জামিয়া রাহমানিয়া: সাফল্যের ধারাবাহিকতায় আরেকটি মাইল ফলক

আশরাফুল উলূম বড় কাট্টা, জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদরাসা গড়ে উঠবার পিছনে কেন্দ্রীয় ব্যক্তিত্ব হিসাবে ভূমিকা ছিল হযরত শামছুল হক ফরিদপুরী রহঃএর ৷ তবে সঙ্গে ছিলেন তাঁর সহপাঠী পর্যায়ের পীরজী হুজুর, হাফেজ্জী হুজুর প্রমূখ ৷ জামিয়া নূরিয়া কামরাঙ্গীর চর গড়ে উঠেছে হাফেজ্জী হুজুর রহঃএর একক নেতৃত্বে ৷ অন্য যারা সঙ্গে ছিলেন, তারা সবাই শিষ্য-শাগরেদ ৷ খাদেমুল ইসলাম গওহরডাঙ্গা গড়ে উঠেছে হযরত সদর সাহেব রহঃএর একক নেতৃত্বে ৷ অন্যরা ছিলেন হুজুরের সহযোগী ৷ তেমনি জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া গড়ে উঠেছে হযরত শাইখুল হাদীস রহঃএর একক নেতৃত্বে ৷ অন্য যারা সঙ্গে ছিলেন, তারা সকলেই শায়খের ছাত্র ও ভক্ত ৷

দুর্ভাগ্যজনকভাবে এক সময় হযরত শায়খ রহঃ তার প্রাণের স্পন্দন এই জামিয়ার পক্ষ থেকেই বেদনা দায়ক আচরণের সম্মুখীন হন ৷
সে এক দুঃখজনক ইতিহাস!
চোখের অশ্রুভেজা করুণ উপাখ্যান!!
অনেক বিষয় নিয়েই মতপার্থক্য হয়েছিল ৷ মতপার্থক্য হওয়ার মত বিষয়ও ছিল সেগুলো ৷ কিন্তু শায়খের বিপক্ষবাদী শুভাকাংক্ষীদের পক্ষ থেকে এখতেলাফের সময় ও তার পরবর্তিতে খুব জোরে-শোরে একটি প্রচারণা চালানো হয়েছিল যে, শায়খের হাতে জামিয়া চলে গেলে এখানে কোনো পড়ালেখা হবে না ৷ জামিয়া রাহমানিয়ার সুনাম ধরে রাখা যাবে না ৷ এটা উনিশশ নিরানব্বই-দুইহাজার সালের কথা ৷ দুইহাজার এক সালে আল্লাহর কুদরতী ফয়সালায় জামিয়া রাহমানিয়া আবার হযরত শাইখুল হাদীস রহঃএর হাতে আসে ৷ তাঁর নেতৃত্বেই পরিচালিত হতে আরম্ভ করে রাহমানিয়া ৷ একঝাঁক তরুণ কর্মবীর সহযোদ্ধা নিয়ে তিনি শুরু করেন নতুন করে পথ চলা ৷ সমালোচকদের অপবাদ মিথ্যা প্রমাণ করে আল্লাহর মেহেরবানীতে পূর্বের ধারা অব্যাহত রেখেই চলতে থাকে রাহমানিয়ার অগ্রযাত্রা ৷ পড়ালেখার মানে এতটুকু ছেদ পড়েনি ৷ বরং দিনে দিনে আরো সমৃদ্ধই হয়েছে রাহমানিয়ার ইতিহাস ৷ যার অন্যতম প্রমাণ হল জাতীয় বোর্ড বেফাকুল মাদারিসের কেন্দ্রীয় পরীক্ষাগুলোতে রাহমানিয়ার ধারাবাহিক সাফল্যের খতিয়ান ৷ দুইহাজার বারো সালে ইন্তেকাল করেন হযরত শায়খ রহঃ ৷ কিন্তু তাঁর নিসবতের বরকতে জামিয়া রাহমানিয়া চলতে থাকে একই গতিতে ৷ ক্রমউন্নতির অভিযাত্রায় আলহামদুলিল্লাহ রাহমানিয়া আজও অগ্রসরমান ৷ ভালো ফলাফল অনেক মাদরাসাই করে ৷ তবে ধারাবাহিক সফলতার ক্ষেত্রে জামিয়া রাহমানিয়ার অবস্থান সত্যিই বিরল ৷

চলতি শিক্ষাবর্ষের প্রকাশিত বেফাকের ফলাফলেও জামিয়া রাহমানিয়া লাভ করেছে ঈর্ষণীয় অবস্থান ৷
মেশকাত ( ফযীলত) শ্রেণীতে রাহমানিয়া থেকে ২য়, ৩য়সহ শীর্ষদশের পাঁচটি, আর মেধা তালিকার মোট সাতটি স্থান পায় রাহমানিয়ার শিক্ষার্থীরা ৷ শরহে বেকায়া( সানাবিয়া উলয়া) থেকেও পাঁচজন স্থান পায় মেধা তালিকায় ৷ আর নাহবেমীর ( মুতাওয়াসসিতা) শ্রেণীতে ১ম, ৩য়সহ শীর্ষ দশে চারজন আর মেধা তালিকায় মোট ৪৩জন স্থান পায় ৷ তাইসীর (ইবতিদাইয়াহ) শ্রেণীতে মেধা তালিকার স্থান হল মোট ৩৮টি ৷ কিতাব বিভাগের চারটি মারহালা থেকে মোট ২৬০জন শিক্ষার্থী বেফাক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণীর ১ম ২য় ৩য়সহ মোট ৯৩টি মেধা তালিকার স্থান পায় ৷ নিঃসন্দেহে এই ফলাফল জামিয়ার শিক্ষার মানের একটি মাইল ফলক ৷
এ সংবাদ রাহমানিয়ার শুভাকাংক্ষীদের জন্য চোখের শীতলতা ৷
শোকর মহান রব্বে কারীমের!
দোয়া করি হযরত শাইখুল হাদীস রহঃএর কলিজার টুকরা, আমাদের প্রাণপ্রিয় জামিয়া রাহমানিয়াকে আল্লাহ তা’আলা দিন দিন সর্বদিক দিয়ে আরো উন্নতি দান করুন ৷

সাফল্যের প্রতিটি পর্বেই স্মৃতির পাতায় ভেসে ওঠে শায়খের মুখচ্ছবি ৷ শায়খের রচিত তারানায়ে জামিয়ার সর্বশেষ পংতিটি উচ্চারিত হত
” শামশীরে খোদা হো ইসকা মুহাফিজ: ইয়ে হুসনো খুবী কা মাজমা’ হায়” আর শায়খের চোখ দিয়ে দরদর করে গড়িয়ে পড়ত মিনতির অশ্রু ৷ জীবনে যতবার শায়খের উপস্থিতিতে এ তারানা গাওয়া হয়েছে ততবারই দেখেছি তাঁকে অশ্রুশিক্ত হতে ৷ কতটা ভালোবাসতেন তিনি তাঁর রাহমানিয়াকে, এ দৃশ্য দেখার সৌভাগ্য যাদের হয়েছে তাদের জন্য আর কোনো বিবরণের দরকার নেই ৷
হে রাহমানিয়ার অনুরাগী! আসো না আমরাও আরেকবার খোদার দরবারে ফরিয়াদ জানাই-
শামশীরে খোদা হো ইসকা মুহাফিজ…
আমীন ৷ সুম্মা আমীন ৷

Share

বাতিল সম্প্রদায় ও তাদের ভ্রান্ত আকিদাসমূহ

শিয়াদের মতবাদ ও আকীদা

শিয়া সম্প্রদায় “ইমামিয়া”দের প্রধানতম দল যা ‘ইসনা আশারিয়া’ নামে পরিচিত বর্তমানে সারা বিশ্বে তাদের অবস্থান ব্যাপক। তাদের মতবাদ ও আকীদা নি¤েœ তুলে ধরা হলো-

ইমামদের সম্বন্ধে শিয়াদের আকীদা

১.    ইমামগণের গর্ভ ও জন্ম হয় অদ্ভুত প্রক্রিয়ায়। অর্থাৎ সাধারণত মানুষ যে প্রক্রিয়ায় জন্ম গ্রহণ করে সে প্রক্রিয়ায় তারা জন্ম গ্রহণ করে না।

২.    ইমামগণ নবীর ন্যায় আল্লাহর পক্ষ থেকে মনোনীত হন।

৩.    শিয়াদের বক্তব্য হলো কুরআন মাজীদে ইমামত ও ইমামগণের বর্ণনা ছিল।

৪.    ইমামগণ পয়গম্বরগণের মতই আল্লাহর প্রমাণ, নিষ্পাপ ও আনুগত্যশীল।

৫.    ইমামগণ পয়গম্বরগণের মত নিষ্পাপ।

৬.    ইমামগণের মর্তবা রাসূলুল্লাহ সা. এর সমান এবং অন্য সকল পয়গম্বরের উর্ধ্বে।

৭.    ইমামগণ যা ইচ্ছা হালাল অথবা হারাম করার ক্ষমতা রাখেন।

৮.   ইমাম ব্যতিত দুনিয়া কায়েম থাকতে পারে না।

৯.    ইমামগণের অতীত ও ভবিষ্যতের জ্ঞান অর্জিত ছিল।

১০.ইমামগণের জন্য কুরআন হাদীস ছাড়াও জ্ঞানের অন্যান্য অত্যাশ্চর্য সূত্র রয়েছে।

১১.ইমামগণের এমন জ্ঞান আছে, যা ফেরেশতা ও নবীগণেরও নেই।

১২.প্রত্যেক জুমার রাত্রিতে ইমামগণের মেরাজ হয়। তারা আরশ পর্যন্ত পৌঁছেন।

১৩.ইমানগণের প্রতি প্রতিবছরের শবে কদরে আল্লাহর পক্ষ থেকে এক কিতাব নাযিল হয় যা  ফেরেশতা ও রূহ নিয়ে আসেন।

১৪.ইমামগণ তাদের মৃত্যুর সময়ও জানেন এবং তাদের মৃত্যুও তাদের ইচ্ছাধীন থাকে।

১৫.ইমামগণের সামনেও মানুষের দিবারাত্রির আমল পেশ হয়।

১৬.ইমামগণ কিয়ামতের দিন সমসাময়িক লোকদের জন্য সাক্ষ্য দিবেন।

১৭.ইমামগণের আনুগত্য করা ফরজ।

১৮.ইমামগণের ইমামত, নবুওয়াত ও রিসালাত স্বীকার করা এবং তাঁদের প্রতি ঈমান-বিশ্বাস স্থাপন করা নাজাতের জন্য শর্ত।

১৯.ইমামত, ইমামগণের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন ও তা প্রচারের আদেশ সকল পয়গম্বর ও সকল ঐশী গ্রন্থের মাধ্যমে এসেছে।

২০.ইমামগণ দুনিয়া ও আখেরাতের মালিক এবং তারা যাকে ইচ্ছে শাস্তি দেন ও ক্ষমা করেন।

২১.ইমামগণ মানুষকে জান্নাত ও দোযখে প্রেরণকারী।

২২.যে ইমামকে মানে না সে কাফের।

২৩.জান্নাতে যাওয়া না যাওয়া ইমামদের মান্য করা না করার উপর নির্ভরশীল।

সাহাবা বিদ্বেষ সংক্রান্ত আকীদা

১.    তারা প্রথম তিন খলীফা হযরত আবু বকর, ওমর ও উসমান রা. কে কাফের ও ধর্মত্যাগী মনে করে। (হযরত আলী রা. এর ইমামত না মানার কারণে)

২.    শিয়াদের কথিত ব্যাখ্যা অনুসারে যারা আলী রা. এর ইমামত মানে না তারা জাহান্নামী। এভাবে তারা সব সাহাবীকে এবং সমস্ত মুসলমানকে কাফের সাব্যস্ত করেছে।

৩.    শিয়াদের সাহাবা বিদ্বেষের পর্যায়ে একথাও উল্লেখযোগ্য যে, তাদের ধারণা হলো প্রতিশ্রুত মাহদী আতœপ্রকাশ করার পর হযরত আয়েশা রা. কে জীবিত করে শাস্তি দিবেন।

৪.    শিয়াদের ধারণায় সাহাবায়ে কেরামের প্রায় সকলেই বিশেষত খলীফাত্রয় কাফের ধর্মত্যাগী আল্লাহ ও রসূলের প্রতি বিশ্বাসঘাতক, জাহান্নামী ও অভিশপ্ত।

৫.    শিয়াদের ধারণায় অন্তর্নিহিত ইমাম যখন আত্মপ্রকাশ করবেন, তখন শায়খাইন হযরত আবু বকর ও ওমর রা. কে কবর থেকে বের করবেন এবং হাজারো বার শূলীতে চড়াবেন।

৬.    শিয়াদের ধারণা হযরত আয়েশা ও হযরত হাফসা মুনাফিকা ছিলেন। তারা রাসূল সা.কে বিষ দিয়ে খতম করেছেন।

 কুরআন বিকৃতি বিষয়ক আকীদা

১.    কুরআনে “পাঞ্জতক পাক” ও সকল ইমামের নাম ছিল।

২.    কুরআনের দুই তৃতীয়াংশ গায়েব করে দেয়া হয়েছে।

৩.    কুরআন বিকৃতি সম্বন্ধে হযরত আলীও বলে গেছেন।

৪.    আসল কুরআন ইমামে গায়েবের নিকট রয়েছে।

৫.    পরিবর্তনের রেওয়ায়েত দু’হাজারেরও অধিক।

৬.    কুরআনে একটি সূরা ছিল যা বর্তমান কুরআনে নেই।  (সেটি হলো সূরাতুল বিলায়াত, আয়াত-৭)

শিয়াদের আরও কিছু মৌলিক আকীদা

১.    তাকিয়্যা ঃ

তাকিয়্যা হলো- এক গুরুত্বপূর্ণ মাসআলাহ, যাকে তাদের নিকট দ্বীনের এক গুরুত্বপূর্ণ রুকন মনে করা হত। এর অর্থ হলো- মানুষ তার মান ও মর্যাদা এবং জান ও মাল শত্রুর কবল থেকে রক্ষা করার উদ্দেশ্যে যা কিছু অন্তরে আছে তার বিপরীত প্রকাশ করবে।

২.    কিতমান ঃ কিতমান এর অর্থ হলো- আসল আকীদা, মাযহাব ও মত গোপন করা এবং অন্যের কাছে প্রকাশ না করা। তাকিয়্যার অর্থ কথায় ও কাজে বাস্তব ঘটনার বিপরীতে অথবা আপন আকীদা মাযহাব ও মতের বিপরীত প্রকাশ করা এবং এভাবে অপরকে ধোঁকা ও প্রতারণায় লিপ্ত করা। শিয়াদের মতে তাদের ইমামগণ সারাজীবন এ শিক্ষা মেনে চলেছেন।

৩.    প্রায়শ্চিত্তের আকীদা ঃ- যেমন: কোন শিয়া যদি এমন অবস্থায় মারা যায় যে, তার যিম্মায় কোন মুমিন ভাইয়ের কর্জ থাকে তাহলে তা ইমাম মাহদি আ. এর আত্মপ্রকাশের পর তিনি তা পরিশোধ করবেন।

 

ইমামিয়া শিয়াদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হলো ‘ইসমাঈলিয়া শিয়া’

এ সম্প্রদায় হলো জাফর ছাদেকের পর তার বড় পুত্র ইসমাঈল এবং তারপর তার পুত্র মুহাম্মাদ আল মাকতুমের ইমামতে বিশ্বাসী।

এ সম্প্রদায়ের আকিদা ঃ-

শরিয়তের একটা জাহির এবং একটা বাতিন থাকে। সাধারণ লোকেরা জাহির সম্বন্ধে অবগত থাকেন আর ইমামগণ জাহির-বাতিন উভয়টি সম্বন্ধে আবগত থাকেন। এ কারণে তাদেরকে বাতিনিয়াও বলা হয়।

 

ইমামিয়া শিয়াদের তৃতীয় বৃহত্তম দল হলো “যায়দিয়া”

যায়দিয়াগণ ইমাম আলী ইবনে হুসাইন অর্থাৎ ইমাম জয়নুল আবেদীনের দ্বিতীয় পুত্র যায়েদ শহীদকে ইমাম মানেন। অতঃপর তারই আউলাদ ও বংশের মধ্যে ইমাম অব্যাহত থাকার বিশ্বাস রাখেন।

