ষ থেকে একটি বিষয় হলেও তোমরা অন্যের কাছে পৌঁছিয়ে দাও।’ (বুখারী শরিফ: 1/491)
       মনে রাখতে হবে, এই আদেশের আওতায় হাদিস প্রণেতা, ফিকাহবিদসহ সকল স্তরের মুসলমান এমনকি আপনি, আমিও অন্তর্ভূক্ত। হাদিস সংকলনকারী মুহাদ্দিসগণ অনেক ত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্বটি যথাযথভাবে পালন করেছেন। যা তাদের সমগ্র মুসলিম জাতির ওপর এক অসাধারণ কৃপা ও অনুগ্রহমুসলমানগণ কোনো দিন তাদের এ ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। একাধিক মাযহাব ও ফিরকার জন্য তাঁরা কোনোভাবেই দায়ী নন। কারণ তাদের দায়ী করতে হলে আগে যিনি হাদিসগুলো বলেছেন, অর্থাৎ রাসূলুল্লাহ স. نعوذباللهতাঁকেই দায়ী করতে হবেআর শেষ পর্যন্ত نعوذبالله আল্লাহ তা‘আলাকে দায়ী করতে হবে। যা হবে চরম জ্ঞান পাপ ও ধৃষ্টতা। কেননা, এসব কিছুর পেছনে সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছাই মূল নিয়ামক। আর তাঁর কোনো কাজই অহেতুক ও রহস্য মুক্ত নয়। মানুষ চিন্তা করলে অনেক সময় সে রহস্য বুঝতে সক্ষম হয়। আবার অনেক সময় সক্ষমহয় না। হাদিস সংগ্রহ যদি একজনই করতো, তারপরও মাযহাব এক না হয়ে একাধিক হতো এতে কোনো সন্দেহ নেই। মানুষের বুঝের ভিন্নতা এর বড় কারণ। একই বিষয় একজন এক রকম বুঝলেও অন্যজন অন্য রকম বুঝেন। একই রুগী দুই ডাক্তারের কাছে গেলে দুইজন দুই ধরণের চিকিৎসা করে থাকেন। বুখারী শরিফের একটি হাদিসে এসেছে,
عن ابن عمر رضي الله عنهما قال : قال رسول الله صلى الله عليه و سلم يوم الأحزاب ( لا يصلين أحد العصرإلا في بني قريظة) فأدرك بعضهم العصر في الطريق فقال بعضهم لا نصلي حتى نأتيها وقال بعضهم بل نصلي لم يرد منا ذلك . فذكر ذلك للنبي صلى الله عليه و سلم فلم يعنف واحدا منهم.
অর্থাৎ- নবী করীম স. আহযাবের দিন সাহাবায়ে কেরামের একটি জামাতকে ‘বনী কুরাইজা’ নামক স্থানে এবলে পাঠালেন যে, তোমাদের কেউ যেন বনী কুরাইজায় না পৌঁছা পর্যন্ত আছরের নামায না পড়েকিন্তু ঘটনাক্রমে সেখানে পৌঁছতে দেরী হওয়ায় পথিমধ্যে আছরের নামাযের সময় ঘনিয়ে আসে। তখন একদল সাহাবী (রাসূল স. এর আদেশের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, আমরা বনী কুরাইজাতে পৌঁছার আগে আছরের নামায আদায় করবো না। কিন্তু আরেক দল সাহাবী  (রাসূল স. এর আদেশের উদ্দেশ্যের প্রতি লক্ষ্য করে) বললেন, আমরা আছরের নামায রাস্তায় পড়ে নিব। কেননা, রাসূল স. আমাদের থেকে এই বাহ্যত অর্থ উদ্দেশ্য নেননি। (বরং রাসূলের উদ্দেশ্য হলো, আমরা যেন অতিদ্রুত বনী কুরাইজায় যাই এবং আছরের নামায সেখানে গিয়ে পড়ি। কিন্তু আমাদের দূর্বলতা ও অলসতার কারণে পৌঁছতে দেরী হয়ে যায়। তাই আছরের নামায কাযা করবো না) এ ঘটনা রাসূলুল্লাহ স. কে জানানো হলে তিনি কোনো দলকেই ভর্ৎসনা করেননি। (বুখারী শরিফ : 2/591) এখানে আদেশ ও আদেশদাতা একই হওয়া সত্বেও বুঝ ভিন্ন হওয়ায় আদেশ পালনে মতভেদ দেখা দিয়েছে।
