ব্যবসা প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : একটি আমেরিকান ওয়েবসাইট কোম্পানি গত এপ্রিল ২০১ থেকে বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম শুর“ করেছে। তারা একটি ওয়েবসাইট ৫০০ ডলারে বিক্রি করে। একজন ক্রেতা কোনো ওয়েবসাইট ক্রয় করার পর নিজের মতো ব্যবহার করতে পারে অথবা দুই বৎসরের জন্য সেই কোম্পানির কাছে লিজ দিতে পারে। কোম্পানি সেই ক্রেতাকে প্রতি মাসে ৫০০০ টাকা করে দুই বৎসর পর্যন্ত দিতে থাকবে। কিš‘ কোম্পানির কাছে ওয়েবসাইটটি হস্তান্তর করার পর থেকে ক্রেতা আর সেই সাইটের মালিক থাকবে না। সে শুধুমাত্র মাসিক কিস্তিতে দুই বৎসর পর্যন্ত উক্ত পরিমাণ টাকা পাবে। আমার প্রশ্ন হলো এধরনের ব্যবসা শরীয়তসম্মত কি না?
রফিকুল ইসলাম

জবাব : আমেরিকান ওয়েবসাইট কোম্পানি থেকে ক্রেতা ওয়েবসাইট ক্রয় করে নিজে ব্যবহার করতে পারবে এবং এতে কোনো সমস্যা নেই।
প্রশ্নে লিজ বলে যে পদ্ধতি বর্ণনা করা হয় তা মূলত: শরীয়তের লিজ পদ্ধতি নয়। বরং এটি ক্রয়-বিক্রয়েরই নিষিদ্ধ একটি পš’া। তাই এ পদ্ধতিতে কোম্পানির নিকট বিক্রি করা বৈধ নয়।
হেদায়া ৩/১২৩, আল মুগনী ৪/১৯৫