প্রথম দিকে যায়দিয়া সম্প্রদায় আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের কাছাকাছি সম্প্রদায় হিসেবে গণ্য হত। তারা কোন সাহাবীর তাকফীর করত না। তবে পরবর্তীতে অধিকাংশ যায়দিয়ার আকীদা বিশ্বাস ইছনা আশারিয়াদের ন্যায় হয়ে যায়। বর্তমানে সহীহ আকীদা বিশ্বাস সম্পন্ন “যায়দিয়া” ইয়ামান প্রভৃতি দেশে কিছু সংখ্যক পাওয়া যায়।

গাইরে মুকাল্লিদ তথাকথিত ‘আহলে হাদীস’ আকীদা

১.    আল্লাহ তা‘য়ালার গঠন ও আকৃতি আছে। (হাদয়াতুল মাহদী-১/৭, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১১৫)

২.    আল্লাহ তা‘য়ালার অবস্থানের স্থান আছে। তিনি আরশে উপবিষ্ট। (হাদয়াতুল মাহদী-১/৯, তাবয়ীবুল কুরআন-৫০, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১১৫)

৩.    “আল্লাহ” শব্দে জিকির করা বিদআত। (আল বুনইয়ানুল মারসূস-১৭৩, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১১৮)

৪.    রামচন্দ্র ও কৃষ্ণ আল্লাহর নবী ছিলেন। (হাদয়াতুল মাহদী-১/৯, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১১৮)

৫.    নবীদের কবরে জীবিত থাকাকে অস্বীকার।

৬.    হযরত ঈসা আ. এর পিতা ছিলেন।  (ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১২৬)

৭.    সাহাবীদের কথা ও কাজ প্রমাণযোগ্য নয়। (ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১৩১)

৮.   সাহাবায়ে কেরামের শানে বেয়াদবী। তারা তারাবীর নামায বিশ রাকাত সুন্নাত হওয়াকে অস্বীকার করে বিদআতে উমরী এবং জুম‘আর প্রথম আযানকে বিদআতে উসমানী বলে আখ্যা দেয়া।

৯.    কতিপয় সাহাবাগণ ফাসেক ছিলেন। (নাউযুবিল্লাহ) এমনকি হযরত মুয়াবিয়া রা. কবীরা গুনাহ ও বিদ্রোহ করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ) (আল বুনইয়ানুল মারসূস-১৮৪, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১৩৫)

১০. জুমআর খুতবায় খোলাফায়ে রাশেদার নাম নেয়া বিদআত। (হাদয়াতুল মাহদী-১১০)

১১. তাকলীদকে অস্বীকার। (আদইয়ানে বাতেলা আওর সিরাতে মুসতাকীম-২৩২)

১২. ইজমায়ে উম্মাতকে অস্বীকার। (আদইয়ানে বাতেলা আওর সিরাতে মুসতাকীম-২৩২)

১৩. আসলাফে উম্মাত বিশেষ করে আইম্মায়ে আরবা‘য়াকে গালী গালাজ ও তাদেরকে   অপবাদ।

১৪. রাসূল সা. এর রওজা যিয়ারতের উদ্দেশ্যে সফর করা জায়েজ নয়। (আরফুল জাদী-২৫৭, ফেরকায়ে আহলে হাদীস-১১৯)

১৫. একই সময়ে যতজন মহিলাকে ইচ্ছে বিয়ে করা জায়েয। চারজনই হতে হবে এমন কোন বাধ্যবাধকতা নেই। (যফরুল লাজী-১৪১,১৪২ এবং আরফুল জাদী-১১৫)

১৬. কাফেরদের জবাই করা পশু হালাল। আর তা খাওয়া জায়েয। (দলীলুত তালেব-৪১৩, আরফুর জাদী-২৪৭)

মওদুদী মতবাদ

 ১.    আম্বিয়ায়ে কেরাম আ. এর ইসমত (নিষ্পাপ হওয়া) প্রসঙ্গ: মওদুদী সাহেব বলেন- এ ব্যাখ্যা গ্রহন করতে কেউ কেউ দ্বিধাবোধ করে থাকেন। তার একমাত্র কারণ এই যে নবীদের বিরুদ্ধে এ ধরনের ভুল-ভ্রান্তির অভিযোগ তোলা নবীদের নিষ্পাপ হওয়া সংক্রান্ত আকীদার পরিপন্থী বলে মনে হয়। কিন্তু যারা এরূপ মতামত পোষণ করেন তারা সম্ভবত: এ ব্যাপারে গভীর ভাবে চিন্তা ভাবনা করেন নি যে, নিষ্পাপ হওয়াটা আসলে নবীদের সত্ত্বাগত অপরিহার্য বৈশিষ্ট্য নয়; বরং আল্লাহ তাদেরকে নবূওয়াত নামক সুমহান পদটির দায়িত্ব ও কর্তব্য সুষ্ঠভাবে পালন করার সুযোগ দানের জন্য একটা হিতকর ব্যবস্থা হিসেবে গুনাহ থেকে রক্ষা করেছেন। নচেৎ আল্লাহর এই সংরক্ষণমূলক ব্যবস্থাটা যদি ক্ষণিকের জন্যও তাদের ব্যক্তিসত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাহলে সাধারণ মানুষের যেমন গুনাহ হয়ে থাকে তেমনি নবীদেরও হতে পারে। এটা বড়ই মজার কথা যে, আল্লাহ ইচ্ছাকৃত প্রত্যেক নবী থেকেই কোন না কোন সময় নিজের সংরক্ষণ ব্যবস্থা তুলে নিয়ে দু‘একটা গুনাহ ঘটে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন যাতে মানুষ নবীদেরকে খোদা মনে করে না বসে এবং তারা যে মানুষ খোদা নন সেটা বুঝতে পারে।

২.    নবীগণ কর্তৃক নবুওয়াতের দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গ: রাসূল সা. সম্পর্কে তিনি বলেন-

সে পবিত্র সত্ত্বার নিকট কাতর কন্ঠে আবেদন করুন হে মালিক! এ তেইশ বছরের নববী জীবনে দ্বীনের খেদমত আঞ্জাম দানকালে স্বীয় দায়িত্বসমূহ আদায়ের বেলায় যে সকল ত্রুটি-বিচ্যুতি আমার থেকে সংঘটিত হয়েছে তা ক্ষমা করে দাও।

৩.    আম্বিয়ায়ে কেরামের সমালোচনা প্রসঙ্গ: তিনি বিভিন্ন নবী সম্পর্কে সমালোচনা করে বলেন- হযরত দাউদ আ. তার যুগের ইসরাঈলী সমাজের সাধারণ প্রথায় প্রভাবান্বিত হয়ে উরিয়ার কাছে তার স্ত্রীকে তালাক দেয়ার আবেদন করেছিলেন। অন্যত্র বলেছেন- হযরত দাউদ আ. এর এ কাজে কুপ্রবৃত্তির কিছুটা দখল ছিল।

হযরত ইউছুফ আ. সম্পর্কে বলেন- এটা কেবল অর্থ মন্ত্রীর গদী লাভের দাবী ছিল না ; যেমন কোন কোন লোক মনে করে থাকেন বরং তা ছিল ডিরেক্টরশীপ লাভের দাবী। এর ফলে ইউছুফ আ. যে পজিশন লাভ করেছিলেন তা প্রায় এ ধরনের ছিল যা ইটালীর মুসেরিনরের রয়েছে। আদি পিতা আদম আ. থেকে প্রকাশিত ঐ মানবিক দুর্বলতার হাকীকত বুঝে নিতে হবে যা আদম আ. এর মধ্যে এক আত্মবিস্মৃতির জন্ম দিয়েছিল এবং আত্মœনিয়ন্ত্রণের বাধন ঢিলা হওয়া মাত্রই তিনি আনুগত্যের সু-উচ্চ মর্যাদা থেকে পাপের অতল গহ্বরে তলিয়ে গিয়েছিলেন।

নবীদের সম্পর্কে বলেন- অন্যদের কথা তো স্বতন্ত্র। প্রায়শ:ই পয়গম্বরগণও তাদের কু-প্রবৃত্তির মারাতœক আক্রমণের সম্মুখীন হয়েছেন।

৪.    সাহাবায়ে কেরামের আদালত ও সমালোচনা প্রসঙ্গ: তিনি বলেন-

অনেক সময় মানবিক দুর্বলতা সাহাবীদেরকেও আচ্ছন্ন করে ফেলত। এবং তারা পরস্পরের উপর আঘাত করে কথা বলতেন। ঐতিহাসিকদের ভাষ্য কাঁট ছাঁট করে হযরত মুয়াবিয়া রা. এর বিরুদ্ধে অভিযোগ হিসেবে তুলে ধরেছেন।

৫.    সাহাবায়ে কেরামের সত্যের মাপকাঠি হওয়া প্রসঙ্গ: তিনি বলেন-

রাসূলে খোদাকে ছাড়া কাউকে হকের মাপকাঠি বানাবে না। কাউকে সমালোচনার উর্ধ্বে মনে করবে না। কারো যিহনী গোলামীতে লিপ্ত হবে না।

৬.    ঈসা আ. সম্পর্কে বলেন- এটাই ভাল যে হযরত ঈসা আ. কে স্বশরীরে আসমানে উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে এ কথা বলা থেকে বিরত থাকা এবং তিনি মৃত্যুবরণ করেছেন একথা বলা থেকেও বিরত থাকা।

৭.    ইমাম মাহদী সম্পর্কে বলেন- আমার মুসলমানদের মধ্যে যারা ইমাম মাহদীর আগমনের উপর বিশ্বাস রাখেন তারা যথেষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যে অবস্থান করছেন। তারা মনে করেন ইমাম মাহদী পুরাতন যুগের কোন সুফী ধরনের লোক হবেন। আমার মতে আগমনকারী ব্যক্তি তার নিজের যুগের একজন আধুনিক নেতা হবেন।

৮.   কুরআন ও ইসলাম সর্বযুগে সংরক্ষিত কি না এ প্রসঙ্গ: তিনি বলেন-

কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার সময় এ শব্দগুলোর (ইলাহ, রব, দ্বীন ও ইবাদত) যে মৌল অর্থ প্রচলিত ছিল পরবর্তী শতকে ধীরে ধীরে তা পরিবর্তিত হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত একটি শতাব্দীতে তার সম্পূর্ণ ব্যাপকতা হারিয়ে একান্ত সীমিত বরং অস্পষ্ট অর্থের জন্য নির্দিষ্ট হয়ে পড়ে। এক পৃষ্ঠা পর লিখেছেন, এটা সত্য যে কেবল এর চারটি মৌলিক পরিভাষার তাৎপর্যে আবরণ পড়ে যাওয়ার কারণেই কুরআনের তিন চতুর্থাংশের চেয়ে বেশী শিক্ষা এবং তার সত্যিকার স্প্রিটই দৃষ্টি থেকে প্রচ্ছন্ন হয়ে যায়।

৯.    আমল এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে তার দৃষ্টিভঙ্গি: নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত ইত্যাদি ইবাদতসমূহ জিহাদ ও ইসলামী হুকুমত কায়েমের প্রস্তুতির জন্যই নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অন্যত্র বলেন: মূলত মানুষের রোজা, নামায, হজ্জ, যাকাত, যিকির, তাসবীহ ঐ বড় ইবাদতের জন্য প্রস্তুত করার ট্রেনিং কোর্স।

১০.দাড়ি প্রসঙ্গ: তিনি বলেন- রাসূল সা. যতবড় দাড়ি রেখেছেন ততো লম্বা দাড়ি রাখাই হলো সুন্নাতে রাসূল বা উসওয়ায়ে রাসূল। আপনার এ ধারণার অর্থ এই দাঁড়ায় যে আপনি রাসূলের অভ্যাসকে হুবহু রাসূলের এই সুন্নাতের মর্যাদা সম্পন্ন মনে করেছেন, যা জারি ও প্রতিষ্ঠা করার জন্য নবী পাক সা. এবং অন্যান্য আম্বিয়ায়ে কেরাম প্রেরিত হয়েছিলেন। তিনি আরো বলেন- আমার মতে কারো দাড়ি ছোট কিংবা বড় হওয়ার মধ্যে বিশেষ কোন পার্থক্য নেই।

 হাদীস অস্বীকারকারীদের মতবাদ

১.    রাসূলে কারীম সা. এর দায়িত্ব ছিল শুধু কুরআন পৌঁছানো। আনুগত্য ওয়াজিব শুধু কুরআনের। রাসূল হিসেবে রাসূল এর আনুগত্য না সাহাবায়ে কেরামের উপর ওয়াজিব ছিল, না আমাদের উপর ওয়াজিব। এবং ওহী শুধু মাতলূ। ওহীয়ে গায়রে মাতলূ বলতে কোন জিনিস নেই। তাছাড়া কুরআনে কারীম বুঝার জন্য হাদীসের প্রয়োজন নেই।

২.    রাসূল সা. এর বাণীগুলো সাহাবীদের জন্য তো প্রমাণ ছিল। কিন্তু আমাদের জন্য তা প্রমাণ নয়।

৩.    রাসূল সা. এর হাদীসসমূহ সমস্ত মানুষের জন্য হুজ্জাত বা প্রমাণ। কিন্তু বর্তমানে হাদীসগুলো আমাদের দায়িত্বে বর্তায় না।

৪.    রাসূল সা. এর হাদীস হুজ্জাত, কিন্তু খবরে ওয়াহেদ হল  ظنىবা ধারণামূলক হাদীস। তাই তা গ্রহনযোগ্য নয়।

 সুরেশ্বরী এর মতবাদ

১.    তাদের মতে সামা, নাচ, গান, বাদ্য সবই জায়েজ।

২.    তারা সেজদায়ে তাহিয়্যাহ (সম্মানের সেজদা) বৈধ হওয়ার প্রবক্তা।

৩.    তারা মাযারে গিলাফ, ফুল, আগরবাতি, মোমবাতি ও গোলাপজল দেয়ার প্রবক্তা।

৪.    কবরের মাটি নরম কিংবা তাতে জল কাদা থাকলে তাতে বিছানা কিংবা কাঠ দেওয়া কর্তব্য। নেক লোকের কবরে খাট দিলেও কোন দোষ নেই।

৫.    মরণের পর যে কয়েকদিন রুহ দোয়া দানের জন্য আসে, তার নাম তিজা, চাহারম, সপ্তমী, দশই, সাতাইশা, চল্লিশা, ছমাসি, সালায়ানা।

৬.    পীরের নিকট দীক্ষিত না হলে কোন বন্দেগী কবুল হয় না।

৭.    কোন কামেল ওলীর কোন ইবাদাত বন্দেগীর প্রয়োজন হয় না।

৮.   আহাদ ও আহমাদের (আল্লাহ ও তার রাসূলের) মীমের পার্থক্য কেবল হামদ ও নাতের জন্য।

৯.    রাসূল সা. ইলমে গায়েবের অধিকারী।

 এনায়েতপুরী

১.    এনায়েতপুরী সাহেবের বংশের সকলেই মাদারজাত ওলী। তিনি বলেন- আমার বংশের তেফেল শিশু বাচ্চাকেও যদি তোমরা পাও তাহাকে মাদারজাত ওলী মনে করিও।

২.    আহাদ ও আহমাদের (আল্লাহ ও তার রাসূলের) মীমের মধ্যে পার্থক্য কেবল হামদ ও নাতের জন্য। তিনি বলেন-

আহাদে আহম্মদ বানাইয়ে মিমকা পদ মাঝে দিয়ে

খেলতিয়াছেন পাক বারি হইয়া বে-নিশান

৩.    একশত ত্রিশ ফরজ (যার মধ্যে চার কুরছী অর্থাৎ মুহাম্মাদ আব্দুল্লাহর পুত্র, তিনি আব্দুল মোতালেবের পুত্র, তিনি হাশেমের পুত্র, তিনি আব্দুল মানাফের পুত্র। ইত্যাদি কথা রয়েছে) জানাকে ফরজ সাব্যস্ত করেছেন।