       এত মাযহাবের জন্য আমরা কাউকে দায়ী মনে করি না। আমরা বিশ্বাস করি যে, এমনটি আল্লাহ তা‘আলার ইচ্ছা ছিলো, তাই তা হয়েছে। বলাবাহুল্য যে, এ ভিন্নতার প্রয়োজন ছিলো। কেননা, মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টিগতভাবে সব ক্ষেত্রে ভিন্নতা দিয়ে সৃষ্টি করে অভিন্ন কোনো বিধান চাপিয়ে দেয়া যৌক্তিকতার পরিপন্থী। আর আল্লাহ পাক অন্যায় অযৌক্তিক সব বিষয় থেকে মুক্ত।
       আপনার আর একটি প্রশ্ন হলো, হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব আল্লাহ তা‘আলা একজনকে দিতে পারতেন। এ প্রশ্নের উত্তর অনেকখানি পূর্বের বর্ণনায় এসে গেছে। তারপরও আপনি নিজেও একজন মানুষ। আপনি নিজে অন্যের সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে অবগত না হলেও নিজের ব্যাপারে অবশ্যই অবগত রয়েছেন যে, একজন মানুষের মেধা, জ্ঞান ইত্যাদি বিষয়ে তার কি পরিমাণ সীমাবদ্ধতা রয়েছে। সীমাবদ্ধতা দিয়েই আল্লাহ মানুষকে তৈরী করেছেন। তাহলে একজনকে হাদিস সংগ্রহের দায়িত্ব প্রদান করার প্রস্তাব নিতান্তই হাস্যকর। কেননা, তা সম্ভবই নয়।
       আপনার সর্বশেষ প্রশ্ন হলো, হাদিস ছাড়া কোরআন পূর্ণাঙ্গ কি না? উত্তর হলো, কোরআন পূর্ণাঙ্গি একটি কিতাব। হাদিস ছাড়াও কোরআন পূর্ণাঙ্গ। তবে এর অর্থ এই নয় যে, হাদিসের কোনো প্রয়োজন নেই। কেননা, কোরআন হলো মূল আর হাদিস হলো তার ব্যাখ্যা। সুতরাং কোনোটিই অপরটির অপূর্ণতার দলিল বহন করে না। কোরআন অপূর্ণ নয়। তবে কোরআনের সকল বিষয় সকলের বোধগম্য নয়। তাই সম্ভবত এই কোরআনকেألم দ্বারা শুরু করে প্রথমেই এই বার্তা দেয়া হয়েছে যে, এই কোরআনে পরিবেশিত সকল বিষয় সকলের বোধগম্য নয়। এটি কোরআনের অপূর্ণতা নয়; বরং মানুষের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতা। আর হাদিসের অনুসরণ মূলত কোরআনেরই অনুসরণ। কেননা, কোরআন শরিফের বিভিন্ন জায়গায় ইরশাদ হয়েছে,
{يَاأَيُّهَاالَّذِينَآمَنُواأَطِيعُوااللَّهَوَأَطِيعُواالرَّسُولَ} ‘তোমরা আল্লাহর অনুসরণ করো এবং রাসূলের অনুসরণ করো।’ (সূরা সূরা নিসা- 59)
আর রাসূলের অনুসরণ তাঁর কথা ও কাজের অনুসরণ ব্যতীত সম্ভব নয়। তাঁর কথা ও কাজকেই তো হাদিস বলা হয়। তাই হাদিসের অনুসরণ মানে কোরআনেরই অনুসরণ করা।
 