Share

জীবনসায়াহ্নে কেমন আছেন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক

গাজী মোহাম্মাদ সানাউল্লাহ

কেমন আছেন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক, লেখার শিরোনামটি অসংখ্য মানুষের আগ্রহের কাছ থেকে ধার করা। সবাই যেহেতু এ কথাটিই জানতে চান, তাই তাদের আগ্রহের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এটিকেই লেখার শিরানাম দিলাম।
শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক এই নব্বই-ঊর্ধ্ব বয়সে এখন কেমন আছেন, কীভাবে দিন কাটান, মাদরাসায় আসেন কিনা—এরকম আরও হাজারো প্রশ্ন মানুষের।
পারিবারিকভাবে শায়খের ৫ ছেলে ও ৯ মেয়ে। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়েছে অনেক আগেই। তবে শায়খের সর্বশেষ ছেলে মাওলানা মাসরুরুল হকের বিয়ে হলো ক’মাস আগে, ৬ অক্টোবর বৃহস্পতিবার। এ উপলক্ষে দীর্ঘদিন পর শায়খ তার নিজ হাতে প্রতিষ্ঠিত প্রাণপ্রিয় প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়াতে অনেক দিন পর এলেন। সেদিন শায়খের ছেলের বিয়ে—এটা যতটা আমাদের আনন্দের, তার চেয়ে অনেক বেশি উপভোগ ও উদযাপনের বিষয় ছিল হজরত শায়খের উপস্থিতি।
সকাল থেকেই বার বার খবর নিচ্ছিলাম কখন শায়খ আসবেন। প্রথম শুনলাম শায়খ বিকাল ৩টায় আসবেন, পরে আবার জানলাম আসরের নামাজ পড়বেন। যা হোক, আমরা অধীর আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি শায়খের জন্য। সময় যেন আর কাটতে চায় না। অবশেষে সব প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে তিনি, আমাদের প্রাণপ্রিয় শায়খ, শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা. এলেন।
শায়খের চলাচল অনেক আগে থেকেই হুইল চেয়ার মাধ্যম। শারীরিক দুর্বলতার কারণে শায়খ এখন প্রায় সবরকম সফর এড়িয়ে চলেন। প্রায় পুরোটা সময় থাকেন পারিবারিক আবহে। এর ফলে বাসা বা মাদরাসা ছাড়া শায়খের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ সাধারণত হয় না। মারকাজুল ইসলামীর একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে শায়খ এলেন, না এটা শারীরিক কোনো অসুস্থতার কারণে নয়, বরং হুইল চেয়ার সমেত আসার জন্য। বেশ কিছুদিন আগেও তিনি হুইল চেয়ার থেকে উঠে গাড়িতে উঠতে পারতেন। কিন্তু এখন শরীর এতটাই দুর্বল যে বাসা থেকে হুইল চেয়ারে উঠেন, গাড়িতেও এ অবস্থায় বসা থাকেন। ওঠা-বসা করেন না।
যতটা সময় শায়খ মাদরাসায় থাকলেন, পুরোটা সময় প্রায় নীরব। আত্মীয়-স্বজন, ভক্ত, ছাত্র, ওলামা একবাক্যে সবাই চারপাশে ঘিরে থাকলেন সারাক্ষণ। কেউ কেউ সালাম দিলেন। মুসাহাফা করলেন। বার্ধক্যের কারণে হয়তো কানেও একটু কম শোনেন। উচ্চস্বরে সালাম দিলে তাকিয়ে দেখেন, ঠোঁটগুলো কিছুটা নড়ে ওঠে, হয়তোবা কিছু বলেন। কিন্তু অস্পষ্টতার কারণে তা বোঝা যায় না। তবে আশ্চর্যের কথা হলো, সবকিছুর পরও শায়খের জিকির ঠিক আছে। যতক্ষণ জাগ্রত থাকেন, তার প্রায় পুরোটা সময়ই মৃদু আওয়াজে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করেন। যে অভ্যেস ছিল তার সুস্থ সময়ে।
আজিমপুরের যে বাড়িটির সামনে নাম্বার প্লেটে লেখা—৭/২ আজিমপুর, এটি যে ঐতিহ্যবাহী একটি বাড়ি তা এর প্রাচীনত্ব ও সেকেলে আমলের স্থাপত্য স্টাইলই বলে দেয়। চার তলার বাড়িটির দোতলায় হজরত শায়খ নিজে থাকেন। অন্যগুলোতে শায়খের ছেলেরা। দীর্ঘদিন পর্যন্ত বাড়ির রং ছিল হলুদ। এখন সাদা রং করা হয়েছে। নিচতলার পুরনো সেই গেটটির সামনে যখন দাঁড়ালে মনে একটা অন্য রকম অনুভূতি জেগে ওঠে। মনে জাগে ভিন্ন রকম শিহরণ। জাগতেই তো হবে, এখানে, ঠিক এ জায়গাটাতে শায়খ এসে গাড়ি থেকে নামতেন মাদরাসা বা কোনো মাহফিল থেকে। গাড়ি থেকে নেমে এ জায়গা দিয়ে ধীরে ধীরে হেঁটে যেতেন, একটু সামনে গিয়ে উঠতেন সিঁড়িতে, শায়খের সুউচ্চ আল্লাহ আল্লাহ জিকির স্বাভাবিকের চেয়ে একটু ছোট এই নিচতলার চারপাশটায় প্রতিধ্বনিত হতো। মনে হতো যেন শায়খের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশের পরিবেশ ইট-বালি কণাও জিকির করছে।