৪.    তাদের মতে পীর ধরা ফরজ।

৫.    পীরের মধ্যে ‘তাওয়াজ্জুহ দিয়ে মানুষের মধ্যে পরিবর্তন এনে দিতে পারেন’ এমন ক্ষমতা রয়েছে।

৬.    এনায়েতপুরী তার মুরীদ ও খলীফাকে বলেন- বাবা তোর ভাল-মন্দ উভয়টাই আমার হাতে রইল। তোর কোন চিন্তা নাই।

তার সাহেবযাদা লিখেছেন- খাজা তোমার দরবারে কেউ ফিরে না খালি হাতে, খাজা তোমার পাক রওজায় এসে যদি কেউ কিছু চায়, চাইতে জানলে রয়না কাঙ্গাল অফুরন্ত ভান্ডারে।

৭.    তাদের মতে সামা জায়েয। তারা ওরস এর প্রবক্তা। আটরশির পীর তার উদ্বৃতি দিয়ে বলেন- ওরস শরীফ কাজা করিলে পরবর্তী এক বছরের জন্য বহু দুর্ভোগ পোহাইতে হয়। যাবতীয় আয় উন্নতির পথ রুদ্ধ হয়।

 চন্দ্রপুরী

 ১.    কোন লোক বড় বুযুর্গ হলে তার আর ইবাদত লাগে না। তিনি বলেন- কোন লোক মাকামে ছুদুর, নশোর, শামসী, নুরী, করবে মাকিনের মোকাম অতিক্রম করিয়া নফসির মোকামে গিয়ে পৌঁছে তখন তাহার কোন ইবাদত থাকে না। জযবার অবস্থায়ও কোন লোক যখন ফানার শেষ জজবায় গিয়ে পৌঁছে, তখনও তাহার কোন ইবাদত থাকেনা। এমনকি তখন ইবাদত করিলে কুফুরী হইবে।

২.    জিব্রাঈল আ. এবং আল্লাহ এক ও অভিন্ন। তিনি বলেন- জিব্রাঈল বলতে অন্য কেহ নন, স্বয়ং হাকীকতে আল্লাহ।

৩.    ফেরেশতারা আল্লাহর নাফারমানী করে।

৪.    তিনি পুনর্জ¤œবাদের প্রবক্তা। তিনি বলেন- “আল্লাহর বাণী  ثم يحييكم” এর অর্থ পৃথিবীতে পুনরায় জন্মলাভ করা।

 দেওয়ানবাগী

 ১.    মুক্তির জন্য ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করা জরুরী নয়। তিনি বলেন- আমার এখানে এক ব্যক্তি আসে সে ভিন্ন ধর্মের আনুসারী। তার ধর্মে থেকেই ওজীফা আমলের নিয়ম তাকে বলে দিলাম। কিছুদিন পর লোকটা এসে আমাকে জানালো হুজুর, একরাত্রে স্বপ্নে আমার রাসূল সা. এর রওযা শরীফে যাওয়ার খোশ নসীব হয়।

২.    জান্নাত, জাহান্নাম, হাশর, মীযান, পুলসিরাত, কিরামান-কাতেবীন, মুনকার-নাকীর, ফেরেশতা, হুর, তাকদীর, আমলনামা ইত্যাদির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, এগুলোর অর্থ আমরা যা মনে করি তা নয়। বরং জান্নাতের অর্থ হল প্রভূর সাথে পুনরায় মিলনে আত্মœার যে প্রশান্তি ও আনন্দ লাভ হয় উহাই শ্রেষ্ঠ সুখ। এরই নাম জান্নাত।

জাহান্নাম সম্পর্কে বলেন- আতœার চিরস্থায়ী যন্ত্রনাদায়ক অবস্থাকেই জাহান্নাম বলে।

হাশর সম্পর্কে বলেন- সূফী সাধকগণের দৃষ্টিতে মানুষের হাশর পৃথিবীর বুকে সংঘঠিত হয়ে থাকে। তিনি বলেন- প্রকৃত পক্ষে মৃত্যুর পর মৃত ব্যক্তির দেহের কোন ক্রিয়া থাকে না। তার আত্মার উপরই সব কিছু হয়ে থাকে। আর এ আত্মাকে পরিত্যাক্ত দেহে আর কখনো প্রবেশ করানো হবে না।

৩.    তিনি পুনর্জন্মœবাদের প্রবক্তা। তিনি বলেন- “আল্লাহর বাণী  ثم يحييكم” এর অর্থ  পৃথিবীতে পুনরায় জন্মলাভ করা।

৪.    আল্লাহ ও রাসূলকে স্বচক্ষে না দেখে কালিমা পড়ে সাক্ষ্য দেয়ার ও বিশ্বাস করার কোন অর্থ হয় না।

৫.    কুরআন, কিতাব, হাদীস, তাফসীর পড়ে আল্লাহকে পাওয়া যায় না। একমাত্র সাহায্য নিয়ে আধ্যাতিœক সাধনা করেই আল্লাহকে পাওয়া সম্ভব। এমনকি দুনিয়াতেই স্বচক্ষে দেখা যায়।

৬.    আল্লাহর সাথে যোগাযোগ ক্বালবেরই হয়ে থাকে। অন্য ভাবে হাজার ইবাদত করেও আল্লাহকে পাওয়া যায় না।

৭.    সাধনার দ্বারা আল্লাহকে নিজের ভিতরই খুঁজে পাওয়া সম্ভব। বাইরে কোথাও নয়।

৮.   এরূপ ধ্যান করবেন যে, আদমের পায়ের নীচে ক্বালব। এই ক্বালবে আল্লাহ ও রাসূল থাকেন।

৯.    ১৯৯৮ সালে বিশ্ব আশেকে রাসূল সম্মেলনে আল্লাহ ও রাসূল স্বয়ং দেওয়ানবাগে এসেছিলেন। আল্লাহ ফেরেশতাদেরকে উক্ত সম্মেলনে উপস্থিত সমস্ত আশেক্বদের তালিকা তৈরী করতে নির্দেশ দিলেন। ঐ তালিকাভুক্ত সবাই বেহেশতে চলে যাবে।

১০.সূর্যোদয় পর্যন্ত সেহরী খাওয়ার সময়। হুজুররা ঘুমানোর জন্য তাড়াতাড়ি আযান দিয়ে দেয়। আপনি কিন্তু খাবার বন্ধ করবেন না।

১১.তাদের অন্যতম শ্লোগান হল, ঘরে ঘরে মীলাদ দাও রাসূলের শাফায়াত নাও।

বে-শরা ফকীর

১.    শরীয়ত বা মা‘রেফাত ভিন্ন ভিন্ন। শরীয়তে যা নাজায়েয মা‘রেফাতের পন্থায় তা জায়েয।

২.    তারা বাতেনী দায়েমী নামাযের প্রবক্তা।

৩.    ক্বালব ঠিক থাকলে সব ঠিক। ক্বালব ঠিক থাকলে যাহিরী ইবাদতের প্রয়োজন পড়ে না।

৪.    কুরআনের ত্রিশ পারা যাহিরী আর দশ পারা বাতেনী। এই দশ পারা পীর ফকীরদের সিনায় সিনায় চলে আসছে।

৫.    গায়রে মাহরাম নারী-পুরুষ পর্দাহীন ভাবে যিকির করা বৈধ।

৬.    কোন পুরুষ যে কোন নারীকে ভোগ করতে পারে।

৭.    তাদের মতে গান বাদ্য করা বৈধ।

৮.   তাদের মতে মদ গাজা খাওয়া বৈধ।

৯.    তারা পীর ফকীরদের মধ্যে আল্লাহর হুলুলের আকীদা রাখে।

বাউল সম্প্রদায়

১.    চার চন্দ্র তত্ত্ব: অর্থাৎ সিদ্ধি অর্জন করার জন্য শুক্র, রজ, বিষ্ঠা ও মুত্র এ চারটি জিনিসের গুরুত্ব অপরিসীম।

২.    মনের মানুষ তত্ত্ব: তারা আল্লাহ, অচিন পাখি, মনের মানুষ, আলেক সাঁই ইত্যাদিকে সমার্থবোধক মনে করে থাকেন। আত্মসন্ধানের মাধ্যমে তারা এই কথিত মনের মানুষ তথা খোদাকে সন্ধানই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

৩.    আল্লাহ ও রাসূল এক হওয়ার তত্ত্ব: তাদের ধারণা হল আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। যিনি আল্লাহ তিনিই রাসূল।

৪.    মুরশিদ তত্ত্ব: তারা যেমন আল্লাহ ও রাসূলের মধ্যে কোন পার্থক্য করে না তেমনি আল্লাহ ও মুরশিদের মধ্যেও কোন পার্থক্য করে না।

৫.    সর্ব ধর্ম সমন্বয়ের দর্শন: অর্থাৎ বাউল ধর্মের লক্ষ্য হল- সর্ব ধর্মের সার সমন্বয় সাধন।

৬.    তারা ঐশী শাস্ত্র ভিত্তিক কোন ধর্ম ও সমাজ ব্যবস্থা মানে না। তারা দেশ জাত বর্ণ ধর্ম নির্বিশেষে কেবল মানুষকে জানতে মানতে ও শ্রদ্ধা জানাতে চায়। মানুষের ভেতর মনের মানুষকে খুঁজে পেতে চায়।

৭.    তারা সংসার বিরাগী হয়ে থাকে। আত্মœসন্ধানের মাধ্যমে কথিত মনের মানুষকে সন্ধান করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

৮.   তাদের সাধনার প্রধান অঙ্গ হল সঙ্গীত।

বেরেলভীদের আকীদা

রাসূল সা. এর প্রেমের আতিশয্য প্রকাশ করতে গিয়ে বেরেলভীরা জঘন্য ধরনের বহু শিরকী ও বিদআতী আকীদার উদ্ভব ঘটিয়েছে। নি¤েœ তার কিছু নমুনা দেয়া হল-

১.    তাদের বিশ্বাস হল, রাসূলুল্লাহ সা. এমন ক্ষমতার অধিকারী, যার মাধ্যমে তিনি সারা দুনিয়া পরিচালনা করে থাকেন। (বেরেলভীয়্যত: আকাইদ ও তারীখ, দিল কা সরূর)

তাদের একজন বড় নেতা আমজাদ আলী বেরেলভী বলেছেন- রাসূলুল্লাহ সা. হলেন আল্লাহর সরাসরি নায়েব। সমস্ত বিশ্বজগৎ তাঁর পরিচালনার অধীন। তিনি যা খুশী করতে পারেন এবং যাকে খুশী দান করতে পারেন, যাকে খুশী নিঃস্বও করতে পারেন। তাঁর রাজত্বে হস্তক্ষেপ করা দুনিয়ার কারো পক্ষে সম্ভব নয়। যে তাঁকে অধিপতি হিসাবে মনে করে না, সে সুন্নাত অনুসরণের স্বাদ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

২.    বেরেলভীদের বিশ্বাস হল- রাসূলুল্লাহ সা. নূরের তৈরী। (বেরেলভীয়্যত: আকাইদ ও তারীখ, এখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম)

৩.    এবং তিনি হাজির (সর্বত্র উপস্থিত) ও নাযির (সর্বদ্রষ্টা)। (এখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম)

আর সেটা এইভাবে যে, বিশ্বের প্রতিটি অণু-পরমাণুতে তাঁর রুহানিয়্যাত (আত্মিকশক্তি) ও নূরানিয়্যাত বিচ্ছুরিত হয়। এই রুহানিয়্যাত ও নূরানিয়্যাতের জন্য স্থানের নৈকট্য -দূরত্বের কোন তারতম্য নেই। কেননা আলমে খালক্ব (সৃষ্টিজগৎ) স্থানকালের গ-িতে আবদ্ধ, কিন্তু আলমে আমর (নির্দেশজগৎ) এই গ-ি হতে মুক্ত ও পবিত্র। ফলে যুগপৎভাবে বিভিন্ন স্থানে তাঁর উপস্থিতি এবং প্রকাশ্যভাবে জাগ্রত অবস্থায় তাঁর সাক্ষাত লাভে আওলিয়া কেরামের ধন্য হওয়া সম্ভবপর। কারণ তিনি নূর। আর নূর স্বীয় দৃষ্টি শক্তি দ্বারা নিখিল বিশ্ব দর্শন করতে সক্ষম এবং তাঁর পক্ষে বিভিন্ন স্থানে একই সময়ে উপস্থিত হওয়া সম্ভব।

তাদের মতে, রাসূল সা. হলেন গায়েবজান্তা। এমন কি পঞ্চ-গায়েবের মধ্য হতে নানা শাখাগত জ্ঞান লাভ করেছেন। ভূত-ভবিষ্যতের যতসব ঘটনা লাওহে মাহফূযে সংরক্ষিত হয়েছে এবং এ ছাড়াও অন্যান্য ঘটনা রাসূল সা. অবহিত ছিলেন। আহমাদ রেজা খান লিখেছেন- আল্লাহ আমাদের নেতা। আমাদের অভিভাবক মুহাম্মাদ সা. কে লওহে মাহফূযের যাবতীয় কিছু দান করেছেন। (খালেছুল ইতক্বাদ-৩৩)

৪.    রাসূল সা. কে হাজির-নাজির জ্ঞান করত: ইয়া রাসূলাল্লাহ বলে রাসূল সা. কে সম্বোধন করা। (এখতেলাফে উম্মত আওর সিরাতে মুস্তাকীম)

যেহেতু বেরেলভীদের মতে, রাসূলুল্লাহ সা, হাজির-নাজির, আলিমুল গায়েব ও নূর, সেহেতেু তার নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা, তাঁকে ডাক দেয়া এবং ইয়া রাসূলাল্লাহ ধ্বনি দেওয়া জায়েয। সাহায্যের জন্য যে ব্যক্তি তাঁকে ডাকে, তিনি তা শ্রবণ করেন এবং তাকে সাহায্য করেন। এজন্য প্রতি ফরয ছালাতের পর তাদের ইমাম সাহেব সূরা আহযাবের ৫৬ নং আয়াত পড়ে ইয়া নবী সালামু আলাইকা বলে কোরাস শুরু করেন এবং মুক্তাদীরা সমস্বরে সেই কোরাসে যোগ দেয়।

মাইজ ভা-ারীর ভ্রান্তিকর মতবাদ সমূহ

১.    ধর্ম নিরপেক্ষতা মতবাদ (অর্থাৎ হিন্দু, বৌদ্ধ, খৃস্টান যে কোন ধর্মের লোক নিজ নিজ ধর্মে সাধনা করে মুক্তি পাবে)। তথ্যসূত্র ঃ গাউসুল আজম মাইজভা-ারী জীবনী ও কারামত, সংকলক সংগ্রাহক মাওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ দেলাওয়ার হুসাইন, পঞ্চদশ প্রকাশ, জুলাই- ২০০২। পৃষ্ঠা-১৫১,১৫২।

২.    বিশেষ স্তরে শরীয়তের বিধান শিথিল হওয়ার মতবাদ (অর্থাৎ বিশেষ কামেল স্তরের ব্যক্তিবর্গের জন্য নামায রোযা ইত্যাদির বিধান শিথিল হয়ে যায়। বস্তুত একারণেই অনেক ভা-ারীকে বাতিনী নামাযের নামে নামায থেকে বিরত থাকতে দেখা যায়)। তথ্যসূত্র ঃ বেলায়েতে মোতলাকা আলহাজ শাহ সুফী সৈয়দ মুনিরুল হক, মোনতাজেম দরবারে গাউছুল আজম মাইজ ভা-ারী কর্তৃক প্রকাশিত, ৮ম সংস্করণ, এপ্রিল- ২০০১, পৃষ্ঠা-১৬।

৩.    শরীয়ত ও তরীকত ভিন্ন হওয়ার মতবাদ। (অর্থাৎ শরীয়ত সাধারণ মানুষের জন্য কামেল স্তরের মানুষের জন্য শরীয়তের বিধি বিধান পালনের বাধ্যবাধকতা থাকে শরীয়তে অনেক কিছু জরুরী যা তরীকতে জরুরী নয়।)

৪.    পীরের মধ্যে খোদায়িত্ব আরোপ করার মতবাদ। (অর্থাৎ তাদের পীর আল্লাহর প্রকাশ বা আল্লাহর অবতার) তথ্যসূত্র ঃ রতœ ভা-ার প্রথম খ-, পৃষ্ঠা-২১, প্রকাশক সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ ১৯৯৭।