   والله اعلم بالصواب
محمد رفيق الاسلام عفى عنه
دار الإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد محمد بور داكا- 1207
 
Share

সিগারেট বা এ জাতীয় তামাক দ্রব্য বিক্রি ও সেবনের শরয়ী হুকুম

বরাবর, মুফতী সাহেব

বিনীত নিবেদন এই যে, সিগারেট বা এ জাতীয় তামাক দ্রব্য বিক্রি এবং সেবন করা শরীয়া মতে কি ধরণের অপরাধ। কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জানালে কৃতজ্ঞ হবো।

নিবেদক
আব্দুল্লাহ মারুফ
কিশোরগঞ্জ

 

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             
                        ফাতওয়া বিভাগ                                                       তারিখ:30/6/২০১৩ খৃষ্টাব্দ  
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫           
সাত মসজিদ, মুহাম্মদপুর, ঢাকা-1207                                www.rahmaniadhaka.com
حامدا و مصليا ومسلما
উত্তর:-
         সিগারেট ও তামাক জাতীয় দ্রব্য পান করা এবং তা বিক্রয় করা মাকরূহ।   
كما أخرج الامام البخاري في صحيحه: (2/837, النسخة  الهندية)
عن أبي سلمة بن عبد الرحمن، أن عائشة، قالت: سئل رسول الله صلى الله عليه وسلم عن البتع، فقال: «كل شراب أسكر فهو حرام»
وفي حاشية ابن عابدين : (6 / 461, سعيد)
قال أبو السعود: فتكون الكراهة تنزيهية، والمكروه تنزيها يجامع الإباحة اهـ. وقال ط: ويؤخذ منه كراهة التحريم في المسجد للنهي الوارد في الثوم والبصل وهو ملحق بهما، والظاهر كراهة تعاطيه حال القراءة لما فيه من الإخلال بتعظيم كتاب الله تعالى اهـ
وفي حاشية ابن عابدين : (6 / 459, سعيد)
وفي شرح الوهبانية للشرنبلالي: ويمنع من بيع الدخان وشربه وشاربه في الصوم لا شك يفطر      
ويراجع أيضا:
                 امداد الفتاوى : (4/98) وكتاب الفتاوى : (6/188)
والله أعلم بالصواب
محمد معصوم بالله غفر له
دارالإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد، محمدبور، داكا-1207

 

Share

হরতালের শরয়ী হুকুম

প্রশ্ন: বর্তমানে অনেক ইসলামী দলকেও হরতাল ডাকতে দেখা যায়। আমার জানার বিষয় হলো- শরীয়তের দৃষ্টিতে হরতাল কর্মসূচী আহবান করা জায়েয আছে কি না?

                                                                            ফাতওয়া নং ২৮৩৯

بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم             

 ফাতওয়া বিভাগ                                                                 তারিখ: ০২/০৬/২০১৩ খৃ.

জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া                                                                             মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫    

 সাত মসজিদ, মুহাম্মদ পুর, ঢাকা-1207                                                  www.rahmaniadhaka.com        

حامدا و مصليا ومسلما

উত্তর:-   

 বর্তমান প্রচলিত হরতাল কর্মসূচীতে শরীয়ত বিরোধী বহু কারণ বিদ্যমান থাকায় তা সম্পূর্ণ নাজায়েয ও হারাম। তবে  ওইসব কারণ থেকে মুক্ত থেকে কোনো দ্বীনী কিংবা ন্যায্য দাবির পক্ষে বা অন্যায়ের প্রতিবাদে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের মতামত তৈরি করে হরতাল পালন করলে তা অবৈধ নয়। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, হরতাল শরীয়ত নিষিদ্ধ কারণ থেকে মুক্ত হলে শুধু তা একটি গণতান্ত্রিক পদ্ধতি হওয়ায় অবৈধ নয়। কেননা, এতে শরীয়তে কাম্য একাধিক বিষয় রয়েছে যেমন হরতাল অর্থ অসহযোগিতা, কুরআন মাজীদে গুনাহ এবং অন্যায় কাজে অসহযোগিতার বিষয়ে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে। হরতাল মানে জালিমের কাছে ন্যায়ের বার্তা পৌছানো। হাদীস শরীফে যাকে উত্তম জিহাদ বলা হয়েছে। হরতাল মানে অসৎ কাজে বাধা দান, কুরআন-হাদীসে এবিষয়ে স্পষ্ট আদেশ দেওয়া হয়েছে। হরতাল মানে জালিমকে তার জুলুম থেকে বিরত রাখা, এব্যাপারেও হাদীসে সুস্পষ্ট আদেশ রয়েছে।

        পক্ষান্তরে হরতাল মানে রাষ্ট্রদ্রোহিতা নয়। এবং হরতাল মানেই ফাসাদ ফিল আরয অর্থাৎ ফিতনা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি নয়। তাই মৌলিকভাবে হরতাল কর্মসূচী অবৈধ নয়। বরং উদ্দেশ্য ভাল হলে এবং শরীয়ত নিষিদ্ধ সকল বিষয় থেকে মুক্ত হলে তা কিছু শর্ত সাপেক্ষে বৈধ হবে।