এদেশে শায়খুল হাদিস শব্দটি শুনলে, বুখারি শরিফের তর্জমা পড়লে, ঐতিহাসিক বাবরি মসজিদ লংমার্চের কথা মনে হলে আমাদের সবার মনের পর্দায় নিজের অজান্তেই যার প্রদীপ্ত সূর্যময় মুখাবয়ব ভেসে ওঠে, তিনি শায়খুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক। দীর্ঘ অর্ধ শতকেরও বেশি সময় ধরে অবিরাম ও ধারাবাহিকভাবে হাদিসে রাসুলের তর্জুমান হজরত শায়খের নেক ছায়া আল্লাহপাক এখনও আমাদের ওপর কায়েম রেখেছেন। এজন্য অসংখ্য শোকরিয়া সে মহান সত্তা আল্লাহর। দীর্ঘ এ সময়ে হজরত শায়খের হাদিসের ছাত্রের সংখ্যা কত? হাজার, লাখো, কোটি। গাণিতিক উপায়ে এটা নির্ধারণ করা কঠিন হবে। তবে এ ধারা প্রবহমান—এ কথা ধ্রুব সত্য।
২০০৪ সালে যখন ছাত্র জীবনের স্বপ্নময় প্রতিষ্ঠান জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়ায় ভর্তি হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করলাম, তখন থেকে হজরত শায়খকে খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগের দ্বার উন্মুক্ত হলো বলা যায়। জালালাইনের বছর হজরতকে দেখতাম সারা দিন নানা মাদরাসায় পড়িয়ে জোহরের আজানের সময় মাদরাসায় আসতেন। সাদা নোহা মাইক্রোতে করে সাদা রংয়ের কলারবিহিন একটি জামা গায়ে। হাতে চমত্কার ও দামি একটি লাঠি। তখনই শায়খ গাড়ি থেকে একা নামতে পারতেন না। ডান হাতে লাঠি আর বাঁ হাতে কাউকে ধরে আস্তে আস্তে নামতেন। তবে তখনও একা একা হাঁটতে পারতেন। বিকাল বেলা আসরের নামাজের পর শায়খ প্রায় নিয়মিত ২য় তলার বারান্দায় গিয়ে বসতেন। সে সময় দেখেছি, কখনও খাদেমদের কেউ কাছে না থাকলে ভবনের একপ্রান্তের নিজ রুম থেকে একা একা হেঁটে বারান্দায় গিয়ে বসতেন। শায়খের মাথায় দেয়ার একটা সুন্দর তেল ছিল। একেবারে টকটকে লাল রংয়ের গাড় তেল। এর ঘ্রাণটাও ছিল ভিন্নরকম। আমরা বিকাল বেলার সে সময়টাতে শায়খের মাথায় সেই তেল মেখে দিতাম। এই সৌভাগ্য রাহমানিয়ায় পড়া অনেক ছাত্রেরই হয়েছে। শায়খের ধবধবে সাদা চুলে কড়া লাল রংয়ের তেল আস্তে আস্তে মেখে দিচ্ছি আর শায়খ মুখে অমায়িক একটি হাসির আভা ছড়িয়ে কিছুটা উচ্চস্বরে আল্লাহ আল্লাহ জিকির করছেন… এ চমত্কার দৃশ্যটি এখনও চোখে ভেসে বেড়ায়।
শায়খের সে সময়কার সারা দিনের নিয়ম ছিল অনেকটা এরকম—সকালে বাদ ফজর জামিয়া রাহমানিয়ায় বুখারির দরস, তারপর নাস্তা খেতেন নিজ রুমে বসে। সকাল ৯টার দিকে পড়াতে যেতেন লালমাটিয়া বা মিরপুর দারুস সালামে। অথবা বনানী কড়াইল। মাসে একবার করে সাভার টিএন্ডটি কলোনি মাদরাসা, মাদারীপুর জামিয়াতুস সুন্নাহ আর নরসিংদী বৌয়াকুর মাদরাসায়। সেসময় ও তার পর প্রায় একবছর এরকমই ছিল শায়খের রুটিন। তবে দেখতাম সারাদিন পড়িয়ে প্রায় প্রতিদিন বিকালে নানা জায়গার মাহফিলে যেতেন। ফিরতেন মধ্যরাতে।
জামিয়া রাহমানিয়ায় ভেতরে প্রবেশ করার ২টি গেট। একটি ঢুকতেই হাতের বাঁ পাশে। আরেকটি আরেকটু সামনে গিয়ে ভবনের মাঝামাঝি। এখন মাদরাসার সামনের অংশে যে বিশাল সুরম্য তোরণ হয়েছে, এটা সে সময় ছিল না। শায়খকে দেখেছি প্রায় সবসময় প্রথম গেট দিয়ে ঢুকতেন। এ গেটে ঢুকতে মাথার ওপর গাঢ় সবুজ জমিনে সাদা কালিতে চার লাইনে একটি তারানার অংশ লেখা রয়েছে। এটি জামিয়া রাহমানিয়ার শান রচিত তারান। যেটাকে আমরা তারানায়ে জামিয়া বলি। এটার রচনাও করেছেন শায়খ নিজে। শায়খের গাড়ি মাদরাসায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে আশপাশের ছাত্রদের জটলা লেগে যেত। কার আগে কে এগিয়ে আসবে। শায়খ আস্তে আস্তে গাড়ি থেকে নামতেন। পরের বছর থেকে যেটা হয়েছে, গাড়ি থেকে নেমে হুইল চেয়ারে বসতেন আর আমরা চার-পাঁচজনে কখনও চালিয়ে, কখনও হুইল চেয়ার সমেত উঁচু করে শায়খকে ২য় তলায় নিয়ে যেতাম।
এরই মাঝে হয়তো গাড়ি থেকে নামতে গিয়ে শায়খের চোখ পড়েছে গেটের উপরের অংশে, যেখানে তারানায়ে জামিয়ার কয়েকটি লাইন লেখা রয়েছে, নিচ তলা থেকে ২য় তলার একেবারে শেষ প্রান্তে হজরতের রুম পর্যন্ত যেতে যেতে শায়খ তারানার সে অংশটুকু সুর করে পড়তেন। শায়খের চমত্কার উচ্চারণ, গুরুগম্ভীর কণ্ঠ আর দরদমাখা সুর—সব মিলিয়ে আমাদের সে সময়ের যে অনুভূতি হতো তা এখানে প্রকাশ করে অন্তরের অম্লান সে স্বাদ কমাতে চাই না। পাঠক এর জন্য আমাকে ক্ষমা করতে পারেন।
ক’দিন আগে শায়খের বাসায় গেলাম। দেখলাম মেহমানদের বসার রুমটা পরিবর্তন হয়েছে। আগের পুরুনো সে রুমটাতে নয়, বসতে দেয়া হলো অন্য একটা রুমে। রুমের নানা জায়গায় শোভা পাচ্ছে বিভিন্ন সম্মেলন ও প্রতিষ্ঠান থেকে শায়খকে দেয়া সম্মাননা ক্রেস্ট। মানপত্রও রয়েছে বেশক’টি।