৫.    হায়াত- মওতের ব্যাপারে পীরের নিয়ন্ত্রণ। (অর্থাৎ পীর সাহেব বেলায়তী ক্ষমতায় আজরাঈল হইতে রক্ষা ও মৃত্যু সময় পরিবর্তন করতে পারেন) তথ্যসূত্র ঃ গাউছুল আজম মাইজভা-ারী জীবনী ও কারামত সংকলক সংগ্রাহক মাওলানা শাহ ছুফী সৈয়দ দেলাওয়ার হুসাইন, পঞ্চদশ প্রকাশ, জুলাই- ২০০২। পৃষ্ঠা-১২৯।

৬.    পীর কর্তৃক পরকালে মুক্তি পাওয়ার মতবাদ। (অর্থাৎ পীর মৃত্যুকালে কণ্ঠ থেকে মুক্তি দিবেন। কবরে আরামের ব্যবস্থা করবেন, হাশরে মুক্তির ব্যবস্থা করে দিবেন।) তথ্যসূত্র ঃ রতœ ভা-ার, পৃষ্ঠা-১৭, প্রকাশক-সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ ১৯৯৭।

৭.    পীর কর্তৃক কামনা-বাসনা হওয়ার মতবাদ। (অর্থাৎ তাদের পীর তাদের কামনা বাসনা পূর্ণ করেন।) তথ্যসূত্র ঃ রতœ ভা-ার, প্রথম খ-, পৃষ্ঠা-১৭, প্রকাশক-সৈয়দ মুনিরুল হক, ৮ম সংস্করণ।

৮.   গান-বাদ্য জায়েজ হওয়ার মতবাদ। (অর্থাৎ যাহারা গান বাদ্য জনিত জিকির বা জিকরী মাহফিল করিতে চাহেন তাহাদের জন্য বাদ্য-যন্ত্র সহকারে জিকির বা জিকরী মাহফিল করিবার অনুমতি আছে।) তথ্যসূত্র ঃ মিলাদে নববী ও তাওয়াল্লেদে গাউছিয়া, মাইজভা-ারীর দ্বিতীয় পীর শাহ্ সৈয়দ দেলোয়ার হুসাইন কর্তৃক সম্পাদিত, ১১ম সংস্করণ, জুন-২০০২, পৃষ্ঠা-৪।

কাদিয়ানীদের আকীদা বিশ্বাস

১. ইমাম মাহদী সম্পর্কিত মুসলমানদের ধারণা ভুল।

২. হযরত ঈসা মাসীহ সম্পর্কিত মুসলমানদের ধারণা ভুল।

৩. খতমে নবুওয়াত সম্পর্কিত মুসলমানদের ধারণা ভুল।

৪. গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নবী, তার নিকট ওহী আসত, তার উপর ২০ পারার মত কুরআন

নাযিল হয়েছিল।

৫. খোদার পুত্র হয়েছিল।

৬. গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী মুহাম্মাদ সা. এর প্রকাশ ছিলেন।

৭. গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী আল্লাহ এর প্রকাশ ছিলেন।

৮. গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী ছিলেন মুহাম্মাদ এবং আহমাদ।

৯. গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী অনেক নবী; বরং সমস্ত নবী রাসূল থেকে এমনকি হযরত মুহাম্মাদ সা. থেকেও শ্রেষ্ঠ।

১০.গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী ছিলেন খোদার অবতার বা খোদা।

১১.গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী ছিলেন কৃষ্ণের অবতার।

১২.মির্জা সাহেব ছিলেন ইবরাহীম।

১৩.পুনর্জন্মবাদে বিশ্বাস।

১৪.কাদিয়ানীগণ নি¤েœাক্ত ব্যক্তিবর্গকে নবী মনে করেন : রামচন্দ্র, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, জরদশত,

কনফুসিয়াস, ও বাবা নানক।

১৫.মির্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী খাতামুন্নাবীয়্যিন অর্থাৎ শেষ নবী। তার পরে আর কোন  নবী আসবেন না। এছাড়াও মির্জা গোলাম আহমদের আরও কিছু দাবি রয়েছে যা পরস্পর বিরোধী।

১৬.মির্জা গোলাম আহমাদ মুজাদ্দিদ।

১৭.তিনি ইমাম।

১৮.তিনি খলীফা।

১৯.তিনি ঈসা ইবনে মারইয়াম।

২০.তিনি ঈসা ইবনে মারইয়ামের অবতার।

২১.তিনি মাসীহে মাওউদ (প্রতিশ্রুত মাসীহ) তিনি বলেন- কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে হযরত ঈসা মাসীহের আসমান হতে অবতরণ করার যে কথা হাদীসে উল্লেখ আছে তা আমি।

২২. তিনি যিল্লি নবী বা রুরীজী নবী অর্থাৎ ছায়া নবী।

২৩.তিনি উম্মতী নবী।

২৪.তিনি এলহামী নবী।

২৫.তিনি নবী।

২৬.তিনি রাসূল।

২৭.তার উপর ২০ পারার মত কুরআন নাযীল হয়েছে।

২৮.তিনি ঈসা আ. এর চেয়ে শ্রেষ্ঠ।

২৯.তিনি সকল নবীর সমকক্ষ।

৩০.তিনি আদম, শীশ, নূহ, ইবরাহীম, ইসহাক, ইসমাঈল, ইয়াকুব, ইউসুফ, মূসা, দাউদ, ঈসা প্রমুখ।

৩১.তিনি কোন কোন নবী থেকে শ্রেষ্ঠ।

৩২.তিনি সমস্ত নবী রাসূল থেকে শ্রেষ্ঠ।

৩৩.তিনি জগতবাসীর জন্য আল্লাহর রহমত স্বরূপ।

৩৪.তাকে সৃষ্টি না করা হলে আসমান যমীন কিছুই সৃষ্টি করা হত না।

৩৫.তিনি আল্লাহর পুত্রবৎ।

৩৬.তিনি শ্রী কৃষ্ণের অবতার।

৩৭.তিনি শ্রীকৃষ্ণ।

৩৮.তিনি যুলকারনাইন।

 

Share

আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মৌলিক আকীদাসমূহ

আমরা আল্লাহ তায়ালার তাওফীককে বিশ্বাস করে তাঁর একত্মবাদের ব্যাপারে বলি:

১.    আল্লাহ এক।

২.    তাঁর কোন শরীক (অংশিদার) নেই।

৩.    কোন কিছুই তাঁর সদৃশ নয়।

৪.    তাঁকে অক্ষমকারী কোন জিনিস নেই।

৫.    তিনি ব্যতীত কোন মা‘বুদ নেই।

৬.    তিনি আদি, যার কোন শুরু নেই।

৭.    তিনি অবিনশ্বর, যার কোন অন্ত নেই।

৮.   তাঁর কোন ধ্বংসও নেই এবং ক্ষয়ও নেই।

৯.    তিনি যা ইচ্ছা করেন-তাই হয়।

১০.মানুষের ধারণা আল্লাহ তায়ালা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে না।

১১.বোধশক্তি তাঁকে উপলব্ধি করতে পারে না।

১২.সৃষ্টিজীব তাঁর সাদৃশ্যতা অবলম্বন করতে পারে না।

১৩.তিনি চিরস্থায়ী, কখনো মৃত্যুবরণ করবেন না।

১৪.তিনি চিরঞ্জীব কখনো ঘুমান না।

১৫.তিনি প্রয়োজন ব্যতীত  অর্থাৎ তিনি নিজ প্রয়োজনে মাখলুক সৃষ্টি করেননি।

১৬.তিনি কষ্ট ব্যতিত রিযিকদাতা।

১৭.কোনরূপ ভয় ব্যতিত মৃত্যুদানকারী।

১৮.কোন কষ্ট ছাড়াই পুনরুত্থানকারী।

১৯.তিনি মাখলুক সৃষ্টির পূর্বে স্বীয় গুণাবলীর সাথে অনাদি।

২০.মাখলুককে সৃষ্টির দ্বারা তাঁর এমন কোন গুণ বৃদ্ধি পায়নি, যা তাদের সৃষ্টির পূর্বে ছিল না।

২১.যেমনিভাবে তিনি নিজ গুণাবলী নিয়ে অনাদি, তদ্রƒপ তিনি নিজ গুণাবলীসহ চিরন্তন ও চিরঞ্জীব।

২২.সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করার পর তিনি খালেক

২৩.প্রতিপালিতদের অবর্তমানেও তিনি প্রতিপালনের গুণে গুণান্বিত। এবং মাখলুকের অবর্তমানেও  হওয়ার  গুণে গুণান্বিত।

২৪.যেমনিভাবে তিনি মৃতদের জীবিত করার পর তাদের জীবন দানকারী, ঠিক তেমনিভাবে তিনি মৃতদের জীবিত করার পূর্বেও এ গুণবাচক নামের (তথা মৃতকে জীবন দানকরা) অধিকারী। এমনিভাবে তিনি সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করার পূর্বেও খালেক (স্রষ্টা) নামটির অধিকারী ছিলেন।

২৫.তিনি স্বীয় ইলম দ্বারা সৃষ্টিজীবকে সৃষ্টি করেছেন।

২৬.তিনি মাখলুকের জন্য পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন।

২৭.তিনি তাদের জন্য জীবন-মৃত্যুর সময় ধার্য করেছেন। এবং মাখলুককে সৃষ্টি করার পূর্ব থেকেই তাঁর নিকট কোন বিষয় গোপন ও অস্পষ্ট নেই।

২৮.মাখলুককে সৃষ্টি করার পূর্বেই তারা যা করবে- তা তিনি জানেন।

২৯.তিনি মাখলুককে স্বীয় আনুগত্যের নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাঁর অবাধ্যতা করতে নিষেধ করেছেন।

৩০.সবকিছু তাঁর ক্ষমতায় পরিচালিত হয়।

৩১.তাঁর ইচ্ছায় সবকিছু কার্যকর হয়।

৩২.আল্লাহর চাওয়ার বাইরে বান্দার কোন চাওয়া নেই, সুতরাং তিনি তাদের জন্য যা চান, তাই হয়। আর যা চান না তা হয় না।

৩৩.তিনি নিজ অনুগ্রহে যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং রক্ষা করেন ও বিপদমুক্ত করেন।

৩৪.তিনি ইনসাফ স্বরূপ যাকে ইচ্ছা তাকে পথভ্রষ্ট করেন এবং তার থেকে সাহায্য উঠিয়ে নেন। এবং তাকে মুসিবতে লিপ্ত করেন।

৩৫.সকলকেই তাঁর ইচ্ছা, অনুগ্রহ ও ইনসাফের মাঝে আবর্তিত।

৩৬.তাঁর ফায়সালাকে প্রত্যাখান করার কেউ নেই।

৩৭.তাঁর হুকুমকে পশ্চাতে নিক্ষেপকারী কেউ নেই।

৩৮.তাঁর নির্দেশের উপর প্রভাব বিস্তারকারী কেউ নেই।

৩৯.তিনি প্রতিপক্ষ ও সমকক্ষ থেকে অনেক উর্ধ্বে।

৪০.নিশ্চয় মুহাম্মাদ সা. তাঁর নির্বাচিত বান্দা।

৪১.তাঁর মনোনিত নবী।

৪২.তাঁর সন্তোষভাজন নবী।

৪৩.তিনি সর্বশেষ নবী।

৪৪.তিনি (মুহাম্মাদ সা.) মুত্তাকীদের ইমাম।

৪৫.রাসূলকুল শিরোমনি।

৪৬.জগত-সমূহের প্রতিপালক আল্লাহ তায়ালার প্রিয়ভাজন।

৪৭.আর মুহাম্মাদ সা. এর নবুওয়াতের পর প্রত্যেক নবুওয়াতের দাবিই ভ্রষ্টতা ও প্রবৃত্তি প্রসুত।

৪৮.মুহাম্মাদ সা. সত্য ও হেদায়েত নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন সকল জীন এবং সমস্ত মাখলুকের নিকট।

৪৯.কোরআন শরীফ আল্লাহ তায়ালার কালাম তথা কথা।

৫০.কোরআন আল্লাহ তায়ালার থেকে প্রকাশ পেয়েছে-বলার কোন পদ্ধতি ব্যতিরেকে।

৫১.কোরআন শরীফকে আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীর উপর অবতীর্ণ করেছেন ওহীরূপে।

৫২.কোরআনকে সকল মুমিন সত্য বলে সত্যায়ন করে।

৫৩.সকল মুমিন বিশ্বাস করে যে, “কোরআন” বাস্তবে আল্লাহর কালাম, সৃষ্টিকুলের কথার ন্যায় তা মাখলুক (সৃষ্ট) নয়।

৫৪.যে ব্যক্তি কোরআন শরীফ শ্রবন করে মনে করে যে, এটা মাখলুকের কথা, সে কুফুরী করল।

৫৫.কোরআন শরীফ মানুষের কথার সদৃশ নয়।

৫৬.যে ব্যক্তি মানবীয় কোন গুণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালার গুণ বর্ণনা করবে সে কুফুরী করেছে বলে সাব্যস্ত হবে।

৫৭.জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভ হবে-এটা সত্য। তবে সে দর্শনের কোন  كيفية(পদ্ধতি) আমাদের জানা নেই। এবং সেই দর্শন হবে পরিবেষ্টন ব্যতিরেকে।

৫৮.আমরা আরও বিশ্বাস করি যে, এই  رؤية(দর্শন) এর ব্যাপারে যে সকল সহীহ হাদীস হুজুর সা. থেকে বর্ণিত আছে সেগুলো তেমনই যেমনটি রাসূল সা. বলেছেন এবং সে সকল সহীহ হাদীসের ব্যাখ্যা উহাই রাসূল সা. এগুলোর দ্বারা যা উদ্দেশ্য নিয়েছেন।

৫৯. رؤيةসম্পর্কিত আয়াত ও হাদীসের মধ্যে আমরা নিজস্ব মত কিংবা ধারণাপ্রসূত কোন তাবীল বা ব্যাখ্যা করি না।

৬০.এবং এই আয়াত ও হাদীসের ব্যাপারে আমরা নিজেদের প্রবৃত্তি প্রসূত কোন কিছু ধারণাও করি না।

৬১.ইসলামের চরণ প্রতিষ্ঠিত থাকে কেবলমাত্র আত্মসমর্পণ ও বশ্যতা স্বীকারের পৃষ্ঠে।

৬২.যে ব্যত্তি নিষিদ্ধ বিষয় সম্পর্কে অবগতি লাভ করতে চায় এবং আত্মসমর্পণের দ্বারা তার বুঝ শক্তি পরিতৃপ্ত হয় না সে নিষ্কলুষ একত্মবাদের বিশ্বাস, নিরংকুশ মারেফাত ও বিশুদ্ধ ঈমান থেকে বঞ্চিত হয়।

৬৩.আর সে কুফর ও ঈমান, তাসদীক ও তাকজীব, ইকরার ও ইনকারের মাঝে দোদুল্যমান থাকে আর সর্বদা সে সন্দেহ, অস্থিরতা, অভিযোগ ও বক্রতায় লিপ্ত থাকে। ফলে সে  مؤمن مصدق হয় না আবার  كافر جاحدও হয় না।

৬৪.জান্নাতবাসীদের জন্য আল্লাহ তায়ালার দর্শন লাভের উপর ঐ ব্যক্তির ঈমান আনয়ন সহীহ হবে না যে এটাকে কল্পনা দ্বারা অপব্যাখ্যা করে আমরা নিজ বিবেক-বুদ্ধি অনুযায়ী এটার (দর্শনের) ব্যাখ্যা করে।

৬৫.যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলিকে অস্বীকার এবং মাখলুকের গুণের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত থাকতে পারেনি তার পদস্খলন ঘটেছে এবং সে আল্লাহর পবিত্রতা প্রমান করতে পারেনি। কারণ আমাদের সুউচ্চ মহান প্রভু একক গুণে গুণান্বিত, অদ্বিতীয় বিশেষণে বিশেষিত।

৬৬.ভূপৃষ্ঠে কেউ তাঁর গুণে গুণান্বিত নয়।

৬৭.আল্লাহ তায়ালা পরিধি, সীমা-পরিসীমা, অঙ্গ-প্রতঙ্গ ও উপাদান-উপকরণ থেকে বহু উর্ধ্বে।