      . গ্রহণযোগ্য সংখ্যক দ্বীনদার, ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিগণের মতামতের দ্বারা সিদ্ধান্ত গৃহিত হতে হবে, যে বিষয়ে হরতাল ডাকা হয়েছে তাতে জনগণের স্বার্থ নিহিত রয়েছে এবং তারা এবিষয়ে একমত হবে। আর যদি কোনো দ্বীনী বিষয় হয় তাহলে সেক্ষেত্রে গ্র্হণযোগ্য আলেমগণ একমত হতে হবে। 

     . হরতাল ডাকার পূর্বে দাবি-দাওয়া পূরণের প্রাথমিক পর্যায় ও পদক্ষেপগুলো গ্রহণ করতে হবে। যেমন- সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট স্মারকলিপি কিংবা প্রতিনিধি পাঠিয়ে তাদের বুঝিয়ে দাবি মানানোর চেষ্টা করা। এবং সঠিক বিষয়টি উপস্থাপন করা।

      . হরতাল চলাকালে অন্যায়ভাবে কারো জান-মাল ক্ষতিগ্রস্থ্ না হয় এবং শরীয়ত বিরোধী কোনো কর্মকান্ড না হয় সেবিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত ও কর্মপন্থা গ্রহণ করা।

         হরতালে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে গাড়ি, দোকান পাট, কারখানা ইত্যাদি ভাংচুর করা, সরকারের সম্পদ বিনষ্ট করা, বোমাবাজী  এবং গোলাগুলি করা সম্পূর্ণ হারাম। শরীয়তে এজাতীয় কর্মকান্ডের কোনো সুযোগ নেই। অবশ্য উপরোক্ত শর্তসমূহ মেনে হরতাল করলে তা বৈধ। এবং তাতে সহযোগিতা করা সকলের দায়িত্ব। যদি কেউ এমন হরতালের বিরোধিতা করে কিংবা কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে তাকে গ্রহণযোগ্য পন্থায় বাধা দেওয়া উচিত। আমাদের জানা মতে জাতীয় পর্যায়ে প্রতিবাদ, দাবি আদায় কিংবা চাপ সৃষ্টির ক্ষেত্রে হরতালের বিকল্প ফলপ্রসু কোনো পদ্ধতি নেই।

كما قال الله تعالى.

{وَتَعَاوَنُوا عَلَى الْبِرِّ وَالتَّقْوَى وَلَا تَعَاوَنُوا عَلَى الْإِثْمِ وَالْعُدْوَانِ وَاتَّقُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ } [المائدة : 2]

 وأخرج الإمام البخاري فى صحيحه – (2 / 863)

حميد الطويل سمع أنس بن مالك رضي الله عنه يقول: قال رسول الله صلى الله عليه و سلم ( انصر أخاك ظالما أو مظلوما )

وأخرج الإمام أبو داود فى سننه – (4 / 164)

عن أبى سعيد الخدرى ، قال : قال رسول الله صلى الله عليه وسلم : (أفضل الجهاد كلمة عدل عند سلطان جائر) أو (أمير جائر)

وفي الدر المختار: (4/261) باب البغاة

البغي لغة: الطلب، ومنه * (ذلك ما كنا نبغي) * (سورة الكهف: الآية 46).وعرفا: طلب ما لا يحل من جور وظلم.فتح.وشرعا: (هم الخارجون عن الامام الحق بغير حق) فلو بحق فليسوا ببغاة، وتمامه في جامع الفصولين.

وفى رد المحتار – (4/261) باب البغاة

الفصل الأول : بيانه أن المسلمين إذا اجتمعوا على إمام وصاروا آمنين به فخرج عليه طائفة من المؤمنين ، فإن فعلوا ذلك لظلم ظلمهم به فهم ليسوا من أهل البغي ، وعليه أن يترك الظلم وينصفهم .ولا ينبغي للناس أن يعينوا الإمام عليهم ؛ لأن فيه إعانة على الظلم ، ولا أن يعينوا تلك الطائفة على الإمام أيضا ؛ لأن فيه إعانة على خروجهم على الإمام ، وإن لم يكن ذلك لظلم ظلمهم ولكن لدعوى الحق والولاية فقالوا الحق معنا فهم أهل البغي ، فعلى كل من يقوى على القتال أن ينصروا إمام المسلمين على هؤلاء الخارجين ؛ لأنهم ملعونون على لسان صاحب الشرع قال عليه الصلاة والسلام { الفتنة نائمة لعن الله من أيقظها } فإن كانوا تكلموا بالخروج لكن لم يعزموا على الخروج بعد .