বাসার ভেতরের দিকের মাঝারি ধরনের একটি রুমে শায়খ থাকেন। একপাশে কমড বাথরুম, অন্যপাশে খাট পাতা। খাটের পাশে জানালা। থাই গ্লাস সিস্টেম হওয়ায় অর্ধেকটা খোলা। আলো কম হওয়ায় ঘরটাতে আলো-আঁধারের এক ভিন্নরকম খেলা, কিছুটা আঁধার আর অনেকটা আলো। খাটের কাছাকাছি গেলে সে আলো প্রকট হয়ে উঠল, সেটা কি খোলা জানালার কারণে, নাকি খোলা মনের আলোকিত এ মানুষটির কারণে। জানালার পাশে পাতা ছোট্ট খাটে শুয়ে আছেন শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা। আমি সালাম দিয়ে মুসাহাফার জন্য এগিয়ে গেলাম। ভক্তিভরে শায়খের হাত দুটোতে চুমো খেলাম, পরম শ্রদ্ধায় হাত দুটো বেশ কিছুক্ষণ ধরে রাখলাম।
শায়খ জীবনের নানা বর্ণাঢ্য প্রান্ত অত্যন্ত সফলভাবে পেরিয়ে এসেছেন। শিক্ষকতা, রাজনীতি, মাদরাসা পরিচালনা, জাতীয় নেতৃত্বসহ জীবনের সব প্রাঙ্গণে হজরতের যে পরিচয়টি বারবার ফুটে উঠেছে তা হলো অমায়িকত্য ও নির্বিবাদিতা। কারও সঙ্গে কোনো শত্রুতা নয়। হিংসা নয়। এত বড় মাপের এ লোকটি যে ছোট্ট এ খাটটিতে শুয়ে আছেন তা ভাবতে অবাক লাগে। দেখে মনে হলো এখানে আরও কয়েকজন আল্লামা আজিজুল হক নিশ্চিন্তে ঘুমোতে পারবেন, কোনো বিবাদ বাধবে না।
অন্য সবকিছুর মতো শায়খের শোয়ার ধরনও খুব সুন্দর। ডান দিকে ফিরে মাথার নিচে একটি হাত দিয়ে, হাঁটু দুটি ভাঁজ করে খানিকটা বুকের কাছে এনে শুয়ে আছেন, আরেকটি হাত গায়ের ওপর। কেমন যেন নিজেই নিজেকে জড়িয়ে রেখেছেন। পোশাকও খুব স্বাভাবিক। পরনে লুঙ্গি, গায়ে সাদা রংয়ের একটি ফতোয়া। বেশ আগে থেকেই শায়খ লাগানো দাঁত ব্যবহার করেন। মাদরাসায় দেখতাম মাঝে মাঝে পরিষ্কার করার জন্য দাতগুলো খুলে রাখতেন, তবে এখন আর দাঁত ব্যবহার করেন না, যার কারণে চেহারায় ভরাট সে ভাবটা আর নেই। শরীর বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে, এটা প্রথম দেখাতেই বোঝা যায়।
শায়খের ঘরটা খুব নির্জন, সড়কের একেবারে উল্টো পাশে হওয়ায় এখানে নিস্তব্ধতা অনেক বেশি। আমার কাছে সারাটা ঘরময় কেমন যেন খুব গভীর একটা নির্জনতা মনে হলো। কিতাবে পড়া আগের দিনের বুজুর্গ ও সাধকদের গুহা অভ্যন্তরের হুজরায় যেমন নীরবতা বিরাজ করত, অনেকটা সে রকম।
খাবার-দাবারের খবর নিলাম। নাইম ভাই জানালেন, শায়খের খাওয়া-দাওয়ার ধরন পাল্টে গেছে। খাবারের পরিমাণও কম। বাসা থেকে খুব একটা বের হন না। মাঝে মাঝে ডাক্তারের কাছে যান, বারডেম হাসপাতালে। আর বাসায় সারাক্ষণ থাকেন পারিবারিক আবহে। আর থাকবেনই বা না কেন? এ পরিবারে ছেলেমেয়ে মিলিয়ে হাফেজে কোরআনের সংখ্যা একশ’রও বেশি। পরিবারের আলেম সদস্যের সংখ্যাও প্রায় অর্ধশত। এরকম পরিবারের মাঝে থাকলে এমনিতেই মনে হবে কোন স্বর্গীয় পরিবেশে অবস্থান করছি।
যদি প্রশ্ন করা হয় হজরত শাইখুল হাদিসের কোন পরিচয়টি বড়? বর্ষীয়ান রাজনৈতিক নেতা, প্রখ্যাত বক্তা, বাবরি মসজিদ লংমার্চের আপসহীন নেতা, হাদিসে রাসুলের সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থ বুখারি শরীফের প্রথম বাংলা ভাষ্যকার, সফল সংগঠক, নির্লোভ রাজনীতিবিদ, আরও কত কী! এসব অসংখ্য পরিচয়ের মাঝে কোন পরিচয়ে তিনি পরিচিত হবেন আগামী দিনে? আগামী প্রজন্মের সন্তানরা মনের ক্যানভাসে কল্পনার তুলিতে শাইখুল হাদিসের যে প্রতিচ্ছবি আঁকবে, তা এ সবের কোন এঙ্গেল থেকে। এ বিষয়ে তর্ক চলতে পারে। নানা মত-অভিমত থাকতে পারে। প্রতিটি মতের পেছনে শক্তিশালী যুক্তিও থাকবে এবং থাকাটাই স্বাভাবিক। তবে খুব ছোট করে আমি নিজের কথাটা বলতে চাই। আমার ক্ষুদ্র দৃষ্টিতে শাইখুল হাদিস আল্লামা আজিজুল হক দা.বা’র বাকি সব পরিচয় ছাপিয়ে যে পরিচয়টি জেগে ওঠে, তা হলো তার সুমহান শিক্ষক সত্তা। তিনি যেমনিভাবে এদেশের অসংখ্য-অগণিত আলেম-ওলামার শিক্ষক, তেমনি লাখ-কোটি ধর্মপ্রাণ মানুষেরও শিক্ষক, যারা ইসলামের আলোকিত পথের শিক্ষা নিয়েছে দেশের নানা প্রান্তে, তার ওয়াজ মাহফিলে। একইভাবে তাদেরও তিনি শিক্ষক, যারা হেরা গুহা থেকে উত্সারিত আলোক শিখার সন্ধান পেয়েছেন তার লিখিত হাদিসে রাসুলের বিখ্যাত গ্রন্থ বুখারি শরীফের তর্জমা ও সরল অনুবাদসহ নানা কিতাব পড়ে।
এর পাশাপাশি আরেকটি বিষয় স্পষ্ট হয়, তা হলো হজরত শাইখুল হাদিসকে সমকালের শিক্ষক বলা যাবে না। কোনো কাল বা যুগ দিয়ে তার মহান শিক্ষকতার প্রজ্বল রুশনিকে আটকানো যাবে না। কাল থেকে কালান্তরে, যুগ থেকে যুগান্তরে বয়ে যাবে তার শিক্ষার সুমহান ধারা। আর এভাবেই শাইখুল হাদিসের শিক্ষার আলো ছড়িয়ে যাবে শতাব্দীপরম্পরায়। কেয়ামত পর্যন্ত। ইনশাআল্লাহ।