৬৮.যাবতীয় উদ্ভাবিত বস্তুর ন্যায় তাকে ষষ্ঠ দিক পরিবেষ্টন করতে পারে না।

৬৯.মেরাজ সত্য। নবী কারীম সা. কে রাতের বেলায় ভ্রমন করানো হয়েছে এবং তাকে জাগ্রতবস্থায় স্বশরীরে নভোম-লে উঠানো হয়েছে। অতঃপর আল্লাহ তায়ালা তার উর্ধ্ব জগতের যেখানে চেয়েছেন সেখানেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। আল্লাহ তাকে যে জিনিস দ্বারা সম্মানিত করতে চেয়েছেন তা দ্বারা তাকে সম্মানিত করেছেন। তিনি যা ওহী করার ইচ্ছা করেছেন তা তার বান্দার নিকট ওহী করেছেন।

৭০. “হাউজে কাওসার” চিরসত্য। যা দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তাঁর নবীকে উম্মতের পিপাসা নিবারণার্থে দানস্বরূপ সম্মানিত করেছেন।

৭১.নবী কারীম সা. এর সুপারিশ সত্য। যে সুপারিশ আল্লাহ তায়ালা তাঁর উম্মতের জন্য সংরক্ষিত করে রেখেছেন। যেমনটি হাদীস শরীফে বর্ণিত আছে।

৭২.আল্লাহ তায়ালা হযরত আদম আ. ও তাঁর সন্তানদের থেকে রুহজগতে যে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন তা চিরসত্য।

৭৩.আল্লাহ তায়ালা অনাদিকাল হতে পূর্ণরূপেই জানেন যে, কত সংখ্যক লোক জান্নাতে প্রবেশ করবে আর কত সংখ্যক লোক জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এসংখ্যায় বৃদ্ধি পাবে না এবং হ্রাস হবে না।

৭৪.অনুরূপ আল্লাহ তায়ালা নিজ বান্দাদের কর্ম সম্পর্কে পূর্ব থেকেই অবগত।

৭৫.যাকে যে কর্মের জন্য তিনি সৃষ্টি করেছেন তা তাঁর জন্য সহজসাধ্য করা হয়েছে।

৭৬.সকল কর্মের প্রতিদান শেষ অবস্থার উপর নির্ভরশীল।

৭৭.আল্লাহর ফায়সালা দ্বারা যে সৌভাগ্যবান হয়েছে সেই প্রকৃত সৌভাগ্যবান আর যে দুর্ভাগা হয়েছে সেই মূলত হতভাগা।

৭৮.তাকদীর হল মাখলুক সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালার একটি গোপন রহস্য। যা নৈকট্যশীল কোন ফেরেশতা এবং নবী-রাসূলও জানেন না।

৭৯.তাকদীর সম্পর্কে চিন্তা-গবেষণা করা ব্যর্থতা ও আল্লাহ তায়ালার রহমত থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণ এবং এটা সীমালঙ্ঘনের মাধ্যম।

৮০.তাকদীরের উদ্দেশ্য তালাশ করতে আল্লাহ তায়ালা নিষেধ করেছেন সুতরাং যদি কেউ বলে তিনি এটা কেন করলেন তাহলে সে কাফের হয়ে যাবে।

৮১. علم وجود কে অস্বীকার করা কুফুরী এবং  علم مفقودএর দাবী করা কুফুরী। علم وجود  কে গ্রহণ করা এবং  علم مفقودএর অন্বেষণ বর্জন  করা ব্যতিত ঈমান সহীহ হবে না।

৮২.আমরা  لوح محفوظএর প্রতি বিশ্বাস রাখি।

৮৩.আমরা (قلم) কলম এবং কলম যা লিখেছে তার প্রতি বিশ্বাস রাখি।

৮৪.যদি সকল সৃষ্টি জীব সংঘবদ্ধ হয়ে চেষ্টা করে ঐ সকল বিষয় না হওয়ার জন্য যা সংঘটিত হওয়ার কথা আল্লাহ তায়ালা লওহে মাহফুজে লিখে রেখেছেন; তাহলে তারা সক্ষম হবে না। তদ্রƒপ যদি সকল মাখলুক একত্রিত হয়ে ঐ সকল বিষয় সংঘটিত হওয়ার জন্য চেষ্টা চালায়, যা সংঘঠিত হওয়ার কথা আল্লাহ তায়ালা লওহে মাহফুজে লেখেননি, তাহলে এতেও তারা সক্ষম হবে না।

৮৫.কিয়ামত অবধি যা কিছু হবে কলম তা লিখে শুকিয়ে গেছে।

৮৬.বান্দার কাছে যা পৌঁছেনি তা পৌঁছার ছিলো না। আর যা পৌঁছেছে তা পৌঁছারই ছিল।

৮৭.বান্দার উপর এই কথা বিশ্বাস করা আবশ্যক যে, মাখলুক থেকে যা হবে আল্লাহ তায়ালা তা পূর্ব হতেই জানেন।

৮৮.আল্লাহ যা কিছু নির্ধারণ করেছেন তা নিজ ইচ্ছা থেকে নির্ধারণ করেছেন।

৮৯.আসমান যমিনের কেউ তাঁর ইচ্ছার খ-নকারী নেই।

৯০.এবং তা পশ্চাতে নিক্ষেপকারী ও দূরিভূতকারী কেউ নেই।

৯১.তাঁর পরিবর্তন ও পরিবর্ধনকারী কেউ নেই।

৯২.তাতে কেউ কিছু বৃদ্ধি করতে পারে না এবং কেউ কিছু কমাতেও পারে না।

৯৩.আল্লাহর সৃষ্টি ব্যতিত কোন কিছু সৃষ্ট হয় না।

৯৪.আল্লাহর সকল সৃষ্টি সুন্দর হয়।

৯৫.আরশ,কুরসী সত্য।

৯৬.তিনি আরশ ও অন্যান্য সকল কিছু থেকে অমুখাপেক্ষী।

৯৭.তিনি সকল বিষয়কে পরিবেষ্টনকারী।

৯৮.তিনি সব কিছুর উর্ধ্বে।

৯৯.সৃষ্টিকুল তাঁকে পরিবেষ্টন করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

১০০.আমরা দৃঢ় বিশ্বাস ও সত্যায়ন পূর্বক এবং আনুগত্য করত: এ কথা বলি যে, আল্লাহ তায়ালা ইবরাহিম আ. কে অন্তরঙ্গ বন্ধুরূপে গ্রহণ করেছেন আর তিনি মুসা আ. এর সঙ্গে কথা বলেছেন।

১০১.আমরা সকল ফেরেশতা ও নবী-রাসূলের প্রতি অবতীর্ণ সকল ঐশী কিতাবের প্রতি ঈমান রাখি।

১০২.আমরা সাক্ষ্য দেই যে, সকল নবী সুস্পষ্ট সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিলেন।

১০৩.আমরা কিবলার অনুসারীদের মুমিন, মুসলমান নামে ভূষিত করি, যতক্ষণ তাঁরা নবী কারীম সা. এর আনীত বিষয়ের উপর বিশ্বাসী থাকবে এবং যা কিছু বলেছেন তা সত্যায়ন করবে।

১০৪.আমরা আল্লাহ তায়ালার সত্ত্বা নিয়ে অহেতুক গবেষণা করি না।

১০৫.আমরা আল্লাহর দ্বীন সম্পর্কে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি করি না।

১০৬.আমরা কোরআনের ব্যাপারে কোন বিবাদে লিপ্ত হই না।

১০৭.আমরা সাক্ষ্য দেই যে, কোরআন বিশ্ব জাহানের পালনকর্তার কালাম যা নিয়ে জিবরাঈল আ. অবতরণ করেছেন এবং তিনি নবীকুলের সর্দার মুহাম্মাদ সা. কে শিক্ষা দিয়েছেন।

১০৮.মাখলুকের কোন কথা আল্লাহ তায়ালার কালামের সমকক্ষ হতে পারে না।

১০৯.আমরা কোরআনকে মাখলুক (সৃষ্ট) বলি না।

১১০.আমরা কখনো আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিরোধিতা করি না।

১১১.আমরা আহলে কিবলাদের (মুসলমানদের) কাউকে কোন গুনাহের কারণে কাফের বলি না।

১১২.আমরা একথা বলি না যে, ঈমান থাকা অবস্থায় কোন পাপীর পাপ ক্ষতি সাধন করে না।

১১৩.সৎকর্মশীলদের ব্যাপারে আমরা আশা করি যে, আল্লাহ তাদের ক্ষমা করে দিবেন তবে আমরা তাদের ক্ষমার ব্যাপারে নিশ্চিত নই।

১১৪.আমরা তাদের পাপের ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনা) করি।

১১৫.আমরা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য দেই না।

১১৬.আমরা তাদের ব্যাপারে আশংকা বোধ করি তবে নিরাশ হই না।

১১৭.আল্লাহর শাস্তি থেকে নিশ্চিন্ত হয়ে যাওয়া এবং তাঁর রহমত হতে নিরাশ হয়ে যাওয়া-এ দুটি ইসলাম বহির্ভূত কাজ ও কুফরী, আর কিবলাপন্থি তথা মুসলমানদের জন্য এ দুয়ের মাঝে হচ্ছে হকের পথ।

১১৮.যে সকল বিষয় বিশ্বাস করার দ্বারা বান্দা ঈমানদার বলে সাব্যস্ত হয় তার কোন একটি অস্বীকার করলে সে ঈমান থেকে বের হয়ে যাবে এবং কাফের হয়ে যাবে।

১১৯.আল্লাহর পক্ষ থেকে নাযিলকৃত কোরআন এবং রাসূল সা. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হাদীসসমূহ সত্য।

১২০.মৌলিক ঈমান এটা এক। আর ঈমানের মৌলিক বিষয়ে মুমিনগণ সবাই সমান। তবে তাদের মাঝে মর্যাদাগত প্রকৃত পার্থক্য হয় তাকওয়া, কুপ্রবৃত্তির বিরোধিতা ও উত্তম বিষয় আকড়ে ধরার কারণে।

১২১.সকল মুমিন আল্লাহর বন্ধু। তবে তাদের মধ্য হতে যে,  تقوى- معرفتএবং  قرانএর সর্বাধিক অনুগত সে তাদের মধ্যে সর্বাধিক সম্মানিত ব্যক্তি।

১২২.ঈমান হচ্ছে-আল্লাহ তায়ালা, তাঁর ফেরেশতা, তাঁর কিতাবসমুহ, তাঁর নবী রাসূলগণের প্রতি, পরকাল দিবস, মৃত্যুর পর পুনরুত্থান এবং এর ভালো-মন্দ ও তিক্ত-মিষ্টতার প্রতি বিশ্বাস রাখা।

১২৩.আমরা নবী-রাসূলদের ব্যাপারে ঈমান আনার ক্ষেত্রে কোন পার্থক্য করি না।

১২৪.মুহাম্মাদ সা. এর উম্মতের মধ্যে যারা ঈমান অবস্থায় কবীরা গুনাহ করবে তাঁরা জাহান্নামে যাবে, তবে চিরকাল থাকবে না। যদিও তাওবা না করে মারা যায়। হ্যাঁ আল্লাহ চাইলে তাদেরকে ক্ষমা করতে পারেন আবার নাও করতে পারেন। আর যদি এদের শাস্তি দেন তাহলে প্রত্যেকের অপরাধ অনুযায়ী দিবেন। অতঃপর তাঁর অনুগ্রহে এদেরকে জান্নাত দান করবেন। কারণ আল্লাহ তায়ালা সকল মুমিন বান্দাদের অভিভাবক তিনি কাফেরদের মত মুমিনদের সাথে আচরণ করবেন না।

১২৫.আমরা কিবলাপন্থি প্রত্যেক সৎ ও অসৎ ব্যক্তির পেছনে নামায আদায় করাকে বৈধ মনে করি। তাদের জানাজা পড়াকেও বৈধ মনে করি।

১২৬.আমরা কাউকে জান্নাতী বা জাহান্নামী বলি না।

১২৭.আমরা তাদের কারো প্রতি কুফর, শিরক কিংবা নিফাকের সাক্ষ্য দেই না। যাবৎ না তাদের থেকে তা প্রকাশ পায়।

১২৮.আমরা তাদের আভ্যন্তরীণ বিষয়াদী আল্লাহর নিকট ন্যস্ত করি।

১২৯.আমরা উম্মতে মুহাম্মাদী সা. এর কারো প্রতি তরবারী চালানো বৈধ মনে করি না। তবে যার উপর চালানো ওয়াজিব হয়েছে সে ব্যতিত।

১৩০.আমরা আমাদের ইমাম ও শাসকবর্গের আনুগত্য থেকে বের হওয়াকে বৈধ মনে করি না যদিও তারা জালেম হয়ে থাকে।

১৩১.আমরা তাদের জন্য বদ-দোয়া করি না এবং তাদের আনুগত্য পরিত্যাগ করি না।

১৩২.আমরা তাদের আনুগত্যকে আল্লাহর আনুগত্যের ন্যায় ফরজ মনে করি যতক্ষণ পর্যন্ত তারা আল্লাহর সাথে অবাধ্যতার নির্দেশ না দেন।

১৩৩.আমরা শাসকদের কল্যান ও সুস্থতার দোয়া করি।

১৩৪.আমরা সুন্নাত ও জামাতের অনুসরণ করি। (জামাত হলো রাসূল সা.) এর আনুগত্য ও স্বীয় ধর্মের বিষয়ে সুবোধের অধিকারী সাহাবায়ে কেরাম এবং ঐ সকল ব্যক্তিবর্গ যারা তাঁদের যথাযথ অনুসরণ করবে।

১৩৫.আমরা বিচ্ছিন্নতা, বিরোধিতা ও বিভেদকে পরিত্যাগ করি।

১৩৬.আমরা ন্যায়পরায়ন ও বিশ্বস্ত লোকদেরকে ভালবাসি।

১৩৭.আমরা জালেম ও খেয়ানতকারীদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৩৮.যেসব বিষয়ের জ্ঞান আমাদের নিকট অস্পষ্ট সে ক্ষেত্রে আমরা বলি-আল্লাহই ভাল জানেন।

১৩৯.আমরা মুসাফির ও মুক্বিম অবস্থায় মোজার উপর মাসাহ করাকে বৈধ মনে করি।

১৪০.হজ্জ ও জিহাদ উভয়টি পৃথক পৃথক ফরজ। এ দু‘টি কিয়ামত পর্যন্ত মুসলিম শাসকগণের মাধ্যমে অব্যাহত থাকবে, চাই তারা সৎ হোক কিংবা অসৎ।

১৪১.কোন কিছুই এ দুটিকে বাতিল বা রহিত করতে পারবে না।

১৪২.আমরা কিরামান কাতেবীন ফেরেশতাদের প্রতি ঈমান আনয়ন করি যে, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে আমাদের উপর পর্যবেক্ষক হিসাবে নিয়োজিত রেখেছেন।

১৪৩.আমরা বিশ্ববাসীর রূহ কবজের কাজে নিয়োজিত ফেরেশতার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করি।

১৪৪.আমরা কবরের শাস্তি ও নেয়ামতসমুহ সত্য বলে বিশ্বাস করি এবং তার উপযুক্ত ব্যক্তি তা ভোগ করবে-তাও বিশ্বাস করি।

১৪৫.আমরা বিশ্বাস করি যে, কবরে মুনকার-নাকীর ফেরেশতা মৃত ব্যক্তিকে তার রব (প্রতিপালক) রাসূল ও ধর্ম সম্পর্কে প্রশ্ন করবেন। যেমনটি হুজুর সা. ও সাহাবায়ে কেরাম রা. থেকে বর্ণিত আছে।

১৪৬.কবর হয়ত জান্নাতের বাগিচাসমূহের মধ্য হতে একটি বাগিচা। অথবা জাহান্নামের গর্তসমূহের মধ্য হতে একটি গর্ত হবে।