 ويراجع أيضا: جواهر الفتاوى:1/605، فتاوى رحمانيه:2/265.

والله اعلم بالصواب

محمد ولى الله عفى عنه

دار الإفتاء والإرشاد

بالجامعة الرحمانية العربية

سات مسجد محمد بور داكا- 1207

 

Share

ব্যবসা প্রসঙ্গে

প্রশ্ন : আমার লক্ষ টাকা আছে। ৬ মাসের জন্য একজন ব্যবসায়ীকে ব্যবসার উদ্দেশ্যে দিতে চাই। কিভাবে টাকা দেয়া আমার জন্য বৈধ। জানিয়ে বাধিত করবেন।
                                                                                                                       নিবেদক
                                                                                                           অলি উল্লাহ নোমান, ঢাকা।

 

ফত্ওয়া নং-2860
بسْم الله الرّحْمن الرّحيْم
ফত্ওয়া বিভাগ                                                                              তারিখ: 13/6/2013 খৃস্টাব্দ
জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া,                                                              মোবাইলঃ ০১৮১৬৩৬৭৯৭৫
সাত মসজিদ,মুহাম্মদপুর,ঢাকা-১২০৭,                                              www.rahmaniadhaka.com
حامدا و مصليا ومسلما
উত্তরঃ-
আপনি নিম্নোক্ত শর্ত সাপেক্ষে ওই ব্যবসায়ীকে টাকা দিতে পারবেন।
1. হালাল ব্যবসায় বিনিয়োগ করতে হবে।
2. চুক্তির সময়ই উভয়ের সম্মতিতে লাভ শতকরা হারে নির্ধারণ করতে হবে। কোনো নির্দিষ্ট পরিমাণের নয়।
3. ব্যবসায় কোনো লোকসান হলে পুরো মূলধনে আপনার অংশ হিসাবে ক্ষতি বহন করতে হবে। অর্থাৎ- পুরো মূলধনে আপনার টাকা 50% পার্সেন্ট হলে ক্ষতিরও 50% পার্সেন্ট বহন করতে হবে।
كما أخرج الإمام عبد الرزاق في مصنفه : (8/ 248, نفقة المضارب ووضيعته
عن علي في المضاربة الوضيعة على المال والربح على ما اصطلحوا عليه.
وفي بدائع الصنائع : (6/ 62, دار الكتاب العربي
إذا شرطا الربح على قدر المالين متساويا أو متفاضلا فلا شك أنه يجوز ويكون الربح بينهما على الشرط سواء شرطا العمل عليهما أو على أحدهما والوضيعة على قدر المالين متساويا ومتفاضلا لأن الوضيعة اسم لجزء هالك من المال فيتقدر بقدر المال.
وفي حاشية ابن عابدين : (4/ 312, سعيد
وفي النهر اعلم أنهما إذا شرطا العمل عليهما إن تساويا مالا وتفاوتا ربحا جاز عند علمائنا الثلاثة خلافا لزفر والربح بينهما على ما شرطا وإن عمل أحدهما فقط وإن شرطاه على أحدهما فإن شرطا الربح بينهما بقدر رأس مالهما جاز ويكون مال الذي لا عمل له بضاعة عند العامل له ربحه وعليه وضيعته وإن شرطا الربح للعامل أكثر من رأس ماله جاز أيضا على الشرط ويكون مال الدافع عند العامل مضاربة ولو شرطا الربح للدافع أكثر من رأس ماله لا يصح الشرط ويكون مال الدافع عند العامل بضاعة لكل واحد منهما ربح ماله والوضيعة بينهما على قدر رأس مالهما أبدا هذا حاصل ما في العناية اه.
وفي الفتاوى الهندية : (2/ 320, دار إحياء التراث العربي
فالربح على ما شرطا وإن خسرا فالخسران على قدر رأس مالهما كذا في محيط السرخسي
والله اعلم بالصواب
محمد رفيق الاسلام عفى عنه
دار الإفتاء والإرشاد
بالجامعة الرحمانية العربية
سات مسجد محمد بور داكا- 1207
Share