gazisanaullah@gmail.com

Share

জন্ম নিয়ন্ত্রণ প্রসঙ্গ

 

জন্ম নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি বৈধ কি না? ইসলাম এ ব্যাপারে কি বলে, বিস্তারিত জানাবেন।

মুহাম্মদ সাদাত আল আবরার মুহাম্মদপুর, ঢাকা

জবাব : জড় ও জীবসহ সবকিছুই আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টি করেছেন এবং তিনিই পবিত্র কুরআনে ভূপৃষ্ঠে বিচরণকারী সকল প্রাণীর রিযিক তথা জীবিকার দায়িত্বভার নিজে গ্রহণ করার কথা ঘোষণা করেছেন। আর তার ভাণ্ডার অফুরন্ত। যা কখনো শেষ হবার নয়। একটি হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন যে, তোমাদের সর্বপ্রথম ও সর্বশেষ অর্থাৎ সমস্ত জিন-ইনসান কোনোস্থানে একত্রিত হয়ে আমার নিকট প্রার্থনা করে। আর আমি তাদের সকলের প্রার্থণা মাফিক তাদেরকে দান করি, তাহলে আমার ভাণ্ডার থেকে এতোটুকুও কমবে না যতোটুকু সুঁই সাগরে ডুবিয়ে উঠালে সাগরের পানি কমে। তাই পৃথিবীতে জনসংখ্যা যতোই হোক না কেন। প্রত্যেকের রিযিকের ব্যবস্থা অবশ্যই আল্লাহ তা’য়ালা করে থাকেন ও করবেন। প্রত্যেক মুসলমানের এই বিশ্বাস রাখা চাই। এর বিপরীত আকীদা পোষণ করা কুফরী। তাই জন্মনিয়ন্ত্রণ করা নিষেধ। সুতরাং ওলামায়ে কেরাম যে ব্যাখ্যা করেন তা যথার্থই করেন। তবে অবস্থা ও পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে কখনও এক্ষেত্রে হুকুমের মধ্যে কিছু শিথিলতা আসে। যা ব্যাখ্যা সাপেক্ষ। নিম্নে ব্যাখ্যাসহ এর হুকুম বর্ণনা করা হলো।  জন্মনিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনিয়তা ও পদ্ধতিতে ভিন্নতা রয়েছে। সকল ক্ষেত্র ও সকল পদ্ধতির হুকুম এক নয়।

মৌলিকভাবে এর তিনটি পদ্ধতি রয়েছে।

এক. জন্মনিয়ন্ত্রণের স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যার দ্বারা নারী বা পুরুষ প্রজনন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে।

দুই. অস্থায়ীভাবে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা, যার ফলে স্বামী-স্ত্রীর কেউ প্রজনন ক্ষমতাহীন হয়ে যায় না যেমন : কনডম ব্যবহার করা, পিল সেবন করা ইত্যাদি।

তিন. গর্ভধারনের পর গর্ভপাত ঘটানো।

প্রথম পদ্ধতিটি গ্রহণ  করা সম্পূর্ণ অবৈধ। কেননা এতে আল্লাহর সৃষ্টির পরিবর্তন করা আবশ্যক হয়ে পড়ে। তবে এক্ষেত্রেও কখনও কোনো  কোন অভিজ্ঞ দীনদার ডাক্তারের বক্তব্যমতে গর্ভধারণের কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশঙ্কা হলে স্থায়ী পদ্ধতি গ্রহণ করা বৈধ হবে।

আর দ্বিতীয় পদ্ধতি কেবল নিম্মোক্ত ক্ষেত্রে বৈধ হবে।

১। দুই বাচ্চার জন্মের মাঝে কিছু সময় বিরতি দেওয়া যাতে প্রথম সন্তানের লালন-পালন, পরিচর্যা ঠিকমত হয়।

২। কোন কারণে মহিলার বাচ্চা লালন-পালনের সামর্থ না থাকলে।

৩। মহিলা অসুস্থ ও দূর্বল হওয়ার কারণে গর্ভধারণ বিপদজনক হলে। তবে ভালোভাবে মনে রাখা দরকার যে, এ সকল ক্ষেত্রে বৈধতা শুধু ব্যক্তিগত প্রয়োজনে। রাষ্ট্রীয় ও সম্মিলিতভাবে মানুষের নিকট প্রচারণা করা ও এতে উদ্বুদ্ধ করা কোনোভাবেই বৈধ নয়।

আর তৃতীয় পদ্ধতিও নাজায়েয। তবে যদি মহিলা অত্যাধিক দূর্বল হয়, যার কারণে গর্ভধারণ তার জন্য আশঙ্কাজনক হয় আর গর্ভধারনের মেয়াদ চার মাসের কম হয়। তাহলে গর্ভপাত বৈধ হবে। আর মেয়াদ চার মাসের অধিক হলে বৈধ নয়।

[মুসলিম শরিফ ২/৩১৯, জাদীদ ফিকহী মাবাহেস ১/২৮২]

 

 

 

 

মসজিদের নিচে মার্কেট করার বিধান

 

জিজ্ঞাসা :  আমরা জানি মসজিদের জায়গা তার মাটিসহ ওয়াকফ। এখন অনেক স্থানে দেখা যাচ্ছে মসজিদের নিচ তলায় মার্কেট তৈরি করে ২য় তলায় মসজিদ করা হচ্ছে। আর মার্কেটের দোকান বিভিন্ন বৈধ অবৈধ কাজের জন্য ভাড়ায় দেওয়া হচ্ছে এবং মার্কেটের ভেতর থুতু ফেলাসহ হিন্দু, মুসলমান, মহিলা, পুরুষ, পবিত্র, অপবিত্র ব্যক্তিরা গমনাগমন করছে। এতে মসজিদের পবিত্রতা নষ্ট হচ্ছে। তা ছাড়া মসজিদের মার্কেটে গানবাদ্যসহ টিভি, ভিসিডিও চালানো হয়। এখন প্রশ্ন হলো এমনভাবে মসজিদের নিচে মার্কেট করা বৈধ আছে কি না? এবং সেই মার্কেটে অপবিত্র মহিলাগণ আসতে পারবে কি না? গান বাদ্য ও টিভি ভিসিডির দোকান মসজিদের মার্কেটের ভাড়া দেয়া যাবে কি না?