১৪৭.আমরা বিশ্বাস করি পুনরুত্থানকে।

১৪৮.কিয়ামত দিবসে আমলসমূহের প্রতিদানকে।

১৪৯.আমলনামা পেশ করাকে।

১৫০.আমলসমূহের হিসাব-নিকাশকে।

১৫১.আমলনামা পাঠ করাকে।

১৫২.উত্তম প্রতিদানকে।

১৫৩.শাস্তিকে।

১৫৪.পুলসিরাতকে।

১৫৫.মিযানকে।

১৫৬.পুনরুত্থান হলো কিয়ামত দিবসে দেহসমূহ একত্রিত করে তা জীবিত করা।

১৫৭.জান্নাত এবং জাহান্নাম এমন দু‘টি সৃষ্টি, যা কখনো ধ্বংস হবে না।

১৫৮.আল্লাহ তায়ালা মানুষ সৃষ্টির পূর্বেই জান্নাত জাহান্নাম সৃজন করেছেন। এবং জান্নাত ও জাহান্নামের অধিবাসিদেরকেও সৃষ্টি করেছেন।

১৫৯.মানুষের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তিনি নিজ অনুগ্রহে জান্নাতি বানিয়েছেন।

১৬০.প্রত্যেকেই সেই কাজই করে যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এবং প্রত্যেকে সেদিকেরই অনুগামী হয় যার জন্য তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৬১.কল্যান ও অকল্যান উভয়টি বান্দার উপর নির্ধারিত।

১৬২.সক্ষমতা দ্ইু প্রকার। যথা:- ১. এমন সক্ষমতা যার সাথে  فعل(ক্রিয়া) পাওয়া যায়। যেমন তাওফিক, যে গুণের অধিকারি কোন মাখলুককে মনে করা জায়েয নেই। আর তা কর্মের সাথে সংশ্লিষ্ট হয়ে থাকে। ২. এ প্রকার সক্ষমতা হলো যেমন সুস্থ থাকা। সাধ্যানুযায়ী হওয়া। সম্ভব হওয়া ও আসবাবপত্র ঠিক থাকা ইত্যাদি যা কর্মের পূর্বে হয়ে থাকে।

১৬৩.বান্দার সকল কাজের ¯্রষ্টা আল্লাহ তায়ালা। আর বান্দা কাসেব অর্থাৎ উপার্জনকারি।

১৬৪.আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের উপর তাদের সাধ্যের বাইরে কোন কিছু চাপিয়ে দেননি আর বান্দা শুধু ততটুকই করতে পারে যার সক্ষমতা তাকে দেওয়া হয়েছে। আর এটাই হলো

لا حول ولا قوة إلا بالله এর তাফসির। অতএব আমরা বলি আল্লাহ তায়ালার সাহায্য ছাড়া গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার কোন সাধ্য নেই এবং আল্লাহ তায়ালার তাওফিক ছাড়া তার আনুগত্য করা ও আনুগত্যের উপর অটল থাকা সম্ভব নয়।

১৬৫.প্রত্যেক বস্তু আল্লাহ তায়ালার ইচ্ছা, ইলম ও ফয়সালা অনুযায়ী সংগঠিত হয়। অতএব আল্লাহর ইচ্ছা মাখলুকের সকল ইচ্ছার উপর গালেব (বিজয়ী) থাকবে এবং তার ফয়সালা সমস্ত কৌশলের উপর প্রাধান্য থাকবে।

১৬৬.আল্লাহ তায়ালা যা চান তাই করেন।

১৬৭.তিনি যা করেন তা সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবেন না।

১৬৮.সকল সৃষ্টিজীবকে তার কৃতকর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

১৬৯.জীবিতদের দু‘আ এবং তাদের দানের মাঝে মৃত ব্যক্তিদের জন্য উপকার রয়েছে।

১৭০.আল্লাহ তায়ালা বান্দাদের দোয়াসমূহ কবুল করেন।

১৭১.তিনি প্রয়োজনসমূহ পূর্ণ করেন।

১৭২.তিনি সব কিছুর অধিপতি।

১৭৩.তার উপর কারো আধিপত্য নেই।

১৭৪.তিনি কারো উপর জুলুম করেন না।

১৭৫.কেউ এক পলক পরিমাণ সময়ও আল্লাহ তায়ালা থেকে অমুখাপেক্ষী নয়।

১৭৬.যে ব্যক্তি আল্লাহ তায়ালা থেকে এক মুহূর্ত অমুখাপেক্ষী হবে সে কুফুরী করেছে বলে সাব্যস্ত হবে। এবং ধ্বংসশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।

১৭৭.আল্লাহ তায়ালা ক্রোধান্বিত হন এবং সন্তুষ্ট হন। তবে সৃষ্টিজীবের কারো মত নয়।

১৭৮.আমরা রাসূল সা. এর সাহাবাদেরকে ভালবাসি।

১৭৯.আমরা তাদের কাউকে ভালবাসার ক্ষেত্রে বাড়াবাড়ি করি না।

১৮০.আমরা তাদের কারো থেকে সম্পর্ক ছিন্ন করি না।

১৮১.তাদের সাথে যারা বিদ্বেষ পোষণ করে আমরাও তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৮২.যারা অন্যায়ভাবে তাদের সমালোচনা করে তাদের সাথেও আমরা বিদ্বেষ পোষণ করি।

১৮৩.আমরা কেবলমাত্র তাদের সুআলোচনাই করবো।

১৮৪.তাদেরকে ভালবাসা দ্বীন, ঈমান ও ইহসানের বহিঃপ্রকাশ।

১৮৫.তাদের সাথে বিদ্বেষ পোষণ করা কুফুরী নিফাক এবং নাফারমানী এর নামান্তর।

১৮৬.আমরা রাসূল সা. এর পরে সর্বপ্রথম হযরত আবু বকর রা. এর খেলাফতকে স্বীকার করি। তারপর হযরত উমর রা. এর ফেলাফতকে, তারপর হযরত উসমান রা. এর খেলাফতকে, তারপর হযরত আলী রা. এর খেলাফতকে।

১৮৭.রাসূল সা. যে দশজন সাহাবীর নাম উল্লেখ করে তাদের জান্নাতী হওয়ার সুসংবাদ দিয়েছেন আমরা তাদের জন্য জান্নাতের সাক্ষ্য প্রদান করি।

১৮৮.যারা রাসূল সা. এর সাহাবী, পুত-পবিত্রা স্ত্রীগণ এবং তাঁর সন্তান-সন্ততি সম্পর্কে সুআলোচনা করবে তারা নিফাক থেকে মুক্ত থাকবে।

১৮৯.পূর্ববর্তী সালফে সালেহীন উলামাগণ (তথা সাহাবায়ে কেরাম) তাবেঈন এবং তাদের পরবর্তীদের মধ্য হতে যারা কোরআন, হাদীস ও ফিকহে পারদর্শী এবং গবেষক তাদেরকে সম্মানের সাথে স্মরণ করতে হবে। আর যারা অসম্মানের সাথে তাদেরকে স্মরণ করবে তারা পথভ্রষ্ট।

১৯০.আমরা কোন ওলীকে নবীগণের উপর প্রাধান্য দেই না। বরং আমরা বলি একজন নবী সকল ওলী থেকে শেষ্ঠ।

১৯১.আমরা ঐ সব কারামাত (অলৌকিক ঘটনাকে) বিশ্বস করি যা ওলীদের থেকে প্রকাশ পায় এবং নির্ভরযোগ্য বর্ণনাকারীর বর্ণনা দ্বারা প্রমানিত।

১৯২.আমরা কিয়ামতের আলামতসমূহের উপর বিশ্বাস রাখি।

১৯৩.কোন জ্যোতিষী, কোন গণক ও এমন কোন ব্যক্তি যে কুরআন, হাদীস ও ইজমায়ে উম্মতের রিরুদ্ধে কথা বলে তাদেরকে আমরা বিশ্বাস করি না।

১৯৪.আমরা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতকে সত্য ও সঠিক মনে করি।

১৯৫.আমরা বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টিকারীকে পথভ্রষ্ট ও শাস্তিযোগ্য মনে করি।

১৯৬.আসমান ও যমীনে আল্লাহর ধর্ম একটাই। আর তা হলো ইসলাম ধর্ম।

১৯৭.ইসলাম ধর্ম বাড়া-বাড়ি, ছাড়া-ছাড়ি, তাশবীহ-তা’লীল, জবর-ক্বদর, আশা-নিরাশা এগুলোর মাঝামাঝি একটি ধর্ম।

Share

রমজান উপলক্ষ্যে জামিয়া ছুটি ঘোষণা

পবিত্র্ রমজান,  পরীক্ষা পরবর্তী জামিয়ার কিতাব বিভাগ  13 শাবান শনিবার থেকে 7 শাওয়াল বুধবার পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। 8 শাওয়াল বৃহস্পতিবার পুরাতন ছাত্রদের ভর্তি কার্যক্রম শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। এবং পরবর্তী 3 দিনে নতুন ছাত্রদের ভর্তি চলবে।   এ বছর ভর্তি ফি 1800 টাকা ধার্য করা হয়েছে এবং আনুসাঙ্গিক খরচ সামান্য বৃদ্ধি  হতে পারে যা পরবর্তীতে পোষ্টের মাধ্যমে জানানো হবে ইনশাআল্লাহ।

Share

অশ্রু ও রক্তের আগুনে জ্বলছে জনপদ

মুহাম্মদ যাইনুল আবিদীন

: ঝন্টু তুমি বলো!

: আমি পাইলট হবো স্যার!
: পাইলট কেন?
: বিনে পয়সায় দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়াতে পারবো। আর কাজী নজরুল ইসলামের ভাষায় ‘জগতটাকে দেখবো আমি আপন হাতের মুঠোয় ভরে।’ মজা হবে না স্যার!
: অবশ্যই অবশ্যই…
: এবার মিন্টু বলো!
: আমি উকিল হবো স্যার!
: কেন বলো তো!
: স্যার বড় কাকু বলেছেন, উকিল-মুক্তাররা নাকি প্রতিদিন বেতন পান তাই।
: অ আ”ছা!
: এবার সবুজ দাঁড়াও। বলো লেখাপড়া করে ভবিষ্যতে কী হতে চাও।
: স্যার আমি ডাক্তার হতে চাই।
: কিন্তু কেন?
: দুঃখী মানুষদের সেবা করবো। অসহায় মানুষদের দুঃখ মোচনের চেষ্টা করবো।
: সাবাশ বেটা সাবাশ। এই না আদর্শ ছাত্রের কথা। যে শিক্ষা জাতির মেরুদ- সে শিক্ষা গ্রহণ করেও যদি আমরণ জাতির কল্যাণের কথা না ভাবি, জাতির দুঃখ ঘুচাবার স্বপ্ন না দেখি তাহলে আমাদের এই শিক্ষা হবে অর্থহীন। অতঃপর ডাক্তার ও মানবসেবার মহিমা সম্পর্কে শিক্ষাগুরুর দীঘল ভাষণ!
যুগ যুগ ধরে গুরুগৃহে এভাবেই শিক্ষাগুরুগণ তাদের শিষ্যদের দীক্ষা দিয়ে এসেছেন। সামান্য ভাষার ব্যবধানসহ এখনও চালু আছে আদর্শের এই পাঠ। গুরুর বচনে ব্যত্যয় নেই কোনো
কালেই। অথচ আমরাই যখন এই মানবতার স্বপ্নে সমর্পিত সেই ডাক্তারের কাছে যাই তখন কী পাই! পত্রিকার ভাষায়Ñ ‘সড়ক দুর্ঘটনায় ডান পায়ের গোড়ালি বি”িছন্ন হয়ে
যায় জজ মিয়ার। চিকিৎসা নিতে আসেন রাজধানীর পঙ্গু হাসপাতালে। নিচতলায় অপারেশন থিয়েটারে পাঠানো হয় তাকে। কর্তব্যরত চিকিৎসক দেখে বললেন, বি”িছন্ন পা জোড়া লাগানো সম্ভব নয়। কেটে ফেলতে হবে। কিন্তু জজ মিয়া কিছুতেই রাজি হ”িছলেন না। সার্জনও নাছোড়বান্দা। পা কাটবেনই। নিরুপায় জজ মিয়া এক আত্মীয়কে ধরে তৎকালীন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ক্যাপ্টেন (অব) মুজিবুর রহমান ফকিরকে দিয়ে তাৎক্ষণিক ফোন করান চিকিৎসকের কাছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে পায়ের গোড়ালি জোড়া লাগিয়ে দিতে বাধ্য হন চিকিৎসক। জজ মিয়া সুস্থ হয়ে উঠেন। এখন হাঁটা-চলা করছেন। {আমাদের সময় : ২০ মে ‘১৪}
এটা উপমা। এমন ঘটনা এখন আর বিরল নয়। বরং নিত্যদিনের। আর এই যদি হয় দরদি চিকিৎসকদের চেহারা- তাহলে রাজনৈতিকদের মুখ কেমন হবে তাকি আর বলতে হয়? বিশেষ করে খুনের ঘটনার পর যদি নিহতের পরিবার নিরাপত্তাহীন আর খুনির দল সদর্পে চলাফেরা করার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে তখন আর খুন-হত্যার অভিশাপ থেকে মুক্তির আশা করা যায় না। তারপরও দেশে এখনও যারা রাজনীতিক নয়, দলের কর্মী নয়, শুধু ‘মানুষ’ তারা যেকোনো খুনের ঘটনায় আহত বোধ করেন। কাঁদেন এবং ইনসাফের আশায় বুক বাঁধেন।
দুই.
সমাজে মানুষ হওয়ার সমস্যা হলোÑ অন্যের যন্ত্রণায় পাষাণ হয়ে থাকা যায় না। কিছু করতে না পারলেও সঙ্গে কাঁদতে হয়, দীর্ঘশ্বাস ছাড়তে হয়। সান্তনার কথা শোনাতে হয়Ñ ‘অপেক্ষা করো। আল্লাহ তো আছেন। বিচার একদিন হবেই।’
বেদনাবিধুর এমন ঘটনা তো প্রতিদিনই দেখছি, কাঁদছি, দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছি। আর না কেঁদে উপায় কি, যখন কোনো মা বুক চাপড়ে বলতে থাকেন  ‘ছেলেটা বিয়ের পিঁড়িতে বসার কথা ছিল। সে অনুযায়ী আত্মীয়-স্বজনদের দাওয়াতকার্ড দেয়া হয়েছিল। বিয়ের
আয়োজন ছিল চূড়ান্ত পর্যায়ের। বিয়ের ব্যয় ও পারিবারিক অন্যান্য কাজ করতে তিলে তিলে গড়া জমিও বিক্রি করি। কিন্তু জমি বিক্রির টাকাগুলো হাতে আসাতেই যত বিপত্তি। র‌্যাব-১১-এর মেজর আরিফ হোসেন তার অস্ত্রধারী র‌্যাব সদস্যদের দিয়ে চোখের সামনে ছেলেটিকে নারায়ণগঞ্জের ক্যাম্পে ধরে নিয়ে যায়। তারপর ছেলেকে ফেরত দেয়ার শর্তে আমার কাছ থেকে ৪২ লাখ টাকাও নেয়। কিন্তু ১৬ দিন পর মেজর আরিফ আমার ছেলে শওকত আলী ইমনের লাশ ফেলে রেখে যায় কাঞ্চন ব্রিজের নিচে। {আমাদের সময় : ১৯.৫.১৪}
এ ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসের ঘটনা। কিন্তু এই ঘটনা মিডিয়া কিংবা সরকারের এইটুকুও টনক নাড়াতে পারেনি। কারণ, ইমনরা বিশ্বজিতের মতোই এই সমাজের সাধারণ মানুষ। তবুও বিশ্বজিতের কপাল ভালো সামনে দাঁড়িয়ে ধারালো অস্ত্রের ক্রমাগত আঘাতে অসীম অসহায়ত্বে জীবন বিসর্জন দিতে পেরেছে বলে অন্তত জাতির পক্ষ থেকে নগদ কিছু চোখের জল পেয়েছিল। কিন্তু ইমনদের মতো বরাবর যাদের ধরে ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয়- অতঃপর সাত সকালে পথের ধারে পাওয়া যায় ক্ষত-বিক্ষত লাশ, তারা আমাদের এই চোখের জলটুকুও পায় না। দেশের সচেতন পাঠক মাত্রই জানেন সাদা কিংবা কালো পোষাকে অস্ত্রধারী একটি দল সাদা মাইক্রোবাসে করে যাকে তাকে যখন তখন তুলে নিয়ে যা”েছ  বিশেষ করে ব্যবসায়ী কিংবা বিরোধী রাজনীতিকদের এটা এখন যেন কোনো ঘটনাই নয়। অথচ এভাবে ধরে নিয়ে যাওয়া অতঃপর পথে কিংবা ডোবায় লাশ পড়ে থাকতে দেখা- সে তো মুক্তিযোদ্ধের সময়কার কাহিনী। বিদেশি হায়েনারা এভাবে এদেশের সূর্যসন্তানদের ধরে নিয়ে খুন করেছে। তখন আমরা ছিলাম পরাধীন। আর এখন? ‘কেতাবে’ আছে আমরা স্বাধীন! আসলেই কি আমরা স্বাধীন?
সুমনের বাবা আবদুল লতিফের কথা শুনুন ‘লাশ উদ্ধারের পর রূপগঞ্জ থানায় র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করতে যাই। কিন্তু ওসি হুমকি দেন র‌্যাবের বিরুদ্ধে মামলা করা যাবে না। করলে পুরো পরিবারকে ক্রসফায়ারের ভয় দেখায় আসলাম। এ কারণে এতদিন
মুখ বুঝে ছিলাম। কিন্তু মেজর আরিফ গ্রেপ্তার হওয়ায় এখন সাহস পেয়েছি। {প্রাগুক্ত}
কী ভয়াবহ পরিস্থিতিতে বাস করছি আমরা। যেখানে আমার জন্ম, জন্ম
আমার বাবার সেখানে আমার চোখের সামনে আমার সন্তানকে তুলে নিয়ে খুন করে ফেলছে। আমি খুুনিদের চিনি। কিন্তু তাদের নাম বলতে পারছি না। তাদের বিরুদ্ধে নালিশ করতে পারছি না। এরচে’ কঠিন জঘন্য এবং পাষাণ সময় আর কী হতে পারে? যারা মুক্তিযুদ্ধের সময়কার বদ্ধভূমির ফেরি করে খায়, তারা কি স্বীকার করবেনÑ এখন যে পুরোটা বাংলাদেশই বদ্ধভূমি!

তিন.
তারা স্বীকার করবেন না। ভাবখানা এমনÑ দেশ যে গুম খুন আর একদলীয় সন্ত্রাসের তা-বে ল-ভ-Ñ এ যেন জীবন চঞ্চলতার স্বাভাবিক দৃশ্যপট। এরই মধ্যে ঘটলো নারায়ণগঞ্জের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাত খুনের বাকরুদ্ধকর ঘটনা। দিনের বেলা
শাসকদলের নেতা- নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিকে তার নির্বাচন এরিয়া থেকে তুলে নিয়ে যা”েছ। এর সঙ্গে আরও চারজন সতীর্থ। এই দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করতে গিয়ে অপহরণের শেকলে বাঁধা পড়েন আইনজীবী চঞ্চল ও তার ড্রাইভার ইবরাহীম। এই সাতজনকে খুন করে নদীতে ফেলার সময় দেখে ফেলার অপরাধে দুই মাঝি ও দুই জেলেকে খুন করা হয়। এবং তাদেরও ডুবিয়ে ফেলা হয় নদীর গহীনে। এই ঘটনার পর কে বলবেÑ এই দেশটা আমাদের। এই ঘটনার ভাঁজে ভাঁজে যে পাষ-তা ও নির্মমতা ছড়িয়ে আছে তার ব্যাখ্যা দেয়ার ভাষা কার আছে শুনি! অন্তত মাঝি ও জেলেদের কী অপরাধ ছিল এই ঘটনায়? তাদের বিধবা স্ত্রী এবং এতিম সন্তানদের ভাষা বুঝবার ক্ষমতা কি সত্যিই এই দেশ ও সরকারের আছে? আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কথায় কথায় বলেন- তিনি বাবাহারা সন্তানের কষ্ট বুঝেন। যদি তাই হতো তাহলে তিনি ছুটে যেতেন নিহত জেলে এবং মাঝির ঘরে। হাত রাখতেন তাদের এতিম সন্তানদের মাথায়!
রাজনীতিকরা যেমন পাষাণ এখনকার খেলাধুলাও পাষাণ। শোকে নৃশংসতায় মুহ্যমান নারায়ণগঞ্জের স্মৃতিতে যখন
ক্ষুব্ধ স্তব্ধ ও স্তম্ভিত সারা দেশ, তখনই একই আগুনে জ্বলে উঠলো ফেনী। পত্রিকার শিরোনাম- প্রকাশ্য বর্বরতা : উপজেলা চেয়ারম্যানকে রাজপথে হত্যা ॥ গাড়িসহ পুড়িয়ে ভস্ম!
আর কী বলার থাকে? তবু জঘন্যতার মাত্রা নির্ণয়ের জন্য বলি- নিহত ছাই ভস্ম একরামুল হক ছিলেন সদ্য নির্বাচিত ফেনী ফুলগাজীর উপজেলা চেয়ারম্যান এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি। তিনি খুন হয়েছেন সকাল ১০টায় ( ২২.৫.১৪) ফেনী শহরের একাডেমি এলাকার বিলাসী সিনেমা হলের সামনে। অর্থাৎ গোপনে নয়, রাতেও নয়। গুলি করে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে হত্যা করার এমন জঘন্য দৃশ্য কোনো সভ্য পৃথিবী কখনো দেখেছে? বিশেষ করে এমন কোনো নির্বিবাদ পরিবেশে!
একটা দুঃখের কথা বলি। এই দুঃখ চলতি বিশ্বের এবং বিশ্বমানবতার। আমেরিকানরা এই যে জাহাজ ভরে উড়ে এসে মুসলমান খুন করে যাচ্ছে।
ইরাকে আফগানিস্তানে কিংবা লিবিয়ায়- সেখানে কি শুধু মুসলমানই খুন হ”েছন না বেঈমানরাও ধ্বংস হ”েছ! কাউকে মারতে গেলে মরতেও হয়। মরছে আমেরিকানরাও। কিন্তু সাহস করে জরিপ প্রকাশ করতে পারছে না- ঠিক কতজন ধ্বংস হয়েছে এ পর্যন্ত আমাদের শহরে। আমরা তার হিসাব রাখি না। শৃগাল কুকুর কতটা বাঁচল আর কতটা মরল- সে হিসাব রাখবে কে? কিন্তু এ দেশে যারা স্বদলের মানিকদের হাতে জীবন দি”েছ- তাদের একটা হিসাব থাকা চাই। হিসাবটা এই কারণে চাই- ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন এখান থেকে কিছু শিখতে পারে। করণ- এখন যে খুন হত্যা আর গুমের ধুম চলছে এ কিন্তু কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা নয়। ইলিয়াস আলীর এতিম কন্যার চোখের পানি আর বিশ্বজিতের তাজা রক্ত থেকে উৎসারিত এই আগুন। যদি ইনসাফ ও সুবিচারের জলে নেভানো না হয় এই আগুন- তাহলে পূর্ব-পশ্চিম আর উত্তর-দক্ষিণের সকল জালেম জনপদ পুড়িয়ে ছাই করবে এই আগুন। নেতা-কর্মী কাউকেই ছাড়বে না।

ঢাকা

Share

মাদরাসা শিক্ষা : একটি পর্যালোচনা ও দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পটভূমি

জাবালে নূর তথা ফারা পর্বত গুহায় রাসূলে আরাবি নির্দেশপ্রাপ্ত হলেন পাঠের। ‘পড়, হে মুহাম্মাদ’। চমকিত-চকিত নবী দ্বিতীয়বার শুনতে পেলেন একই নির্দেশ- ‘পড়’। অভিভূত নবী উত্তর দিলেনÑ ‘আমি উম্মি-পড়া জানি না।’ উত্তর হল- ‘পড় তোমার প্রভুর নামে যিনি তোমায় সৃজিলেন। যিনি সৃজিলেন মানুষকে জমাট রক্ত হতে।’ সুরা আলাক ঃ ১-২
পড়ার নির্দেশ পেয়ে উম্মি নবী স্বয়ং রবের ছাত্রত্বগ্রহণ করলেন। ইলমে ওহী তাবলিগের নির্দেশ পেয়ে দায়িত্ব পেলেন শিক্ষকের।
ছাত্র হিসেবে পেলেন- হযরত আবু বকর রা., হযরত উমর রা. উসমান রা., হযরত আলী রা., হযরত যায়েদ বিন হারেস রা.-এর মতো পূণ্যবান ব্যক্তিদের। ধীরে ধীরে ছাত্র সংখ্যা বাড়তে লাগল। এমতাবস্থায় তাদের দ্বীনি তালিম ও তারবিয়াতের উদ্দেশ্যে সর্বপ্রথম উপ-আনুষ্ঠানিক মাদ্রাসা স্থাপিত হয়, হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা.-এর বাড়ির আঙ্গিনায়।

মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ
এরপর সর্বপ্রথম মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ মাদ্রাসায়ে ‘দারুল আরকাম’-এর ভিত্তি স্থাপিত হয় হযরত আরকাম বিন আবুল আরকাম রা.-এর বাড়িতে সাফা পাহাড়ের পাদদেশে। যারা প্রথম থেকে দারুল আরকাম মাদ্রাসায় তালিম নিয়েছিলেন- পরবর্তীতে তারাই এখানে শিক্ষকতা করেন।
মদিনায় প্রথম প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসা ও মসজিদ হল মসজিদে বনু যুরাইক মাদ্রাসা। এর উস্তাদ ও ইমাম ছিলেন হযরত রাফে বিন মালেক যরকি আনসারি। এই মসজিদেই প্রথম নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত শুরু হয়। এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ ছাত্র খাযরায গোত্রের শাখা বনি যুরাইক গোত্রের মুসলমান ছিলেন।
রাসূল সা.- এর হিজরতের পর মদিনার মসজিদে নববী মাদ্রাসা হয়ে যায় কেন্দ্রিয় প্রতিষ্ঠান। রাসূলুল্লাহ সা. আসহাবে সুফফার দরিদ্র ও দূর্বল নও মুসলিম এবং বর্হিরাগত ব্যক্তিদের নিয়ে সেখানে বৈঠক করতেন, কুরআন-শরিয়তের দরস দিতেন। আর এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই মূলত ইসলামি সাম্রাজ্যের শিক্ষা-দীক্ষার নবদিগন্ত উন্মোচন করে।
মূলত রাসূল সা. এর ইন্তেকালের পর সাহাবায়ে কেরাম দাওয়াত ও তাবলিগের কাজে পুরো পৃথিবী ছড়িয়ে পড়েন। খোলাফায়ে রাশেদার যুগে বিভিন্ন স্থানে মসজিদ-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হয়। আর তারা যেখানেই বসতেন সেখানেই মাহফিলের চেরাগ হয়ে সকলের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হতেন।
প্রকৃতপক্ষে খোলাফায়ে রাশেদিনের যুগে সাধারণ থেকে শুরু করে সরকারি কর্মচারি এমনকি ইসলামি সাম্রাজ্যের খলিফা পর্যন্ত যখন যেখানে গিয়ে ছিলেন সেখানেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করে ছিলেন। শিক্ষার জন্য তারা রাজকোষ থেকে প্রচুর অর্থও ব্যয় করেছেন। খোলাফায়ে রাশেদিনের প্রথম যুগেই কুরআন শরিফকে একত্রিত করা হয় এবং এর বহু কপি বিভিন্ন দেশে বিলি করা হয়। শিক্ষার প্রতি খোলাফায়ে রাশেদিনের গুরুত্বারোপ উক্ত ঘটনা হতে আরো স্পষ্ট হয়।
সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন, তাবে-তাবেঈনের যুগে মসজিদ কিংবা নিজবাড়ি অথবা খানকা ভিত্তিক ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থার প্রচলন সুস্পষ্ট ইতিহাসে বিদ্যমান। পরবর্তীতে উমাইয়া শাসনামলে কিঞ্চিত পরিবর্তন এনে আরো সুন্দরভাবে আনুষ্ঠানিকতার রূপ দেয়া হয়।
খোলাফায়ে রাশেদার যুগে ধর্মীয় শিক্ষার যে ব্যবস্থা প্রচলিত ছিল তাকে প্রথম যুগ হিসেবে গণ্য করা হয়। উমাইয়া শাসনামলে ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে দ্বিতীয় যুগ এবং আব্বাসিয়দের যুগের শিক্ষা ব্যবস্থাকে তৃতীয় যুগ বলা হয়।
এ যাবত বিদ্যা শিক্ষা করা ও বিদ্যা শিক্ষা দেয়া ছিল লিল্লাহিয়্যাতের কাজ। শিক্ষকতাকে কেউ জীবন-জীবিকার উপায় হিসাবে গ্রহণ করেনি। উমাইয়া খলিফা হযরত উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ. এর শাসনামলে বিদ্যা শিক্ষার প্রচার-প্রসারের উদ্দেশ্যে প্রচলিত রীতি-নীতি পরিবর্তন করা হয়।

মাদরাসা প্রতিষ্ঠায় উমর বিন আব্দুল আজিজ রহ. এর অবদান
উমাইয়া খলিফা উমর বিন আব্দুল আজিজের ইলমে দ্বীন শিক্ষার নির্দেশে নতুন যুগের সূচনা হয়। পবিত্র মক্কায় হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস রা. কুরআন মাজীদ, হাদিসে রাসূল, ফিক্বাহ, ফারায়েয ও আরবি ভাষা শিক্ষা দিতেন। মদিনায় রবীয়াতুর রায়-এর মাদ্রাসায় উচ্চ মানের শিক্ষা ও তালিমের কাজ চলত। হিজাজের পর ইরাকই ছিল ইসলামি শিক্ষার দ্বিতীয় প্রধান কেন্দ্র। কুফা নগরিতে আব্দুর রাহমান বিন আবি লাইলা এবং ইমাম শাফি রহ. স্ব-স্ব মাদ্রাসায় কুরআন-সুন্নাহ শিক্ষা দিতেন। বসরা নগরিতে অবস্থিত ইমাম হাসান বসরি রহ. তার পরিচালিত মাদ্রাসা বিশেষ মর্যাদা ও গুরুত্বের অধিকারী ছিল। সে সময় মাদ্রাসাসমূহ মসজিদ কিংবা মসজিদের বারান্দায় অথবা মসজিদ সংলগ্ন চত্বরে বসত।
আব্বাসিয় যুগে শিক্ষার যে বিকাশ রচিত হয়, তা আধুনিক পৃথিবি গড়ায় এক বিপ্লবি অবদান রাখে। সেই যুগে মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার তত্ত্বাবধানে রাষ্ট্র পরিচালিত হত। ওই যুগে পৃথক কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল না। যে কারণে মাদ্রাসা শিক্ষায় শিক্ষিত ব্যক্তিবর্গই বড় বড় চিকিৎসক, বড় বড় ইঞ্জিনিয়ার, দার্শনিকসহ বিভিন্ন বিষয়ে পাণ্ডিত্ব অর্জন করতে পারতেন।
আব্বাসিয় খিলাফতের শাসনামলেই প্রসিদ্ধ ইসলামি চিন্তাবিদ ও মাজহাবি ইমামদের আবির্ভাব ঘটে। হযরত ইমাম আবু হানিফা রহ., হযরত ইমাম মালেক রহ., হযরত ইমাম শাফেয়ি রহ., হযরত ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রহ. প্রমূখ ইমামদের বৈচিত্রময় কর্মের পরিস্ফুটন ঘটে। হযরত ইমাম বুখারি রহ. হযরত ইমাম মুসলিম রহ. হযরত ইমাম আবু দাউদ রহ. হযরত ইমাম তিরমিজি রহ. হযরত ইমাম নাসাঈ রহ. হযরত ইমাম ইবনে মাজা রহ. প্রমূখের হাদিস সংগ্রহ মুসলমানদের জ্ঞান-বিজ্ঞানের অনুশীলনকে শাণিত করে।
আব্বাসিয় যুগেই শিক্ষার মান অনুসারে প্রথম শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণীত হয়। এতে সাধারণ জ্ঞান স্থান পায়। শিক্ষাধারাকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা- এই তিন স্তরে বিন্যস্ত করা হয়।