মামুনুর রশীদ ,সাভার, ঢাকা

জবাব : মসজিদ নির্মাণের সময় নিচ তলায় মার্কেট ও উপরে মসজিদ নির্মাণ করলে তা বৈধ হবে এবং সেই মার্কেটের দোকান সকল বৈধ কার্যক্রম ও ব্যবসার জন্য ভাড়ায় দেয়া এবং তাতে পবিত্র অপবিত্র, কাফের মুসলমান, সব ধরনের লোকের জন্য প্রবেশ বৈধ হবে। তবে টিভি, ভিসিডি বা অন্যকোনো হারাম পণ্যের ব্যবসা কিংবা অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য দোকান ভাড়া দেয়া বৈধ নয়।

বলাবাহুল্য যে, নাজায়েয কাজ করা যে কোনো স্থানেই বৈধ হবে না। আর মসজিদ মার্কেটে তা আরো কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

পক্ষান্তরে নিচ তলায় শুরু থেকেই মসজিদ নির্মিত হলে পুন:নির্মাণের সময় নিচে মার্কেট করা কিছুতেই বৈধ হবে না এবং কোনো কাজে তা ভাড়ায় দেয়া, অপবিত্র কোনো ব্যক্তির প্রবেশও জায়েজ হবে না।

[তাবয়ীনুল হাকায়েক ৫/১২৫, ফাতাওয়া আলমগিরী ২/৪৫৫]

জালালী খতম প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : কয়েকদিন আগে আমরা জুমার নামাজ পড়ার জন্য মসজিদে যাই। উক্ত মসজিদের খতীব সাহেব তার বয়ানে খতমে ইউনুস, জালালী, দুরূদে নারীয়া ইত্যাদি খতমগুলোকে বেদআত বলে উল্লেখ করেন। দলীল হিসেবে কুরআন হাদিসের কোথাও নেই একথা পেশ করেন। পরে জানতে পারি অনেক উলামায়ে কেরামই এগুলোকে বেদআত হিসেবে ফতোয়া দিয়ে থাকেন।

এখন আমার জানার বিষয় হলো

১। কুরআন হাদিসের কোথাও কি এ সমস্ত খতমের কথা উল্লেখ আছে?

২। কুরআন হাদিসে না থাকলে আমল করা যাবে কি?

৩। যদি কুরআন হাদিসে থেকে থাকে তাহলে শরীয়তের কোন মূলনীতির আলোকে আমল করা হচ্ছে?

মুহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, মোহাম্মদপুর ঢাকা

জবাব : প্রশ্নোক্ত খতম সমূহের কথা কুরআন হাদিসে উল্লেখ নেই। তবে যেহেতু এসব খতম কুরআন শরীফের আয়াত কিংবা হাদিসের বর্ণিত দোয়া বা অর্থবোধক এমন শব্দ দ্বারা করা হয় যা বুযুর্গ ও আওলিয়াগণ থেকে বর্ণিত। সেহেতু চিকিৎসা হিসেবে এসব খতম করা বৈধ। এটা দোষের কিছু নয়। তবে এগুলোকে শুধুমাত্র উপার্জনের মাধ্যম না বানিয়ে মুসলমানদের উপকারের উদ্দেশ্যে করা উচিত।

চিকিৎসা হিসেবে যে কোনো বৈধ আমল করার অবকাশ হাদিসও ফিকাহের দ্বারা প্রমাণিত। আর এর জন্য যে কোনে বৈধ পদ্ধতি নির্ধারণ করতেও কোনো বাধা নেই। সেমতে খতমে ইউনুস, খতমে জালালী, দুরূদে নারিয়া এ জাতীয় খতম পড়া যেতে পারে। তবে এ বিশ্বাস রাখতে হবে যে আল্লাহ তা’য়ালাই একমাত্র আরোগ্যদানকারী।

উল্লেখ্য, কুরআন হাদিসে নেই, এমন বিষয়কে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করাকে বিদআত বলে। বলাবাহুল্য যে উক্ত বিষয়গুলোকে তদবীর ও চিকিৎসা স্বরূপই গ্রহণ করা হয় ইবাদত হিসেবে নয়। তাই এগুলোকে বিদআত বলা অবান্তর।

[বুখারি শরিফ ২/৮৫১, আহকামূল কুরআন]

 

পিতা মাতার  সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা প্রসঙ্গে

জিজ্ঞাসা : আমি একজন ব্যবসায়ী। সংসারের মধ্যে আমি সবার ছোট। আমার অন্য ভাইয়েরা ভিন্ন। আমি আমার মা-বাবা এবং স্ত্রী এক সংসারে থাকি। কিন্তু আমার মায়ের সঙ্গে আমার স্ত্রীর সব সময় মনোমালিন্য লেগে থাকে। আমি যখনই বাড়িতে যাই তখন আমার মা আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে এমন সব অভিযোগ করে যে ব্যাপারে আমি নিশ্চিত যে আমার স্ত্রী কখনো এই রকম করতে পারে না।

আমি জানি যে মায়ের মনে কষ্ট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে না। আমি সকলকে নিয়ে এক সাথে থাকতে চাই।  আমার প্রশ্ন এই যে এখন আমি কী করতে পারি? তা আমাকে জানাবেন।

আসলাম হুসাইন, নড়াইল।

জবাব : প্রশ্নোক্ত অবস্থায় সম্ভব হলে স্ত্রীকে আপনার পিতা-মাতা থেকে পৃথক করে রাখা উচিত। তবে আপনার কর্তব্য হচ্ছে, পিতা-মাতার যথাযথ সেবা শুশ্রƒষা করা এবং তাদের প্রয়োজনাদি পূরণ করা এবং কখনোই তাদের সাথে দুর্ব্যবহার না করা। এরপরও যদি তারা শুধুমাত্র আপনার স্ত্রীকে দূরে রাখার কারণে মন খারাপ করে থাকে, তাহলে তা আপনার জন্য ক্ষতিকর নয়।

[মুসলিম শরীফ ১/৩৯৭]

 

আপন ভাইকে যাকাত দেয়ার হুকুম

জিজ্ঞাসা : আমি প্রতি বৎসর যাকাত আদায় করি। তবে আমার ভাই কিছু আর্থিক সঙ্কটে রয়েছে। তাই এবারের যাকাত আমার ভাইকে দিতে চাচ্ছি। যাতে তার উপকার হয়। জানার বিষয় হলো যাকাতের মাল আপন ভাইকে দেয়া জায়েয হবে কি না?

আছমা আক্তার, মোমেনশাহী

জবাব:  আপনার ভাই যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত হলে তাকে যাকাতের টাকা দেয়া যাবে। বরং উত্তম। কেননা, তাকে দিলে দুটি সওয়াবের অধিকারী হবেন। সদাকার সাওয়াব ও আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার সওয়াব।

[বুখারি শরিফ ১/১৯৮]

Share

প্রচলিত মিলাদ, কিয়ামের পদ্ধতি জায়েয কি না?

এনামুল হাসান, ঢাকা

জবাব : আখেরি নবী ও শ্রেষ্ঠ রাসূল হযরত মুহাম্মদ সা. এর প্রতি ভালবাসা ও গভীর মহব্বত রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রিয় নবীজী সা. এর জন্মলগ্ন থেকে তিরোধানের পূর্ব পর্যন্ত তার পবিত্র জীবনাদর্শ ও কর্ম-কাণ্ডের আলোচনা এবং পূর্ণ অনুসরণ ও অনুকরণ আল্লাহর রহমত প্রাপ্তির বড় মাধ্যম এবং গুরুত্বপূর্ণ ইবাদতও বটে। তবে উক্ত ইবাদত অবশ্যই সে পদ্ধতিতে করতে হবে, যে পদ্ধতি স্বয়ং নবীজী সা., সাহাবায়ে কেরামকে শিক্ষা দিয়েছেন। তারপর সাহাবায়ে কেরাম রা. তাবেঈনদের শিক্ষা দিয়েছেন এবং তাবেঈনগণ পরবর্তীদের শিখিয়ে গেছেন। সে পদ্ধতি হচ্ছে, দিন-ক্ষণ ও সময় নির্ধারণ এবং আনুষ্ঠানিকতা ব্যতিরেকে রাসূল সা.-এর জীবনী আলোচনা এবং দুরূদ শরীফ পাঠ করা। মনগড়া বা ভিত্তিহীন কোনো তরীকায় করলে তা ইবাদত বলে গণ্য হবে না। এ জন্যই রাসূল সা. এর জীবনাদর্শ আহকামে দীন ও শরীয়ী বিধি-বিধান সম্পর্কে সম্যক ধারণা রাখা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য ফরজ।
সুতরাং রাসূল সা.-এর জন্ম বৃত্তান্ত আলোচনা করা সওয়াব ও বরকতের বিষয় এবং মহান দীনী কাজ হলেও দেশের শরীয়তের নিয়ম-নীতি সম্পর্কে কোনো কোনো শ্রেণীর লোকেরা ‘মীলাদ শরিফ’ নামে সম্মিলিত সুরে গদভাধা কিছু পাঠের অনুষ্ঠান এবং কিয়ামের যে রীতি চালু করেছে, তার কোনো ভিত্তি কুরআন-হাদীসে, সাহাবায়ে কেরাম, তাবেঈন ও তাবে তাবেঈনের সোনালী যুগে পাওয়া যায় না। অথচ সর্বস্বীকৃত সত্য হলো, তারাই ছিলেন প্রকৃত নবীপ্রেমী খাঁটি আশেকে রাসূল এবং নবীজী সা. এর আদর্শের পরিপূর্ণ অনুসারি ও বাস্তব নমুনা।
প্রচলিত এই মিলাদ ও কিয়ামের উদ্ভব ঘটে ৬০৪ হিজরি সনে। ইরাকের মাসূল শহরের বাদশা আবু সাঈদ মুজাফ্ফর কাকরী এবং তার দরবারি আলেম আবু খাত্তাব উমর ইবনে দিহইয়া এদু’জন মিলে এর প্রচলন ঘটায়। এরা উভয়ে দীনের ব্যাপারে খুবই উদাসীন এবং ফাসিক প্রকৃতির লোক ছিল। পরবর্তীতে অজ্ঞতা, মূর্খতা ও জাহালতের অন্ধকারে নিমজ্জিত শ্রেণীর লোকদের মাধ্যমে আরো অনেক কুসংস্কার, শরীয়ত বিরোধী বিশ্বাস ও কার্যাবলী এতে সংযোজিত হতে থাকে। যার সবকিছুই কুরআন-হাদিস, ইজমা-কিয়াস তথা শরীয়তের মূল প্রমাণ পরিপন্থী। তা ছাড়া মিলাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ সা.কে হাজির-নাজির মনে করে কিয়াম করা তো রীতিমতো শিরক। হাজির-নাজির মনে না করলেও শরীয়তে এর ভিত্তি নেই।
এ সকল কারণে প্রচলিত মিলাদ, কিয়াম না জায়েজ ও বিদআতের অন্তর্ভুক্ত বলেই সকল হক্কানী ওলামায়ে কেরাম একবাক্যে ফতওয়া দিয়ে থাকেন। এজন্য প্রচলিত মীলাদের আয়োজন না করে ‘বিশেষ দোয়া’ করা যেতে পারে। এতে দোয়া কবুললের উদ্দেশ্য নিয়মানুযায়ী কিছুক্ষণ দরূদ শরিফ, তাসবীহ-তাহলীল, ওজীফা, সূরা ফাতেহা, সূরা ইখলাস ইত্যাদি যার যা জানা আছে প্রত্যেকে নিজস্বভাবে পড়বে। সম্মিলিত সুরে নয়। এরপর মুনাজাত করবে। এ পদ্ধতিতে আমল করার অবকাশ রয়েছে। এটি সর্বোতভাবে শরীয়তসম্মত। এ সম্পর্কে কোনো বিতর্ক বা কারো দ্বিমত নেই। আর ইয়া নাবী সালাম আলাইকা বলে দরূদ শরীফ রাসূলে পাক সা. কে হাজির-নাজির মানে করে পাঠ করলে তো শিরক হবে। তবে যদি এই বিশ্বাস নিয়ে পা ঠ করে যে, এটি নবী করীম সা. এর কাছে পৌঁছানো হয়-তাহলে শিরক হবে না।
[ফাতাওয়া শামী ১/৫২৪,এমদাদুল ফাতাওয়া ৬/৩২৭ আহসানুল ফাতাওয়া ১/৩৪৭]