সর্বপ্রথম মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন
আল্লামা সুবকি রহ. বলেন- নিজামুল মুলক তুসি সর্বপ্রথম মাদ্রাসা শিক্ষার প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি স্থাপন করেন। মূলত তা ঠিক নয়, বরং নিজামুল মুলকেরও জন্মের পূর্বে নিশাপুরে (ইরানের একটি প্রসিদ্ধ শহর) প্রথম মাদ্রাসাই-বায়হাকিয়া প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এরপর নিশাপুরেই সুলতান মাহমুদের ভাই আমির নাছের ইবনে সবুক্তগীনের পৃষ্ঠপোষকাতায় মাদ্রাসাই সাইয়্যেদিয়া নামে দ্বিতীয় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তৃতীয় বৃহত্তর মাদ্রাসাটিও নিশাপুরেই ছিল। উস্তাদ আবু বকর ফাওয়ারেককে জনসাধারণ সমারোহের সাথে আমন্ত্রণ করে আনেন। তার দরস শোনার জন্যই এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করা হয়।

দরসে নিজামি ও নিজামিয়া মাদ্রাসার
৪৫৯ হিজরি মুতাবিক ১০৬৭ সালের ১৩ যিলকদ শনিবার সেলজুক সুলতান তুঘরিলের ভ্রাতুষ্পুত্র আলফে আরসালানের প্রধানমন্ত্রী নিজামুল মুলক তুিস কর্তৃক বাগদাদে মাদ্রাসায়ে নিজামিয়া দারুল উলূম প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি সর্বপ্রথম ছাত্রদের জন্য বৃত্তি প্রদানের ব্যবস্থা করেন। ঐ মাদ্রাসায় বিভিন্ন বিভাগ ছিল এবং শ্রেণী অনুসারে প্রতি বিভাগে ছয় হাজার ছাত্র ছিল।
ইমাম গাজালি রহ., ইমাম তাবারি রহ., ইবনুল খতিব রহ., তাবরিযি রহ, আবুল হাসান ফকিহ রহ., আব্দুল কাদের জিলানি রহ. এই মাদ্রাসারই ছাত্র ছিলেন।
নিজামুল মুলূকের হাতে ৫ম শতাব্দিতে আধুনিক মাদ্রাসা শিক্ষার শুভ সূচনা হয় এবং ৬ষ্ঠ শতাব্দির শেষ পর্যন্ত তা বাকি থাকে। ইসলামি সাম্রাজ্যের আনাচে-কানাচে কোথাও মাদ্রাসা গড়ে উঠতে বাকি ছিল না। মুসলিম সাম্রাজ্যে গড়ে উঠা মাদ্রাসাসমূহ নিজামুলমুলক কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মাদ্রাসার সিলেবাস গ্রহণ করা এবং মাদ্রাসায়ে নিজামিয়া দারুল উলূম এর সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে অন্যান্য মাদ্রাসাগুলোকেও নিজামিয়া মাদ্রাসা বলা হতে থাকে।

উপমহাদেশে মাদ্রাসা শিক্ষা ঃ
একাদশ শতাব্দিতে বাগদাদে মাদ্রাসা শিক্ষার যে আলো জ্বলে উঠেছিল সে আলো ক্রমান্বয়ে পূর্ব দিকে ইসলাম প্রচার ও সাম্রাজ্য বিস্তারের সাথে সাথে আরও অগ্রসর হয়ে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে বাংলাদেশে চলে আসে।
মুসলিম শাসকদের রাজ্যাভিযান ৭১২ সালে ভারতবর্ষের সিন্ধু, মুলতান জয় করে কাশ্মীর পর্যন্ত অগ্রসর হয়। উমাইয়া সেনাপাতি মুহাম্মদ বিন কাসিম রাজ্য জয় করে সাথে সাথেই বেসামরিক প্রশাসন চালু করেন। একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার প্রতিও মনোযোগী হন। তার পরবর্তী শাসকগণ একই নীতি গ্রহণ করেন। উমাইয়া যুগের পর আব্বাসিয় যুগেও পূর্বাঞ্চলে মাদ্রাসা শিক্ষা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করে। বিশেষত দশ শতকের শেষের দিকে সবুক্তগীন এবং একাদশ শতাব্দির প্রারম্ভে তার পুত্র সুলতান মাহমুদ গজনিসহ সমগ্র উত্তর ভারতে মুসলিম শাসন কায়েম করেন। তিনি গজনিতে মাদ্রাসা মসজিদ নির্মাণ করে জ্ঞান-বিজ্ঞান, তাহজিব-তমদ্দুন প্রভৃতি ক্ষেত্রে গজনিকে বাগদাদের সমকক্ষতায় নিয়ে যেতে সক্ষম হয়ে ছিলেন।
অবশেষে সুলতান মুহাম্মদ ঘোরি ও সুলতান কুতুব উদ্দীন আইবেক (১২০৬-১২১০) ভারতের অনেকাংশ জয় করেন। মুসলিম শাসকগণ রাজ্য জয়ের সাথে সাথে মসজিদ, মাদ্রাসা, সরাইখানা প্রভৃতি নির্মাণ কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
বেসরকারি পর্যায়ে সূফি ও আউলিয়া দরবেশগণ ইতিপূর্বে সমগ্র উপমহাদেশ জুড়ে তাদের মিশনে সাফল্য লাভ করেন।
মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা জহিরুদ্দীন মুহাম্মদ বাবর (১৫২৬-১৮৫৭ খৃ.) থেকে শুরু করে প্রায় ৩০০ বছরের সকল শাসককেই বিদ্যা শিক্ষা ও বিদ্যালয় বা মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হিসেবে পাওয়া যায়।
মুঘল সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা হয় ১৫২৬ সালে। সম্রাট বাবর আরবি, ফার্সী ও তুর্কি ভাষায় পাণ্ডিত্য অর্জন করেছিলেন। বাবর পুত্র হুমায়ূন ও তার পুত্র আকবর বিদ্যোৎসাহী ছিলেন। সম্রাট হুমায়ূন সাম্রাজ্যের চেয়েও কুতুবখানাকে বেশি ভালবাসতেন।

সম্রাট আলমগির রহ. এর পৃষ্ঠপোষকতায় মাদ্রাসা শিক্ষা
মুঘলদের পরবর্তী সম্রাট শাহজাহান (১৬২৭-১৬৬৬ খৃ.), আওরঙ্গজেব তথা সম্রাট আলমগির (১৬৬৬-১৭০৭ খৃ.) তার পূর্বসূরিদের মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পৃষ্ঠপোষকতা করেন। শাহজাহান দিল্লির জামে মসজিদ এবং তৎসংলগ্ন একটি বড় মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। যেখান থেকে সাম্রাজ্যের বড় বড় স্থানে কাজি নিয়োগ করা হতো। এ ছাড়া সাম্রাজ্যের বহু মাদ্রাসার সংস্কার ও নতুনভাবে বহু মাদ্রাসা স্থাপন করেন।
আওরঙ্গজেব তথা সম্রাট আলমগির প্রত্যেক মসজিদে সরকারিভাবে ইমাম নিয়োগ করেন। অধিকাংশ মসজিদ সংলগ্ন মক্তব-মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এ সব মসজিদ মাদ্রাসা পরিচালনার লক্ষ্যে লা-খেরাজ সম্পত্তি দান করে যান। মুঘল সাম্রাজ্য পরবর্তী ইংরেজদের আমলে ১৭৯৩ সালে এক আইন জারির মাধ্যমে তা রহিত করা হয়। মসজিদ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নামে বরাদ্দকৃত লা-খেরাজ সম্পত্তি না থাকায় ধীরে ধীরে তা বন্ধ হয়ে যায়।

বাংলা অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থা ঃ
অষ্টাদশ শতাব্দির শেষের দিকে বঙ্গ দেশের শিলাপুর নামক স্থানে কিছু ছোট ছোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ছিল। যেখানে হিন্দু ও মুসলমানরা আরবি ও ফার্সি শিক্ষা করতেন। মুসলিম আমলে বাংলাদেশে প্রতি ৪ হাজার লোকের জন্য একটি করে প্রাথমিক মাদ্রাসা ছিল। বাংলাদেশে এরূপ প্রায় ৮০ হাজার প্রাথমিক মাদ্রাসা ছিল। এ জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এগুলোতে আরবি-ফার্সি ইত্যাদি পড়ানো হতো।

দারুল উলূম দেওবন্দ প্রতিষ্ঠার পটভূমি :
ভারত বর্ষে মুঘল শাসনামলের শেষ দিকে যখন ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারত বর্ষের ক্ষমতা নিজ হাতে নিয়ে, এ ফরমান জারি করে যে, ‘এখন থেকে বাদশাহ সালামতের রাজ্যে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিরই হুকুমত চলবে।’ সেই দিন মুসনাদুল হিন্দ শাহ ওয়ালীউল্লাহ রহ. এর সুযোগ্য সন্তান হযরত শাহ আবদুল আযীয রহ. দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে এই ফতওয়া ঘোষণা করলেন- ‘ভারতবর্ষ এখন দারুল হরব। (শত্র“ কবলিত দেশ) তাই প্রত্যেক ভারতবাসির ফরজ হল একে স্বাধীন করা।” তার এই ঘোষণা ছড়িয়ে পড়ল দাবানলের ন্যায়। দিশেহারা মুসলিম জাতি উলামাদের নেতৃত্বে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লব করলেন।
বিদ্রোহের কারণ ও করা নেতৃত্ব দিচ্ছেন মর্মে ইংরেজ সরকার, কোম্পানির কাছে রিপোর্ট চাইলে- ড. উইলিয়াম লিওর এ রিপোর্ট দিয়ে ছিল যে, ‘এটি ছিল মূলত: মুসলমানদের আন্দোলন, আর এর নেতৃত্ব দিয়েছে আলেম সমাজ। সুতরাং এ বিদ্রোহকে চিরতরে নির্মূল করতে হলে মুসলমানদের জিহাদি চেতনাকে অবদমিত করতে হবে। আর এ চেতনার মূল সঞ্জিবনি শক্তি আল-কুরআন ও এর ধারক-বাহক আলেম-ওলামাদেরকে নির্মূল করে ফেলতে হবে।’
এরপর শুরু হলো আলেম-উলামার উপর দমন-নিপীড়ন। হাজার হাজার আলেম-উলামাকে ফাঁসি দেওয়া হলো। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছিল যে, ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য ইসলামের নামটুকু আর বাকি থাকবে না। তবে তো বর্তমানের চেয়ে ভবিষ্যত আরো সঙ্গিন হবে। এমতাবস্থায় দীর্ঘ চিন্তা-ভাবনা, শলা-পরামর্শের পর সাময়িকভাবে সশস্ত্র সংগ্রাম বন্ধ রেখে সাম্রাজ্যবাদ ইংরেজ বেনিয়া বিরোধী, স্বাধীনতা সংগ্রামের চেতনায় উজ্জীবিত, দ্বীনি চেতনায় উৎসর্গ একদল জানবায মুজাহিদ তৈরির লক্ষ্যে এবং ইলমে নববীর সংরক্ষণ, ও ইসলামি শিক্ষা-সংস্কৃতির প্রচার-প্রসারের মহান উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ.-এর ইঙ্গিতে হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবি রহ.-এর নেতৃত্বে এবং যুগশ্রেষ্ঠ বুযুর্গানে দ্বীনের হাতে ১৮৬৬ ঈসায়ী ৩০ মে, মুতাবিক ১৫ মুহররম ১২৮৩ হিজরি সনে ভারতের উত্তর প্রদেশস্থ সাহারানপুর জেলায় দেওবন্দ নামক গ্রামে ঐতিহাসিক সাত্তা মসজিদ প্রাঙ্গনে একটি ডালিম গাছের ছায়ায় ইলহামিভাবে বর্তমান পৃথিবির দ্বীনি শিক্ষার প্রাণকেন্দ্র বলে পরিচিত ‘দারুল উলূম দেওবন্দ’ মাদ্রাসার গোড়াপত্তন হয়।
এ তারা বুঝতে পেরেছিলেন যে, জাতীর এ ক্রান্তিলগ্নে একদল দীক্ষাপ্রাপ্ত সচেতন মুজাহিদ তৈরি করে তাদের মাধ্যমে আযাদি আন্দোলনের স্রোতধারাকে ভারতবর্ষের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে দেয়া সহজতর। তাই চরম অর্থনৈতিক দুর্দশার মাঝে কোনো প্রকার সরকারি সাহায্য ছাড়াই একমাত্র আল্লাহর ওপর ভরসা করে গড়ে তুললেন এ প্রতিষ্ঠানটিকে। সেদিন থেকে শুরু হল স্বাধীনতা সংগ্রামের এক নতুন অধ্যায়। আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের বাণী শিক্ষা দেয়ার পাশাপাশি চলতে লাগল আজাদির দীক্ষা। ফলে অল্পদিনেই তৈরি হয়ে গেল এক নতুন জিহাদি কাফেলা। দীর্ঘ সংগ্রাম, ত্যাগ ও কুরবানির বিনিময়ে এদেশের মজলুম জনতা ফিরে পেল কাঙ্খিত স্বাধীনতা।
আজ গড়ে উঠেছে উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এর আদলে হাজার হাজার ইসলামি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে যা কওমি মাদরাসা নামে খ্যাত। এখান থেকে ইলমে দ্বীনের অমৃত সুধা পানে পরিতৃপ্ত হচ্ছে কোটি কোটি মুসলমান। ফারা পর্বতের আলোসিক্ত এ কওমি মাদরসাগুলোই হচ্ছে মুসলমানদের দ্বীন-ঈমান সংরক্ষণের সর্বশেষ দুর্গ।

 

Share

দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার পর চলছে বোর্ড পরীক্ষার প্রস্তুতি

দেশের ঐতিহ্যবাহি দ্বীনি বিদ্যাপীঠ জামিয়া রাহমানিয়া তা’লীম, তরবিয়তের ময়দানে বরাবরই ঈষর্ণীয় ফলাফল করে আসছে। ফলশ্রুতিতে দেশবাসির  এ মাদরাসার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব রয়েছে। সে কারণেই তাদের চাওয়াও এ মাদাসার কাছে একটু বেশিই। আলহামদুলিল্লাহ ! আসাতাযায়ে কেরামগণ ছাত্রদের পেছনে দিন রাত মেহনত করে যাচ্ছে।  দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষার ফলাফলও সন্তুষ্টজনক। বোর্ড  পরীক্ষার সকল জামাতের ছাত্ররা কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হতে পেরেছে। এখন বোর্ড পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ চলছে।

জামিয়ার শুভাকাঙিক্ষ ও অভিভাবকমন্ডলীর কাছে নিবেদন রইল। আসন্ন বোর্ড পরীক্ষায় জামিয়ার ছাত্ররা বরাবরের মতো যেন ঈষর্ণীয় ফলাফল করতে পারে, সে জন্য তাদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করবেন এবং জামিয়ার উন্নতি ও অগ্রগতি কল্পে আপনাদের মূল্যবান পরামর্শ দিয়ে আমাদেরকে সহায়তা করবেন। আমীন।

Share

ইলমী গগণ থেকে ঝড়ে পরল আরো একটি নক্ষত্র

প্রাণপ্রিয় উস্তাদ বহু গ্রন্থপ্রনেতা জামিয়া রাহমানিয়ার সিনিয়র মুহাদ্দিস মাওলানা নোমান আহমাদ সাহেব কিছুক্ষন পুর্বে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। আল্লাহ তায়ালা হুজুরকে জান্নাতুল ফিরদাওসের উঁচু মাকাম দান করুন;তার শোকাহত পরিবারকে সবরে জামিল ইখতিয়ারের তৌফিক দান করুন। আমীন।

Share

প্রথম সাময়িক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণ হলো

আলহামদুলিল্লাহ! গত সোমবার মজলিসে আসাতিযায় জামিয়ার নতুন শিক্ষাবর্ষের প্রথম সাময়িক পরীক্ষার তারিখ নির্ধারিত হয়েছে। সেমতে ৩ রা নভেম্বর সর্বশেষ সবক হবে এবং ৪ নভেম্বর থেকে ১০ নভেম্বর পর্যন্ত খিয়ার থাকবে এবং ১১ নভেম্বর থেকে ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম সাময়িক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

Share