Share

নিমদাড়ি কাটা, ছাটা বা রাখার কী হুকুম?

প্রশ্ন:
From: Shibbir
Subject: দাড়ি
Country : Bangladesh
Mobile : 01672955080
Message Body:
নীচের ঠোটের নীচে যে দাড়ি, আমরা যাকে নিমদাড়ি বলি তা কাটা ছাটা বা রাখার কী হুকুম?

This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
থুতনির উপর এবং ঠোটের নিচের চুল যাকে আমরা নিম দাড়ি বা বাচ্চা দাড়ি বলি তা বেশী বড় হলে পানি পান করতে বা খাবার খাওয়ায় সমস্যাককর হলে কিংবা অন্য কোন অসুবিধা হলে তা কাটার অবকাশ আছে। তবে একেবারে কামানো ও উপড়ানো বেদআত ও নিষিদ্ধ।

Share

চেয়ারে বসে নামাজ আদায় প্রসঙ্গ

মুহাম্মদ জুবায়ের,শরীয়তপুর
জবাব : প্রশ্নে তিনটি বিষয়ে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। তারমধ্যে প্রথমটির সমাধান হলো, কেউ যদি রুকু কিংবা সিজদা করতে সক্ষম না হয়, তাহলে উত্তম হলো সে ব্যক্তি চেয়ারে কিংবা নিচে বসে নামাজ আদায় করবে। আর সেক্ষেত্রে রুকু সিজদা ইশারায় আদায় করবে। তবে এমন ব্যক্তি যদি দাঁড়িয়ে এবং বসে ইশারায় রুকু সিজদা করে নামাজ আদায় করে, তাহলেও তার নামাজ আদায় হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়টির জবাব হলো, চেয়ারের পিছনের পায়া দু’টি কাতারের দাগের ওপর রাখবে, সামনে বা পিছনে নয়।
তৃতীয় প্রশ্নটির উত্তর হলো, চেয়ারে বসে নামাজ আদায় করা অবস্থায় কেউ যদি টেবিলের ওপর সিজদা করে তাহলে কোনো সমস্যা নেই। তবে সামনে টেবিল না রেখে ইশারায় সিজদা করাই উত্তম।
[ফাতহুল বারী ১/১, আদ দুররুল মুখতার ২/৫৬]

প্রশ্ন:
From: Shibbir
Subject: Quran telawat
Country : Bangladesh
Mobile : 01672955080
Message Body:
কুরআন তেলাওয়াত শেষে সাদাকাল্লাহুল আযীম বলা যাবে কিনা? একজন আলেমকে বলতে শুনেছি, এটা বলা যাবে না। কথাটি কতটুকু সঠিক?


This mail is sent via Ifta Department on Jamia Rahmania Arabia Dhaka’s website http://rahmaniadhaka.com

উত্তর:
আল্লাহ পাকের কালাম তথা কোরআন তেলাওয়াত শেষে ‘সাদাকাল্লাহুল আযীম’ বলতে কোন সমস্যা নেই। এর অর্থ হচ্ছে, মহান আল্লাহ সত্য বলেছেন। কুরআন পাকের মধ্যেই স্বয়ং আল্লাহ পাক নবী কারীম সা. কে বলেন যে, আপনি বলুন, ‘সাদাকাল্লাহ’ । সূরা আল ইমরান (আয়াত : ৯৫)

Share